০১:৫৮ এম
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল জানিয়েছেন, সরকার সকল ধর্মের মানুষের সাংবিধানিক অধিকার ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করে সাম্য, স্বাধীনতা ও সম্প্রীতির ভিত্তিতে মানবিক বাংলাদেশ গড়ার জন্য কাজ করছে।
তিনি শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাজধানীর বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত ঢাকা ওয়ানগালা ২০২৬- এর প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।
ডেপুটি স্পিকার উল্লেখ করেন, আমাদের পরিচয়ের ক্ষেত্রে পাহাড়, সমতল, জাতি-গোষ্ঠী কিংবা ধর্ম কোনো বিভাজনের কারণ হতে পারে না। আমরা সবাই বাংলাদেশি, আমরা বাংলাদেশের নাগরিক। সবার সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করে সাম্য, স্বাধীনতা ও মানবিক মর্যাদাভিত্তিক একটি বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন এবং বর্তমান সরকার সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে। প্রত্যেক ধর্মই সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি লাভের কথা বলে। ধর্মীয় অনুশাসন যথাযথভাবে পালন করলে সমাজব্যবস্থা আরও সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ হবে।
আরও পড়ুন: মিরপুরে বিহঙ্গ পরিবহনের বাসে আগুন লাগার ঘটনা
ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত দুর্গাপূজা ছিল অত্যন্ত উৎসবমুখর। এত আনন্দঘন ও উৎসবমুখর দুর্গাপূজা আগে কখনো এই দেশে পালন করা হয়নি। এর অন্যতম কারণ হলো বর্তমানে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ আমরা ফিরে পেয়েছি, যেখানে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মানুষের আইনি অধিকার এবং সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সবাই পরিপূর্ণভাবে ধর্মীয় স্বাধীনতা উপভোগ করছে।
বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে প্রসিদ্ধ ও শাণিত করতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের সব শ্রেণিগোষ্ঠীকে একত্রিত করে প্রথম এই দেশে ১০টি কালচারাল একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যার মধ্যে নেত্রকোণার দুর্গাপুরেও একটি কালচারাল একাডেমি রয়েছে। দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে এসব প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আমরা কালচারাল একাডেমির কার্যক্রমকে আরও সম্প্রসারিত করতে চাই।
তিনি ঢাকা ওয়ানগালা ২০২৬- এর আয়োজকদের দাবির প্রেক্ষিতে আশ্বাস দেন যে, বনানী এলাকায় একটি কালচারাল একাডেমি এবং একটি গির্জা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ শিগগিরই গ্রহণ করা হবে।
ডেপুটি স্পিকার আরও জানান, আসন্ন বড়দিন-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে খ্রিষ্টীয় ধর্মাবলম্বীরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে ২ কোটি টাকা অনুদান চেয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খ্রিস্টান ধর্মের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে তাদের উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করার জন্য আবেদনের চেয়ে ১ কোটি টাকা বেশি অর্থাৎ ৩ কোটি টাকা অনুদান দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: মাদারীপুরে কৃষককে কুপিয়ে জখম, প্রধান আসামি জাকির গ্রেফতার
কায়সার কামাল তার বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ এমন একজন প্রধানমন্ত্রীর শাসনব্যবস্থাই দেখতে চায়; যিনি এভাবে সব ধর্মের প্রতি, মানবতার প্রতি এবং বাংলাদেশের মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল থেকে প্রতিটি মানুষের অধিকারকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে কাজ করবেন।
তিনি যোগ করেন, ‘দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিজম থেকে মুক্ত হয়ে আমরা একটি নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ পেয়েছি। আমরা অতীতকে ভুলে সকলের অংশগ্রহণে আগামী দিনে এমন এক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চাই, যেখানে প্রত্যেকের মানবিক মর্যাদা থাকবে, সাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত হবে।’
গণতন্ত্রকে শাণিত করার জন্য এবং গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত রাখার জন্য তিনি শ্রেণি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
ওয়ানগালা উদযাপন কমিটি ২০২৬- এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা ওয়ানগালা ২০২৬- এর নকমা জন দ্রং।
আরও পড়ুন: ফ্লাইওভার উদ্বোধনের আগেই খসে পড়ল কংক্রিট, আহত ইজিবাইক চালক
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ঢাকা ওয়ানগালার প্রাক্তন নকমা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক দীপঙ্কর রিছিল। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার ওমর সাদাত, বাংলাদেশে ইউনেস্কোর আবাসিক প্রতিনিধি ড. সুজান ভাইজ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আন্দ্রিয় দ্রং, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির প্রিন্সিপাল অ্যাডভাইজার প্রফেসর ডা. মো. আনোয়ারুল কবির, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রেজাউর রহমান ফাহিম, বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. মশিউর রহমান, ঢাকা কর অঞ্চল-৩-এর যুগ্ম কর কমিশনার কর্ণেলিউস কামা, নয়ানগর ক্রিশ্চিয়ান কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেডের সভাপতি রিপন রিচার্ড সরদার, ঢাকার দি ক্রিশ্চিয়ান কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট মাইকেল গোমেজ এবং গুড নেইবারস বাংলাদেশের কান্ট্রি হেড বার্টিন গোমেজ।
মূল অনুষ্ঠানের শুরুতে ডেপুটি স্পিকার ঢাকা ওয়ানগালা ২০২৬- এর স্টলগুলো পরিদর্শন করেন। আলোচনা পর্ব শেষে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।
উৎসবে গারো সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: বিডিআর বিদ্রোহে চাকরি হারিয়ে প্রবাসে, সৌদিতে খুন হয়ে কফিনে ফিরলেন খোরশেদ আলম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন