০৪:০৩ পি.এম
পাকস্থলীর ক্যানসার প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো স্পষ্ট লক্ষণ প্রকাশ করে না। ফলে অনেকেই এ রোগের প্রাথমিক উপসর্গগুলোকে সাধারণ হজমের সমস্যা মনে করে এড়িয়ে যেতে পারেন। তবে দীর্ঘস্থায়ী বদহজম, বুকজ্বালা, ক্ষুধামন্দা অথবা অল্প খাবার খেয়ে পেট ভরে যাওয়ার মতো লক্ষণগুলোকে অবহেলা করা উচিত নয়।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকস্থলীর ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণগুলো অনেক সময় সাধারণ পেটের সমস্যার সঙ্গে মিলে যায়। সেজন্য উপসর্গগুলো যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় অথবা ক্রমাগত বাড়তে থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
পাকস্থলীর ক্যানসারের সম্ভাব্য ৮ লক্ষণ
আরও পড়ুন: স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ ঢাকায়
পাকস্থলীর ক্যানসারের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে এমন আটটি লক্ষণ হলো—
১. দীর্ঘস্থায়ী বদহজম: বারবার বদহজম হওয়া বা দীর্ঘদিন ধরে হজমের সমস্যা চলতে থাকা এবং সাধারণ চিকিৎসায়ও উপশম না হওয়া।
২. একটানা বুকজ্বালা: নিয়মিত ওষুধ সেবনের পরও বুকজ্বালা না কমা বা বারবার এ সমস্যা ফিরে আসা।
৩. হালকা বমি বমি ভাব: স্পষ্ট কোনো কারণ ছাড়াই দীর্ঘদিন বমি বমি ভাব অনুভব করা।
আরও পড়ুন: চীনে বিশেষ সংবর্ধনা পেলেন বিএনপির স্বাস্থ্য সম্পাদক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম
৪. ক্ষুধামন্দা: খাবারের প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়া বা স্বাভাবিকের তুলনায় কম খাওয়া।
৫. অল্প খাবারেই পেট ভরে যাওয়া: সামান্য খাবার খাওয়ার পরই পেট ভরা অনুভব করা, ফলে স্বাভাবিক পরিমাণ খাবার খেতে না পারা।
৬. খাওয়ার পর পেট ফাঁপা: খাবার খাওয়ার পর প্রায়ই পেট ফুলে থাকা বা অস্বস্তি অনুভব করা।
৭. পেটের ওপরের অংশে অস্বস্তি: পেটের ওপরের দিকে দীর্ঘস্থায়ী বা অকারণ ব্যথা কিংবা অস্বস্তি অনুভব করা।
আরও পড়ুন: হাম উপসর্গে দেশে আরও ২ জনের মৃত্যু
৮. অকারণে ওজন কমে যাওয়া: খাদ্যাভ্যাস বা শারীরিক পরিশ্রমে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন না এলেও শরীরের ওজন কমতে থাকা।
যদি রোগ বাড়ে, তবে যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে
পাকস্থলীর ক্যানসার অগ্রসর হলে উপসর্গ আরও তীব্র হতে পারে। এ সময় পেটে একটানা ব্যথা, বমি, রক্তস্বল্পতার কারণে অস্বাভাবিক ক্লান্তি এবং খাবার গিলতে অসুবিধা দেখা দিতে পারে।
এছাড়া বমির সঙ্গে রক্ত বের হওয়া, পেটে তরল জমে পেট ফুলে যাওয়া এবং ত্বক ও চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণও দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে রোগ শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়লে এ ধরনের উপসর্গ দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে।
আরও পড়ুন: কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু, ভর্তি ৬৭ জন
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
বদহজম, বুকজ্বালা, বমি বমি ভাব অথবা পেট ফাঁপার মতো উপসর্গের পেছনে ক্যানসার ছাড়াও বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। তাই এসব লক্ষণ দেখা দিলেই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে যদি কয়েক সপ্তাহ ধরে উপসর্গ স্থায়ী হয়, ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে অথবা দৈনন্দিন জীবনযাপনে বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
বিশেষ করে অকারণে ওজন কমে যাওয়া, অল্প খাবারেই পেট ভরে যাওয়া, খাবার গিলতে অসুবিধা এবং দীর্ঘস্থায়ী পেটের অস্বস্তিকে অবহেলা করা উচিত নয়। আর যদি বমির সঙ্গে রক্ত বের হয় বা গুরুতর উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে।
খাদ্যাভ্যাস, ক্ষুধা, ওজন ও হজমের স্বাভাবিক অবস্থায় দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন দেখা দিলে সেদিকে নজর রাখা জরুরি। সময়মতো চিকিৎসকের কাছে গেলে উপসর্গের প্রকৃত কারণ নির্ণয় করা সম্ভব।
আরও পড়ুন: জলবায়ু পরিবর্তনে বছরে ৫ লাখের বেশি মৃত্যু, স্বাস্থ্যঝুঁকি বিশ্বজুড়ে
এসব লক্ষণ থাকলেই পাকস্থলীর ক্যানসার হয়েছে, এমন নয়। সঠিক কারণ জানতে চিকিৎসকের মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা জরুরি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন