রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:৪০ পি.এম
রাজশাহী নগরীতে অনলাইন জুয়া ও পৃথক অভিযানে ২৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে অনলাইন জুয়ায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুজন, মাদকসংক্রান্ত ঘটনায় ১০ জন এবং বিভিন্ন মামলায় আরও ১৩ জন রয়েছেন। অভিযানে হেরোইন, ইয়াবা, গাঁজা, ফেয়ারডিল সিরাপ, চোলাইমদ, অনলাইন জুয়ায় ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থ জব্দ করা হয়েছে।
রবিবার দুপুরে নগর পুলিশের মুখপাত্র উপপুলিশ কমিশনার (সদর) মোঃ গাজিউর রহমান এসব তথ্য জানান।
তিনি জানান, শনিবার রাতে বোয়ালিয়ার হাদির মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে অনলাইন জুয়ায় জড়িত থাকার অভিযোগে সাজু (৩৭) ও সানাউল্লাহ (৩০)কে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন ও ৯৮০ টাকা জব্দ করা হয়। ফোন দুটিতে মোট ১৩টি অনলাইন জুয়া ও বেটিং অ্যাপ পাওয়া যায়।
একই দিন মতিহার থানার চরশ্যামপুর এলাকায় অভিযানে ডিটল (৪৮), শাহজামাল (৫৪) ও মাইনুলকে (৪৭) গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে এবং এক পলাতক ব্যক্তির ফেলে যাওয়া ৩৮ গ্রাম গাঁজা ও ১ হাজার ৪৬৫ টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে হাদির মোড় এলাকায় গাঁজা সেবনের অভিযোগে হালিম আলী (৪০) ও শহিদুল ইসলামকে (৩৮) গ্রেফতার করা হয়।
এর আগে কাশিয়াডাঙ্গা থেকে দুই নারীকে হেরোইন ও ইয়াবাসহ, কাটাখালী থেকে একজনকে ফেয়ারডিল সিরাপসহ, চন্দ্রিমা থেকে একজনকে গাঁজা, চোলাইমদ ও নগদ টাকাসহ এবং কাশিয়াডাঙ্গা থেকে আরও একজনকে ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানায়, এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় পৃথক মামলা হয়েছে। এ ছাড়া মহানগরীর বিভিন্ন থানা ও ডিবি পুলিশের অভিযানে ওয়ারেন্টভুক্ত দুইজন, মাদক মামলায় সাতজন ও অন্যান্য মামলায় চারজনসহ আরও ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে পৃথক অভিযানে ২৫ জন গ্রেফতার করা হয়েছেন।
রবিবার সকালে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।#
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৭ বছরের শিশু মাহিদা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় গ্রেফতার হওয়া তার চাচা জাহিদুল ইসলামের (২০) পক্ষে কোনো আইনি সহায়তা প্রদান না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা আইনজীবী সমিতি।
রোববার দুপুরে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ মফিজুর রহমান বাবুল এ বিষয়ে কথা বলেন।
তিনি উল্লেখ করেন, "ইতোপূর্বেও এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনার আসামির পাশে আইনজীবীরা দাঁড়াননি। শিশু মাহিদাকে ধর্ষণ ও হত্যার মতো নৃশংস ঘটনার আসামির পক্ষে দাঁড়ানোর কোনো যৌক্তিকতা নেই। আমাদের কোনো আইনজীবী আসামি জাহিদুল ইসলামের পক্ষে দাঁড়িয়ে তাকে আইনি সহায়তা দেবেন না। বরং মাহিদার ধর্ষণ ও হত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে সব আইনজীবী কাজ করবেন।"
এর আগে নিহত শিশু মাহিদার মা মনিরা আক্তারসহ পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় গ্রামবাসী জেলা আইনজীবী সমিতিতে গিয়ে ঘাতক জাহিদুলের পক্ষে মামলা পরিচালনা না করার জন্য লিখিত অনুরোধ জানান। পরে মাহিদার স্বজন ও বিক্ষোভকারীরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালত চত্বরের বিভিন্ন স্থানে আসামি জাহিদুলের ফাঁসির দাবিতে স্লোগান দেন।
এদিকে, মাহিদাকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় গ্রেফতার জাহিদুল ইসলাম ১৬৪ ধারায় দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। শনিবার সন্ধ্যায় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের ৫ম আদালতে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে জাহিদুল স্বীকার করেন, তিনি মাহিদাকে ধর্ষণের পর বালিশচাপা দিয়ে ও গলা টিপে হত্যা করেছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতের পরিদর্শক মো. হাবিবুল্লাহ সরকার জানান, ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি শেষে জাহিদুল ইসলামকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার দায় স্বীকার করেছেন।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার দুপুরে জাহিদুল মাহিদাকে পানি খাওয়ানোর কথা বলে একটি বসতঘরে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয় বলে মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে। পরে মাহিদার মা মনিরা বেগম মেয়ের খোঁজ না পেয়ে সন্দেহবশত জাহিদুলের ঘরে প্রবেশ করে মেয়েকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে মাহিদাকে উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন জাহিদুলকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) থেকে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পুনরায় চালু করার কথা জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
তিনি উল্লেখ করেন, প্রায় ৫০ বছর ধরে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের সেবা দিয়ে আসা এই প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম কোনো অবস্থাতেই ব্যাহত হতে দেওয়া হবে না।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ভাঙচুরের শিকার রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ধ্বংসস্তূপ পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
আমিনুল হক বলেন, "আগামীকাল থেকেই আমরা কেন্দ্রটির সংস্কারের কাজ শুরু করব। চলমান স্বাস্থ্যসেবা যাতে একদিনের জন্যও ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে আমি নিজেই ব্যক্তিগত উদ্যোগে সার্বিক সহযোগিতার মাধ্যমে যত দ্রুত সম্ভব সংস্কারের ব্যবস্থা নেব।"
ভাঙচুরের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "এত বড় ধ্বংসযজ্ঞ দেখে আমি অত্যন্ত মর্মাহত হয়েছি। একটি সুন্দর সেবামূলক প্রতিষ্ঠানকে রাতের অন্ধকারে বুলডোজার এনে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা ধরে গুঁড়িয়ে দেওয়া কখনোই কাম্য নয়। আমরা এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই প্রশ্রয় দিই না।" তিনি জানান, এ ঘটনায় পুলিশ প্রশাসন ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নিয়েছে। শাহ আলী থানার ওসিকে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ক্লোজ করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, "একটি রাজনৈতিক মহল বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালানোর চেষ্টা করছে। বাস্তবে কারা এই ঘটনার পেছনে রয়েছে এবং কারা কী উদ্দেশ্যে এই দখলদারির ভূমিকা নিয়েছে, আমরা তা খতিয়ে দেখছি। যাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।"
তিনি আরও বলেন, "যাদের কোনো আইনি দাবি থাকলে তারা আদালত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা উত্থাপন করতে পারেন। রাতের অন্ধকারে বুলডোজার দিয়ে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভেঙে ফেলার অধিকার কারও নেই। এটি গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের জায়গা এবং এ বিষয়ে আমি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গেও কথা বলেছি।" আমিনুল হক আরও বলেন, "প্রায় পাঁচ দশক ধরে প্রতিষ্ঠানটি এলাকার শিশু, প্রসূতি মা ও দরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছে। আমরা চাই না এই এলাকার মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হোক। শিশুদের টিকাদানসহ সব ধরনের সেবা দ্রুত স্বাভাবিক করা হবে এবং সেবাগ্রহীতাদের কোনো ভোগান্তি হতে দেওয়া হবে না।"
সরকার বা দল এ ঘটনায় বিব্রত কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "শাহ আলী থানার ওসিকে তাৎক্ষণিকভাবে ক্লোজ করা হয়েছে। পাশাপাশি আমাদের দলীয় নেতাকর্মী ও একজন সংসদ সদস্যের নামও এসেছে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। যদি কারও সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে দলীয় ও আইনগত দুই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
তিনি আরও জানান, "এখন পর্যন্ত যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তারা আমাদের দলের কেউ নয় এবং দলের সঙ্গে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। তবে ভবিষ্যতে তদন্তে যদি কোনো দলীয় ব্যক্তির সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়, তাহলেও তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা শতভাগ স্বচ্ছ তদন্ত চাই এবং পুলিশ তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক’ ২০২২, ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ সালের জন্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ২৯ জন শিক্ষার্থীকে প্রাথমিকভাবে মনোনীত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের এই শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের আগামী ১ অক্টোবর ২০২৬ অফিস চলাকালীন সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথিপত্র রেজিস্ট্রার দপ্তরে জমা দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে ইউজিসির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের মনোনয়ন ফরম অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে সরবরাহ করা ফরম নির্দেশনা অনুযায়ী পূরণ করতে হবে। ফরমের দুই সেট হার্ডকপি জমা দেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের স্বাক্ষরযুক্ত প্রত্যয়নপত্র, সম্প্রতি তোলা দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি, শিক্ষাজীবনের সব সনদ ও মার্কশিট, ট্রান্সক্রিপ্ট বা গ্রেডশিট এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় সব নথি যথাযথভাবে সত্যায়িত করে সংশ্লিষ্ট ইনস্টিটিউটের পরিচালক কিংবা বিভাগীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে রেজিস্ট্রার দপ্তরে পাঠাতে হবে। একই সঙ্গে নথিগুলোর সফটকপি পিডিএফ আকারে নির্ধারিত ই-মেইল ঠিকানায় পাঠানোর নির্দেশনা রয়েছে।
প্রাথমিক মনোনয়নের তালিকায় ২০২২ সালের জন্য সাতজন, ২০২৩ সালের জন্য সাতজন, ২০২৪ সালের জন্য সাতজন এবং ২০২৫ সালের জন্য আটজন শিক্ষার্থী অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
২০২২ সালের মনোনীতদের মধ্যে সাদ্দাম হোসাইন, রুমানা সিদ্দিকা মারুফা, আয়েশা আক্তার, রোকেয়া পারভিন, মো. বিল্লাল হোসেন, জান্নাতুল ফেরদৌস প্রোমা ও মুজতানিবা জাহান মাশরাকা অন্তর্ভুক্ত আছেন।
২০২৩ সালের তালিকায় মো. আনোয়ার শাহ, সারমিন আক্তার, সাদিয়া জান্নাত মিতু, জয় পাল, মোছা. শুমোনা আক্তার, তানজুম আহমেদ নূদী ও তাসনিমা আক্তার রয়েছেন।
২০২৪ সালের জন্য মনোনয়ন পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে আছেন আরিফুল ইসলাম, আসমা আক্তার, মুহাম্মদ গোলাম রোহমান শাফি, সাদিয়া খানম, রাগিব শাহরিয়ার রাফি, জান্নাতুন নাহের উর্মি ও মো. মুহিব আহসান চৌধুরী।
২০২৫ সালের তালিকায় সোমাইয়া তাবাসসুম, ফারিয়া আক্তার ইভা, শানজিদা সারমিন মৌরি, দীপান্বিতা বৈদ্য, আনিকা তাবাসসুম অন্তরা, আভা রহমান, বিদিশা অধিকারী ও মোছা. ফারিয়া ইয়াসমিন অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
এদিকে ইউজিসির নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের আবেদন কার্যক্রম তিনটি ধাপে সম্পন্ন করতে হয়— শিক্ষার্থীর তথ্য প্রদান, একাডেমিক পারফরম্যান্স ও প্রয়োজনীয় নথি সংযুক্তি এবং সবশেষে তথ্য পর্যালোচনা করে চূড়ান্তভাবে আবেদন জমা দেওয়া।
আবেদনকারীরা চাইলে অসম্পূর্ণ আবেদন ড্রাফট হিসেবে সংরক্ষণ করে পরে তা সম্পন্ন করার সুযোগ পাবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেত্রকোণা কলমাকান্দায় ফ্যামিলি কার্ড ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী জরিপের তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি বা স্বজনপ্রীতি বরদাশত করা হবে না বলে কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার এবং নেত্রকোণা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য। তিনি ফ্যামিলি কার্ড তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়ায় দলীয় পরিচয়কে অগ্রাধিকার না দিয়ে সমাজের সবচেয়ে প্রান্তিক ও দরিদ্র পরিবারগুলোকে গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারি কাজে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে, এমনকি নিজ রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী হলেও তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কলমাকান্দা উপজেলা পরিষদ হল রুমে ফ্যামিলি কার্ড এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী জরিপ-২০২৬ এর তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের উদ্দেশ্যে দেওয়া নির্দেশনামূলক সভায় তিনি কেবল প্রশাসনিক নির্দেশনা প্রদান করেননি, বরং বৈষম্যহীন ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনের রূপরেখাও তুলে ধরেন। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজ সেবা কার্যালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন কলমাকান্দার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এন. এম. আবদুল্লাহ আল মামুন।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য হলো বাংলাদেশকে একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্রে (সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার স্টেট) রূপান্তরিত করা, যার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হলো এই ফ্যামিলি কার্ড। তবে তিনি অতীতে এই কার্যক্রমে ঘটে যাওয়া নানা অনিয়মের কথা উল্লেখ করে বলেন, পূর্বে টাকার বিনিময়ে বা স্বজনপ্রীতি করে সচ্ছলদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, ফলে প্রকৃত গরিবরা বঞ্চিত হয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেন, এবার সেই সুযোগ নেই।
তথ্য সংগ্রহকারীদের উদ্দেশ্যে তিনি নির্দেশনা প্রদান করেন, জরিপ শুরু করতে হবে ছাপরা ঘর, গৃহহীন এবং সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত প্রান্তিক মানুষের দুয়ার থেকে। কোনোভাবেই সচ্ছল বা পাকা বাড়ির বাসিন্দাদের আগে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, তথ্য সংগ্রহকারীদের সরকার নির্ধারিত সম্মানী ভাতা প্রদান করছে। যদি কেউ ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার নামে টাকা দাবি করে, তবে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হবে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, “আমি নিজে একজন আইনজীবী; কেউ অনিয়ম করলে দলের নাম ভাঙিয়ে পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। স্বজনপ্রীতি বা চাঁদাবাজিতে জড়িত থাকলে আমি নিজে বাদী হয়ে মামলা করব।” এ প্রসঙ্গে তিনি চাঁদাবাজির অভিযোগে শ্যামগঞ্জে ছাত্রদলের এক নেতার বহিষ্কার ও মামলার উদাহরণ তুলে ধরেন এবং জানান, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের নীতি হলো ‘জিরো টলারেন্স’।
অনুষ্ঠানে সীমান্ত এলাকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর (গারো, হাজং) জীবনমান ও সততার প্রশংসা করেন ডেপুটি স্পিকার। তিনি জানান, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরত নৃগোষ্ঠীর মানুষের পানীয় জল, শিক্ষা ও বাসস্থানের সংকট দূরীকরণে সরকার বিশেষ প্যাকেজ গ্রহণ করেছে। তথ্য সংগ্রহে নিয়োজিত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর তরুণ-তরুণীদের সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি তাদের জন্য শিক্ষাবৃত্তিসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির আশ্বাস দেন।
এর আগে বিদ্যুৎ সংকটের বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটায় আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেন এবং দিনের আলো ব্যবহার করে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত এই সমস্যার কার্যকর সমাধান করবে।
বক্তব্যের সমাপ্তিতে তিনি দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে এলাকার মানুষের সেবা করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং বলেন, “কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর হলো একটি ফুলের বাগান, আর আমি নিজেকে এই বাগানের একজন ‘মালী’ মনে করি। আগামী পাঁচ বছর এই বাগানের পরিচর্যা করতেই আমি সততার সঙ্গে কাজ করে যাব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ