বৃহস্পতিবার, ৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:০৯ পি.এম
যুদ্ধ-পরবর্তী মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমিকের চাহিদা বাড়বে: মন্ত্রী
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী উল্লেখ করেন যে, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান ও অভিবাসনের সুযোগ সৃষ্টি করার জন্য মন্ত্রণালয় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। তিনি বলেন, "মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি, অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির পর ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলিতে অবকাঠামো তৈরিতে শ্রমিকের চাহিদা তুলনামূলকভাবে বৃদ্ধি পাবে।"
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী এই তথ্য প্রদান করেন। এদিকে, মন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে প্রশ্নের উত্তর দেন প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূর। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী জানান, "সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়া সফর করেছেন।" তিনি আরও বলেন, "গত জুলাই মাসের শেষের দিকে পুনরায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা এবং মন্ত্রী দেশটিতে সফর করেছেন। আশা করা যায় যে, অতিদ্রুত দেশটিতে বাংলাদেশি কর্মী প্রেরণের পথ সুগম হবে।"সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি নিলোফার চৌধুরী মনির প্রশ্নের জবাবে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানান, বিগত অর্থবছরে চাকরির জন্য নয় লাখ ৮৫ হাজার ১২০ জন বাংলাদেশি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে গিয়েছে। এর মধ্যে সৌদি আরবে গিয়েছেন ৬ লাখ ৪৬৬২ জন, কাতারে গিয়েছেন ৮৯ হাজার ২৩ জন, সিঙ্গাপুরে ৭৫ হাজার ৪১ জন, মালদ্বীপে ৪২ হাজার ১৩০, কুয়েতে গিয়েছেন ৩৯ হাজার ৮৭৫ জন।কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের প্রশ্নের লিখিত জবাবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ আসাদুল হাবিব দুলু জানান, "বজ্রপাতকে ২০১৬ সালে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।" প্রতিবছর গড়ে ৩৬৫ জন বজ্রপাতে নিহত হয়।
স্বতন্ত্র এমপি মোহাম্মদ সালমান ওমরের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, চলতি বছরে এ পর্যন্ত বজ্রপাতে ৪৬ জেলায় ১৬১ জন নিহত ও ৫৫ আহত হয়েছেন। পাহাড় ধসে ৪ জেলায় ২৭ জন নিহত এবং ৫২ জন আহত হয়েছে। মে মাসে ভারী বর্ষণের ফলে হাওরের বন্যায় ৭টি জেলায় কৃষি ও ফসলের ক্ষতির পরিমাণ দুই হাজার ৪৮৮ কোটি ৬৮ লাখ ৩৯ হাজার ১৫৪ টাকা। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ আসাদুল হাবিব দুলুর অনুপস্থিতিতে প্রশ্নের উত্তর দেন প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন।
নিলুফার চৌধুরী মনির সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন বলেন, "ভূমিকম্পের পর উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সরকার প্রস্তুতি নিচ্ছে।" তিনি জানান, "একই সঙ্গে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতেও কার্যক্রম চলছে।"
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশক্রমে ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবকের একটি ভিত্তি গড়ে তোলার কার্যক্রম চলছে। ইতোমধ্যে ৭০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত করা হয়েছে। তাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ভূমিকম্পসহ বিভিন্ন দুর্যোগের সময় সঠিকভাবে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সক্ষম করে তোলা হচ্ছে।
উদ্ধার সরঞ্জামের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "ভূমিকম্প মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের তালিকা অনেক বড়।" ইতোমধ্যে সরকার বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম ক্রয় করেছে। এসব সরঞ্জাম বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, আনসারসহ দুর্যোগ মোকাবিলায় সরাসরি কাজ করে এমন বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আরো কিছু প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে সেগুলোর টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে।
প্রতিমন্ত্রী আরো জানান, শুধু সরকারি সংস্থাগুলোর সরঞ্জাম নয়, দেশের বেসরকারি খাতের কাছেও থাকা বিভিন্ন দুর্যোগ মোকাবিলা ও উদ্ধার সরঞ্জামের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। দুর্যোগের সময় প্রয়োজন অনুযায়ী এসব সরঞ্জাম ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সহায়তা নেওয়ার পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন যে, বিজেপি কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয়ে হামলা চালিয়েছে। তিনি জানান, বিজেপি তাদের লোক পাঠিয়ে কার্যালয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটিয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য প্রদানকালে মমতা এই অভিযোগ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, যদি অত্যাচার বন্ধ না হয়, তাহলে তিনি দিল্লিতে গিয়ে বিজেপি নেতাদের বাড়ির সামনে ধর্নায় বসবেন।
এর আগে, বুধবার সকালে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ক্যামাক স্ট্রিটের কার্যালয়ে হামলার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে কয়েকজন দুষ্কৃতীকারীরা কার্যালয়ে ঢুকে ভাঙচুর চালায় এবং কর্মীদের মারধর করে। থানায় ফোন করেও কোনো সহায়তা পাওয়া যায়নি বলে অভিষেক অভিযোগ করেন। তিনি দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
বিকেলে ফেসবুক লাইভে মমতা এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। তিনি অভিযোগ করেন, "মধ্যরাতে আমাদের দফতরে গুন্ডা পাঠিয়েছে বিজেপি।" তার দাবি, কার্যালয়ের কাগজপত্র, দলিল ও গুরুত্বপূর্ণ নথি তছনছ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, চারজনকে কার্যালয়ের ভেতরে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়েছে।
মমতা উল্লেখ করেন, ক্যামাক স্ট্রিটের কার্যালয়ের পাশেই শেক্সপিয়র সরণি থানা অবস্থিত। ওই থানাসহ একাধিক থানার ভূমিকা তারা নজরে রাখছেন। তার ভাষায়, "চিরকাল বিজেপি থাকবে না।"
ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনার উল্লেখ করে মমতা বলেন, এটি ‘মধ্যরাতের বর্বরতা’। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কলকাতার মতো শহরে যদি মধ্যরাতে এ ধরনের ঘটনা ঘটে, তাহলে গ্রামবাংলায় কী হচ্ছে, তা নিয়ে ভাবা প্রয়োজন।
মমতা অভিযোগ করেন, বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর পুলিশ রক্ষক থেকে ভক্ষক হয়ে গেছে। তবে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি সম্মান রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, কিছু পুলিশ সদস্য প্রমাণ নষ্ট করা ও সাক্ষীদের ওপর হামলার মতো ঘটনায় জড়িয়ে পড়ছেন। তিনি বারুইপুরের গণধর্ষণকাণ্ড এবং ওই ঘটনায় পুলিশের এনকাউন্টারের ভূমিকাও উল্লেখ করেন।
এদিকে, ক্যামাক স্ট্রিটের কার্যালয় থেকে এয়ার পিউরিফায়ার, প্রিন্টার, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সামগ্রী নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তৃণমূল। ইতোমধ্যে পুলিশ এই ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
বিজেপির বিধায়ক সজল ঘোষ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঘটনাটি সাজানো। তিনি প্রশ্ন করেন, গভীর রাতে তৃণমূলের কর্মীরা কেন কার্যালয়ে ছিলেন।
মমতা আরও বলেন, বিজেপির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অত্যাচার নিয়ে প্রয়োজনে দিল্লি পর্যন্ত গণতান্ত্রিক আন্দোলন করা হবে। তিনি বলেন, অত্যাচার বন্ধ না হলে তিনি দিল্লিতে গিয়ে বিজেপি নেতাদের বাড়ির সামনে ধর্নায় বসবেন।
হকার উচ্ছেদ, দোকান ভাঙা এবং মধ্যরাতে বিভিন্ন অভিযান নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন মমতা। সাধারণ মানুষকে শান্তিতে থাকার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এটি মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার।
মমতা মন্তব্য করেন, বিরোধী কণ্ঠকে দীর্ঘদিন দমিয়ে রাখা সম্ভব নয়। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি রাজ্য সরকারের কাছ থেকে কোনো নিরাপত্তা পাচ্ছেন না দাবি করে বলেন, তাঁর নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হয়েছে এবং এ নিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে সতর্ক করে মমতা বলেন, দুষ্কৃতকারীদের রক্ষা করতে কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠিয়ে বিজেপি নিজেদের দলীয় কাঠামোকেই দুর্বল করছে। এতে দলের প্রকৃত কর্মী-সমর্থকদের হারাতে হচ্ছে এবং পায়ের তলার মাটি সরে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মমতা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলে দাবি করেন, তাদের চার হাজারের বেশি দলীয় কার্যালয় দখল করা হয়েছে, নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে প্রতিদিন এফআইআর করা হচ্ছে এবং অনেককে বাড়ি থেকে বের হতে দেওয়া হচ্ছে। তবে এসব মামলা ও চাপ দিয়ে তৃণমূলকে থামানো যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে এবং খুব শিগগিরই দেশটিতে কর্মী পাঠানোর পথ সুগম হবে বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের (জামালপুর-৩) লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, মালয়েশিয়া বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার। ২০২৪ সালের ৩১ মে থেকে দেশটির শ্রমবাজারে নতুন বাংলাদেশি কর্মী প্রবেশ বন্ধ রয়েছে।
তিনি আরও জানান, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করার জন্য সরকার দ্বিপক্ষীয় ও কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে গত ২৪ জুন ২০২৬ মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে শ্রমবাজার পুনরায় চালুর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ডেমি-অফিশিয়াল (ডিও) চিঠি পাঠানো হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশি কর্মীদের মালয়েশিয়ায় পাঠানোর বিষয়ে দেশটির উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি বলেন, “খুব শিগগিরই বাংলাদেশি কর্মীদের মালয়েশিয়ায় পাঠানোর পথ সুগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।”
আরিফুল হক বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তিনি জানান, বর্তমানে সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, সিঙ্গাপুর, পর্তুগাল, সেশেলস, সার্বিয়া, ফিজি, রোমানিয়া, উত্তর মেসিডোনিয়া, মরিশাস, ইতালিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানো হচ্ছে।
বিদেশে বাংলাদেশি মিশনগুলোর সুপারিশের ভিত্তিতে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন দেশে দেশভিত্তিক স্থানীয় লবিস্ট বা পরামর্শক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। এর মাধ্যমে বিদেশে বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ আরো বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
কাতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও কাতারের মধ্যে সপ্তম যৌথ কমিটির সভা গত ১৮ মে ২০২৬ ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় কাতার ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার, এসি টেকনিশিয়ান ও ওয়েল্ডার হিসেবে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
মন্ত্রী জানান, মালয়েশিয়া ও ওমানের শ্রমবাজার বন্ধ বা সীমিত থাকায় এসব দেশে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর বিষয়ে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
তিনি জানান, মন্ত্রণালয়ের অধীন সরকারি জনশক্তি নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল)-এর মাধ্যমে কম বা কোনো খরচ ছাড়াই নিয়মিতভাবে ব্রুনেই, জর্ডান, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, হংকংসহ বিভিন্ন দেশে কর্মী পাঠানো হচ্ছে।
সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের আলোকে নতুন নতুন দেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), সহযোগিতা স্মারক (এমওসি) ও চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বিদেশে কর্মী পাঠানোর সংখ্যা বাড়াতে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের ওপরও সরকার গুরুত্ব দিয়েছে।
মন্ত্রী জানান, দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য ১ লাখ চালককে প্রশিক্ষণ দিতে ‘প্রোভাইডিং ড্রাইভিং ট্রেনিং ফর এমপ্লয়মেন্ট অ্যাট হোম অ্যান্ড অ্যাব্রড’ শীর্ষক একটি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।
এছাড়া জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) অধীন ঢাকা কারিগরি শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (ডিটিটিআই) একটি বিদেশি ভাষা ও দক্ষতা কেন্দ্রের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, গন্তব্য দেশগুলোতে ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা দূর করতে এই কেন্দ্রে জাপানি, কোরিয়ান, ইংরেজি, চীনা (ক্যান্টনিজ ও ম্যান্ডারিন), আরবি, ইতালিয়ান, জার্মানসহ বিভিন্ন ভাষায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করতে সরকার কাজ করছে এবং খুব শিগগিরই দেশটিতে কর্মী পাঠানোর পথ সুগম হবে বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের (জামালপুর-৩) লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়া বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য অন্যতম প্রধান শ্রমবাজার। ২০২৪ সালের ৩১ মে থেকে দেশটির শ্রমবাজারে নতুন বাংলাদেশি কর্মী প্রবেশ বন্ধ রয়েছে।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্যাট আরো ৫ শতাংশ কমানোর আলোচনা চলছে
তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করতে সরকার দ্বিপক্ষীয় ও কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে গত ২৪ জুন ২০২৬ মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে শ্রমবাজার পুনরায় চালুর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ডেমি-অফিশিয়াল (ডিও) চিঠি পাঠানো হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশি কর্মীদের মালয়েশিয়ায় পাঠানোর বিষয়ে দেশটির উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘খুব শিগগিরই বাংলাদেশি কর্মীদের মালয়েশিয়ায় পাঠানোর পথ সুগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।’
আরিফুল হক বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
তিনি জানান- বর্তমানে সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, সিঙ্গাপুর, পর্তুগাল, সেশেলস, সার্বিয়া, ফিজি, রোমানিয়া, উত্তর মেসিডোনিয়া, মরিশাস, ইতালিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানো হচ্ছে।
বিদেশে বাংলাদেশি মিশনগুলোর সুপারিশের ভিত্তিতে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন দেশে দেশভিত্তিক স্থানীয় লবিস্ট বা পরামর্শক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। এর মাধ্যমে বিদেশে বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ আরো বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
কাতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও কাতারের মধ্যে সপ্তম যৌথ কমিটির সভা গত ১৮ মে ২০২৬ ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় কাতার ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার, এসি টেকনিশিয়ান ও ওয়েল্ডার হিসেবে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
মন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়া ও ওমানের শ্রমবাজার বন্ধ বা সীমিত থাকায় এসব দেশে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর বিষয়ে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
তিনি জানান, মন্ত্রণালয়ের অধীন সরকারি জনশক্তি নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল)-এর মাধ্যমে কম বা কোনো খরচ ছাড়াই নিয়মিতভাবে ব্রুনেই, জর্ডান, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, হংকংসহ বিভিন্ন দেশে কর্মী পাঠানো হচ্ছে।
সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের আলোকে নতুন নতুন দেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), সহযোগিতা স্মারক (এমওসি) ও চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বিদেশে কর্মী পাঠানোর সংখ্যা বাড়াতে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের ওপরও সরকার গুরুত্ব দিয়েছে।
মন্ত্রী জানান, দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য ১ লাখ চালককে প্রশিক্ষণ দিতে ‘প্রোভাইডিং ড্রাইভিং ট্রেনিং ফর এমপ্লয়মেন্ট অ্যাট হোম অ্যান্ড অ্যাব্রড’ শীর্ষক একটি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।
এছাড়া জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) অধীন ঢাকা কারিগরি শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (ডিটিটিআই) একটি বিদেশি ভাষা ও দক্ষতা কেন্দ্রের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, গন্তব্য দেশগুলোতে ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা দূর করতে এই কেন্দ্রে জাপানি, কোরিয়ান, ইংরেজি, চীনা (ক্যান্টনিজ ও ম্যান্ডারিন), আরবি, ইতালিয়ান, জার্মানসহ বিভিন্ন ভাষায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
এমপিওভুক্ত মাদরাসা শিক্ষকদের বদলি নীতিমালা-২০২৬ সম্পর্কিত শর্তের কারণে লক্ষাধিক শিক্ষক সমস্যায় পড়েছেন। তারা আবেদন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারছেন না, কারণ ‘সমমানের বা সমস্তরের মাদরাসা’ সংক্রান্ত শর্তের জটিলতা রয়েছে।
মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে গত ২৭ আগস্ট জানানো হয়েছে যে, সফটওয়্যারভিত্তিক বদলি কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত জনস্বার্থে এমপিওভুক্ত মাদরাসা শিক্ষকদের ম্যানুয়্যাল আবেদন করতে হবে। ‘স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে বেসরকারি মাদরাসায় কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা ২০২৬’-এর ৩.১৯ বিধি অনুযায়ী শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন আহ্বান করা হয়েছে। অধিদপ্তর থেকে মোট ৪১ হাজার ৯৬৬টি শূন্য পদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
তবে নতুন বদলি নীতিমালার ৩.৫ ধারা অনুযায়ী, শিক্ষকগণ কেবল নিজ মাদরাসার সমমানের বা সমস্তরের প্রতিষ্ঠানে সমপদে বদলির আবেদন করতে পারবেন। দাখিল স্তরে কর্মরত শিক্ষকরা আলিম, ফাজিল বা কামিল স্তরের মাদরাসায় পদ শূন্য থাকলেও আবেদন করতে পারবেন না। তারা শুধুমাত্র দাখিল স্তরের মাদরাসার সমপদে আবেদন করতে পারবেন।
সাময়িক বেতন-ভাতা বন্ধ যেসব শিক্ষকের, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। একইভাবে আলিম, ফাজিল বা কামিল মাদরাসার কোনো শিক্ষক চাইলে তার নিচের বা ওপরের স্তরের কোনো মাদরাসায় পদ শূন্য থাকলেও আবেদন করতে পারবেন না। শুধুমাত্র সমমান মাদরাসার সমপদে বদলির আবেদন করতে হবে।
বদলি নীতিমালার সমমান/সমস্তর সম্পর্কিত ৩.৫ ধারাটি সংশোধনের বিষয়ে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে কর্মরত একজন কর্মকর্তা জানান, নীতিমালা জারি এবং নীতিমালা পরিবর্তন, পরিবর্ধন, পরিমার্জন ও ব্যাখ্যা প্রদান করার ক্ষমতা শুধুমাত্র কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের। বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা প্রতিপালন করেই বদলির আবেদন করার সুযোগ প্রদান করা হয়েছে। পরবর্তীতে টিএমইডি থেকে সমমান/সমস্তর সংক্রান্ত কোনো নির্দেশনা আসলে সেই মোতাবেক বদলির আবেদনের সুযোগ প্রদান করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ