সোমবার, ৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:০৫ পি.এম
বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার প্রবণতা রোধ করার লক্ষ্যে শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুরসহ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে সচেতনতামূলক ওয়ার্কশপ আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রোর সাক্ষাতের পর তিনি সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন—ইতালিতে বাংলাদেশিদের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ শরীয়তপুর, মাদারীপুর অঞ্চলসহ আশপাশের এলাকার। তিনি খুব উদ্বেগের সঙ্গে বলেছেন যে অবৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে অনেকেই সমুদ্রপথে পাড়ি দিয়ে লিবিয়া হয়ে ইতালিতে যায়, যা খুবই দুঃখজনক।’
তিনি জানান, দেশটি এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা চেয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুরসহ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে যৌথভাবে একটি ওয়ার্কশপ আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ইতালি চায় স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে যৌথভাবে একটা ওয়ার্কশপ হোক।
ওই ওয়ার্কশপে মানুষকে বোঝানো হবে যে তাদের আর অবৈধভাবে যাওয়ার দরকার নেই। যেহেতু পরিবার-পরিজন থাকে, বৈধভাবে যাওয়ারও সুযোগ আছে, সেই সুযোগটা যেন মানুষ কাজে লাগায়।
প্রতিমন্ত্রী আরো জানান, ইতালির রাষ্ট্রদূতের দেওয়া তথ্যানুযায়ী বর্তমানে দেশটিতে প্রায় আড়াই লাখ বাংলাদেশি বসবাস করছেন, যার সিংহভাগ হচ্ছে শরীয়তপুর, মাদারীপুর।
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ইতালির রাষ্ট্রদূত অবৈধ পথে বাংলাদেশিদের ইতালি যাওয়ার বিষয়টিকে মানবিক ও মানবাধিকারসংক্রান্ত সমস্যা হিসেবে দেখছেন।
বিশেষ করে সমুদ্রপথে যেতে গিয়ে অনেকের মৃত্যুর বিষয়েও তিনি উদ্বেগ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রদূত বললেন যে এটা আমাদের জন্য কষ্ট হয়, তারা কষ্ট পায়, অনেক সময় সমুদ্র পাড়ি দিতে গিয়ে মারা যায় রাস্তার মধ্যে। বলছেন, এভাবে যাওয়ার দরকার নেই; আমাদের দেশে যেহেতু বৈধভাবে আমরা শ্রমিক নিই, সেহেতু যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।’
রাষ্ট্রদূত অবৈধভাবে লোক পাঠানোর ক্ষেত্রে ‘দালাল’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তবে স্থানীয় সরকারের পক্ষ থেকে এসব ব্যক্তিকে ‘অবৈধ এজেন্ট’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইতালিতে বাংলাদেশিদের বৈধভাবে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্রদূত বলেছেন যে, আমাদের দেশ থেকে প্রায় ১০ হাজার লোক বৈধভাবে যাওয়ার সুযোগ আছে এবং ফ্যামিলিসহ আরো ১২ হাজার। তাহলে এত বড় একটা সুযোগ, তিনি বললেন যে এটা তোমরা কাজে লাগাতে পারো এবং এ ব্যাপারে ওয়ার্কশপ করো।’
প্রতিমন্ত্রী জানান, রাষ্ট্রদূত বলেছেন—প্রতিবছর একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক বাংলাদেশি নেওয়া সম্ভব হলেও সংখ্যাটি কমবেশি হতে পারে। তবে আগ্রহীদের বৈধ পথে যাওয়ার জন্য চেষ্টা করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় তিতাস নদীর তীরে একটি নৌকা প্রায় দেড় কোটি টাকার পণ্য নিয়ে ডুবে গেছে। তবে, এই দুর্ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
আজ সোমবার সকালে উপজেলার বড়বাজার ঘাট এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটেছে। ব্যবসায়ীদের দাবি অনুযায়ী, নৌকায় প্রায় দেড় কোটি টাকার পণ্য ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, নৌকাটিতে অতিরিক্ত পণ্য ছিল।
নৌকা এবং মালামাল উদ্ধারের জন্য শ্রমিক ও স্থানীয় লোকজন কাজ শুরু করেছেন বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও বাজারের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জগৎবাজার থেকে বিভিন্ন পণ্য নিয়ে একটি বড় নৌকা সকাল সাড়ে ৬টার দিকে আখাউড়ার বড়বাজার ঘাটে ভিড়ছিল। এ সময় নদীতে স্রোত বেশি থাকায় নৌকাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি মাছ ধরার নৌকার সঙ্গে ধাক্কা খায়। এর ফলে নৌকাটি উল্টে যায় এবং নৌকায় থাকা মালামালের অধিকাংশই নদীর পানিতে তলিয়ে যায়।
বড়বাজারের ইজারাদার লুৎফর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘নৌকায় সড়কবাজার ও বড়বাজারের ব্যবসায়ীদের চাল, ডাল, পেঁয়াজ, চিনিসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য ছিল। ব্যবসায়ীদের প্রায় দেড় কোটি টাকার বেশি মালামাল নৌকাটিতে ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অস্ট্রেলিয়া দল দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের জন্য ১৬ সদস্যের টেস্ট দল ঘোষণা করেছে।মার্নাস লাবুশেন, যিনি বাংলাদেশ সিরিজে ভালো করতে ব্যর্থ হলেও, তার জায়গা দলে ধরে রেখেছেন।
বাংলাদেশ সিরিজে অনুপস্থিত থাকা কুপার কনোলিকে দলে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এর সাথে, মাইকেল নেসার ও ম্যাথু কুহনেমানও দলে যুক্ত হয়েছেন।
লাবুশেনকে দলে রাখা নিয়ে আলোচনা ছিল ব্যাপক। দীর্ঘ সময় ধরে রান খরায় ভুগছেন এই ব্যাটার।২০২৩ সালের জুলাইয়ে তার সর্বশেষ টেস্ট সেঞ্চুরি হওয়ার পর থেকে ৪৩ ইনিংসে তার গড় মাত্র ২৪.৬৯।
বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজে তার ইনিংসগুলো ছিল ১, ৩১ ও ৪। এর আগে জিম্বাবুয়ে ও দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়ানডে সফরের দলে তিনি বাদ পড়েছিলেন।তবে, দক্ষিণ আফ্রিকার সফরে লাবুশেনের প্রতি আস্থা রেখেছে অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচকরা।
প্রধান নির্বাচক জর্জ বেইলি মন্তব্য করেছেন, ‘আমরা এই বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছি না যে, আমরা ওর (লাবুশেন) কাছ থেকে আরো রান চাই। তবে আমরা এটাও বিশ্বাস করি, সে এখনো এই দলে ইতিবাচক অবদান রাখতে পারে।’
দলে ফিরেছে তরুণ ব্যাটার কুপার কনোলিও। যদিও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তার বড় ইনিংস নেই, গত জুনে বাংলাদেশ সফরে ওয়ানডেতে সে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করেছে। কনোলি সম্পর্কে বেইলি বলেন, ‘আশা করি সে আরো উন্নতি করবে।আমরা যখনই ওকে নিয়েছি, সে ভালো কিছুই শিখেছে। নিজের খেলার উন্নতি করতে সে খুবই আগ্রহী।’
এদিকে, চোট কাটিয়ে ফিরেছেন পেসার মাইকেল নেসার। বাঁহাতি ম্যাথু কুহনেমানকে অতিরিক্ত স্পিনার হিসেবে নেওয়া হয়েছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশনে দুই স্পিনার খেলার সম্ভাবনা কম, তবে কুহনেমানের উপস্থিতি অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের কেশব মহারাজের বিপক্ষে প্রস্তুতিতে সহায়ক হবে।
অস্ট্রেলিয়া আগামী অক্টোবরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ডারবান, গেবেখা ও কেপটাউনে তিনটি টেস্ট খেলবে। এই সিরিজ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ২০২৫-২৭ চক্রের আওতাধীন।
সর্বশেষ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালে এই দুই দল মুখোমুখি হয়েছিল। লর্ডসে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা।
দলের সদস্যরা হলেন: প্যাট কামিন্স (অধিনায়ক), জশ ইংলিস (উইকেটকিপার), অ্যালেক্স ক্যারি (উইকেটকিপার), মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজলউড, স্কট বোল্যান্ড, মাইকেল নেসার, বিউ ওয়েবস্টার, ম্যাট রেনশ, মার্নাস লাবুশেন, ট্রাভিস হেড, ক্যামেরন গ্রিন, স্টিভেন স্মিথ, নাথান লায়ন, ম্যাথু কুহনেমান ও কুপার কনোলি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, ঠাকুরগাঁও-১-এর উপনির্বাচনের তফসিল চলতি সপ্তাহে প্রকাশ করা হবে।
তিনি সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ে এ তথ্য জানান।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে আখতার আহমেদ বলেন, সাংবাদিকদের জন্য কার্ড ইস্যু করার প্রস্তাবনা ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেবে কমিটি। এরপর সেই অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
নির্বাচনের পোস্টার সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি জানান, ‘পোস্টারের ব্যবহার থাকছে না।’
এছাড়া, তিনি উল্লেখ করেন, ‘স্থানীয় নির্বাচনের তফসিলের বিষয়ে কোনো তথ্য নেই।
তবে ভোট একাধিক ধাপে অনুষ্ঠিত হবে। ৩/৫/৯ ধাপে ভোট হতে পারে।’
ভোটের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘উপজেলাভিত্তিক হিসাব করে প্রতিটি ইউনিয়নে ভোট হবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী থানা এলাকার ২নং গেইট, আল-ফালাহ গলি, ওমেন্স কলেজ মোড় ,জিইসি মোড় এবং সানমার ওশেন সিটি সংলগ্ন আশপাশের বিশাল এলাকা এখন এক ভয়ংকর অপরাধী চক্রের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। মাদক কারবার, প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি, ছিনতাই এবং সাধারণ মানুষকে মারধরের মতো নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে এই চক্রের সদস্যরা। নগরীর ৪২ নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সম্প্রতি বহিষ্কৃত সদস্য সচিব মাঈন উদ্দিনের রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় কিশোর গ্যাং লিডার দিদার ও তুলাতুলি এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী বশরের যৌথ সিন্ডিকেটের নানামুখী অত্যাচারে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ বাসিন্দাদের দিন কাটছে চরম আতঙ্কে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, তুলাতুলি এলাকার মাদক সম্রাট বশরকে সরাসরি আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে দিদার গ্যাং ও মাঈন উদ্দিনের লোকজন। বশরের সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এলাকায় দেদারসে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মরণনেশা মাদক ঢুকছে। প্রতিদিন সন্ধ্যা নামার পরপরই ইয়াবা সেবনকারী ও খুচরা মাদক ব্যবসায়ীরা অত্যন্ত সুকৌশলে নাসিরাবাদ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে হেঁটে কিংবা মোটরসাইকেল ও অন্যান্য বাহন যোগে যাতায়াত করে। আর এই যাতায়াতের পুরো পথ জুড়ে পাহারা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে মাদক ব্যবসায়ী বশরের লোকজন, দিদার গ্যাং এবং বহিষ্কৃত নেতা মাঈন উদ্দিনের অনুসারীরা। তাদের যৌথ সহযোগিতায় মাদকসেবী ও খুচরা মাদক কারবারিরা নাসিরাবাদ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে নিরাপদে মাদক-শিবিরের নির্দিষ্ট সেফ জোনে পৌঁছে যায়। স্কুল সংলগ্ন এলাকা এবং ওমেন্স কলেজ মোড়কে এই সিন্ডিকেট অলিখিত ‘মাদক রুট’ বানিয়ে ফেলায় সাধারণ মানুষ ও পথচারীদের চলাচল অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ২নং গেইট ও ওমেন্স কলেজের পাশাপাশি জিইসি মোড় এবং সানমার ওশেন সিটির আশেপাশের পুরো এলাকা এখন এই গ্যাংয়ের নিয়ন্ত্রণে। বিশেষ করে সানমার মার্কেটের আশপাশে এবং জিইসি এলাকার প্রতিটি ভাসমান দোকান, ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হকারদের কাছ থেকে নিয়মিত মোটা অঙ্কের চাঁদা সংগ্রহ করছে বহিষ্কৃত নেতা মাঈন উদ্দিনের ইশারায় দিদার গ্যাং। চাঁদা দিতে সামান্য দেরি বা অস্বীকৃতি জানালে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের প্রকাশ্য দিবালোকে মারধর, দোকান ভাঙচুর এবং এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে প্রতিনিয়ত। এমনকি হোটেল লর্ডস ইনের আশেপাশে মাইন উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি টর্চার সেলও পরিচালনা করে দিদার গ্যাং।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, দিদার গ্যাংয়ের সদস্যদের অন্যতম প্রধান আড্ডাস্থল হচ্ছে ২নং গেইট সংলগ্ন আল-ফালাহ গলির মুখ, ওমেন্স কলেজ মোড় এবং অভিজাত হোটেল লর্ডস ইন এর সামনের এলাকা। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর পরই এই হোটেলের আশেপাশে গ্যাংয়ের বিপুলসংখ্যক সদস্যকে দলবদ্ধভাবে অবস্থান করতে দেখা যায়। এই প্রকাশ্য আড্ডা থেকেই মূলত পুরো এলাকায় চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং পরিচালনা ও ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করা হয় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। হোটেল লর্ডস ইনের সামনে তাদের এই সরব উপস্থিতির কারণে ওই পথ দিয়ে যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষ চরম অস্বস্তি ও নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জিইসি মোড় এলাকার কয়েকজন ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, মাঈন উদ্দীনের নাম ভাঙিয়ে কিশোর গ্যাং লিডার দিদারের সদস্যরা প্রতিদিন এসে প্রতিটি দোকান থেকে জোরপূর্বক চাঁদা তুলে নেয়। টাকা না দিলে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার এবং মারধরের হুমকি দেয় তারা। এই এলাকায় শান্তিমতো ব্যবসা করার কোনো পরিবেশ নেই। বহিষ্কৃত নেতা মাঈন উদ্দিন ও দিদার গ্যাংদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না, কারণ প্রতিবাদ করলেই দলবল নিয়ে এসে হামলা চালায়। একইভাবে সানমার এলাকার কয়েকজন ভাসমান বিক্রেতা বলেন, রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে তারা কষ্ট করে জীবিকা নির্বাহ করেন, কিন্তু প্রতিদিনের আয়ের একটি বড় অংশই জোরপূর্বক কেড়ে নিচ্ছে দিদার গ্যাংয়ের টোল সংগ্রাহকরা।
সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয় রাতের বেলা। সন্ধ্যার পর ওমেন্স কলেজ মোড়, আল-ফালাহ গলির অন্ধকারাচ্ছন্ন পকেট রোড এবং জিইসির আশেপাশের সড়কগুলোতে এই গ্যাংয়ের সদস্যরা ওঁত পেতে থাকে। কোনো সাধারণ পথচারী হেঁটে যাওয়ার সময় একা পেলেই দিদার ও তার দলবল চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে। ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ, নগদ টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়। কেউ বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাকে মারধর ও ছুরিকাঘাত করতেও দ্বিধা করে না এই বেপরোয়া গ্যাংয়ের সদস্যরা। ফলে রাতের বেলা এই এলাকায় সাধারণ মানুষের চলাচল এখন এক আতঙ্কের নাম।
এদিকে এলাকায় দিদার, মাঈন উদ্দিন ও বশরের এই যৌথ অপরাধী সিন্ডিকেটের বেপরোয়া চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার কর্মকাণ্ডের বিষয়ে জানতে এবং পুলিশের পদক্ষেপ সম্পর্কে বক্তব্য নিতে খুলশী থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে পুলিশের কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ী সমাজের দাবি, এই গ্যাং ও মাদক সিন্ডিকেটের কারণে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অবিলম্বে দিদার গ্যাংয়ের প্রধান, বহিষ্কৃত মাঈন উদ্দিন ও মাদক কারবারি বশরসহ এর সাথে জড়িত সব অপরাধীকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জন্য তারা খুলশী থানা পুলিশ ও সিএমপি প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ