রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:১৭ পি.এম
সংসদ ভবন, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন যে, বাংলাদেশ ২০১০ সাল থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত প্রায় ৮২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বৈদেশিক ঋণ গ্রহণ করেছে।
আজ রোববার সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে কক্সবাজার-৩ আসনের সরকারি দলের সদস্য লুৎফুর রহমানের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘২০১০ সাল থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত ৮১ দশমিক ৮৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বৈদেশিক ঋণ নেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, একই সময়ে সরকারের নেওয়া বৈদেশিক ঋণের মূলধন বাবদ ১৭ দশমিক ১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং সুদ বাবদ ৬ দশমিক ০৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পরিশোধ করা হয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১০ সাল থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত দেশের বৈদেশিক ঋণের বিপরীতে মূলধন ও সুদ বাবদ মোট ২৩ দশমিক ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পরিশোধ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের পরিবেশগত ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং কৃষিভিত্তিক আঞ্চলিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে চিনি শিল্পকারখানায় বৃক্ষরোপণ ও সেতাবগঞ্জের কান্তা কৃষি খামারে ২০২৬-২৭ মৌসুমের আখ রোপণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে।
সরকারের ২৫ কোটি চারা রোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে রবিবার সেতাবগঞ্জের কান্তা কৃষি খামারের জমিতে উন্নত জাতের আখের চারা ও বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) চেয়ারম্যান মো. শামছুজ্জামান সুরুজ বৃক্ষরোপণ ও মাড়াই মৌসুমের আখ রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এ সময় বিএসএফআইসির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রতিটি চিনি কারখানায় ১ হাজার করে মোট ১৫ হাজার গাছ রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিএসএফআইসি চেয়ারম্যান বলেন, পরিবেশ রক্ষায় আখ চাষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উচ্চ কার্বন শোষণ ক্ষমতাসম্পন্ন এ ফসল বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন শোষণের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে। একইসঙ্গে দীর্ঘ সময় জমিতে অবস্থান করায় আখ মাটির ক্ষয় রোধ এবং পরিবেশগত ঝুঁকি কমাতেও সহায়ক।
তিনি বলেন, আখের বিভিন্ন উপজাত, বিশেষ করে ছোবড়া ও চিটাগুড় পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও জৈব সার উৎপাদনে ব্যবহার করা যায়। এর ফলে আখ চাষ চিনি শিল্পের বিকাশের পাশাপাশি সবুজ অর্থনীতি গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিএসএফআইসি চেয়ারম্যান বলেন, পাহাড়, শহর, গ্রাম, সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, উপকূলীয় এলাকা, চরাঞ্চল ও সরকারি বনভূমিতে ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ করা হলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার পাশাপাশি বন্যা ও খরার মতো জলবায়ুজনিত ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, আখের সঙ্গে সাথী ফসল চাষের সুযোগ থাকায় একই জমি থেকে কৃষকের বাড়তি আয় করা সম্ভব। পাশাপাশি চিনি শিল্পকে কেন্দ্র করে আখ চাষ সম্প্রসারিত হলে গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় কৃষি অর্থনীতির বিকাশ ঘটবে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ব্যাপক বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি টেকসই কৃষি সম্প্রসারণের উদ্যোগও জরুরি। শিল্পকারখানায় বৃক্ষরোপণ এবং কান্তা কৃষি খামারে আখ রোপণের মতো কর্মসূচি দেশের সবুজায়ন ও কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে দোকানের টিনের চাল কেটে ৮ লাখ ৫৫ হাজার টাকার মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন মালামাল চুরির ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার প্রায় তিন মাস পর গাইবান্ধা পৌর শহরের হকার্স মার্কেট এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় চুরি হওয়া ৮টি স্মার্টফোন ও ৯টি বাটন ফোনসহ মোট ১৭টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা গাইবান্ধা সদর উপজেলার কলেজপাড়া এলাকার গৌর চন্দ্র বিশ্বাস (৩৯) এবং মধ্য-ফলিয়া (পুলবন্দি) এলাকার সুজন মাহমুদ (৪০)।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ জুন রাত আনুমানিক ১টার দিকে দোকানে তালা দিয়ে বাড়িতে চলে যান দোকান মালিক মুকল হোসেন। পরদিন সকাল ৯ টার দিকে দোকান খুলে তিনি দেখতে পান ভেতরের মালামাল এলোমেলো অবস্থায় পড়ে আছে। পরে দেখা যায়, দোকানের ওপরের টিন কেটে চোরেরা ভেতরে প্রবেশ করে মালামাল চুরি করেছে।
এসময় চোরেরা দোকান থেকে ২৭টি স্মার্টফোন, ১১০টি বাটন ফোন, চার্জার, এয়ারফোনসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় দোকান মালিক মুকুল হোসেন ১ জুলাই সুন্দরগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্তে চোরাই মোবাইলের সন্ধান পেয়ে পুলিশ অভিযান শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে গাইবান্ধা সদর থানার হাকান্স মার্কেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে চুরি হওয়া ৮টি স্মার্টফোন ও ৯টি বাটন ফোন উদ্ধারসহ গৌর চন্দ্র বিশ্বাস ও সুজন মাহমুদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সুন্দরগঞ্জ থানার কঞ্চিবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ সেলিম রেজা বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মুন্সীগঞ্জে ডিবি পুলিশের অভিযানে ১৪০ বোতল এস্কাফ সিরাপ ও মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি পিকআপসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার বল্লালবাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন—ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার উত্তর মন্ডলপাড়া এলাকার মৃত কামাল হোসেনের ছেলে রুবেল (২৮) এবং মহেশপুর উপজেলার যাদবপুর বিওপি ক্যাম্পপাড়া এলাকার মো. রফিক বিশ্বাসের ছেলে মো. রিপন আলী (৩৮)।
জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবির অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে এসআই (নিঃ) রাশেদ মুন্সী সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে বল্লালবাড়ি এলাকার সিরাজের চায়ের দোকানের সামনে পাকা সড়কে অভিযান চালান। এ সময় একটি সাদা প্লাস্টিকের বস্তার ভেতর থেকে ১৪০ বোতল এস্কাফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার করা প্রতিটি বোতলের গায়ে ইংরেজিতে ‘Codeine Phosphate & Triprolidine Hydrochloride Syrup’ লেখা ছিল। এ সময় মাদক পরিবহন ও বিক্রির কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপও জব্দ করা হয়।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লর্ডস টেস্ট চলাকালীন বিট্রিশ গণমাধ্যমে পাকিস্তানের কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে সাক্ষাৎ নেন তার দুই ছেলে সুলেইমান খান ও কাশিম খান। পিসিবির আপত্তি সত্ত্বেও সাক্ষাৎকারটি প্রচারের পর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে পিসিবি।
লর্ডসে লাঞ্চের পর পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের মাঠে না ফেরার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। পাকিস্তানের সিরিজটি সম্প্রচারকারী চ্যানেল পিটিভি অবশ্য সাক্ষাৎকারটি প্রচার করেনি। সাক্ষাৎকারে ইমরান খানের ছেলেরা তাদের বাবার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা জানান, তাদের বাবাকে তিন বছর ধরে কারাগারে আছেন এবং তারা তার জীবন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন।
পিসিবির এমন প্রতিক্রিয়ায় নতুন করে নিজের মত তুলে ধরেছেন ইমরান খানের ছেলে কাশিম খান। বিট্রিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ'-কে তিনি বলেন, আমি এক ধরনের প্রতিক্রিয়া আশা করেছিলাম, কিন্তু ভাবিনি তারা এতটা কাণ্ডজ্ঞানহীন আচরণ করবে যে মাঠে না নামার হুমকি দেবে। তারা (পিসিবি) নিজেদের চরম হাস্যকর অবস্থায় ফেলেছে।
তিনি যুক্তি দেন, পাকিস্তানের একজন সাবেক খেলোয়াড় যিনি ২২ বছর ধরে ইংল্যান্ডে বসবাস করেছেন তাকে নিয়ে করা একটি সাক্ষাৎকার সরিয়ে ফেলার দাবি জানানো পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) এখতিয়ারের মধ্যে পড়া উচিত নয়। এটি রাজনীতির বিষয় ছিল না, বরং মানবিক পরিস্থিতি ও তার স্বাস্থ্যের বিষয় ছিল।
কাসিম খান তার বাবার প্রতি আচরণ এবং এই পরিস্থিতিতে পিসিবির ভূমিকা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, তারা স্পষ্টতই তাকে (ইমরান খান) ওখানেই মেরে ফেলার আশা করছে। তারা যতটা সম্ভব গোপনে তাকে স্তব্ধ করে দিতে চায় এবং ধীরে ধীরে তাকে বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যেতে দিতে চায়।
তিনি আরও বলেন, এই কৌশলের উদ্দেশ্য হলো ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে আলোচনা দমন করা এবং একই সাথে তার পরিস্থিতিকে ক্রমশ আরও কঠিন করে তোলা। তাদের বাবার চিকিৎসা সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের আদেশ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে দুই ভাই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরানকে শিফা হাসপাতালে ভর্তি করার নির্দেশ দিয়েছিল; কিন্তু তার পরিবর্তে তাকে সরকারি পিআইএমএস-এ নিয়ে যাওয়া হয় এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষার পরপরই আবার কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়। ইমরানের বোন ও ছেলেরা অভিযোগ করেছেন, এটি আদালতের আদেশের লঙ্ঘন। তাকে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকের সাথে দেখা করার অনুমতি দেওয়ার দাবি জানান।
কাসিম খান হাসপাতালের এই ঘটনাটিকে অস্বচ্ছ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, পুরো বিষয়টি ছিল এক ধরণের প্রহসন এবং আমাদের দৃষ্টিতে তা ছিল অত্যন্ত অস্পষ্ট। শিফা হাসপাতালের চিকিৎসকরা আবার বাবার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু পূর্বনির্ধারিত সব আয়োজন এবং আদালতের সব নির্দেশ উপেক্ষা করা হয়েছে।
সুলাইমান খান তার বাবার স্বাস্থ্য সংক্রান্ত খবরের ক্ষেত্রে একটি উদ্বেগজনক প্রবণতার কথা তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, বাবার অসুস্থতার খবরগুলো ধাপে ধাপে প্রকাশ করছে এবং তাকে সাহায্য করার ভান করা হচ্ছে। এতে আরও খারাপ কোনো পরিস্থিতির পটভূমি তৈরি করা হচ্ছে। এরপর তারা দায় এড়াতে বলতে পারবে, 'তিনি তো কেবল একজন বৃদ্ধ মানুষ ছিলেন যিনি মারা গেছেন, আর এর সাথে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই।
দুই ভাইয়ের বক্তব্যে তাদের বাবার শারীরিক অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ এবং তার কারাবাসকে কেন্দ্র করে বক্তব্যকে নিজেদের মতো করে নিয়ন্ত্রণ করার প্রচেষ্টার বিষয়টি ফুটে উঠেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ