০৬:৫১ পি.এম
বলিউডের নতুন সিনেমা ‘কালা হিরণ’ এর মুক্তি স্থগিত করতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন মেগাস্টার সালমান খান।
অভিনেতার আদালতে করা আবেদনের প্রেক্ষিতে শুক্রবার (১২ জুন) দিল্লি হাইকোর্টে এর শুনানি সম্পন্ন হলো।
১৯৯৮ সালের আলোচিত কৃষ্ণসার হরিণ শিকার মামলাকে কেন্দ্র করে নির্মিত সিনেমা ‘কালা হিরণ : দ্য ব্যাটেল ফর লেগাসি’।
আরও পড়ুন: শহীদ ওসমান হাদিকে নিয়ে ছাত্রদল নেত্রীর বিতর্কিত পোস্ট
এটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেলে নিজের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার শঙ্কা দেখছেন সালমান। তাই, সিনেমাটির প্রদর্শন ও প্রচারণা বন্ধে তিনি দিল্লি হাইকোর্টে আবেদন করেছেন।
১৯৯৮ সালে ভারতের জোধপুরে ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’ সিনেমার শুটিং চলাকালে সেখানে দু’টি কৃষ্ণসার হরিণ শিকার করেন সালমান খান।
এ ধরনের অভিযোগ ওঠার পর মামলায় মূল অভিযুক্ত হন সালমান। অভিযুক্তদের তালিকায় অভিনেতা সাইফ আলি খান, সোনালি বেন্দ্রে, তাবু, নীলম এবং দুশ্যন্ত সিং নামের স্থানীয় একজনও ছিলেন।
মামলার তদন্তে জোধপুর জেলা আদালত সালমানকে সাজা প্রদান করলেও, বাকিদের মুক্তি দেন। ২০১৮ সালের ৫ এপ্রিল সালমান পাঁচ বছরের সাজাপ্রাপ্ত হন। পরে জামিনে মুক্তি পান। ২০২২ সালে রাজস্থান হাইকোর্ট মামলাটির স্থানান্তরণের অনুমতি দেন।
আরও পড়ুন: শ্রমিকদের জন্য ৭ কোটি ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করেছে শ্রমিক আইনগত সহায়তা সেল
চলমান মামলার শুনানি এখন হাইকোর্টেই হবে। এ পরিস্থিতি দেখে প্রেক্ষাগৃহে ‘কালা হিরণ’র মুক্তি পেলে বিপাকে পড়তে পারেন সালমান। তাই, তিনি আদালতে সিনেমাটির প্রচারণা ও প্রদর্শন বন্ধের আবেদন করেন।
শুক্রবার (১২ জুন) দিল্লি হাইকোর্টে এ আবেদনের শুনানি সম্পন্ন হয়। শুনানি শেষে বিচারপতি নীনা বানসাল কৃষ্ণার বেঞ্চ সিনেমাটির প্রযোজক অমিত জানি, অক্ষয় পান্ডেসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ জারি করেন। একসাথে মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেন আগামী ১৯ জুন।
সালমান খানের পক্ষে আদালতে আইনজীবী দয়ান কৃষ্ণান শুনানিতে দাবি করেন, সিনেমাটি অভিনেতার ব্যক্তিত্ব ও ভাবমূর্তির সুরক্ষার অধিকার লঙ্ঘন করছে। আবেদনের নথিতে বলা হয়েছে, সিনেমার টিজারে এমন একটি চরিত্র উপস্থিত করা হয়েছে যার চেহারা, উপস্থাপনা এবং পরিধেয় সামগ্রী সরাসরি সালমান খানকে ইঙ্গিত করে। বিশেষ করে চরিত্রটির হাতে থাকা নীল ব্রেসলেট অভিনেতার পরিচিত স্টাইলের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।
সালমানের দাবি হল, অস্ত্র আইনের মামলায় তিনি ইতোমধ্যেই আদালত থেকে খালাস পেয়েছেন। এরপরও এ ধরনের উপস্থাপনা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং সমাজে তার ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
আরও পড়ুন: অস্ত্রপচারের ধকল নিয়েই দলীয় কর্মসূচিতে জামায়াত আমির
অভিনেতার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ২৪ এপ্রিল সিনেমাটির প্রযোজকদের আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু নোটিশের পরও সিনেমাটির প্রচারণা অব্যাহত রেখেছেন সংশ্লিষ্টরা।
অন্যদিকে, প্রযোজক পক্ষের আইনজীবীর দাবি, এখন পর্যন্ত কেবল টিজার প্রকাশ করা হয়েছে। সিনেমার মুক্তির তারিখও চূড়ান্ত হয়নি। তাই শুধুমাত্র একটি টিজারের ভিত্তিতে মুক্তি ও প্রচারণা বন্ধের আবেদন কতটা গ্রহণযোগ্য, সেটি মহামান্য আদালতকে বিবেচনা করার অনুরোধ করেছেন সিনেমাটির প্রযোজক পক্ষের আইনজীবী।
সিনেমা, ব্যক্তিত্বের অধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্নে এই মামলা এখন বলিউডে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। আগামী ১৯ জুনের শুনানিতে আদালত কী সিদ্ধান্ত নেবে, সেদিকেই এখন তাকিয়ে ভারতের চলচ্চিত্র অঙ্গন।
আরও পড়ুন: ‘সংখ্যালঘু নয়, আমরা সবাই বাংলাদেশি’: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন