মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:০৭ পি.এম
ফেনী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিরিঞ্চি এলাকা থেকে বাবার ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ে বের হয়ে নিখোঁজ হয়েছে মাশুকুর রহমান ইমন (১৫) নামের এক মাদরাসাছাত্র। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে তার পরিবার ফেনী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মাদরাসা থেকে ফিরে ইমন বাবার রিকশাটি নিয়ে বের হয়। এরপর রাত পেরিয়ে গেলেও সে আর বাড়িতে ফিরে আসেনি।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দরিদ্র পরিবারের সন্তান ইমন মাঝে মাঝে তার বাবা মো. শহীদুল ইসলামের (সুজন) মিশুক রিকশাটি চালিয়ে সংসারের খরচ জোগাত। মঙ্গলবার বিকেলে গাড়িটি নিয়ে বের হওয়ার পর থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। জিডির পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ অনুসন্ধানে নেমে ফেনীর ফতেহপুর এলাকায় রাস্তার পাশ থেকে ব্যাটারি ছাড়া পরিত্যক্ত অবস্থায় রিকশাটি উদ্ধার করেছে। তবে ইমনের এখনও কোনো খোঁজ মেলেনি।
ইমনের বাবা শহীদুল ইসলাম জানান, ‘আমার ছেলে স্থানীয় বিরিঞ্চি সুফিয়া নূরিয়া মাদরাসায় পড়াশোনা করে। বিকেলে আমাকে গাড়ি চালিয়ে একটু সাহায্য করত। সোমবার বিকেলে গাড়ি নিয়ে বের হয়ে সে আর ফেরেনি। আমরা সব জায়গায় খোঁজখবর নিলেও তার সন্ধান না পেয়ে মঙ্গলবার সকালে থানায় জিডি করেছি।’
ফেনী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) সজল কান্তি দাশ বলেন, ছেলেটি নিখোঁজের বিষয়ে থানায় অভিযোগ আসার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে ব্যাটারি ছাড়া রিকশাটি উদ্ধার করে। নিখোঁজ মাদরাসাছাত্রের সন্ধানে পুলিশ কাজ করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ১০ বছরের একটি শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মো. মনির হোসেন (৪৫) নামের এক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছে আদালত। আদালত তাকে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও দিয়েছে, এবং অনাদায়ে আরো দুই মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশনা রয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) নারায়ণগঞ্জের বিজ্ঞ শিশু সহিংসতা ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মমিনুর ইসলাম এ রায় প্রদান করেন।
নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক মো. আব্দুস সামাদ এই বিষয়টি কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ১৮ জুলাই সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বন্দরের কুড়িপাড়া এলাকায় বাদীর ভাড়া বাসার একটি কক্ষে শিশুটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। শিশুটির মা বাদী হয়ে মনির হোসেনের বিরুদ্ধে বন্দর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় বন্দর থানার পুলিশ ২০২৩ সালের ১২ মার্চ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরবর্তীতে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন ছিল।
কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক মো. আব্দুস সামাদ বলেন, বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছে। একই সঙ্গে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরো দুই মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম মন্তব্য করেছেন, ‘বাংলাদেশে সংখ্যালঘু বলতে কোনো শব্দ নেই, আমরা সবাই পরিচয়ে বাংলাদেশি এবং এ দেশের সমান নাগরিক।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার যে অধিকার, আমার অন্য ধর্মাবলম্বী বন্ধুরও ঠিক একই অধিকার রয়েছে। আমরা কোনো বিভেদ চাই না; সব ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে পারস্পরিক প্রীতি ও সৌহার্দ্য নিয়ে শান্তিতে বসবাস করতে চাই।’
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা খ্রিস্টিয়ান কবরস্থানের প্রাচীন সমাধিগুলোর সংরক্ষণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডিএসসিসি প্রশাসক উল্লেখ করেন, ‘দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই আমি আদি ঢাকার বিলুপ্তপ্রায় ঐতিহ্য ও রূপ ফিরিয়ে আনার জন্য নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আদি ঢাকাকে কেন্দ্র করেই আজকের এই মেগাসিটি গড়ে উঠেছে। এর ঐতিহাসিক স্থানগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম। তাই অতীতের কোনো নিদর্শন আর নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না।’
ওয়ারী এলাকার অতীত ঐতিহ্য স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘একসময় নদীবেষ্টিত যোগাযোগব্যবস্থা ও নগর সুবিধার কারণে ওয়ারী ছিল ঢাকার সবচেয়ে বনেদি ও অভিজাত এলাকা। প্রখ্যাত ব্যক্তিরা এখানে বসবাস করতেন। পাশে অবস্থিত বলধা গার্ডেনসহ পুরো এলাকার পরিবেশ আগের উন্নত ও সুশৃঙ্খল অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সিটি করপোরেশন কাজ করছে।’
প্রশাসক আরো বলেন, ঐতিহ্যবাহী এই কবরস্থানের শান্ত ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখা হবে। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে এখানকার রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, আলোকায়ন ও পরিচ্ছন্নতা জোরদার করা হবে।
এ সময় কবরস্থানটির সার্বিক রক্ষণাবেক্ষণের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ডিএসসিসির তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকা অনুদানের ঘোষণা দেন তিনি। ভবিষ্যতে প্রয়োজনে আরো অর্থ সহায়তার প্রতিশ্রুতিও দেন প্রশাসক।
আদি ঢাকার ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরে তিনি বলেন, রাস্তা সরু হলেও তা পরিচ্ছন্ন রাখা হবে এবং পর্যাপ্ত আলো নিশ্চিত করা হবে।
এলাকাভিত্তিক শৃঙ্খলা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে ভাসমান জনগোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কর্মকর্তা ও এলাকাবাসীকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি ব্যাপক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের সম্মুখীন হয়েছে। দীর্ঘ তদন্তের পর ক্লাবটিকে ১১৫টি অভিযোগের মধ্যে ১১৪টিতে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। এই রায়ের পর প্রথম প্রতিক্রিয়া জানালেন চেলসি ও টটেনহ্যামের সাবেক কোচ মরিসিও পচেত্তিনো। তিনি মন্তব্য করেন, ফুটবল দুনিয়ায় গত কিছু বছর ধরে এক ধরনের অসাধুতা বা ধোঁকাবাজি চলছে, যা ফুটবলের আসল নিয়ম-কানুন ও খেলাধুলার সততাকে নষ্ট করেছে।
চিলির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট লুইসে অনুষ্ঠিত একটি প্রীতি ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন। ম্যানচেস্টার সিটির জন্য ঐতিহাসিক এই রায়ের পর এখনো কোনো চূড়ান্ত শাস্তি ঘোষণা করা হয়নি। তবে ক্লাবটি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার পরিকল্পনা করছে।
ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে আনা এই আর্থিক অভিযোগগুলো মূলত ২০০৯-১০ থেকে ২০১৭-১৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালের। এর পাশাপাশি, ২০১৮ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রিমিয়ার লিগের তদন্ত কাজে সহযোগিতা না করার গুরুতর অভিযোগও রয়েছে।
বর্তমান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের কোচ পচেত্তিনো এই বিতর্কিত সময়ে প্রিমিয়ার লিগের তিনটি ক্লাবের দায়িত্বে ছিলেন। ৫৪ বছর বয়সী এই কোচ সাউদাম্পটনে ১৫ মাস, টটেনহ্যামে দীর্ঘ ৫ বছর এবং চেলসিতে এক মৌসুম কাটিয়েছেন।
পচেত্তিনো ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ এখন তাদের যে শাস্তিই দিক না কেন, ফেলে আসা সোনালি সময়কে আর কখনোই ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। কারণ যা ক্ষতি হওয়ার, তা ইতিমধ্যেই হয়ে গেছে।’
তিনি আরো বলেন, এই নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনা পুরো ফুটবল কাঠামোর জন্য অনেক বড় ক্ষতি করেছে। লিগের অনেক ক্লাব শত কষ্টের মাঝেও নিয়ম মেনে চলেছে, যেখানে কিছু ক্লাব নিয়ম ভাঙার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত ছিল।
গভীর দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটি পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গিয়েছি। যেখানে খেলার মাঠে কোনো প্রকৃত সততা বা ফেয়ার প্লে ছিল না। ফলে অতীতে যা কিছু উদযাপন করা হয়েছে, তার অনেক কিছুই আজ কৃত্রিম মনে হচ্ছে।’
এই অনিয়মের কারণে ফুটবলের যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, তা কিভাবে মেরামত করা সম্ভব, সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন এই আর্জেন্টাইন কোচ। তিনি যোগ করেন, যদি ১১৪টি নিয়ম ভাঙার খবর পুরোপুরি সত্যি হয়, তবে আমরা সবাই আসলে একটি প্রতারণামূলক যুগের মধ্যে বাস করেছি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নেতা এবং খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদি বর্তমানে দলের ও জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে ইসলামাবাদমুখী আন্দোলনে দলের কর্মী-সমর্থকদের সংগঠিত করার গুরুদায়িত্ব ৩৭ বছর বয়সী এই নেতার ওপর বর্তিয়েছে, যিনি প্রায় ৩৭ মাস ধরে কারাবন্দি রয়েছেন।
আফ্রিদি আগামী ৪ অক্টোবরের ইসলামাবাদমুখী দীর্ঘ মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে। এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচি এক সপ্তাহ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে প্রকাশ্য বিরোধেও জড়িয়ে পড়েছেন। তবে আফ্রিদি এ বিষয়ে মন্তব্য করেছেন যে, কর্মসূচি পিছিয়ে দেওয়া আত্মসমর্পণ নয়, বরং এটি রাজনৈতিক কৌশলের অংশ। তিনি ঘোষণা করেছেন, ৪ অক্টোবর যেকোনো পরিস্থিতিতে মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।
সংবাদ মাধ্যম আলজাজিরা জানাচ্ছে, ইমরান খান কারাগারে থাকায় পিটিআইয়ের আন্দোলন সংগঠনের ক্ষেত্রে আফ্রিদির ভূমিকা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে থাকা ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে পিটিআইয়ের এটি হবে দ্বিতীয় বড় ইসলামাবাদমুখী মিছিল। দলের দাবি, ইমরানকে মুক্তি দিতে হবে এবং তার রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
সোহেল আফ্রিদির জন্ম ১৯৮৯ সালের ১২ জুলাই খাইবার পাখতুনখোয়ার বারায়। তিনি পেশোয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং পিটিআইয়ের ছাত্রসংগঠন ইনসাফ স্টুডেন্টস ফেডারেশনের মাধ্যমে রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে তিনি বারার একটি আসন থেকে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। পিটিআইকে দলীয় প্রতীক ব্যবহারের সুযোগ না দেওয়ায় তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন। ২০২৫ সালের অক্টোবরে আলী আমিন গান্দাপুরের পদত্যাগের পর ইমরান খানের সমর্থনে তিনি খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন।
আফ্রিদি প্রদেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী মুখ্যমন্ত্রী এবং সাবেক উপজাতীয় অঞ্চল থেকে উঠে আসা প্রথম ব্যক্তি যিনি এ পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন।
আগস্টে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিলেও সরকার তাকে পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসে নেয়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে আফ্রিদি আদালতের আদেশ অমান্যের অভিযোগ তোলেন এবং বলেন, "যদি বিচারকদের আদেশ কার্যকর না হয়, তবে পাকিস্তান ‘কলা প্রজাতন্ত্রে’ পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।"
এরপর তার বিরুদ্ধে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। ১৪ সেপ্টেম্বর তার বৈধতা নিয়ে আদালতে আবেদন করা হয়। একই দিনে সন্ত্রাসবিরোধী আদালত তার পাসপোর্ট আটকের নির্দেশ দেয়। পরবর্তীতে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট ৪ অক্টোবরের মার্চে প্রাদেশিক সরকারের সম্পদ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেয়। পাশাপাশি, প্রাদেশিক সরকারের রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবহার করে মিছিল আয়োজনের বিষয়ে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট সতর্ক করেছে।
তবে আলজাজিরা জানাচ্ছে, ইমরান খানের মুক্তির জন্য আইনি পথের বিভিন্ন উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ার পর আগস্টে আফ্রিদি ইসলামাবাদমুখী মিছিলের ঘোষণা দেন। পরে ইমরানের বোনদের আটক, মিছিল ঠেকাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং খাইবার পাখতুনখোয়া থেকে রাজধানীতে প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ইমরানের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ না পেলেও আফ্রিদি তার মুক্তির দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। ইমরানের বোন উজমা খান জানিয়েছিলেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইমরান তাকে আফ্রিদিকে আন্দোলন আরও দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বার্তা দিতে বলেছিলেন।
এদিকে আফ্রিদির নেতৃত্ব ও পিটিআইয়ের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় নিয়ে দলের ভেতরেও বিভিন্ন মত রয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইমরান খানের অনুপস্থিতিতে দলের নেতৃত্বে একটি শূন্যতা তৈরি হয়েছে। তবে সাবেক পিটিআই নেতা আসাদ উমর এ ধরনের সংকটের ধারণা নাকচ করে দিয়ে দাবি করেছেন যে, দলীয় নেতৃত্বে ধারাবাহিকতা রয়েছে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী খাইবার পাখতুনখোয়ায় গভর্নরের শাসন জারির সম্ভাবনাও নাকচ করেননি। তবে পিটিআই নেতারা এ ধরনের পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছেন। এর মধ্যেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আফ্রিদি। তার বক্তব্য, মিছিলের দিন পরিস্থিতি যাই হোক, তিনি নিজেই এর নেতৃত্ব দেবেন। ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে ৪ অক্টোবরের কর্মসূচি তার রাজনৈতিক ভূমিকার বড় পরীক্ষা হবে।
ইসলামাবাদমুখী কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় সরকার ও পিটিআইয়ের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। ফলে আফ্রিদির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আন্দোলনে বিপুলসংখ্যক সমর্থককে শান্তিপূর্ণভাবে মাঠে নামানো। দলের নেতারাও মার্চের সাফল্য কীভাবে মাপা হবে, তা নিয়ে একমত নন। কেউ বড় জমায়েত ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিকে সাফল্যের মানদণ্ড বলছেন, আবার কেউ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়াকেই সাফল্য হিসেবে দেখছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ