রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:৪৩ পি.এম
বর্তমান বিশ্বের চ্যালেঞ্জগুলো এককভাবে কোনো দেশের পক্ষে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। ব্রিকসকে গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর বিচ্ছিন্ন সক্ষমতাগুলোকে সম্মিলিত সক্ষমতায় রূপ দিতে হবে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৮তম ব্রিকস প্লাস সম্মেলনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই মন্তব্য করেন।
পেজেশকিয়ান উল্লেখ করেন, ইরানের ভূরাজনৈতিক অবস্থান এবং দেশটির জ্বালানি ও ট্রানজিট সক্ষমতা ব্রিকসের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য ও জ্বালানি রুট উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, স্থিতিস্থাপকতা বলতে এমন সক্ষমতাকে বোঝায়, যা চাপের মধ্যেও উন্নয়নের ধারাকে বজায় রাখার এবং স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সংরক্ষণ করে। সীমিত আর্থিক ও বাণিজ্যিক ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা অর্থনীতিকে রাজনৈতিক ধাক্কায় ফেলতে পারে।
পেজেশকিয়ান আরও বলেন, একতরফা নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র অর্থনৈতিক বিষয় নয়। এটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা ও কল্যাণকে সরাসরি প্রভাবিত করে। তাই সদস্য দেশগুলোর অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি করতে জাতীয় মুদ্রায় বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংককে শক্তিশালী করার মাধ্যমে যৌথ সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে।
তার মতে, নিরাপত্তা ছাড়া অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতা টেকসই হবে না। অঞ্চলের সাম্প্রতিক ঘটনাবলী, বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার ইসরাইলের সামরিক আগ্রাসন দেখিয়েছে যে, কোনো দেশের অর্থনৈতিক, জ্বালানি ও উন্নয়ন অবকাঠামোতে হামলার প্রভাব দ্রুত দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিণতি তৈরি করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, এই আগ্রাসনের জন্য ইরানি জনগণকে চরম মূল্য দিতে হয়েছে। নারী, পুরুষ, শিশু ও বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং দেশের উন্নয়নের জন্য কয়েক দশক ধরে গড়ে তোলা অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ঘটনা বেসামরিক জনগণকে সুরক্ষা দেওয়া এবং বেসামরিক স্থাপনায় হামলাকে স্বাভাবিক করে তোলার প্রবণতা প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের গুরুতর দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
পেজেশকিয়ান বলেন, গাজা ও লেবাননের জনগণ এখনো সংঘাত ও ধ্বংসযজ্ঞের পরিণতি ভোগ করছে। সামরিক আগ্রাসন, মানুষের হত্যা এবং তাদের জীবন ধ্বংসের বিরুদ্ধে কার্যকর আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা না থাকলে আন্তর্জাতিক আইনের কথা বলা অর্থহীন। তাই জাতীয় সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং শক্তি প্রয়োগের নিষেধাজ্ঞা রক্ষায় ব্রিকসকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
সহযোগিতাই দ্বিতীয় স্তম্ভ
সহযোগিতাকে ব্রিকসের দ্বিতীয় স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করেন পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, আজকের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলো কোনো একক দেশ একা সমাধান করতে পারে না। তাই ব্রিকসকে সদস্য দেশগুলোর বিচ্ছিন্ন সক্ষমতাগুলোকে সম্মিলিত সক্ষমতায় রূপ দিতে হবে। টেকসই উন্নয়নকে তিনি তৃতীয় স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, যে উন্নয়ন বৈষম্য বাড়ায় অথবা বর্তমানের ব্যয় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর চাপিয়ে দেয়, তা টেকসই হতে পারে না।
পেজেশকিয়ান বলেন, যুদ্ধ পরিবেশ ধ্বংসের অন্যতম প্রধান কারণ। ইরানের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, জ্বালানি ও শিল্প অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির প্রভাব শুধুমাত্র অর্থনৈতিক ক্ষতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি অঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদের ওপরও প্রভাব ফেলে।
জ্ঞান ও উদ্ভাবনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে মন্তব্য করেন পেজেশকিয়ান। তার মতে, ব্রিকসকে নিশ্চিত করতে হবে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও নতুন প্রযুক্তি যেন আধিপত্য বিস্তারের হাতিয়ারে পরিণত না হয়। বরং এগুলোকে দেশগুলোর ক্ষমতায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যম হিসেবে কাজে লাগাতে হবে।
ব্রিকসের সহযোগিতাকে এগিয়ে নিতে ইরান তার সক্ষমতাগুলো কাজে লাগাতে প্রস্তুত বলেও তিনি জানান। তিনি বলেন, সহযোগিতা ছাড়া স্থিতিস্থাপকতা দীর্ঘস্থায়ী হবে না, ন্যায়বিচার ছাড়া সহযোগিতা টেকসই হবে না এবং শান্তি ও নিরাপত্তা ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। ব্রিকসকে এমন একটি প্ল্যাটফর্মে পরিণত করতে হবে, যেখানে এসব নীতিকে বাস্তব কর্মকাণ্ডে রূপ দেওয়া যায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দক্ষিণী অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রোলের শিকার হয়েছেন বিলাসবহুল গাড়ি কেনার কারণে। রেঞ্জ রোভার ইভোক কেনার প্রেক্ষাপটে তাঁকে প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে। তবে অভিনেত্রী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, গাড়িটি তিনি সম্পূর্ণ নিজের উপার্জনের অর্থে কিনেছেন।
সম্প্রতি ‘আশা’ সিনেমার প্রচারণার সময় সঞ্চালক রঞ্জিনী হরিদাসের সঙ্গে কথোপকথনে ঐশ্বরিয়া তাঁর জীবনের কঠিন এক সময়ের কথা স্মরণ করেন। সম্পর্কের টানাপোড়েন ও ব্রেকআপের পর নিজেকে নতুন করে গুছিয়ে নেওয়ার সময়েই তিনি গাড়িটি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঐশ্বরিয়া স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘২০২৪ সালে নিজের কষ্টার্জিত টাকায় গাড়িটি কিনেছিলাম। ব্রেকআপের পর এটি এমন এক সময় ছিল যখন নিজেকে নতুন করে গুছাচ্ছিলাম। সময়টা খুবই খারাপ ছিল এবং সেই সময়ে কিছু প্রজেক্ট থেকেও সরে দাঁড়িয়েছিলাম। কেবল বন্ধুরা এই বিষয়টি জানত। তাই সুস্মিতা সেনের ডায়মন্ড রিংয়ের মতোই নিজেকে একটা বিশেষ উপহার দিতে চেয়েছিলাম। গাড়ি ভালোবাসায় ট্রাইবেকা ব্লু রঙের একটি রেঞ্জ রোভার ইভোক উপহার দিই।’
ঐশ্বরিয়া গাড়িটির ডেলিভারি ১৪ ফেব্রুয়ারি নিতে চেয়েছিলেন, যাতে ভালোবাসা দিবসকে নিজের জন্য বিশেষ করে তুলতে পারেন। তিনি বলেন, ‘১৪ ফেব্রুয়ারিতেই গাড়িটির ডেলিভারি চেয়েছিলাম ভালোবাসা দিবসের উপহার হিসেবে। ফলে কেউ আমার সঙ্গে ডেট করতে চাইলে জেনে রাখুন, এটি আমি নিজেই নিজেকে উপহার দিয়েছি এবং এটিই আমার স্ট্যান্ডার্ড।’
যদিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাড়ি কেনার ছবি প্রকাশের পর থেকেই শুরু হয় নানা প্রশ্ন ও ট্রোলিং। অনেকেই জানতে চান, এত দামি গাড়ি কীভাবে কিনলেন অভিনেত্রী। কেউ কেউ এমন প্রশ্নও তোলেন, গাড়িটি তাঁকে কেউ উপহার দিয়েছেন কি না।
ঐশ্বরিয়া জানান, শুটিং সেটেও তাঁকে সরাসরি এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। একজন তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, গাড়িটি কেউ উপহার দিয়েছেন কি না। এমন প্রশ্নে তিনি অবাক হয়েছিলেন। তাঁর মনে হয়েছিল, এত দামি গাড়ি উপহার দেওয়ার মতো কেউ যদি থাকতেন, তাহলে তাঁকে কেন সিনেমায় কাজ করতে হবে!
তবে নেতিবাচক মন্তব্য তাঁর ওপর কোনো প্রভাব ফেলেনি। বরং নিজের উপার্জনের অর্থে গাড়ি কেনাকে তিনি ব্যক্তিগত সাফল্য হিসেবেই দেখছেন।
এর আগে ২০২৩ সালে ‘কিং অব কোঠা’ সিনেমাটি প্রত্যাশা অনুযায়ী ব্যবসা করতে না পারায় ট্রোলের মুখে পড়েছিলেন ঐশ্বরিয়া। একই সময়ে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের ব্রেকআপও ঘটে। কঠিন সেই সময় পেরিয়েই তিনি নিজের জন্য এই বিশেষ উপহার কেনেন।
বলা দরকার, কোচিন শহরের রাস্তায় রেঞ্জ রোভার ইভোকের আনুমানিক অন-রোড দাম প্রায় ৮২ দশমিক ৭৮ লাখ রুপি। এ ছাড়া তাঁর মালিকানায় রয়েছে মার্সিডিজ-বেঞ্জ জিএলসি ২২০ডি, যার দাম প্রায় ৯৮ দশমিক ১৭ লাখ রুপি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢালিউডের অভিনেত্রী পরীমনি নতুন একটি ওয়েব ফিল্মে যুক্ত হয়েছেন। এই ওয়েব ফিল্মটির নাম ‘সেপারেশন’, যা পরিচালনা করছেন গিয়াস উদ্দিন সেলিম। শুটিং ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। পরীমনির বিপরীতে অভিনয় করছেন ইমতিয়াজ বর্ষণ। বিশেষ একটি চরিত্রে দেখা যাবে চিত্রনায়ক নিরবকে।
বর্তমানে রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় ওয়েব ফিল্মটির শুটিং চলছে। রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) পরীমনি নিজের ফেসবুক পেজে শুটিংয়ের একটি ছবি প্রকাশ করে নতুন কাজটির খবর জানিয়েছেন।
ছবিতে ‘বিসমিল্লাহ’ লেখার পাশাপাশি ‘সেপারেশন’ এবং পরিচালক গিয়াস উদ্দিন সেলিমের নাম উল্লেখ করেছেন পরীমনি।
এর আগে গিয়াস উদ্দিন সেলিমের পরিচালনায় ‘স্বপ্নজাল’ ও ‘গুণিন’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন পরীমনি। এবার তিনি এই নির্মাতার সঙ্গে ওয়েব ফিল্মে কাজ করছেন, ফলে এটি তাদের তৃতীয় যৌথ কাজ হতে যাচ্ছে ‘সেপারেশন’।
তবে ওয়েব ফিল্মটিতে পরীমনির চরিত্র কিংবা গল্পের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ইমতিয়াজ বর্ষণের চরিত্র নিয়েও নির্মাতা বা সংশ্লিষ্টরা কিছু বলেননি।
জানা গেছে, রাজধানীর ৩০০ ফিটসহ বিভিন্ন লোকেশনে পর্যায়ক্রমে ‘সেপারেশন’-এর শুটিং হবে। পরীমনি, ইমতিয়াজ বর্ষণ ও নিরবের পাশাপাশি এতে আরও অভিনয় করছেন শার্লিন ফারজানা।
ওয়েব ফিল্মটি মুক্তি পাবে আইস্ক্রিনে প্ল্যাটফর্মে। তবে ‘সেপারেশন’ কবে নাগাদ দর্শকের সামনে আসবে, তা এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের বাসভবনে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়, যেখানে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ‘ককাস অব আমেরিকা’র কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) মার্কিন রাষ্ট্রদূতের আমন্ত্রণে এই অনুষ্ঠানে তারা উপস্থিত হন। অনুষ্ঠানে বিএনপির সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন, অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী, সানজিদা ইসলাম তুলি, জামায়াতের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম (আরমান), মারদিয়া মমতাজ এবং এনসিপির আখতার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
নিপুণ রায় চৌধুরী ফেসবুকে সাক্ষাতের ছবি পোস্ট করে লেখেন, ‘বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের বাসভবনে আমেরিকান ককাস-এর সদস্যদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ এক মতবিনিময় হলো। সুন্দর এই আয়োজনের জন্য তাঁকে এবং মার্কিন দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ। এমন সুযোগ পারস্পরিক সম্পর্ক ও বোঝাপড়াকে আরো দৃঢ় করে।’
সানজিদা ইসলাম তুলি লেখেন, ‘এ ধরনের সৌহার্দ্যপূর্ণ সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় পারস্পরিক সম্পর্ক, সহযোগিতা ও বোঝাপড়াকে আরো গভীর ও দৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান মন্তব্য করেছেন যে, বাড়ির নিকটে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা না থাকার কারণে মানুষকে চিকিৎসার জন্য দূর-দূরান্তে যেতে হয়। তিনি উল্লেখ করেন, স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে চিকিৎসাকেন্দ্রিক না রেখে রোগপ্রতিরোধমুখী করতে হবে। রোগ জটিল আকার ধারণ করার আগেই তা শনাক্ত ও প্রতিরোধের ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিজয় সরণির নভোথিয়েটারের একটি হলে ‘সাশ্রয়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ সম্প্রসারণ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের বাস্তবায়নে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ইনোভেশন ফেয়ারের অংশ হিসেবে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। শনিবার সকালে মেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নভোথিয়েটার প্রাঙ্গণে আয়োজিত মেলা সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত চলবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য মেলা উন্মুক্ত থাকবে। এতে সার্বিক সহযোগিতা করছে স্পেলবাউন্ড কমিউনিকেশন্স লিমিটেড।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, সবার জন্য সাশ্রয়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক চিকিৎসা নিশ্চিত করার মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হবে। স্বাস্থ্যসেবাকে আধুনিক হাসপাতাল বা উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের কাছে, দেশের ৯০ হাজারের বেশি গ্রামে গ্রহণযোগ্য স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছানো উচিত। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীদের যেন চিকিৎসার জন্য দীর্ঘপথ পাড়ি দিতে না হয় এবং হামে আক্রান্ত শিশুদের অভিভাবকরা যেন বাড়ির কাছেই স্বাস্থ্যসেবা পান, সেই ব্যবস্থা করতে হবে।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ডেঙ্গু বিষয়ে সচেতনতা কর্মসূচি জোরদার করতে হবে এবং হামের টিকাদানে মানুষকে উৎসাহিত করতে হবে, যাতে কেউ এসব সেবা থেকে বাদ না পড়েন। হৃদ্রোগ দেশে পঙ্গুত্ব ও মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। সহজ জীবনযাপনের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ এবং উন্নত চিকিৎসাসেবার সমন্বয় এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারে।
ক্যানসার সচেতনতা কর্মসূচি আরো বিস্তৃত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় বাংলাদেশে আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যা দক্ষতার উদাহরণ তৈরি করেছে। তারপরও অনেক মানুষ নিজের অজান্তেই ডায়াবেটিস নিয়ে বসবাস করছেন।
স্বাস্থ্য খাতে সরকারি বিনিয়োগ ধীরে ধীরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও জানান ডা. জুবাইদা রহমান। একই সঙ্গে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। এ ক্ষেত্রে নারী স্বাস্থ্যকর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, এসব স্বাস্থ্যকর্মী মানুষের রোগ শনাক্তকরণ (স্ক্রিনিং), মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা, স্বাস্থ্যশিক্ষা এবং দীর্ঘস্থায়ী রোগ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘রোগ প্রতিরোধ নিরাময়ের চেয়ে উত্তম’—আমরা প্রায়ই এ কথা বলি। আর সেটিই সত্য।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ