ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশি সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা, নৃত্য ও সংগীতের প্রদর্শনী


ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশি সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা, নৃত্য ও সংগীতের প্রদর্শনী

পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক জাঁকজমকপূর্ণ বাংলাদেশি সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। এ উপলক্ষে পাকিস্তান ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ দ্যা আর্টস (পিএনসিএ)-এর আলোকচিত্র গ্যালারিতে বাংলাদেশের বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী মো. আবদুস সাত্তারের এককচিত্র প্রদর্শনী আয়োজন করা হয়।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন পাকিস্তানের ন্যাশনাল হেরিটেজ ও সংস্কৃতি বিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী আওরঙ্গজেব খান খিচি।

অনুষ্ঠানে পাকিস্তানে বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. ইকবাল হোসেন খান, বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিদলের প্রধান যুগ্মসচিব মো. মিজানুর রহমান, ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির সদস্যবৃন্দ, সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক, বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সদ্যস, বাংলাদেশ কমিউনিটির সদস্য এবং পাকিস্তানে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি: অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগে গ্রেফতার ৪

এর আগে, একাডেমির লেকচার হলে শ’খানেক তরুণ শিল্পী ও শিল্পবোদ্ধাদের সামনে বরেণ্য শিল্পী আবদুস সাত্তার ওরিয়েন্টাল চিত্রশিল্প সম্পর্কে ঘণ্টাব্যাপী বক্তব্য দেন।

পাকিস্তান ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ দ্যা আর্টস (পিএনসিএ)-এর অডিটরিয়ামে উপস্থিত অতিথি ও দর্শক-শ্রোতারা বাংলাদেশ থেকে আগত শিল্পীদের বর্ণাঢ্য নৃত্য ও সংগীত মন্ত্রমুগ্ধের ন্যায় উপভোগ করেন। আগত দর্শক-শ্রোতারা বাংলাদেশি শিল্পীদের চিত্রকর্ম, নাচ ও গানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। গ্যালারিভর্তি দর্শক-শ্রোতা করতালি দিয়ে অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তোলেন এবং বাংলাদেশি সংস্কৃতির প্রতি তাদের আকর্ষণ ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটান।

প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় শিল্পীরা বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ও আধুনিক নাচ এবং গানের ঝংকারে দর্শক-শ্রোতাদের মাতিয়ে রাখেন। অনুষ্ঠানে লালনগীতি ও নজরুল সংগীতও পরিবেশিত হয়।

জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী পিয়াল হাসান, মো. ইশা খান ইথুন বাবু, মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন নাসির ও নাজনীন আক্তার (মৌসুমী চৌধুরী) একক সংগীত পরিবেশন করেন। দলীয় নৃত্যে অংশ নেন নৃত্যশিল্পী মেহবুবা মাহনুর চাঁদনি, ফারহানা চৌধুরী, আব্দুর রশিদ স্বপন ও গোলাম মোস্তফা। মিউজিকে সহযোগিতা করেন মো. রাজু আহমেদ চৌধুরী (তবলা), মো. রাহাত আহমেদ হাসান (সিন্থেসাইজার), মো. ইকবাল হোসাইন খন্দকার (গিটার) এবং সৌরভ সাহা (অক্টাপ্যাড)।

আরও পড়ুন: ট্রাম্প: ইউক্রেনকে বিপুল সহায়তা দিয়েও কিছু পায়নি যুক্তরাষ্ট্র

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ময়মনসিংহে জেলা ভূমিসেবা কেন্দ্র উদ্বোধন করলেন জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:২০ পি.এম


ময়মনসিংহে জেলা ভূমিসেবা কেন্দ্র উদ্বোধন করলেন জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান

ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা ভূমিসেবা কেন্দ্র উদ্বোধন করা হয়েছে, যা হয়রানিমুক্ত ভূমিসেবা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সেবাপ্রার্থীরা এখানে সহজেই বিভিন্ন ধরনের ভূমিসেবা গ্রহণ করতে পারবেন।

রবিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সাইফুর রহমান জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নিচতলায় এ কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই ভূমিসেবা কেন্দ্রে অনলাইন আবেদনের মাধ্যমে ভূমি উন্নয়ন কর, মিউটেশন, খতিয়ান, মৌজা ম্যাপ, ভূমিসেবার অভিযোগ এবং অন্যান্য ভূমিসেবা পাওয়া যাবে। বর্তমানে জেলায় মোট ৫১টি ভূমিসেবা কেন্দ্র রয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে ৩ জন কর্মচারী নিয়োজিত রয়েছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে হয়রানিমুক্ত ভূমিসেবা নিশ্চিত করা হবে।

জেলা প্রশাসক উদ্যোক্তাদের সতর্ক করে বলেন, শর্ত অনুযায়ী ভূমি সেবা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। যদি এতে কোনো ধরনের ব্যত্যয় ঘটে, তাহলে শর্তভঙ্গের অভিযোগে চুক্তি বাতিল করা হবে।

এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রেজা মো. গোলাম মাছুম প্রধান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আজিমুদ্দিন, কেন্দ্রীয় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটের যুগ্ম আহ্বায়ক কৃষিবিদ মো. শফিকুল ইসলাম, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব একেএম মাহাবুল আলম, গৌরীপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফিয়া আমিন পাপ্পা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নাসিরনগর ও বুড়িশ্বরে ৮ পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এনসিপি নেতৃবৃন্দের, সম্প্রীতি রক্ষার অঙ্গীকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ শরীফ উদ্দিন: ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:২১ পি.এম


নাসিরনগর ও বুড়িশ্বরে ৮ পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এনসিপি নেতৃবৃন্দের, সম্প্রীতি রক্ষার অঙ্গীকার

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর সদর ও বুড়িশ্বর ইউনিয়নের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতৃবৃন্দ। এ সময় তাঁরা পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি ঘুরে দেখেন এবং পূজার আয়োজন ও নিরাপত্তাব্যবস্থার খোঁজখবর নেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নাসিরনগর উপজেলা শাখার আহ্বায়ক ও জনতা ব্যাংকের সাবেক উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. কামরুজ্জামান খান কাইয়ূমের নেতৃত্বে নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শন করা মণ্ডপগুলোর মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ সিংহগ্রাম কলেজ-সংলগ্ন সার্বজনীন দুর্গাপূজা মণ্ডপ, চকবাজার সিংহগ্রামের রাধা গোবিন্দ মন্দিরের সার্বজনীন দুর্গাপূজা মণ্ডপ, সিংহগ্রাম সাহাজী বাড়ির পূজামণ্ডপ, তিলপাড়ায় শচীন্দ্র সরকারের বাড়ির পূজামণ্ডপ, উত্তর তিলপাড়ায় হরিপদ সরকারের বাড়ির জয় দুর্গা সংঘের পূজামণ্ডপ, নাসিরনগর সদরের দত্ত বাড়ির পূজামণ্ডপ, লোকনাথ মন্দিরের মাতৃকা সংঘ আয়োজিত দুর্গাপূজা মণ্ডপ এবং জগন্নাথ মন্দিরের পূজামণ্ডপ।

এ সময় এনসিপি নেতৃবৃন্দ হিন্দু সম্প্রদায়সহ সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, উৎসবের পরিবেশ বজায় রাখতে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে পাশে থাকা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি যেকোনো ধরনের উসকানি ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার কথাও জানান তাঁরা।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির নাসিরনগর উপজেলা শাখার সদস্যসচিব মিজান চৌধুরী, যুগ্ম আহ্বায়ক মীরু আহমেদ ভূইয়া, সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ইসমাইল আহমেদ শুভ, যুগ্ম সদস্যসচিব সাদ্দাম হোসেন ও উজ্জ্বল মিয়া এবং এনসিপি নেতা এম ডি পিয়াসসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

উল্লেখ্য, নাসিরনগর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে এ বছর মোট ১৪২টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এনসিপি নেতৃবৃন্দ জানান, তাঁরা উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের অধিকসংখ্যক পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা পৌঁছে দেবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুন্দরবনে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ছে, রাজস্ব আদায়ে নতুন সম্ভাবনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:২১ পি.এম


সুন্দরবনে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ছে, রাজস্ব আদায়ে নতুন সম্ভাবনা

প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য, জীববৈচিত্র্যের বিপুল সমাহার এবং ক্ষণে ক্ষণে রূপ বদলানো মায়াবী অরণ্য, সব মিলিয়ে সুন্দরবন পর্যটকদের কাছে এক অনন্য আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। ভোরের স্নিগ্ধ আলো, দুপুরের রোদ, পড়ন্ত বিকেলের মায়াবী পরিবেশ কিংবা নিশুতি রাতের গহিন অরণ্য, প্রতিটি মুহূর্তেই ভিন্ন রূপে ধরা দেয় বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন। বর্ষা শেষে অক্টোবরের শুরু থেকেই দেশি-বিদেশি পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে সুন্দরবন। বনে দস্যুতা দমনে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি পর্যটন খাতের সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করছে। একই সঙ্গে সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়ছে।

খুলনা অঞ্চল বন সংরক্ষকের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২০২৪ থেকে ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে সুন্দরবন ভ্রমণে অনুমতি নেওয়া পর্যটক ও তীর্থযাত্রীদের কাছ থেকে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে মোট ১৩ কোটি ৪৮ লাখ ১০ হাজার ৫১ টাকা। এর মধ্যে ২০২৩-২০২৪ অর্থ বছরে রাজস্ব আদায় হয় ৩ কোটি ৬১ লাখ ৫ হাজার ৩৮৫ টাকা। ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫ কোটি ৩৮ লাখ ১২ হাজার ৪১০ টাকা। সর্বশেষ ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৪ কোটি ৪৮ লাখ ৮৩ হাজার ২৫৬ টাকা।

বন বিভাগ ও পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পর্যটকদের আগ্রহ এবং নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করা গেলে এ খাতে আরও সম্ভাবনা তৈরি হবে। তবে পর্যটন সম্প্রসারণের পাশাপাশি বনের জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করাও জরুরি।

বন বিভাগের তথ্যমতে, ২০২৩-২০২৪ অর্থ বছরে সুন্দরবন ভ্রমণের অনুমতি নেন ১ লাখ ৯৭ হাজার ২৯৩ জন দেশি ও ২ হাজার ৬২২ জন বিদেশি পর্যটক। এ ছাড়া তীর্থযাত্রী ছিলেন ১১ হাজার ৯৯৪ জন। ওই অর্থ বছরে মোট রাজস্ব আদায় হয় ৩ কোটি ৬১ লাখ ৫ হাজার ৩৮৫ টাকা।

২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরে দেশি পর্যটকের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৩ লাখ ২৮ হাজার ১৭ জন। ওই বছর বিদেশি পর্যটক ছিলেন ১ হাজার ৭৩৪ জন এবং তীর্থযাত্রী ১১ হাজার ৩৩ জন। এ সময়ে রাজস্ব আদায় হয় ৫ কোটি ৩৮ লাখ ১২ হাজার ৪১০ টাকা।

অন্যদিকে, ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে দেশি পর্যটকের সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৫৯ হাজার ৪২১ জন। বিদেশি পর্যটক ছিলেন ২ হাজার ২২৮ জন এবং তীর্থযাত্রী ১১ হাজার ৯৯৪ জন। এ অর্থ বছরে রাজস্ব আদায় হয় ৪ কোটি ৪৮ লাখ ৮৩ হাজার ২৫৬ টাকা।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরে পর্যটক ও রাজস্ব, দুই ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। পরের অর্থ বছরে দেশি পর্যটকের সংখ্যা ও রাজস্ব আয় আগের বছরের তুলনায় কমলেও বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বেড়েছে।

বন বিভাগ জানায়, সুন্দরবন ভ্রমণে বন বিভাগ সর্বোচ্চ পাঁচ দিনের অনুমতি দিয়ে থাকে। তবে ট্যুর অপারেটরদের অধিকাংশ প্যাকেজ দুই রাত তিন দিনের। ব্যক্তিগতভাবে জাহাজ বুকিং করেও সপ্তাহের যেকোনো দিন ভ্রমণের ব্যবস্থা করা যায়। তবে খুলনা থেকে অধিকাংশ পর্যটকবাহী জাহাজ বৃহস্পতি ও শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে যাত্রা শুরু করে।

সাধারণত, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে পর্যটকদের জন্য আন্দারমানিক, কটকা, জামতলা বিচ, কচিখালী, ডিমের চর ও করমজলসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আন্দারমানিক, কটকা, জামতলা বিচ, হিরণ পয়েন্ট ও দুবলার চর ঘুরে দেখার সুযোগ থাকে। এক দিনের ভ্রমণে অনেকে বাগেরহাটের মোংলা থেকে ট্রলার বা ছোট নৌযানে করমজল ও হারবাড়িয়া এলাকায় যান। এ ছাড়া সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সীগঞ্জ এলাকা থেকেও সুন্দরবনে প্রবেশ করা যায়।

সুন্দরবনের সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি বন্য প্রাণী, নদী-খাল, ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ এবং বনের স্বাভাবিক পরিবেশ কাছ থেকে দেখার সুযোগ পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। অমাবস্যার অন্ধকার কিংবা চাঁদনি রাতের পরিবেশও পর্যটকদের কাছে সুন্দরবনের ভিন্ন এক রূপ তুলে ধরে।

ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবনের (টোয়াস) তথ্যমতে, বর্তমানে খুলনা থেকে প্রায় ৭০টি জাহাজ সুন্দরবনে পর্যটক নিয়ে যায়। এসব জাহাজের মধ্যে বিলাসবহুল নৌযানও রয়েছে। একটি জাহাজে সর্বোচ্চ ৭৫ জন পর্যটক নেওয়ার অনুমতি রয়েছে। দুই রাত তিন দিনের প্যাকেজে বিলাসবহুল শীতাতপনিয়ন্ত্রিত জাহাজে জনপ্রতি ব্যয় ১২ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত। নন-এসি জাহাজে জনপ্রতি খরচ ৭ হাজার ৫০০ থেকে ১১ হাজার টাকা।

জাহাজভেদে খাবার, আবাসন ও অন্যান্য সুবিধার তারতম্য হয়। পর্যটন মৌসুমে পছন্দের জাহাজে ভ্রমণ নিশ্চিত করতে অন্তত দুই থেকে চার সপ্তাহ আগে ট্যুর অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়। সাধারণত বুকিং নিশ্চিত করতে মোট ভাড়ার কমপক্ষে ৫০ শতাংশ অগ্রিম দিতে হয়।

সুন্দরবনে পর্যটকদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে বন বিভাগ ও ট্যুর অপারেটররা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন। বনের পরিবেশ সংরক্ষণ, পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং বন্য প্রাণীর স্বাভাবিক বিচরণ নির্বিঘ্ন রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবনের সভাপতি মো. মইনুল ইসলাম জমাদ্দার বলেন, ১৯৮৭ সালে সুন্দরবনকে পর্যটকদের জন্য উন্মৃক্ত করার পর থেকে ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার সুন্দরবনের মধ্যে পর্যটকরা ভ্রমন করতে পারে মাত্র ১০-১২ কিলোমিটার। এই পর্যন্ত ভ্রমনপিয়াসুরা নিরাপদে ভ্রমন করেছে সুন্দরবন। আমরা পর্যটকদের জন্য নিরাপদ ও আরামদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করতে আন্তরিকভাবে কাজ করছি। বন বিভাগের সব নিয়মকানুন ও বিধিমালা মেনে সুন্দরবনে চলাচল করতে দর্শনার্থীদের অনুরোধ করি। জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে প্লাস্টিক ও পলিথিনের ব্যবহার থেকে বিরত থাকা এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটন নিশ্চিত করতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। খুলনাতে বিশ্বমানের জাহাজ সংযুক্ত হয়েছে। আমরা পরিবেশকে বাঁচিয়ে বিশ্বমানের ট্যুরিজমের দিকে ধাবিত হচ্ছি।

খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান হোসেন জানান, বন বিভাগ সার্বক্ষণিক সুন্দরবনকে সুরক্ষিত রাখতে সচেষ্ট রয়েছে।

সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) এ জেড এম হাছানুর রহমান বলেন, প্রতিটি পর্যটকবাহী বোটে বন বিভাগের দুজন করে সশস্ত্র গার্ড থাকেন। পাশাপাশি ট্যুর অপারেটরের প্রতিনিধিরাও থাকেন। বনের মধ্যে বন বিভাগের প্রতিটি ক্যাম্পকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, সুন্দরবনের সার্বিক পরিবেশ রক্ষায় পর্যটকদের সচেতন করা হচ্ছে এবং বন সংরক্ষণে দায়িত্বশীল আচরণে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

সুন্দরবনকে ঘিরে পর্যটন খাতের বিস্তার স্থানীয় অর্থনীতি ও সরকারের রাজস্ব আয়ে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি করছে। তবে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বনের পরিবেশের ওপর চাপ সৃষ্টি হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে। তাই নিয়ন্ত্রিত পর্যটন, নিয়মিত নজরদারি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং বন বিভাগের বিধিনিষেধ যথাযথভাবে অনুসরণ করা জরুরি। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্যের অনন্য আধার সুন্দরবনকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুরক্ষিত রাখতে পর্যটন সম্প্রসারণের সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণের সমন্বয়ই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। নিরাপত্তা, সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশবান্ধব পর্যটন নিশ্চিত করা গেলে সুন্দরবন দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে আরও সমৃদ্ধ হয়ে উঠতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাণীনগরে দেয়াল ভেঙে দোকানের সাড়ে ৩ লাখ টাকার মালামাল চুরি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:২১ পি.এম


রাণীনগরে দেয়াল ভেঙে দোকানের সাড়ে ৩ লাখ টাকার মালামাল চুরি

নওগাঁর রাণীনগরে একটি কিটনাশক দোকানের ইটের দেয়াল কেটে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকার মালামাল চুরির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার রাতের অন্ধকারে উপজেলার লোহাচুড়া বাজারে মেসার্স আফিয়া ট্রেডার্স নামক দোকানে এই চুরির ঘটনা ঘটে।

দোকানের মালিক মো. বেলায়েত হোসেন জানান, তিনি সিনজেনটা কোম্পানীর খুচরা বিক্রেতা হিসেবে লোহাচুড়া বাজারে ব্যবসা করে আসছেন। শনিবার তিনি সারাদিন ব্যবসার কাজ শেষ করে দোকানটি তালা দিয়ে বাড়িতে চলে যান। রোববার সকালে দোকান খুলে তিনি দেখতে পান, চোরেরা দোকানের পিছনে ইটের দেয়াল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে প্রায় ৩ লাখ ৩৮ হাজার টাকার বিভিন্ন মালামাল চুরি করে নিয়ে গেছে। তিনি বলেন, "এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করবো।"

রাণীনগর থানার ওসি মো. জাকারিয়া মন্ডল জানান, খবর পেয়ে রোববার সকালে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, "এঘটনায় ভুক্তভোগীকে থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। এছাড়া বিষয়টি খতিয়ে দেখে জড়িতদের গ্রেফতারসহ মালামাল উদ্ধারে কাজ চলছে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%