১২:৪৫ এম
সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ দলের হ্যাটট্রিক শিরোপা মিশন ব্যর্থ হয়েছে। আজ ভারতের গোয়ায় ফাইনালে স্বাগতিক ভারতের কাছে বাংলাদেশের দল ১-৩ গোলে হেরেছে মারিয়ারা।
এইবারের হ্যাটট্রিক মিশনের জন্য বাংলাদেশ দলকে থাইল্যান্ড পাঠিয়েছিল বাফুফে। এত উন্নত প্রস্তুতির পরও বাংলাদেশ এই আসনে ভালো পারফরম্যান্স করতে পারে নি, ফলে তাদের রানার্স আপ হয়ে দেশে ফিরতে হচ্ছে।
ফাইনাল পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের কোচ পিটার বাটলার মন্তব্য করেন, ‘সত্যিকার অর্থে ম্যাচের চিত্র স্কোরলাইনে সব সময় প্রদর্শিত হয় না। আমি মেয়েদের চেষ্টায় গর্বিত। বিশেষ করে তরুণ খেলোয়াড়রা অসাধারণ খেলেছে।’
আরও পড়ুন: ইংল্যান্ডও হারল পাকিস্তানের কাছে
বাংলাদেশের তিন গোল হজমের মধ্যে দু’টি গোলরক্ষক মিলি আক্তারের ভুলের ফল এবং একটি ডিফেন্ডার আফিদা খন্দকারের। ২০২২ ও ২০২৪ সালের দুটি সাফ পর্যায়েই গোলরক্ষক রুপ্না চাকমা টুর্নামেন্টের সেরা গোলরক্ষক হন। তবে এবারের আসরে তাকে একটি ম্যাচও খেলার সুযোগ দেননি কোচ। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বাটলার বলেন, ‘সে আমাকে ইমপ্রেস করতে পারেনি। থাইল্যান্ডে মিলি ইনজুরিতে পড়ার পর রুপ্না সুযোগ পেয়েছিল, কিন্তু সেখানে পারফর্ম করতে পারে নি। মিলি বর্তমানে ফর্মে রয়েছে, তাই তাকেই আমি বেছে নিয়েছি। সে ভুল করতে পারে, তবে এটাও খেলারই অংশ।’
বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হতে না পারার ব্যর্থতা নিয়ে কোচ বাটলার দায়ভার নিয়েছেন। তার বক্তব্য, ‘আমি শুধুমাত্র বলতে চাই যে আমি এখানে কোনো অজুহাত দিতে আসিনি। আমি এই দায়ভার নিচ্ছি। আমি জবাবদিহি করতে বাধ্য। টেকনিক্যাল বিষয়ের জন্য সব দায় আমার। অন্য কোনো জটিলতা বা ঘটনা আমার দেখার বিষয় নয়।’
গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশ ভারতের বিপক্ষে ৩-০ গোলে হেরেছিল। আজ ফাইনালের স্কোরলাইন ৩-১ হলেও পার্থক্য দেখছেন বাটলার। তিনি বলেন, ‘ঐ ম্যাচের তুলনায় আমরা ভালো পারফরম্যান্স করেছি। অনেক সময় আমরা ম্যাচ নিয়ন্ত্রনে রেখেছিলাম।’ ঋতুপর্ণার একটি গোলে বাংলাদেশ সমতাও এনেছিল। তবে ম্যাচ থেকে ছিটকে যাওয়ার কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, ‘এই খেলায় মূল টার্নিং পয়েন্ট ছিল যখন আনিকা ইনজুরিতে পড়ে মাঠের বাইরে চলে গেল। আমি তাকে ৯ নম্বরের বদলে ১০ নম্বর পজিশনে খেলানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, এবং সে সত্যিই খুব ভালো খেলেছে। আমি মনে করি ঋতু আজ রাতে ভালো খেলেছে। মারিয়া অসাধারণ ছিল। এবং আমার ষ্পষ্ট মনে হচ্ছে, আফরিন, যার বয়স মাত্র ১৮, সে একজন অসাধারণ তরুণ খেলোয়াড়; আমাদের দলে এমন এক-দুজন খেলোয়াড় রয়েছে যারা তাদের ক্যারিয়ারের এমন এক সময়ে পৌঁছেছে যা হয়তো শেষ সময় পার করে এসেছে, অর্থাৎ শেষের দিকে চলে এসেছে। তাদের হয় লড়াই করতে হবে, অথবা আমাদের বিকল্প খুঁজতে হবে।’
একাডেমির কোচ হিসেবে নারী ফুটবল দলের দায়িত্ব নিয়েছেন। সেই দায়িত্ব বর্তমানে দুই বছরের বেশি সময় ধরে রয়েছে। বাফুফের সঙ্গে তার ভবিষ্যতের চুক্তি নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি আসলে আমার নিজের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে চাই না। আমি এই দায়িত্বটা মূলত কিছু দয়ার জন্য নিইনি... সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন আমি এটা করব কি না, এবং আমি রাজি হয়েছিলাম। এবং সকলেই জানে যে আমি কিছুটা 'ফায়ারফাইটার' (সংকট মোচনকারী) এর মতো। আমাকে ফিরে যেতে হবে এবং আমি কী করতে চাই তা নিয়ে ভাবতে হবে। হয়তো অন্য কোথাও নতুন কোনো চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করব। আমি আমার চুক্তির শেষ পর্যায়ে চলে এসেছি। আমি মনে করি আমি ভালো কাজ করেছি। আমি জানি আমি ভালো কাজ করেছি।
আরও পড়ুন: বার্সেলোনার উড়তে থাকা জয়রথ থামাল পিএসজি, ৪-২ ব্যবধানে জয়
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন