ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নাগরিকদের অধিকার নিশ্চিত করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব: আইনমন্ত্রী


নাগরিকদের অধিকার নিশ্চিত করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব: আইনমন্ত্রী

ঢাকা, ২৪ আগস্ট, ২০২৬ : আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, নাগরিকদের অধিকার নিশ্চিত করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব।

রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশ: রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতা’ শীর্ষক আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সিজিএসের সভাপতি জিল্লুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন, গণফোরাম সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সোহরাব হাসানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, মানবাধিকার সংগঠন, গণমাধ্যম ও আইন পেশার প্রতিনিধিরা বক্তৃতা করেন।

আরও পড়ুন: ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘটে মরদেহ পরিবহনে বিপাকে স্বজনরা, রোগীরাও ভোগান্তিতে

আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার গঠনমূলক সমালোচনাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করছে। সমালোচনা ও পরামর্শের মধ্য দিয়েই সংস্কারের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে সঠিক পথে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। সরকার সামনে এগিয়ে যেতে চায় এবং সংস্কারের যৌক্তিক জায়গায় পৌঁছাতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

আইনমন্ত্রী বলেন, সরকারের সমালোচনা করার অধিকার নাগরিকদের রয়েছে এবং এই অধিকার নিশ্চিত করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব। রাজনৈতিক দলগুলো তাদের কর্মসূচি পালন করবে এবং সরকারের সমালোচনা করবে- এটাই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্বাভাবিক অংশ।

তিনি বলেন, সমাজে এমন একটি সংস্কৃতি তৈরি করা প্রয়োজন, যেখানে মানুষ নির্ভয়ে কথা বলতে পারে। মতপ্রকাশের কারণে লেখক, সাংবাদিক, কার্টুনিস্ট ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে হয়রানি বা গ্রেপ্তারের অতীত সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসার চেষ্টা করা হচ্ছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, আইন ও নীতিমালার ক্ষেত্রে সরকার কোনো বিষয়কে চূড়ান্ত ও অপরিবর্তনীয় মনে করে না। কোনো আইন বাস্তবে প্রয়োগের পর যদি দেখা যায় সেখানে সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে, তাহলে সংশোধনের জন্য সরকার উন্মুক্ত থাকবে। আইন মানুষের প্রয়োজনেই প্রণীত হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তা সংশোধন করা যায়।

আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না

মানবাধিকার কমিশন আইন এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে ব্যাপক পরামর্শ ও যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। গুমের ঘটনাকে সাধারণ অপরাধ এবং ব্যাপক ও পদ্ধতিগতভাবে সংঘটিত অপরাধের মধ্যে পার্থক্য করে বিচারিক এখতিয়ার নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত ও জবাবদিহির কার্যকর ব্যবস্থা রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ব্যাখ্যা চাওয়ার সুযোগ থাকতে হবে। দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তা প্রকৃত তথ্য গোপন করলে বা ভুল তথ্য দিলে জবাবদিহির প্রশ্নও আসবে। এর মাধ্যমে দায়িত্বশীলতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হচ্ছে।

সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, জুলাই সনদকে সামনে রেখে সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে সরকার এগিয়ে যাচ্ছে। সংবিধানের মৌলিক কাঠামো অক্ষুণ্ন রেখে যেকোনো সংশোধন করতে হবে। বাংলাদেশের সংবিধানের বিভিন্ন বিচারিক সিদ্ধান্তেও সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর বিষয়টি স্বীকৃত হয়েছে।

তিনি বলেন, বিদ্যমান সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সংশোধনের বিষয়ে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়টি জুলাই সনদের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। এ লক্ষ্যে সংবিধান সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শের প্রয়োজন রয়েছে।

আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম

আইনমন্ত্রী বলেন, সংবিধান সংস্কার কমিটিতে বিরোধী দলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। যেকোনো যৌক্তিক প্রস্তাব ও মতামত বিবেচনা করে সংস্কার প্রক্রিয়াকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার সুযোগ রয়েছে। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি এ প্রক্রিয়ায় গঠনমূলকভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও কার্যকর ভারসাম্য নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিচার বিভাগের প্রশাসনিক কাঠামো ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সংবিধানের বিভিন্ন সময়ে পরিবর্তিত বিধান এবং বিচার বিভাগের বাস্তব অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য হলো বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, দক্ষতা ও কার্যকর প্রশাসনিক কাঠামো নিশ্চিত করা।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, বিচারিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে আইনানুগ প্রক্রিয়া ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো বিচারিক আদেশের বিষয়ে আপত্তি থাকলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী আপিল বা রিভিশনের সুযোগ রয়েছে। বিচারিক কার্যক্রমের স্বাভাবিক ও আইনানুগ প্রক্রিয়া সমুন্নত রাখার ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

দুর্নীতি দমন কমিশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর দ্রুততম সময়ে নতুন কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। একই সাথে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

আরও পড়ুন: শেরপুরে বাসের চাপায় সিএনজি যাত্রী নিহত, আহত ৪

আইনমন্ত্রী বলেন, সরকারের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ভুল-ত্রুটি থাকতে পারে। তবে সরকারের লক্ষ্য হলো স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং সংস্কারের মাধ্যমে একটি কার্যকর ও জনবান্ধব রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। এ কারণে সরকারের কার্যক্রম নিয়ে গঠনমূলক সমালোচনা ও যৌক্তিক পরামর্শকে স্বাগত জানানো হবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা সামনে এগিয়ে যেতে চাই, পিছনে ফিরতে চাই না।’ সংস্কারের প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম, আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত বিবেচনা করে একটি গ্রহণযোগ্য ও কার্যকর কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

আলোচনায় নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন, জনগণের প্রত্যাশা, রাজনৈতিক জবাবদিহি, সুশাসন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে আরও কার্যকর করা এবং রাষ্ট্র সংস্কারের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।

আরও পড়ুন: কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে পেলে কতদিন ক্ষমতায় থাকবেন নেতানিয়াহু?

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: চিফ হুইপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২৪শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:১০ পি.এম


অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: চিফ হুইপ

ঢাকা, ২৪ আগস্ট, ২০২৬ : জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন অন্যায়, অবিচার ও শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের কবি। ছিল প্রেম, মানবতা, ধর্ম ও দ্রোহের কবি তিনি।

তিনি বলেন, নজরুল যুগে যুগে জন্ম নেন না; তাঁর সৃষ্টিকর্মের মধ্য দিয়ে তিনি আমাদের মাঝে বেঁচে আছেন। আজকের বাংলাদেশে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে যে নেতৃত্ব প্রয়োজন, সেই নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আমাদের নজরুল তিনি।

আজ সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের আকরাম খাঁ হলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের উদ্যোগে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মুহাম্মদ আব্দুল মালিক, এমপি এবং প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন খায়রুল কবির খোকন, এমপি।

চিফ হুইপ বলেন, দেশের মানুষ দীর্ঘদিন অন্যায়, নির্যাতন, নিপীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছে। আয়নাঘর, গুম, জেল-জুলুম ও নির্যাতনের মতো ঘটনা মানুষের মনে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে। এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তারেক রহমান নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং কঠিন সময়েও মানুষের পাশে থেকেছেন।

তিনি বলেন, নজরুল যুগে যুগে জন্ম নেন না। আমাদের যে নজরুলকে আমরা পেয়েছি, তাঁকে অবহেলা করলে আর ফিরে পাওয়া যাবে না। একইভাবে দেশের মানুষের কল্যাণে তারেক রহমান যে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তা উপলব্ধি করে তাঁর পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন।

চিফ হুইপ বলেন, কাজী নজরুল ইসলামের বিচরণ ছিল সমাজ ও রাষ্ট্রের নানা অসঙ্গতি, অন্যায়, অবিচার, ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও মানুষের অধিকার নিয়ে। তিনি মানুষের কথা বলেছেন, নিপীড়িত মানবতার কথা বলেছেন। তাই বাঙালি জাতি ও বাংলাদেশ নজরুলের কাছে চিরঋণী।

তিনি বলেন, নজরুল শুধু একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের কবি নন; তিনি সকল মানুষের কবি। তাঁর লেখায় যেমন দ্রোহ রয়েছে, তেমনি রয়েছে প্রেম, মানবতা ও মানুষের মৌলিক অধিকারের কথা। জীবদ্দশায় নজরুলকে যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। তাই শুধু মৃত্যুবার্ষিকীতে আনুষ্ঠানিকভাবে স্মরণ নয়, তাঁর আদর্শ ও মানবিক চেতনাকে জীবনে ধারণ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান রাতারাতি সম্ভাব নয়। দীর্ঘদিনের সংকট কাটিয়ে একটি দেশকে এগিয়ে নিতে সময় ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। তাই জনগণকে ধৈর্য ধরতে হবে এবং দেশকে এগিয়ে নিতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

চিফ হুইপ বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ একসময় দুর্ভিক্ষ ও সংকট থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। দেশকে এগিয়ে নিতে তাঁর অবদান স্মরণীয়। আজকের বাংলাদেশকেও অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকট থেকে উত্তরণের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের সভাপতি হুমায়ুন কবির বেপারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক আব্দুল লতিফ মাসুম ও নাট্যকার বাবুল আহমেদ। আলোচনা সভায় সংস্কৃতি অঙ্গনের ব্যক্তিত্ব, সাংস্কৃতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দিরাইয়ে কালনী নদী থেকে নারীর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার ‎

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

‎স্টাফ রিপোর্টার:: মোহাম্মদ নূর

সোমবার, ২৪শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:১১ পি.এম


দিরাইয়ে কালনী নদী থেকে নারীর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার ‎

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার রজনীগঞ্জ (টানাখালী) খেয়াঘাট সংলগ্ন কালনী নদী থেকে পুলিশ এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে, যা ভাসমান অবস্থায় ছিল। প্রথমে মরদেহটিকে অজ্ঞাতনামা হিসেবে উদ্ধার করা হলেও পরে স্বজনরা এসে তার পরিচয় শনাক্ত করেন। এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত নারীর নাম লাকি বেগম (৩০)। তিনি দিরাই উপজেলার জগদল গ্রামের মৃত আব্দুস শহিদের মেয়ে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, লাকি বেগম কিছুদিন আগে শান্তিগঞ্জ উপজেলার শলপ গ্রামের একটি বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ নেন। তিনি ছিলেন সহজ-সরল প্রকৃতির। পরিবার সূত্রের দাবি, তার দুটি বিয়ে হয়েছিল, কিন্তু তিনি কোনো স্বামীর বাড়িতেই স্থায়ীভাবে বসবাস করতে পারেননি।

গত ৪-৫ দিন ধরে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। নিখোঁজ হওয়ার আগের দিন সন্ধ্যায়, যে বাড়িতে তিনি কাজ করতেন, সেখান থেকে তাকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। এরপর থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। এই ঘটনায় গতকাল শান্তিগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সকালে স্থানীয়রা কালনী নদীতে একটি নারীর মরদেহ ভাসতে দেখে দিরাই থানা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। খবর পেয়ে নিহতের স্বজনরা ঘটনাস্থলে এসে মরদেহটি লাকি বেগমের বলে শনাক্ত করেন।

দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং পরে স্বজনদের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করা হয়। এই ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

তবে লাকি বেগমের মৃত্যু কিভাবে হয়েছে এবং কেন তার মরদেহ কালনী নদীতে পাওয়া গেছে—এ বিষয়ে এখনও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশ আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সবসময় সঠিক কথা বলতেন সালাম তালুকদার: মঈন খান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৪শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:১১ পি.এম


সবসময় সঠিক কথা বলতেন সালাম তালুকদার: মঈন খান

ঢাকা, ২৪ আগস্ট, ২০২৬ : স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান বলেছেন, বিএনপির সাবেক মহাসচিব ও সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদার সবসময় সঠিক কথা বলতেন। তিনি কখনও বিবেচনা করতেন না অন্যরা কী ভাবছে বা ভাবছে না।

আজ সোমবার বিএনপির সাবেক মহাসচিব ও সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদারের ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা ও দোয়া মাহফিলে ড. মঈন খান এসব কথা বলেন।

ড. মঈন খান বলেন, ‘তার কাছ থেকে আমি এক জিনিস নির্দিষ্টভাবে শিক্ষা লাভ করেছি, সেটি আপনাদের উদ্দেশ্যে বলার আন্তরিক চেষ্টা করছি- যা সঠিক, তিনি সবসময় সেই সঠিক কথা বলতেন। অন্যদের কী মনে হচ্ছে বা হচ্ছে না, সেটি তিনি কখনও বিবেচনা করেননি। আমি তার সেই বিশেষ গুণটি অনুসরণ করার চেষ্টা করি।’

তিনি বলেন, ‘যখন আমরা সালাম তালুকদারকে মহাসচিব হিসেবে দলে দেখেছি, তার ব্যক্তিত্ব, পাণ্ডিত্য এবং উৎকর্ষ সম্পর্কে আমরা জেনেছি। এখান থেকেই রাজনীতির পাঠ গ্রহণ করেছি।’

ড. মঈন খান আরও বলেন, একজন মহাসচিব সত্যিকার অর্থে যে ভূমিকা পালন করতে পারেন, তার জীবন্ত উদাহরণ ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদার ছিলেন। আমি একবার নয়, একাধিকবার সালাম তালুকদারকে মহাসচিব হিসেবে কীভাবে কঠিন দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে দেখেছি।

তিনি ব্যক্তিগতভাবে সালাম তালুকদারের প্রতি চিরকৃতজ্ঞ। তিনি আমাকে যেভাবে রাজনীতিতে উন্নীত করেছেন, সে ঋণ শোধ করতে পারব না। তবে যখন তার কথা মনে হয়, আমি এক ধরনের বেদনা অনুভব করি যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।

ড. মঈন খান স্মরণ করেন, ‘আপনাদের স্মরণ আছে, যখন তিনি আমেরিকায় চিকিৎসার জন্য গিয়েছিলেন, আমি সেখান ছিলাম এবং তার সঙ্গে ছিলাম। আমি তার মনোবল এবং মানসিক শক্তি দেখেছি। বিশেষত রাজনীতির যে প্রজ্ঞা ও দৃঢ়তা, সেটাও শেখার মতো।’

তিনি সালাম তালুকদারের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেন। ড. মঈন খান বলেন, ‘মহাসচিব যখন তার টেলিফোন তুলে বাংলাদেশের যেকোনো প্রান্তের বিএনপির যেকোনো নেতা-কর্মীকে ফোন করতেন, তখন আমরা শুনতাম অপর প্রান্ত থেকে সেই নেতা বা কর্মী তাৎক্ষণিকভাবে ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদারকে সম্মান দেখানোর জন্য দাঁড়িয়ে পড়ত। এই কিংবদন্তির কথা আমরা নিজেদের কানে শুনেছি।’

তিনি বলেন, ‘আজকের রাজনীতির কোন পর্যায় এবং রাজনীতির নেতা-কর্মীদের মধ্যে সম্পর্কের অবস্থান কেমন, সে সম্পর্কে আপনাদের চিন্তা করতে হবে।’

ড. মঈন খান আজকের এই ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাবনত চিত্তে সালাম তালুকদারকে স্মরণ করে বলেন, ‘বাংলাদেশের যারা তার সঙ্গে জীবনে একবার পরিচিত হয়েছে, তারা কখনো তাকে ভুলতে পারবে না। শুধু সরিষাবাড়ীর মানুষ নয়, জামালপুরের মানুষও নয়, বরং সারা বাংলাদেশে তার রাজনৈতিক দক্ষতা এবং পাণ্ডীত্যের জন্য চিরকাল শ্রদ্ধা থাকবে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চাঁদপুরের জুম্মান তপদার এবার যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২৪শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:১৪ পি.এম


চাঁদপুরের জুম্মান তপদার এবার যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের জুম্মান তপদার যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস আর্মিতে যোগদান করেছেন। এই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণের নতুন অর্জনটি তাঁর পরিবার, স্বজন এবং স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দের সঞ্চার করেছে।

জুম্মান তপদার হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের খাটরা বিলওয়াই এলাকায় বসবাস করেন। তিনি ঐ এলাকার ঐতিহ্যবাহী তপদার বাড়ির মো. বিল্লাল হোসেন তপদার ও শাহনাজ বেগম দম্পতির ছোট ছেলে। তাঁর পরিবার পাঁচ সদস্যের, যেখানে দুই বোন ও এক ভাই রয়েছে। বর্তমানে জুম্মানের পরিবারের সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রে বাস করছেন।

উন্নত জীবন ও ভবিষ্যতের প্রত্যাশায় ২০২৩ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন জুম্মান। দেশটিতে পৌঁছানোর পর তিনি পড়াশোনা ও অন্যান্য কাজের পাশাপাশি কঠোর পরিশ্রম করে ইউএস আর্মিতে যোগদানের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। পরে, তিনি সফলভাবে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে সক্ষম হন।

জুম্মানের এই অসাধারণ অর্জনে তাঁর মা-বাবা ও আত্মীয়রা অত্যন্ত আনন্দিত। স্থানীয়রাও তাঁকে নিয়ে গর্বিত, এবং তাঁর সাফল্যকে হাজীগঞ্জ ও চাঁদপুরের জন্য গর্বের বিষয় হিসেবে দেখছেন। পরিবারের সদস্যরা তাঁর ভবিষ্যৎ কর্মজীবন ও নিরাপত্তার জন্য সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন।

এই ঘটনা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একজন তরুণের যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে যোগদানের উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে, যা প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে নতুন প্রজন্মের তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণা জাগাবে।

সূত্র : বাংলা টিভি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%