স্টাফ রিপোর্টার:: মোহাম্মদ নূর
০৬:১১ পি.এম
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার রজনীগঞ্জ (টানাখালী) খেয়াঘাট সংলগ্ন কালনী নদী থেকে পুলিশ এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে, যা ভাসমান অবস্থায় ছিল। প্রথমে মরদেহটিকে অজ্ঞাতনামা হিসেবে উদ্ধার করা হলেও পরে স্বজনরা এসে তার পরিচয় শনাক্ত করেন। এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত নারীর নাম লাকি বেগম (৩০)। তিনি দিরাই উপজেলার জগদল গ্রামের মৃত আব্দুস শহিদের মেয়ে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, লাকি বেগম কিছুদিন আগে শান্তিগঞ্জ উপজেলার শলপ গ্রামের একটি বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ নেন। তিনি ছিলেন সহজ-সরল প্রকৃতির। পরিবার সূত্রের দাবি, তার দুটি বিয়ে হয়েছিল, কিন্তু তিনি কোনো স্বামীর বাড়িতেই স্থায়ীভাবে বসবাস করতে পারেননি।
গত ৪-৫ দিন ধরে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। নিখোঁজ হওয়ার আগের দিন সন্ধ্যায়, যে বাড়িতে তিনি কাজ করতেন, সেখান থেকে তাকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। এরপর থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। এই ঘটনায় গতকাল শান্তিগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) সকালে স্থানীয়রা কালনী নদীতে একটি নারীর মরদেহ ভাসতে দেখে দিরাই থানা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। খবর পেয়ে নিহতের স্বজনরা ঘটনাস্থলে এসে মরদেহটি লাকি বেগমের বলে শনাক্ত করেন।
দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং পরে স্বজনদের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করা হয়। এই ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
তবে লাকি বেগমের মৃত্যু কিভাবে হয়েছে এবং কেন তার মরদেহ কালনী নদীতে পাওয়া গেছে—এ বিষয়ে এখনও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশ আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৪ আগস্ট, ২০২৬ : স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান বলেছেন, বিএনপির সাবেক মহাসচিব ও সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদার সবসময় সঠিক কথা বলতেন। তিনি কখনও বিবেচনা করতেন না অন্যরা কী ভাবছে বা ভাবছে না।
আজ সোমবার বিএনপির সাবেক মহাসচিব ও সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদারের ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা ও দোয়া মাহফিলে ড. মঈন খান এসব কথা বলেন।
ড. মঈন খান বলেন, ‘তার কাছ থেকে আমি এক জিনিস নির্দিষ্টভাবে শিক্ষা লাভ করেছি, সেটি আপনাদের উদ্দেশ্যে বলার আন্তরিক চেষ্টা করছি- যা সঠিক, তিনি সবসময় সেই সঠিক কথা বলতেন। অন্যদের কী মনে হচ্ছে বা হচ্ছে না, সেটি তিনি কখনও বিবেচনা করেননি। আমি তার সেই বিশেষ গুণটি অনুসরণ করার চেষ্টা করি।’
তিনি বলেন, ‘যখন আমরা সালাম তালুকদারকে মহাসচিব হিসেবে দলে দেখেছি, তার ব্যক্তিত্ব, পাণ্ডিত্য এবং উৎকর্ষ সম্পর্কে আমরা জেনেছি। এখান থেকেই রাজনীতির পাঠ গ্রহণ করেছি।’
ড. মঈন খান আরও বলেন, একজন মহাসচিব সত্যিকার অর্থে যে ভূমিকা পালন করতে পারেন, তার জীবন্ত উদাহরণ ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদার ছিলেন। আমি একবার নয়, একাধিকবার সালাম তালুকদারকে মহাসচিব হিসেবে কীভাবে কঠিন দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে দেখেছি।
তিনি ব্যক্তিগতভাবে সালাম তালুকদারের প্রতি চিরকৃতজ্ঞ। তিনি আমাকে যেভাবে রাজনীতিতে উন্নীত করেছেন, সে ঋণ শোধ করতে পারব না। তবে যখন তার কথা মনে হয়, আমি এক ধরনের বেদনা অনুভব করি যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।
ড. মঈন খান স্মরণ করেন, ‘আপনাদের স্মরণ আছে, যখন তিনি আমেরিকায় চিকিৎসার জন্য গিয়েছিলেন, আমি সেখান ছিলাম এবং তার সঙ্গে ছিলাম। আমি তার মনোবল এবং মানসিক শক্তি দেখেছি। বিশেষত রাজনীতির যে প্রজ্ঞা ও দৃঢ়তা, সেটাও শেখার মতো।’
তিনি সালাম তালুকদারের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেন। ড. মঈন খান বলেন, ‘মহাসচিব যখন তার টেলিফোন তুলে বাংলাদেশের যেকোনো প্রান্তের বিএনপির যেকোনো নেতা-কর্মীকে ফোন করতেন, তখন আমরা শুনতাম অপর প্রান্ত থেকে সেই নেতা বা কর্মী তাৎক্ষণিকভাবে ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদারকে সম্মান দেখানোর জন্য দাঁড়িয়ে পড়ত। এই কিংবদন্তির কথা আমরা নিজেদের কানে শুনেছি।’
তিনি বলেন, ‘আজকের রাজনীতির কোন পর্যায় এবং রাজনীতির নেতা-কর্মীদের মধ্যে সম্পর্কের অবস্থান কেমন, সে সম্পর্কে আপনাদের চিন্তা করতে হবে।’
ড. মঈন খান আজকের এই ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাবনত চিত্তে সালাম তালুকদারকে স্মরণ করে বলেন, ‘বাংলাদেশের যারা তার সঙ্গে জীবনে একবার পরিচিত হয়েছে, তারা কখনো তাকে ভুলতে পারবে না। শুধু সরিষাবাড়ীর মানুষ নয়, জামালপুরের মানুষও নয়, বরং সারা বাংলাদেশে তার রাজনৈতিক দক্ষতা এবং পাণ্ডীত্যের জন্য চিরকাল শ্রদ্ধা থাকবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের জুম্মান তপদার যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস আর্মিতে যোগদান করেছেন। এই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণের নতুন অর্জনটি তাঁর পরিবার, স্বজন এবং স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দের সঞ্চার করেছে।
জুম্মান তপদার হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের খাটরা বিলওয়াই এলাকায় বসবাস করেন। তিনি ঐ এলাকার ঐতিহ্যবাহী তপদার বাড়ির মো. বিল্লাল হোসেন তপদার ও শাহনাজ বেগম দম্পতির ছোট ছেলে। তাঁর পরিবার পাঁচ সদস্যের, যেখানে দুই বোন ও এক ভাই রয়েছে। বর্তমানে জুম্মানের পরিবারের সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রে বাস করছেন।
উন্নত জীবন ও ভবিষ্যতের প্রত্যাশায় ২০২৩ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন জুম্মান। দেশটিতে পৌঁছানোর পর তিনি পড়াশোনা ও অন্যান্য কাজের পাশাপাশি কঠোর পরিশ্রম করে ইউএস আর্মিতে যোগদানের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। পরে, তিনি সফলভাবে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে সক্ষম হন।
জুম্মানের এই অসাধারণ অর্জনে তাঁর মা-বাবা ও আত্মীয়রা অত্যন্ত আনন্দিত। স্থানীয়রাও তাঁকে নিয়ে গর্বিত, এবং তাঁর সাফল্যকে হাজীগঞ্জ ও চাঁদপুরের জন্য গর্বের বিষয় হিসেবে দেখছেন। পরিবারের সদস্যরা তাঁর ভবিষ্যৎ কর্মজীবন ও নিরাপত্তার জন্য সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন।
এই ঘটনা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একজন তরুণের যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে যোগদানের উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে, যা প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে নতুন প্রজন্মের তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণা জাগাবে।
সূত্র : বাংলা টিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে একটি ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে। ইউটার্ন পার হতে গিয়ে একটি দ্রুতগামী ট্রাকের নিচে চাপা পড়েছে একটি প্রাইভেট কার। কিন্তু, ট্রাকটি থামেনি এবং চালক চাপা পড়া প্রাইভেট কারটিকে টেনে নিয়ে যেতে থাকেন। প্রাইভেট কারটিকে এইভাবে ২০০ মিটার পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাওয়ার পর চালক ট্রাকটি রেখে পালিয়ে যান।
এই ঘটনা শনিবার (২৪ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বড় দারোগারহাট এলাকায় হাক্কানী পেট্রোল পাম্পের পাশে মহাসড়কের ইউটার্নে ঘটে।
দুর্ঘটনার পর সেখানকার একটি ভিডিও সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। জানা যায়, প্রাইভেট কারটি ট্রাকের নিচে চাপা পড়ার দৃশ্যটি দেখে পথচারীরা দ্রুত ছুটছিলেন ট্রাকটি থামানোর জন্য; তারা চিৎকার করে বলছিলেন থামতে। কিন্তু, ট্রাক চালক ২০০ মিটার সামনে পর্যন্ত টেনে নিয়ে যান প্রাইভেট কারটিকে। এই ঘটনায় প্রাইভেট কারটি ব্যাপকভাবে দুমড়েমুচড়ে গেলেও অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছেন তার মালিক তানভীর হোসেন।
হাইওয়ে পুলিশ সূত্র জানায়, সকাল সাড়ে সাতটার দিকে মিরসরাইয়ের বড়দারগারহাট এলাকায় হাক্কানী পেট্রলপাম্পের পাশে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ইউটার্নে প্রাইভেট কারটি ঘোরাচ্ছিলেন চালক। এ সময় চট্টগ্রামের দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির ট্রাক কারটিকে ধাক্কা দেয় এবং সেটি ট্রাকের সামনের অংশে আটকা পড়ে। কিন্তু, ওই অবস্থায় ট্রাকের চালক গাড়িটি থামাননি এবং কারটিকে ২০০ মিটার পর্যন্ত টেনে নিয়ে যান।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাওয়া কুমিরা হাইওয়ে থানার সহকারী উপপরিদর্শক মোবারক হোসেন বলেছেন, খবর শুনে আমি দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে গাড়ি দুটি জব্দ করেছি এবং থানায় নিয়ে এসেছি। ট্রাকের চালক পালিয়ে গেছে। আহত ব্যক্তিকে তার স্বজনেরা চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম শহরে নিয়ে গেছেন এবং আমরা ঘটনাটি তদন্ত করছি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিরোধীদল রাষ্ট্র মেরামত হোক, এটা তারা চায় না বলেছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
তিনি সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনিস্টিউটে সাবেক বিএনপি মহাসচিব ও মন্ত্রী ব্যারিস্টার সালাম তালুকদার-এর ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকীর স্মরণ সভায় মন্তব্যটি করেন।
নজরুল ইসলাম খান আরও বলেন, মানুষ অনেক কষ্টে রয়েছে। জনগণ সবকিছুর দ্রুত সমাধান চায়। কিন্তু তারেক রহমানের সরকার একটি বিশৃঙ্খল ও অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংসপ্রায় রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ পেয়েছে। রাষ্ট্র মেরামত করতে সেটি ঘটতে একটু সময় তো লাগবেই, তবে বিরোধী দল এর জন্য প্রস্তুত নয়।
তিনি আরও জানান, রাজনীতি শুরু করেছি বিএনপি দিয়ে। কখনো এদিক-ওদিক যাইনি। সবসময় বিএনপির পাশে ছিলাম এবং বর্তমানে আছি। ১৭ বছর বিএনপি ন্যায্যতা নিয়ে লড়াই করেছে, আপস করেনি। অনেকেই নানা মাধ্যমে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছেন।
এ সময় তিনি বলেন, সরকারকে সহযোগিতা করার জন্য সকলকে আহ্বান জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ