১১:৪৬ এম
বিগত সময়ে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে বিদ্যুৎ খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর সেই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
রোববার (১৬ আগস্ট) সকালে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসন সম্মেলন কক্ষে জাতীয় মৎস্য পক্ষ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে ইরান-ইসরাইল ও আমেরিকার চলমান সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রভাবেও জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে সংকট তৈরি হয়েছে। তাই দেশের চলমান বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সোলার বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।’
আরও পড়ুন: চাঁদা না পেয়ে শ্রমিকদের ওপর হামলা, গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি, থানায় অভিযোগ
প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সরকার ইতোমধ্যে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি সরাসরি দেখভাল করছেন এবং জাতির কাছে দুঃখ প্রকাশ করে সবার সহযোগিতা চেয়েছেন। আশা করা হচ্ছে, অল্প সময়ের মধ্যেই বর্তমান সংকট কাটিয়ে মানুষের কাছে স্বাভাবিকভাবে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাড়ির ছাদ, অনাবাদি জমি, নদীর তীরসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে ব্যক্তিগত, সমষ্টিগত ও বিনিয়োগকারীদের মাধ্যমে সোলার বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বিদ্যুতের ঘাটতি পূরণের পাশাপাশি প্রয়োজনের চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।’
এ সময় পঞ্চগড়ের রাজনৈতিক সম্প্রীতি ও ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘সব দলের নেতৃত্বকে সঙ্গে নিয়ে একটি সার্বজনীন পঞ্চগড় গড়ে তুলতে হবে। সরকারের ভুল-ত্রুটি থাকলে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতারা গঠনমূলক সমালোচনা ও পরামর্শ দেবেন এবং সরকার তা আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণ করতে এবং বাস্তবায়নের চেষ্টা করবে।’
পরে তিনি জাতীয় মৎস্য পক্ষ দিবসের আলোচনা সভায় মাছ দেশের মানুষের জন্য নিরাপদ ও গুরুত্বপূর্ণ প্রাণীজ আমিষের অন্যতম উৎস হিসেবে উল্লেখ করে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি করে দেশের মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নিতে হবে।
আরও পড়ুন: বেগম খালেদা জিয়ার নামে সিলেটের পুরানো কারাগারে জায়গায় পার্ক নির্মাণ হচ্ছে
তিনি পঞ্চগড়ের নদী ও জলাশয়কে মাছ উৎপাদনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।
প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ জানান, পঞ্চগড়ে প্রায় ৫০টি নদী রয়েছে। কিন্তু এর অনেকগুলোই বর্তমানে নাব্যতা হারিয়েDead লবণের অবস্থায় রয়েছে। নদী ও খাল পুনঃখননের মাধ্যমে এসব জলাধারকে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, খাল ও জলাশয় খননের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে এসব নদী-খালকে মাছ চাষের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। নদীর পাড়ে বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি মৎস্য উৎপাদন বাড়ানোর সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে।
পঞ্চগড়ের করতোয়া নদীর পানি সংরক্ষণ করার সম্ভাব্য উদ্যোগ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোথাও ব্যারেজ, ড্রাম বা সুইস গেট নির্মাণ করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জেবিআইসি গভর্নরের বৈঠক, বাংলাদেশে কার্যালয় খোলার অনুরোধ
মৎস্য খাতে পঞ্চগড়ের বর্তমান ঘাটতির কথা উল্লেখ করে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, জেলায় বর্তমানে প্রায় চার মেট্রিক টন মাছের ঘাটতি রয়েছে। আগামী মৎস্য সপ্তাহের আগে এই ঘাটতি দূর করে পঞ্চগড়কে মাছ উৎপাদনে উদ্বৃত্ত জেলায় পরিণত করার লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।
পঞ্চগড়ের প্রায় পৌনে ১২ লাখ মানুষের কাছে নিরাপদ আমিষ পৌঁছে দিতে মৎস্য চাষের সুযোগ আরও সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন। এ জন্য বিত্তবানদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও মাছ চাষে এগিয়ে আসতে হবে।
পঞ্চগড় জেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তরের আয়োজনে আলোচনা সভায় পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ হোসেন, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ডা. কে,এমন, আব্দুল হালিমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, মৎস্য চাষি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে মৎস্য চাষে বিশেষ অবদান রাখায় কয়েকজনকে পুরস্কার ও সম্মাননা দেওয়া হয়।
এর আগে দিবসটি উপলক্ষে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বর থেকে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত সিগারেট জব্দ, মূল্য ২৭ লাখ টাকা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন