শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:৩৪ পি.এম
শেখ হাসিনার সরকারের সময় ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ যে ১০১টি চুক্তি করেছে, সেগুলো বর্তমানে পর্যালোচনা করছে বর্তমান সরকার, এমন খবর প্রকাশিত হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই খবর তাদের নজরে এসেছে।
ভারত জানিয়েছে, নিজেদের স্বার্থ রক্ষার প্রয়োজনে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। বুধবার নয়াদিল্লিতে নিয়মিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।
এক সাংবাদিক এ সময় প্রশ্ন করেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার শেখ হাসিনার আমলে ভারতের সঙ্গে করা ১০১টি চুক্তি পর্যালোচনা করছে বলে যে খবর এসেছে, এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার কি ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানিয়েছে?
জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে কিছু গণমাধ্যমের প্রতিবেদন দেখেছি, তবে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের এখনো কিছু জানানো হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই, ভারত তার নিজস্ব স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’
এদিকে ১১ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ভারতের সঙ্গে করা ১০১টি চুক্তি বর্তমান সরকার পর্যালোচনা করছে। তিনি বলেন, ‘এসব চুক্তিতে বাংলাদেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে কোনো শর্ত আছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। এরপর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশে হিন্দু পরিবারগুলোকে লক্ষ্য করে হামলার খবর নিয়ে প্রশ্ন করা হলে, রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং সংখ্যালঘু নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সম্পূর্ণ দায়িত্ব বাংলাদেশ সরকারের।’
পাকিস্তান ও কুয়েতের সামরিক সহযোগিতা এবং বাংলাদেশের প্রস্তাবিত প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে, জয়সওয়াল জানান, ভারতের নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলতে পারে, এমন সব বিষয় তারা নজরে রাখছে। দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানানো হয়।
এছাড়া মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘ভারত বিষয়টি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘ভারতের নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, এমন সব পরিস্থিতির দিকে ভারত নজর রাখছে। দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।’
এদিকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ হবে। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘গঙ্গার পানি বণ্টনসহ দুই দেশের পানি-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) রয়েছে। পানি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কারিগরি পর্যায়ের বৈঠক নিয়মিত হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা থেকে প্রকাশিত জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল তালাশ বিডি-এর নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সাংবাদিক মোঃ উজ্জ্বল মিয়া।
আজ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে তালাশ বিডির নির্বাহী বিভাগের পক্ষ থেকে তাকে নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
নিয়োগের মাধ্যমে সাংবাদিক মোঃ উজ্জ্বল মিয়া নেত্রকোনা জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, জনদুর্ভোগ, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, সামাজিক সমস্যা, শিক্ষা, সংস্কৃতি, প্রশাসনিক কার্যক্রমসহ স্থানীয় নানা বিষয় নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ ও পরিবেশনের দায়িত্ব পালন করবেন।
তালাশ বিডির নির্বাহী বিভাগ আশা প্রকাশ করেছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা প্রতিনিধি হিসেবে মোঃ উজ্জ্বল মিয়া বস্তুনিষ্ঠতা, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন এবং স্থানীয় জনগণের কথা গণমাধ্যমে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
নিয়োগ পাওয়ার পর সাংবাদিক মোঃ উজ্জ্বল মিয়া বলেন, “তালাশ বিডির মতো একটি জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টালের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়ে আমি আনন্দিত। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন ও সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসরণ করে কাজ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”
তার এই নিয়োগে সহকর্মী সাংবাদিক, শুভাকাঙ্ক্ষী ও স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং তার পেশাগত সাফল্য কামনা করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দীর্ঘ দুই দশকের রাজনৈতিক পথচলা, আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা ও কারাবরণের অভিজ্ঞতা নিয়ে এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার ৪ নম্বর জারিয়া ইউনিয়নের হানিফ উদ্দিন রানা।
হানিফ উদ্দিন রানা ৪ নম্বর জারিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মৌদাম গ্রামের বাসিন্দা। তিনি হাজী হাতেম আলীর বড় ছেলে। স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি ইউনিয়নের মানুষের বিভিন্ন সামাজিক ও ব্যক্তিগত প্রয়োজনে পাশে থাকার চেষ্টা করছেন বলে জানান তিনি।
তার রাজনৈতিক জীবনের শুরু ২০০৭ সালে পূর্বধলা উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হওয়ার মধ্য দিয়ে বলে জানা গেছে। দীর্ঘদিন উপজেলা কমিটি গঠিত না হওয়ায় তিনি কোনো সাংগঠনিক পদ পাননি। তবে পদ-পদবির বাইরে থেকেও বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন বলে দাবি করেন হানিফ উদ্দিন রানা।
হানিফ উদ্দিন রানার দাবি, দীর্ঘ প্রায় ২০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে তিনি বিভিন্ন মামলা, কারাবরণ ও রিমান্ডের মুখোমুখি হয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময়ে তিনি ২৭টি মামলার আসামি হয়েছেন, ১৩ বার কারাবরণ করেছেন এবং কয়েক দফা রিমান্ডে ছিলেন।
তিনি আরও জানান, ২০১৮ সালে ঢাকার মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে বিএনপির নেতাদের সঙ্গে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেখানে তিনি সাত দিন রিমান্ডে ছিলেন এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন। পরে কেরানীগঞ্জ ও নেত্রকোনা কারাগারে বিভিন্ন সময় কারাবন্দি ছিলেন বলেও জানান তিনি।
পরবর্তীতে ২০২২ সালে তিনি পূর্বধলা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও দলীয় সিদ্ধান্তের কারণে পরবর্তীতে সেই পদও হারান বলে জানান তিনি।
দলীয় পদে না থাকলেও সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা অব্যাহত রয়েছে বলে দাবি করেন হানিফ উদ্দিন রানা। স্থানীয় মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থনকে সামনে রেখে এবার ৪ নম্বর জারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নিজের অবস্থান জানান দিয়েছেন তিনি।
স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, হানিফ উদ্দিন রানা দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়নের মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে রয়েছেন। এ কারণে তাকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান তারা।
চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের নাগরিকদের সরকারি সেবা পেতে হয়রানির শিকার হতে হবে না—এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন হানিফ উদ্দিন রানা। তার ভাষ্য, ইউনিয়নের সরকারি বাজেট ও বিভিন্ন বরাদ্দ যথাযথভাবে প্রকৃত প্রাপকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেবেন তিনি।
হানিফ উদ্দিন রানা বলেন, “মানুষের পাশে থাকার জন্য কোনো পদ-পদবির প্রয়োজন হয় না। দীর্ঘদিন ধরে আমি ইউনিয়নের মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। সুযোগ পেলে জনগণের সেবা এবং ইউনিয়নের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেব।”
তবে তার রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন মামলা, গ্রেপ্তার, রিমান্ড ও দলীয় পদ হারানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি ও দলীয় সূত্র থেকে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। একইভাবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তার প্রার্থিতা ও স্থানীয় সমর্থনের বিষয়টিও নির্বাচন কমিশনের তফসিল ও দলীয়/স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে মাদকবিরোধী অভিযান ও আদালতের ওয়ারেন্ট তামিলের লক্ষ্যে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে নাগেশ্বরী থানা পুলিশ। অভিযানে মাদক সেবন ও বিক্রয়ের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে কারাদণ্ড ও জরিমানা করা হয়েছে। একই অভিযানে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত অপর এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিশেষ অভিযান চলাকালে উপজেলার গোসাইবাড়ি এলাকার মৃত আঃ লতিফের ছেলে মোঃ আল আমিন (৫০) কে মাদক সেবন ও বিক্রয়ের সময় আটক করা হয়।
পরে নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আলাউদ্দিন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। আদালত আল আমিনকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও ২ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
অপরদিকে, ওয়ারেন্ট তামিল অভিযানে সিআর মামলা নং-২৩৭/২৫, নাগেশ্বরী, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১১(গ)/৩০ ধারার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি আমিনুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি নাগেশ্বরী উপজেলার হাতিয়ার ভিটা এলাকার মহসিন আলীর ছেলে। পরে তাকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
নাগেশ্বরী থানা পুলিশ জানিয়েছে, মাদকবিরোধী অভিযান, ওয়ারেন্ট তামিল এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা শুধু হাওর-বাঁওড় আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জনপদ নয়; এই মাটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে ভাটি বাংলার বাউল, মরমি ও লোকসংগীতের দীর্ঘ ঐতিহ্য। সেই ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের মধ্যে অন্যতম বাউল কামালউদ্দিন পাশা, যিনি কামাল পাশা নামেও পরিচিত।
জন্ম ও শৈশব
প্রকাশিত জীবনীভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, কামালউদ্দিন পাশা ১৯০১ সালের ৬ ডিসেম্বর দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম বাউল কবি আজিজ উদ্দিন এবং মাতার নাম আমেনা খাতুন বলে উল্লেখ পাওয়া যায়। ভাটিপাড়ার তালুকদার বাড়ির এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে তাঁর জন্ম হয়েছিল বলে বিভিন্ন লেখায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ছোটবেলা থেকেই তিনি ভাটি অঞ্চলের লোকজ পরিবেশ, গান, পালাগান, মরমি সাধনা ও মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে পরিচিত হন। পরবর্তীকালে এই পরিবেশই তাঁর সৃষ্টিশীল জীবনের অন্যতম ভিত্তি হয়ে ওঠে।
সংগীতজীবনে উত্থান
কামালউদ্দিন পাশা শুধু গান গাইতেন না—তিনি ছিলেন গীতিকার, সুরকার ও মরমি সাধক। দেহতত্ত্ব, মুর্শিদি, ইসলামী ভাবধারা, ভাটিয়ালি ও লোকগানের বিভিন্ন ধারায় তাঁর সৃষ্টি ছড়
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ