প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দীর্ঘ দুই দশকের রাজনৈতিক পথচলা, আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা ও কারাবরণের অভিজ্ঞতা নিয়ে এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার ৪ নম্বর জারিয়া ইউনিয়নের হানিফ উদ্দিন রানা।
হানিফ উদ্দিন রানা ৪ নম্বর জারিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মৌদাম গ্রামের বাসিন্দা। তিনি হাজী হাতেম আলীর বড় ছেলে। স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি ইউনিয়নের মানুষের বিভিন্ন সামাজিক ও ব্যক্তিগত প্রয়োজনে পাশে থাকার চেষ্টা করছেন বলে জানান তিনি।
তার রাজনৈতিক জীবনের শুরু ২০০৭ সালে পূর্বধলা উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হওয়ার মধ্য দিয়ে বলে জানা গেছে। দীর্ঘদিন উপজেলা কমিটি গঠিত না হওয়ায় তিনি কোনো সাংগঠনিক পদ পাননি। তবে পদ-পদবির বাইরে থেকেও বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন বলে দাবি করেন হানিফ উদ্দিন রানা।
হানিফ উদ্দিন রানার দাবি, দীর্ঘ প্রায় ২০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে তিনি বিভিন্ন মামলা, কারাবরণ ও রিমান্ডের মুখোমুখি হয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময়ে তিনি ২৭টি মামলার আসামি হয়েছেন, ১৩ বার কারাবরণ করেছেন এবং কয়েক দফা রিমান্ডে ছিলেন।
তিনি আরও জানান, ২০১৮ সালে ঢাকার মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে বিএনপির নেতাদের সঙ্গে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেখানে তিনি সাত দিন রিমান্ডে ছিলেন এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন। পরে কেরানীগঞ্জ ও নেত্রকোনা কারাগারে বিভিন্ন সময় কারাবন্দি ছিলেন বলেও জানান তিনি।
পরবর্তীতে ২০২২ সালে তিনি পূর্বধলা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও দলীয় সিদ্ধান্তের কারণে পরবর্তীতে সেই পদও হারান বলে জানান তিনি।
দলীয় পদে না থাকলেও সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা অব্যাহত রয়েছে বলে দাবি করেন হানিফ উদ্দিন রানা। স্থানীয় মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থনকে সামনে রেখে এবার ৪ নম্বর জারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নিজের অবস্থান জানান দিয়েছেন তিনি।
স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, হানিফ উদ্দিন রানা দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়নের মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে রয়েছেন। এ কারণে তাকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান তারা।
চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের নাগরিকদের সরকারি সেবা পেতে হয়রানির শিকার হতে হবে না—এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন হানিফ উদ্দিন রানা। তার ভাষ্য, ইউনিয়নের সরকারি বাজেট ও বিভিন্ন বরাদ্দ যথাযথভাবে প্রকৃত প্রাপকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেবেন তিনি।
হানিফ উদ্দিন রানা বলেন, “মানুষের পাশে থাকার জন্য কোনো পদ-পদবির প্রয়োজন হয় না। দীর্ঘদিন ধরে আমি ইউনিয়নের মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। সুযোগ পেলে জনগণের সেবা এবং ইউনিয়নের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেব।”
তবে তার রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন মামলা, গ্রেপ্তার, রিমান্ড ও দলীয় পদ হারানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি ও দলীয় সূত্র থেকে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। একইভাবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তার প্রার্থিতা ও স্থানীয় সমর্থনের বিষয়টিও নির্বাচন কমিশনের তফসিল ও দলীয়/স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন