শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:২৩ পি.এম
পশ্চিম ইউরোপের ফুটবলে অ্যাওয়ে ম্যাচ সাধারণত কয়েকশো মাইলের পরিচিত পথ। তবে স্পেনের ফুটবলে এই হিসাব পরিবর্তিত হয় যখন গন্তব্য হয় ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ। এটি আটলান্টিক মহাসাগরের এক দূরবর্তী দ্বীপমালা, যা মূল ভূখণ্ড থেকে হাজার মাইল দূরে অবস্থিত। শান্ত-সুন্দর তেনেরিফ দ্বীপটি বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম আগ্নেয়গিরি মাউন্ট তেইদের ছায়ায় ঘেরা। প্রতি বছর লাখ লাখ পর্যটক সেখানে সমুদ্র এবং রোদ উপভোগ করতে যান। কিন্তু ফুটবলপ্রেমীদের জন্য ‘সিডি তেনেরিফে’ নামটি কেবল একটি ফুটবল ক্লাবের নাম নয়, বরং এটি একটি মহাকাব্যিক নাটকের নাম। এটি বার্সেলোনা সমর্থকদের জন্য স্বর্গীয় আনন্দের উৎস, অন্যদিকে রিয়াল মাদ্রিদ ভক্তদের মনে সৃষ্টি করে এক অধরা যন্ত্রণার কালো স্মৃতি।
এই পুঁচকে দলটি ইতিহাসের বেশিরভাগ সময় সেকেন্ড ডিভিশনে কাটিয়েছে এবং মাত্র ১২ মৌসুম লাল লিগায় খেলেছে। তবুও, তারা কীভাবে যেন স্প্যানিশ ফুটবলের রাজকীয় ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ‘কিংমেকার’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফুটবল বিধাতা পরপর দুই মৌসুমে এমন এক নাটকের চিত্রনাট্য রচনা করেছিলেন, যা কোনো উপন্যাসের কল্পনাকেও হার মানায়।
ব্ল্যাঙ্কোদের আধিপত্য এবং ক্রুইফের ‘ড্রিম টিম’ বিপ্লব
আশির দশকের শেষের দিকে স্প্যানিশ ফুটবলে রিয়াল মাদ্রিদের একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল। বুত্রাগুয়েনো, স্যানচিস, মিচেল, মার্তিন বাসকেসদের নিয়ে গঠিত ‘লা কুইনতা দেল বুইত্রে’ এবং হুগো সানচেসের বুলেট ড্রাইভের সামনে দাঁড়িয়ে রিয়াল মাদ্রিদ টানা পাঁচটি লা লিগা শিরোপা জিতেছিল। ইউরোপের মঞ্চেও তারা ছিল অপরাজেয় শক্তি। আর তাদের বিশাল ছায়াতলে বার্সেলোনা বারবার দ্বিতীয় স্থানে সন্তুষ্ট ছিল।
কিন্তু ১৯৮৮ সালের গ্রীষ্মে ন্যু ক্যাম্পে আগমন ঘটে এক ফুটবল প্রেরিতের। তার নাম ইয়োহান ক্রুইফ। এই ডাচ জাদুকর বার্সেলোনার ইতিহাসের গতিপথ পরিবর্তন করতে এসেছিলেন। প্রথম দুই মৌসুমে দলকে গুছিয়ে রোনাল্ড কোমান, পেপ গার্দিওলা এবং বুলগেরিয়ান তুফান রিস্টো স্টইচকভকে এক সুতোয় গাঁথলেন ক্রুইফ। এর ফলে বিখ্যাত ‘ড্রিম টিম’ জন্ম নিল। ১৯৯০-৯১ মৌসুমে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে ১০ পয়েন্টে পেছনে ফেলে বার্সেলোনা শিরোপা পুনরুদ্ধার করল। রিয়ালের পাঁচ বছরের দীর্ঘ রাজত্ব ভেঙে গেল।
কিন্তু আসল নাটক অপেক্ষা করছিল পরবর্তী দুই মৌসুমে।
১৯৯১-৯২ মৌসুম: রিয়ালকে তেনেরিফের প্রথম বজ্রপাত
১৯৯১-৯২ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের দায়িত্বে এলেন লিও বেনহ্যাকার। দলে যোগ দিলেন রবার্ট প্রোদিনেচকি এবং তরুণ লুইস এনরিকে। শুরুতেই একের পর এক জয়ে উড়তে শুরু করল রিয়াল মাদ্রিদ। অন্যদিকে বার্সেলোনা প্রথম পাঁচ ম্যাচের তিনটিতেই হেরে পয়েন্ট টেবিলের পেছনে চলে গেল। ডিসেম্বরের শুরুতে রিয়াল মাদ্রিদ ৮ পয়েন্টে এগিয়ে গিয়ে যেন শিরোপায় এক হাত দিয়ে বসেছিল।
কিন্তু বসন্তের বাতাসে ফুটবল খেলা বদলাতে শুরু করল। মার্চে এসে রিয়ালের ফর্ম হঠাৎই পড়ে যায়, আর ক্রুইফের বার্সেলোনা একের পর এক জয়ে দূরত্ব কমাতে শুরু করে। এপ্রিল মাসে তেনেরিফেতে ১-২ গোলে হেরে বার্সা আবার ধাক্কা খায়। তবে মে মাসের শেষে সমীকরণ দাঁড়ায় ১ পয়েন্টে এগিয়ে শীর্ষে রিয়াল মাদ্রিদ।
৬ জুন, ১৯৯২ : সেই ঐতিহাসিক ম্যাচ
শেষ দিনে বার্সেলোনার ম্যাচ ঘরের মাঠে তুলনামূলক দুর্বল অ্যাথলেটিক বিলবাওর বিরুদ্ধে। অন্যদিকে রিয়াল মাদ্রিদের গন্তব্য ছিল সেই হাজার মাইল দূরের তেনেরিফে, যেখানে তাদের কোচ ছিলেন সাবেক কিংবদন্তি হোর্হে ভালদানো। তেনেরিফে তখন টিকে থাকার লড়াই চলছিল।
ম্যাচের ৮ মিনিটে ফার্নান্দো হিয়েরোর দুর্দান্ত হেড এবং চার মিনিট পর ঘেওরগে হাজির ৩০ গজ দূর থেকে নেওয়া এক রকেট ফ্রি-কিকে রিয়াল ০-২ গোলে এগিয়ে যায়। রিয়াল সমর্থকেরা তখন শ্যাম্পেন খোলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
কিন্তু ৩৬ মিনিটে তেনেরিফের এস্তেবারান্স এক একক প্রচেষ্টায় ব্যবধান ১-২ করেন। ঠিক একই মুহূর্তে ন্যু ক্যাম্পে স্টইচকভ গোল করে বার্সাকে এগিয়ে নেন। খেলা হয়ে ওঠে আরও শ্বাসরুদ্ধকর। বিরতির পরপরই স্টইচকভ নিজের দ্বিতীয় গোল করলে বার্সার জয় নিশ্চিত হয়ে যায়। এখন সব নজর আটলান্টিকের ওপারের সেই ছোট্ট দ্বীপে।
রিয়ালের দুর্ভাগ্য শুরু হলো একে একে। প্রথমে একটি বৈধ গোল অফসাইডের অজুহাতে বাতিল হলো। এরপর রিয়ালের ডিফেন্ডার ভিয়ারোইয়া লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লেন এবং ১০ জনের দলে পরিণত হলো মাদ্রিদ। তবুও জয় যখন হাতছানি দিচ্ছে, ৭৩ মিনিটে বুত্রাগুয়েনো ওয়ান-অন-ওয়ানে গোলরক্ষক মানোলোকে পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হন। এরপর ঘটল সেই অবিশ্বাস্য তাণ্ডব!
ম্যাচের ৭৭ মিনিটে তেনেরিফের ফিলিপের একটি নিচু ক্রস নিজেদের জালে জড়িয়ে দেন রিয়াল ডিফেন্ডার রিকার্দো রোচা। আত্মঘাতী গোলে ম্যাচ তখন ২-২! রিয়াল প্লেয়ারদের চোখেমুখে তখন আতঙ্ক। এক মিনিট কাটতে না কাটতেই তেনেরিফের একটি উঁচু ব্যাকপাস সামলাতে গিয়ে পা পিছলে যায় রিয়াল গোলরক্ষক বুয়োর। বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে তিনি তুলে দেন চার মিনিট আগে বদলি হিসেবে নামা তেনেরিফে স্ট্রাইকার পিয়েরের পায়ে! খালি জালে বল ঠেলে দিতে বিন্দুমাত্র ভুল করেননি পিয়ের।
মাত্র দুই মিনিটের ব্যবধানে ২-০ থেকে ৩-২! স্তব্ধ হয়ে যায় পুরো মাদ্রিদ, আর হাজার মাইল দূরে ন্যু ক্যাম্পে ৫০ হাজার দর্শক আনন্দে আত্মহারা হয়ে ওঠে। পাঁচ মিনিটের ইনজুরি সময় শেষে বাঁশি বাজতেই ইতিহাস লেখা হয়ে যায়—রিয়ালকে ৩-২ গোলে হারিয়ে বার্সেলোনাকে লা লিগা উপহার দেয় তেনেরিফে!
১৯৯২-৯৩ মৌসুম: নাটকের দ্বিতীয় পর্ব এবং একই নিয়তি
এক বছর পর। নতুন মৌসুমে নতুন আশায় বুক বাঁধে রিয়াল মাদ্রিদ। বেনহ্যাকারের জায়গায় আসেন বেনিতো ফ্লোরো, দলে যোগ দেন দুর্দান্ত স্ট্রাইকার ইভান জামোরানো। ১৯৯৩ সালের পুরোটা সময় লিগে অপরাজিত ছিল রিয়াল (২২ ম্যাচে ১৫ জয়)। ১৯ জুন, ১৯৯৩—লিগের শেষ দিনে আবারও রিয়াল ১ পয়েন্টে এগিয়ে বার্সেলোনার চেয়ে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, শেষ দিনে রিয়ালের গন্তব্য ছিল আবারও সেই তেনেরিফে!
মাদ্রিদ থেকে তেনেরিফে যাওয়ার পথে রিয়ালের চার্টার্ড বিমানের এসি নষ্ট হয়ে যায়। ১৫ ঘণ্টার সেই নরকযন্ত্রণার সফর পেরিয়ে অসুস্থ শরীরে দ্বীপে পৌঁছায় তারা। প্রকৃতি যেন আগেই জঘন্য সমাপ্তির সংকেত দিয়ে রেখেছিল।
১৯ জুন, ১৯৯৩: ইতিহাস পুনরাবৃত্তি ও রিয়ালের কালো রাত
ম্যাচ শুরুর মাত্র ১১ মিনিটের মাথায় কর্নার থেকে অস্কার দেসের্তিয়ার হেডে রিয়াল ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে। টিভিতে যখন এই গোলের রিশট দেখানো হচ্ছিল, ব্যাকগ্রাউন্ডে ধারাভাষ্যকারের চিৎকার শোনা গেল—ন্যু ক্যাম্পে রিয়াল সোসিয়েদাদের বিরুদ্ধে গোল করেছেন সেই রিস্টো স্টইচকভ!
৩৮ ও ৪০ মিনিটে রিয়ালের দুটি পেনাল্টি দাবি নাকচ করে দেন রেফারি। ৪২ মিনিটে চ্যানোর দর্শনীয় হেডে তেনেরিফে ২-০ গোলে এগিয়ে গেলে রিয়ালের খেলোয়াড়দের মাথার ওপর যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। দ্বিতীয়ার্ধে মরিয়া হয়ে গোল শোধের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় তারা। ম্যাচের ৮০ মিনিটে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ইভান জামোরানো।
ছয় মিনিটের ইনজুরি সময় শেষে চূড়ান্ত বাঁশি বাজতেই ইতিহাসের নির্মমতম পুনরাবৃত্তি ঘটে। ২-০ গোলের পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে রিয়াল, আর ঘরের মাঠে ১-০ গোলে জিতে টানা তৃতীয়বারের মতো লা লিগা চ্যাম্পিয়ন হয় ইয়োহান ক্রুইফের স্বপ্নের বার্সেলোনা!
পরপর দুই মৌসুমে শেষ দিনে তেনেরিফেতে গিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের শিরোপা হারানোর এই ঘটনা বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসের অন্যতম বড় অলৌকিক ঘটনা। এই দুই অঘটন ঘটিয়ে তেনেরিফে কেবল নিজেদের ইউরোপা লিগে (তৎকালীন ইউয়েফা কাপ) খেলার যোগ্যতাই অর্জন করেনি, বরং স্প্যানিশ ফুটবলের ইতিহাসের পাতায় চিরদিনের জন্য নিজেদের নাম খোদাই করে নিয়েছে।
পরবর্তীতে ১৯৯৪-৯৫ মৌসুমে হোর্হে ভালদানো নিজেই রিয়াল মাদ্রিদের ম্যানেজার হয়ে আসেন এবং তেনেরিফের অভিশাপ কাটিয়ে রিয়ালকে শিরোপা এনে দেন। ইয়োহান ক্রুইফও ১৯৯৬ সালে চারটি লা লিগা ও একটি ইউরোপিয়ান কাপ জিতে বিদায় নেন ন্যু ক্যাম্প থেকে।
তেনেরিফে ক্লাবটি হয়তো আজ স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগে ধুঁকছে, তাদের ক্যাবিনেটে হয়তো ঝলমলে ট্রফির পাহাড় নেই। তবে নব্বইয়ের দশকের শুরুতে খেলাধুলার সেই রোমাঞ্চকর দিনগুলোতে তারা যা করে দেখিয়েছিল, তার জন্য একটি কথা প্রচলিত আছে—‘একজন তেনেরিফে সমর্থককে অন্তত বার্সেলোনা শহরে কখনো নিজের পকেটের টাকায় বিয়ার কিনে খেতে হবে না!’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফিফা আসিয়ান কাপে অভিষেকের জন্য আর মাত্র কিছু মিনিট বাকি রয়েছে। এই মুহূর্তে বাংলাদেশ তাদের একাদশ ঘোষণা করেছে। ফারহান আলী ওয়াহিদের অভিষেক ঘটেছে।
যুগান্তর অনলাইন জানিয়েছে, দলের লাইন আপ সম্ভাব্য একাদশের সঙ্গে শতভাগ মিলে গেছে। বাংলাদেশ ৪-৩-৩ ছকে খেলবে। আক্রমণে ফিরেছেন রাকিব হোসেন, এবং তার সঙ্গে আছেন ফারহান ও ফাহামেদুল। মিডফিল্ডে অধিনায়ক সোহেল রানা, হামজা চৌধুরী এবং শমিত সোম থাকবেন।
রক্ষণে তপু বর্মণের পরিবর্তে শাকিল আহাদ তপু স্থান পেয়েছেন। এছাড়া, সাদ উদ্দিন, তারিক কাজী ও জায়ান আহমেদ রক্ষণে তার সঙ্গে আছেন।
সান মারিনো ম্যাচে মিতুল মারমার ভুলের জন্য বাংলাদেশকে মূল্য দিতে হয়েছিল। এই কারণে কোচ থমাস ডুলি তাকে একাদশে অন্তর্ভুক্ত করেননি। আজকের ম্যাচে গোলবার সামলাবেন মেহেদী হাসান শ্রাবণ।
বাংলাদেশ একাদশ—
মেহেদী হাসান শ্রাবণ
সাদ উদ্দিন, তারিক কাজী, শাকিল আহাদ তপু, জায়ান আহমেদ
হামজা চৌধুরী,
সোহেল রানা, শমিত সোম,
রাকিব হোসেন, ফাহামেদুল ইসলাম, ফারহান আলী ওয়াহিদ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঝিনাইদহ পৌরসভায় মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পিচ উঠে যাওয়া আলোচিত সড়কটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে পৌর এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাধুপতিরাম স্কুল থেকে ভড়ুয়াপাড়া মোড় পর্যন্ত ১ কিলোমিটারের সড়কটি তিনি ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি কাজের চরম অনিয়মের জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং লাইসেন্স বাতিলের নির্দেশ দেন।
পরিদর্শনকালে রাশেদ খান স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সড়কটির করুণ অবস্থা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি উপস্থিত পৌর কর্তৃপক্ষ ও প্রকৌশলীদের উদ্দেশ্যে বলেন, "উন্নয়ন কাজের নামে জনগণের টাকার এমন হরি লুট কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।" অনিয়মে জড়িত ঠিকাদারের লাইসেন্স অবিলম্বে বাতিল করতে হবে এবং সড়কটির কাজ নতুন করে মানসম্মতভাবে সম্পন্ন করতে হবে।
ঝিনাইদহ পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বব্যাংক ও ঝিনাইদহ পৌরসভার যৌথ অর্থায়নে প্রায় ৪৩ লাখ (প্রাক্কলিত ৬০ লাখ) টাকা ব্যয়ে এক কিলোমিটার সড়কটির নির্মাণকাজ করছেন অনিক এন্টারপ্রাইজের মালিক ঝিনাইদহ শহরের কেপি বসু সড়কের অনুকুল চন্দ্র বিশ্বাস নামে এক ঠিকাদার। গত ১ সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে গত ২২ সেপ্টেম্বর কাজটি শেষ হয়। কিন্তু হস্তান্তরের মাত্র একদিনের মাথায় পায়ের ঘষাতেই সড়কটির উপরিভাগের পিচ ও খোয়া উঠে যেতে থাকে।
দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর পর সড়কটির পুনঃনির্মাণ করা হলেও নিম্নমানের ইট, বালি, বিটুমিন ব্যবহার এবং নির্ধারিত ২৫ সেন্টিমিটার থিকনেসের জায়গায় মাত্র ১৭ সেন্টিমিটার দিয়ে কাজ শেষ করার অভিযোগ তোলেন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। আর ঠিকাদারের সঙ্গে এই নিম্নমানের কাজে সহায়তা করেন বিশ্বব্যাংকের পিডি ও ঝিনাইদহ পৌরসভার প্রকৌশলী রাশেদ আলী খান।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী নিজেই সরেজমিনে এসে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়ায় স্থানীয় ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ সাধুবাদ জানিয়েছেন। তারা দ্রুততম সময়ে দুর্নীতিবাজদের জবাবদিহিতার আওতায় এনে মানসম্মত টেকসই রাস্তা নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
সাইট ভিজিটের খবর নিশ্চিত করে শুক্রবার বিকালে ঝিনাইদহ পৌরসভার প্রকৌশলী রাশেদ আলী খান জানান, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান রাস্তাটি পরিদর্শন করে ঠিকাদার ও কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন যে, সরকার দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় তাদের খরচে নিয়োগ করা বিশেষজ্ঞদের ৩৮টি সুনির্দিষ্ট লিখিত প্রস্তাব উপেক্ষা করেছে। তিনি বিএনপিকে ‘অকৃতজ্ঞ’ আখ্যা দিয়ে বলেন, অতীতে জামায়াত বিএনপিকে সমর্থন দিয়েছিল, কিন্তু সরকার গঠনের পর জামায়াতের কেন্দ্রীয় আমীরকে কারাগারে পাঠানো হয়। তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি জামায়াতের বিরুদ্ধে অন্ধ বিরোধিতায় লিপ্ত রয়েছে এবং তাদের নেতাকর্মীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়েছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় ঝিনাইদহ শহরের হামদহ এলাকায় জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিংকালে এসব মন্তব্য করেন তিনি। জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, বিএনপি বর্তমানে অকৃতজ্ঞতার পরিচয় দিচ্ছে। ১৯৯১ এবং ২০০১ সালে জামায়াত বিএনপিকে সমর্থন দিয়েছিল, কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর তারা জামায়াতের নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়।
তিনি বিএনপির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন যে, তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে লুটপাটের সিন্ডিকেট গঠন করেছে। অফিস, আদালত, হাট-বাজার, মাঠ দখল করে দুর্নীতির রেকর্ড গড়েছে। জামায়াতের বিরুদ্ধে বিএনপির অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা থাকা সত্ত্বেও নিষিদ্ধ একটি দল কীভাবে মিছিল করতে পারে? তিনি চ্যালেঞ্জ করে বলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতের কোনো যোগাযোগের প্রমাণ থাকলে তা প্রকাশ করা হোক।
মিয়া গোলাম পরওয়ার সংসদে বিরোধী দলের সহযোগিতা না করার অভিযোগকে ‘হাস্যকর’ উল্লেখ করে বলেন, জামায়াত সংকট মোকাবিলায় ৩৮টি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত সচল করতে বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করে মতামত তৈরি করে সরকারের কাছে পৌঁছানো হয়েছে। কিন্তু সরকার বিরোধিতার খাতিরে সহযোগিতা না করে বিরোধিতার নীতি আঁকড়ে রয়েছে।
তিনি বলেন, গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনাকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিয়ে ভারত সরকার দেশে অশান্তি সৃষ্টি করছে। সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভিতে শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ভারত সরকার গণ-অভ্যুত্থানের পরাজিত শেখ হাসিনাকে বিভিন্ন সময়ে অপতথ্য দিয়ে দেশে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, যারা গণ-অভ্যুত্থানের পর জনগণের মুখোমুখি হয়েছেন, তাদের বক্তব্যের সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে দেশের জনগণ এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপ কাম্য নয়।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ঝিনাইদহ জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে আয়োজিত দিনব্যাপী ‘শিক্ষা শিবির’-এ প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ জেলা জামায়াতের আমীর ও ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজম মোহাম্মদ আবু বকর, ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মতিয়ার রহমান, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল আওয়াল এবং কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজাসহ স্থানীয় ও আঞ্চলিক নেতৃবৃন্দ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার আমলসার ইউনিয়নের টিকারবিলা বাজারের নিকটে পশ্চিম রাজাপুর গ্রামে, নিজ আবাসে স্ত্রীর বিরুদ্ধে স্বামীকে গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের স্ত্রী ফারজানা বেগমকে (২৭) পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোরে এই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়।
নিহত যুবকের নাম রাব্বি মন্ডল (৩৫)। তিনি পশ্চিম রাজাপুর গ্রামের নজরুল মন্ডলের পুত্র।
আটক ফারজানা একই উপজেলার আমতৈল গ্রামের ফায়জার হোসেনের কন্যা।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভোরের দিকে পারিবারিক কলহের কারণে রাব্বি মন্ডলকে তার স্ত্রী ফারজানা বেগম ধারালো অস্ত্রের সাহায্যে গলা কেটে (জবাই করে) নৃশংসভাবে হত্যা করেন। খবর পেয়ে শ্রীপুর থানার একটি চৌকস পুলিশ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওলি মিয়া জানান, খবর পাওয়ার সাথে সাথে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা যাচাই করে নিহত রাব্বি মন্ডলের স্ত্রী ফারজানা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
পারিবারিক বিরোধের কারণে নাকি অন্য কোনো কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা গভীর তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ