০৯:২৫ এম
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন মন্তব্য করেছেন, "আমরা এমন এক বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চাই, যেখানে সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরুর কোনো বিভাজন থাকবে না, বরং সকলের মূল পরিচয় হবে 'বাংলাদেশি'।" তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র, সমাজ ও সরকারের কাছ থেকে প্রতিটি নাগরিক সমান অধিকার, সুরক্ষা, স্বাধীনতা ও মর্যাদা পাবেন। বর্তমান সরকারের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য হলো নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের এই অধিকার ও সম্মান নিশ্চিত করা।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর বনানী মাঠে গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশন আয়োজিত 'মহালয়া ১৪৩৩' উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মাহ্দী আমিন।
সকাল ৬টার দিকে বনানী মাঠে পৌঁছালে গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের নেতৃবৃন্দ তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান এবং উত্তরীয় পরিয়ে দেন। এরপর এক বিশেষ প্রীতি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। এই শুভ মহালয়া উদযাপনের মধ্য দিয়েই মূলত শুরু হলো শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিক ক্ষণগণনা।
আরও পড়ুন: জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদের স্থান নেই: বিএনপির এমপি শাহজাহান
মাহ্দী আমিন সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, "মহালয়া মানেই নতুন আশার আলো এবং অশুভের বিরুদ্ধে শুভ শক্তির চিরন্তন বিজয়।" তিনি উল্লেখ করেন, "সব অন্ধকারকে পেছনে ফেলে আলোর জয় নিশ্চিত করাই এই উৎসবের প্রধান বার্তা।" এ সময় ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল প্রতিবন্ধকতা পেছনে ফেলে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় এক আধুনিক ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, "আজ আমরা এমন একটি অঞ্চলে সমবেত হয়েছি, যা সংসদীয় আসন হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর এলাকা।" তিনি বলেন, "আমরা বিশ্বাস করি, ধর্ম, বর্ণ, আদর্শ ও বিশ্বাসের ভিন্নতা ছাপিয়ে আমাদের একটাই পরিচয়-আমরা সবাই বাংলাদেশি।" মাহ্দী আমিন বলেন, "আমরা এমন এক মানবিক বাংলাদেশ চাই, যেখানে বিদ্বেষের জায়গা নেবে ভালোবাসা, বৈষম্যের জায়গা নেবে ন্যায়বিচার এবং বিভাজনের জায়গা নেবে ইস্পাতকঠিন ঐক্য।"
উৎসবের আবহ ছড়িয়ে দেওয়ার প্রশাসনিক পদক্ষেপ তুলে ধরে মাহ্দী আমিন জানান, "জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার সঙ্গে সংগতি রেখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় এবার প্রতিটি পূজামণ্ডপে সরকারি আর্থিক বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে।" তিনি বলেন, "একই সঙ্গে দুর্গোৎসবের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে সরকারি ছুটিও সম্প্রসারণ করা হয়েছে।"
মুখপাত্র মন্তব্য করেন, "বাংলাদেশের মূল শক্তি এ দেশের জনগণ।" তিনি বলেন, "জনগণের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষা ও একতাবদ্ধ থাকার দৃঢ় প্রত্যয়ই সরকারের মূল চালিকাশক্তি।" প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকার বিশ্বাস করে, "দেশের মানুষের স্বার্থ, জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং সার্বিক জনকল্যাণই সর্বগ্রাহ্য অগ্রাধিকার।" সে কারণেই তাদের মূল নীতি হলো ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। তিনি বলেন, "দেশকে এগিয়ে নিতে হলে আমাদের সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কাজে আত্মনিয়োগ করতে হবে।"
আরও পড়ুন: পিএসসিকে দলীয়করণের অপচেষ্টা জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থি: ছাত্রশিবির
অনুষ্ঠানে গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সভাপতি শ্রী অলোক সাহার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শ্রী বিনয় গোপাল রায়ের সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শ্রী বিজন কান্তি সরকার, ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার পবন কুমার বাধে এবং হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান শ্রী তপন কান্তি মজুমদারসহ সনাতন সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন