মোঃ শাহিন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
০৯:২৯ পি.এম
‘সবুজের পথে আরেকটি সফল পদক্ষেপ’—এই প্রত্যয় নিয়ে পরিবেশ রক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেছে ‘চাঁপাই ব্লাড ডোনেট ফাউন্ডেশন’।
আজ রোববার সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ইঞ্জিনিয়ার রমন মাহমুদের সার্বিক সহযোগিতায় এবং গোমস্তাপুর উপজেলা শাখার আয়োজনে এই কর্মসূচির প্রথম ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হয়। এতে কেন্দ্রীয় কমিটি, গোমস্তাপুর ও নাচোল শাখার সদস্যরা সমন্বিতভাবে অংশ নেন।
কর্মসূচি চলাকালীন সংগঠনের একঝাঁক তরুণ ও প্রাণবন্ত স্বেচ্ছাসেবী বিভিন্ন ফাঁকা স্থানে ফলজ, বনজ ও ফুলের চারা রোপণ করেন। তরুণদের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ পুরো আয়োজনকে প্রাণবন্ত করে তোলে।
অনুষ্ঠানে চাঁপাই ব্লাড ডোনেট ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ইঞ্জিনিয়ার রমন মাহমুদ বলেন:
"আজ প্রথম ধাপে গোমস্তাপুর উপজেলা শাখার আয়োজনে আমাদের বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হলো। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। আমরা চলতি বছরেই পর্যায়ক্রমে চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রতিটি অঞ্চলে এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ছড়িয়ে দিতে চাই।"
উল্লেখ্য, চাঁপাই ব্লাড ডোনেট ফাউন্ডেশন শুধু রক্তদানেই সীমাবদ্ধ নয়; তারা বরাবরই সমাজের প্রতিটি মানবিক ও ভালো কাজে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। সচেতনতামূলক বিভিন্ন ক্যাম্পেইনসহ সমাজ পরিবর্তনে নানামুখী উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে সংগঠনটির সক্রিয় ভূমিকা সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজলকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে চারজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে, এই চারজনের আচরণ গুরুতর অসদাচরণ এবং সরকারি কাজে বিঘ্ন সৃষ্টির শামিল।
কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়া চারজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হলেন মো. জহিরুল ইসলাম সুমন, মো. রফিকুল ইসলাম মন্টু, মুহাম্মদ মাসুদ রানা এবং মো. আশিকুজ্জামান নজরুল।
নোটিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে অ্যাটর্নি জেনারেল কর্মরত থাকাকালীন তার কার্যালয়ে ওই চার ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে বিচারপ্রার্থী ও অন্য আইন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে অসংযত আচরণ করা হয়। তারা তাকে বিভিন্ন ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করেন। এছাড়াও তারা হুমকি দেন যে, যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে।
নোটিশে আরও বলা হয়, এসব ঘটনার ভিডিও কার্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজে সংরক্ষিত রয়েছে।
অ্যাটর্নি জেনারেলের নির্দেশে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন কারণ দর্শানোর নোটিশটি জারি করেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে গুরুতর অসদাচরণ ও সরকারি কাজে বিঘ্ন সৃষ্টির ঘটনা উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সেটা জানতে নোটিশ পাওয়ার তিন কর্মদিবসের মধ্যে তাদের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল গণমাধ্যমকে বলেন, এটি শৃঙ্খলাজনিত ও অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সরকার পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) পদমর্যাদারসহ ৩৩ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে।
রোববার (৫ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তালিকায় থাকা প্রথম দুজন কর্মকর্তা বর্তমানে গ্রেফতার রয়েছেন। তাঁরা হলেন— রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে সংযুক্ত ডিআইজি মোল্যা নজরুল ইসলাম এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগে সংযুক্ত বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) ডিআইজি মো. সাইফুল ইসলাম।
এছাড়া, তালিকায় পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি), অতিরিক্ত ডিআইজি এবং পুলিশ সুপার (এসপি) পদমর্যাদার কর্মকর্তারাও রয়েছেন।
ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন— সিলেট রেঞ্জ অফিসে সংযুক্ত মিরাজ উদ্দিন আহম্মেদ, রংপুর রেঞ্জ অফিসে সংযুক্ত শাহ মিজান শাফিউর রহমান, সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে সংযুক্ত এস এম মোস্তাক আহমেদ খান, চট্টগ্রাম রেঞ্জ অফিসে সংযুক্ত জিহাদুল কবির, রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে সংযুক্ত মঈনুল হক, সিলেট রেঞ্জ অফিসে সংযুক্ত মো. ইলিয়াছ শরীফ, এপিবিএন হেডকোয়ার্টার্স ঢাকায় সংযুক্ত শ্যামল কুমার নাথ, চট্টগ্রাম রেঞ্জের মো. জাকির হোসেন খান ও মো. শাহ আবিদ হোসেন, ঢাকায় এন্টি টেরোরিজম ইউনিটে সংযুক্ত মো. জামিল হাসান, খুলনা রেঞ্জের মো. মাহবুবুর রহমান এবং সিলেট রেঞ্জের মো. মনিরুজ্জামান।
এছাড়া, অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মধ্যে পুলিশ একাডেমি সারদায় সংযুক্ত মো. বরকতুল্লাহ খান ও টি.এম. মোজাহিদুল ইসলাম, বরিশাল রেঞ্জের মো. আনোয়ার হোসেন খান, রাজশাহী রেঞ্জের মোহাঃ মনিরুজ্জামান ও মো. মেহেদুল করিম, রংপুর রেঞ্জের মো. আলমগীর কবীর, পিটিসি রংপুরে সংযুক্ত মো. রশীদুল হাসান, রংপুর রেঞ্জের সঞ্জয় কুমার কুণ্ডু, সিলেট রেঞ্জের মো. নিজামুল হক মোল্যা, ঢাকায় এন্টি টেরোরিজম ইউনিটে সংযুক্ত এস এম এমরান হোসেন, খাগড়াছড়িতে এপিবিএন বিশেষ ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত মুহাম্মদ সাইদুর রহমান খান, রংপুর রেঞ্জের ড. শামসুন্নাহার, রংপুর রেঞ্জের মো. সাইফুল্লাহ আল মামুন, রাজশাহী রেঞ্জের খান মুহাম্মদ রেজোয়ান, খুলনা রেঞ্জের মো. সাজিদ হোসেন, রংপুর রেঞ্জের শেখ রফিকুল ইসলাম এবং রাজশাহী রেঞ্জের মো. মাশরুকুর রহমান খালেদকে অবসরে পাঠানো হয়েছে।
এর পাশাপাশি পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মধ্যে চট্টগ্রাম রেঞ্জের মোল্লা জাহাঙ্গীর হোসেন এবং ময়মনসিংহ রেঞ্জের মো. আব্দুল্লাহ আরেফকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের এই কর্মকর্তাদের সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ (২০১৮ সালের ৫৭ নং আইন)-এর ৪৫ ধারার বিধান অনুযায়ী জনস্বার্থে সরকারি চাকরি থেকে অবসর প্রদান করা হলো। জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। তবে, বিধি অনুযায়ী তারা অবসরজনিত সুবিধাদি প্রাপ্য হবেন বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, বিএনপির নেতা-কর্মীরা দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। শুধু বিএনপির নেতা-কর্মীরাই নয়, তাদের পরিবারও নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তিনি বলেন, যাদের চাকরি পাওয়ার কথা ছিল, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার আমলে তারা সেই সুযোগ পাননি। তাই একধরনের অস্থিরতা থাকতেই পারে। তবে নেতা-কর্মীদের ধৈর্য ধরে থাকতে হবে।
আজ রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে জাতীয়তাবাদী কর্মজীবী দলের উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে তিনি এসব কথা তুলে ধরেন।
বিএনপির অসুস্থ তিন প্রবীণ নেতা ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস ও নজরুল ইসলাম খান এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের আহতদের আরোগ্য কামনায় এই দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সাবেক সংসদ সদস্য শামসুজ্জামান দুদু আরও উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উত্তরাধিকার। এই পরিবারে কোনো প্রতিহিংসা নেই। কিন্তু এই পরিবারই বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছে।
তিনি বলেন, ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিনি সেই নেতৃত্ব অর্জন করেছিলেন। দীর্ঘ ১৮ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের পর ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। পরবর্তীতে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন।
তিনি আরও বলেছেন, অনেকে বিভিন্ন ধরনের জনপ্রিয়তার দাবি করেন। কিন্তু দেশবাসী গণঅভ্যুত্থানের প্রধান শক্তি হিসেবে বিএনপিকেই গ্রহণ করেছে। কারণ, ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে তারা বিএনপিকেই ভোট দিয়েছে।
তিনি এ কথাও বলেন, ‘একটি মহল বিভিন্ন স্থানের ছোটখাটো ঘটনাকে বড় ঘটনায় রূপ দিতে চায়। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে কেউ কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করতে পারে।’
ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি বলেন, আমাদের নেতা মির্জা আব্বাস চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে রয়েছেন। নজরুল ইসলাম খান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এবং তিনি ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ রয়েছেন। তাদের লক্ষ্য ছিল একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় কাজ করা। আমরা তাদের প্রতি সম্মান জানাব এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করব। কারণ, সারা জীবন তারা মানুষের জন্য, দেশের জন্য এবং গণতন্ত্রের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।
জাতীয়তাবাদী কর্মজীবী দলের সভাপতি সালাউদ্দিন খানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আলতাফ হোসেন সরদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম, কৃষকদলের সাবেক দপ্তর সম্পাদক এস কে সাদি, দেশের বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কেএম রকিবুল ইসলাম রিপন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দিনাজপুর পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র আবু তৈয়ব আলী দুলালকে পুলিশের দ্বারা গ্রেফতার করা হয়েছে।
আজ রবিবার বিকেলে তাকে গ্রেফতার করা হয় নাশকতার মামলার অভিযোগে তার বাড়ি থেকে।
দিনাজপুর সদর কোতোয়ালি থানার ওসি পরিদর্শক মো. নুরুন নবী জানিয়েছেন যে, ২০২৪-এ জুলাই মাসের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে সদর উপজেলার রাজবাড়ী মহল্লার এবিএম সিদ্দিকের ছেলে ফাহিম ফয়সাল বাদী হয়ে একই বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর কোতোয়ালি থানায় একটি নাশকতার মামলা দায়ের করেন।
ওই মামলায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক হুইপ ইকবালুর রহিমসহ শতাধিক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও অনেককে আসামি করা হয়েছে।
এ হত্যাকাণ্ডের মামলার ৩১ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি ছিলেন সাবেক পৌরসভার প্যানেল মেয়র আবু তৈয়ব আলী দুলাল, যিনি দিনাজপুর উপ-শহরের ৪নং ব্লকের বাসিন্দা।
পুলিশের সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতার দুলালকে সন্ধ্যার সময় সদর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হলে বিচারকের আদেশ অনুযায়ী তাকে দিনাজপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ