সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০১:৪৩ পি.এম
সরকারি ভর্তুকির অধীনে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের নির্ধারিত মূল্য ৭৭৭ টাকা। কিন্তু সাধারণ জনগণ কেন এই দামে সিলিন্ডার পাচ্ছেন না, এই প্রশ্ন তুলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, সরকারি এলপিজি বিতরণ ব্যবস্থায় অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের কার্যক্রম চলছে এবং এর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
সোমবার সকালে, তিনি তার যাচাইকৃত ফেসবুক পেজে একটি পোস্টের মাধ্যমে এই দাবি জানান।
পোস্টে হামিদুর রহমান আযাদ উল্লেখ করেন, ১২ কেজি সরকারি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৭৭৭ টাকা। অন্যদিকে, বেসরকারি কোম্পানির ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের সরকারনির্ধারিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। দুই ধরনের সিলিন্ডারের মধ্যে দামগত বড় ব্যবধান থাকা সত্ত্বেও, সরকারি ভর্তুকির সুবিধা সাধারণ জনগণের কাছে পৌঁছাচ্ছে না বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তার পোস্টে উল্লেখ করা হয়, প্রতি বছর বাজারে ১৮ থেকে ২০ লাখ সরকারি এলপিজি সিলিন্ডার ছাড়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, এসব সিলিন্ডারের একটি বড় অংশ নির্ধারিত গ্রাহকদের কাছে পৌঁছানোর পরিবর্তে কথিত ‘কাগুজে ডিলার’ ও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বেসরকারি কোম্পানির গুদামে চলে যায়। পরে সেগুলো আবার রিফিল করে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি করা হয়।
এভাবে প্রতি বছর সরকারের অন্তত ১৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগও তিনি তুলে ধরেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন জামায়াতের এই নেতা।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জনগণের অর্থে ভর্তুকি দেওয়া হলেও সেই সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে না পৌঁছানো এবং কোনো অসাধু চক্রের মুনাফার উৎসে পরিণত হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। সরকারি ভর্তুকির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সাধারণ মানুষের ব্যয় কমানো। তাই প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে এই সুবিধা পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি সরকারি এলপিজি বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, সিন্ডিকেট ও অনিয়মের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করা এবং ভর্তুকিমূল্যের সিলিন্ডার সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
পোস্টে তিনি বলেন, ‘ভর্তুকি জনগণের অধিকার—সিন্ডিকেটের মুনাফা নয়।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার পাটচাষিদের মুখে বর্তমানে হাসির ছাপ দেখা যাচ্ছে। বিগত সরকারের সময় সোনালী আঁশ কৃষকদের জন্য এক প্রকার গলার ফাঁস হয়ে দাঁড়িয়েছিল। পাটের ফলন খারাপ হওয়া এবং ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার কারণে এ উপজেলার পাটচাষিরা হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। তবে এবারের মৌসুমে কৃষকরা পাটের উচ্চমূল্য পাওয়ায় পাটচাষিদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে।
চাষিরা আশাবাদী হয়ে পাট চাষ শুরু করেছিলেন। গোদাগাড়ীর পাটচাষিরা জানিয়েছেন, পাট চাষের অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। তাঁরা বলেন, "পাটের বাম্পার ফলনের পাশাপাশি বাজারে পাটের দামও বেশ ভালো পাওয়া যাচ্ছে।" বন্যা ও অতিবৃষ্টির কারণে পাট জাগ দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হয়নি। উপজেলার বিদিরপুর, প্রেমতলী, কাঁকনহাটসহ বিভিন্ন হাটবাজার ঘুরে দেখা গেছে, মানভেদে প্রতি মণ পাট ৪ হাজার ৩০০ থেকে ৫ হাজার ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় প্রায় ৮৯০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। গত মৌসুমে পাট চাষ হয়েছিল ৮৮০ হেক্টর জমিতে। চর আষাঢ়িয়াদহ, মাটিকাটা, বাসুদেবপুর ও দেওপাড়া ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি পাটের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে চর আষাঢ়িয়াদহ ইউনিয়নে সর্বাধিক পরিমাণে পাট চাষ করা হয়েছে।
কৃষি অফিসের মতে, পর্যাপ্ত বৃষ্টির কারণে এবারের পাটের ফলন ভালো হয়েছে। প্রতি বিঘায় ১০ থেকে ১১ মণ করে পাটের ফলন হচ্ছে, যা গতবারের তুলনায় বেশি।
উপজেলার পিরিজপুর গ্রামের পাটচাষি শরিফুল বলেন, "চলতি মৌসুমে দুই বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছিলাম। বিঘা প্রতি ১৪ মণ করে পাট পেয়েছি। পাটের দাম বেশি পাওয়ায় পাট চাষ করে আমরা লাভবান হচ্ছি।" আরেক পাটচাষি জামাল জানান, বাজারে মানভেদে পাট ৪ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার ৬০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ পাট চাষ করতে বিঘা প্রতি খরচ হয়েছিল ৮ হাজার থেকে ৯ হাজার টাকা। বাজারে পাটের দাম ভালো থাকায় এবং বিক্রি করে লাভবান হওয়ায় আগামী বছর আরও বেশি জমিতে পাট চাষের পরিকল্পনা করছেন তিনি।
এ বছর পাট জাগ দেওয়ার জন্য কৃষকদের খুব একটা কষ্ট করতে হয়নি। পুকুর, নালা ও ডোবায় প্রচুর পানি থাকার পাশাপাশি পদ্মার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীর পানিতেই কৃষকেরা পাট জাগ দিতে সক্ষম হয়েছেন। ক্ষেত থেকে কম খরচে সহজে নদীতে পাট নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে।
এদিকে পাট ছাড়ানো শ্রমিক হসনা বেগম বলেন, "টাকার বিনিময়ে নয়, পাটকাঠির বিনিময়ে আমরা পাট ছাড়িয়ে দিচ্ছি। তিন ভাগ পাটকাঠির মধ্যে আমরা পাই দুই ভাগ, আর মালিক পান এক ভাগ।" তিনি আরও বলেন, "চুলা জ্বালানোর উদ্দেশ্যে আমি পাট ছড়াচ্ছি। এখন বাড়িতে কাজ কম থাকায় অলস বসে না থেকে পাট ছড়ানোর কাজ করছি।"
একাধিক পাটচাষির সাথে কথা বলে জানা যায়, পাট জাগ দেওয়ার জন্য ইউরিয়া সার ব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁরা জানান, ইউরিয়া সার ব্যবহার করলে দ্রুত পাটে পচন ধরে এবং পাটের রংও ভালো হয়।
উপজেলা কৃষি অফিসার মরিয়ম আহমেদ বলেন, "পাট কাটা ও জাগ দেওয়া নিয়ে কোনো সমস্যা হয়নি। তবে গতবারের তুলনায় এবার পাটের ফলন বেশি হয়েছে।" তিনি জানান, বিঘা প্রতি ৯ থেকে ১২ মণ পাটের ফলন হচ্ছে। যেসব কৃষক আগাম পাট চাষ করেছিলেন, তাঁরা পাট কেটে ওই জমিতে শীতকালীন সবজি চাষ করতে পারছেন। ক্ষেতে পাটের পাতা পচে জৈব সার হিসেবেও দারুণ কাজ করে। পাটের দাম ভালো পাওয়ায় আগামীতে আরও বেশি জমিতে পাট চাষের পরিকল্পনা করছেন কৃষকরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) সোমবার (২৬ অক্টোবর) তার আত্মপ্রকাশের পাঁচ বছর পূর্ণ করেছে। এই উপলক্ষে দলটি বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র আবু হানিফ জানিয়েছেন, ২৬ অক্টোবর সকালে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ৩০ অক্টোবর ঢাকায় একটি র্যালি করার পরিকল্পনা রয়েছে।
দলটির পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গণঅধিকার পরিষদের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় ২০২১ সালের ২৬ অক্টোবর। দলের মূল ভিত্তি ছিল ২০১৮ সালের ঐতিহাসিক কোটা সংস্কার আন্দোলন, যা নেতৃত্বদানকারীদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠে গণঅধিকার পরিষদ।
গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, অধিকার এবং জাতীয় স্বার্থ—এই চারটি মূলনীতি নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় দলটি। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন ২১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়, যা দলের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে প্রতিফলিত করে। গণঅধিকার পরিষদের স্লোগান হলো, ‘জনতার অধিকার, আমাদের অঙ্গীকার’।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে গণঅধিকার পরিষদ ট্রাক প্রতীকে নিবন্ধন লাভ করে। দলটি ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের পরিকল্পনা করছে। ৯৩টি সংসদীয় আসনে ট্রাক প্রতীকে নির্বাচন করে পটুয়াখালী-৩ আসন থেকে দলের সভাপতি নুরুল হক নুর জয়লাভ করেন। নুরুল হক নুর বর্তমানে সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে সারা দেশে গণঅধিকার পরিষদের সাংগঠনিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
গণঅধিকার পরিষদের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে, বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ নারী অধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ শ্রমিক অধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ পেশাজীবী অধিকার পরিষদ এবং বাংলাদেশ আইনজীবী অধিকার পরিষদ।
দল গঠনের পূর্বে ছাত্র, যুব ও শ্রমিক অধিকার পরিষদ বিভিন্ন জনসম্পৃক্ত ইস্যুতে রাজপথে সক্রিয় ছিল। নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদ, কৃষকদের ন্যায্য দাবি আদায়, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদ এবং নরেন্দ্র মোদীর আগমনবিরোধী আন্দোলন ছিল তাদের অন্যতম কার্যক্রম।
মোদীর আগমনবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণের কারণে ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদের ৫৪ জন নেতাকর্মী কারাবরণ করেন। ২০২৩ সালে আবরার ফাহাদের মৃত্যুবার্ষিকীর পালনের সময় ছাত্রলীগ হামলা চালায় এবং সেখান থেকে ছাত্র অধিকার পরিষদের ১৪ জন নেতাকর্মীকে আটক করা হয়।
বিগত স্বৈরাচারের আমলে বিভিন্ন যৌক্তিক দাবিতে গণঅধিকার পরিষদ সক্রিয় ছিল। সরকারবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণের কারণে হামলা-মামলার শিকার হতে হয়েছিল গণঅধিকার পরিষদ ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের।
গণঅধিকার পরিষদের ভাষ্যমতে, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে রাজনৈতিক দল হিসেবে প্রথমবারের মতো কর্মসূচি ঘোষণা করে এবং ছাত্রদের আন্দোলনে সরাসরি অংশগ্রহণ করে। ২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গণঅধিকার পরিষদ ও তার অঙ্গ সহযোগী সংগঠন সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিল। এই জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গণঅধিকার পরিষদের অঙ্গসংগঠনের ১১ জন নেতাকর্মী শহীদ হন এবং পাঁচশতাধিক নেতাকর্মী আহত হন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল প্রেক্ষাপট ছিল ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন। কোটা সংস্কার আন্দোলন-২০১৮ থেকে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন-২০২৪ এবং একটি সফল গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গঠনের সংগ্রামী সারথী হিসেবে গণঅধিকার পরিষদের পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আগামীকাল উদযাপিত হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত ট্যাংকার রিফ মিয়ানমারের জলসীমায় প্রায় এক লাখ ১৩ হাজার ব্যারেল জ্বালানি নিয়ে পৌঁছায়। যদিও কাগজপত্রে এই চালানটিকে দক্ষিণ আফ্রিকার ডিজেল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল, প্রকৃতপক্ষে জাহাজটিতে ছিল ইরান থেকে আনা জেট জ্বালানি।
মিয়ানমারভিত্তিক জ্বালানি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ডায়নামিক ওয়েভ থাইল্যান্ডের তাওয়ান-অয়েল ট্রেডিংয়ের সঙ্গে একটি বিক্রয় চুক্তি সম্পন্ন করে। এই চুক্তির মূল্য ছিল এক কোটি ৫৮ লাখ ডলার, যেখানে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে একই পরিমাণ ডিজেল সরবরাহের কথা উল্লেখ করা হয়। তবে জাতিসংঘ ও জ্বালানিবিষয়ক তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ভরটেক্সার উপাত্ত অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে মিয়ানমারে এ ধরনের কোনো জ্বালানি বাণিজ্য হয়নি।
রয়টার্সের হাতে আসা চুক্তিপত্র, মিয়ানমারে জ্বালানি সরবরাহের নথি, স্যাটেলাইট চিত্র এবং জাহাজ চলাচল বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান সিনম্যাক্স ইন্টেলিজেন্সের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের বন্দর আব্বাস থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ট্যাংকারটির যাত্রাপথ অনুসরণ করা হয়েছিল। মিয়ানমারের জেট জ্বালানি আমদানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এড়াতে এই ছদ্মবেশের আশ্রয় নেওয়া হয়। ২০২৩ সালে দেশটির সামরিক বাহিনীর বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে প্রাণঘাতী বিমান হামলার প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটন জেট জ্বালানি খাতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
ইরানি জেট জ্বালানি কেনার তথ্য গোপন করার পদ্ধতি এবং এ লেনদেনে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলো সম্পর্কে রয়টার্সের অনুসন্ধানে প্রথমবারের মতো বিস্তারিত উঠে এসেছে। জ্বালানির চালানটি মিয়ানমারে পৌঁছানোর কয়েক দিন আগে দেশটির বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডায়নামিক ওয়েভের গ্রাহককে জানায়, আমদানিসংক্রান্ত নথিতে জেট জ্বালানির পরিবর্তে ডিজেল উল্লেখ করা হবে। গত ৩০ নভেম্বরের ওই চিঠির একটি অনুলিপি রয়টার্স দেখেছে।
অ্যাকটিভিস্ট সংগঠন জাস্টিস ফর মিয়ানমার রয়টার্সকে নথিটি সরবরাহ করে। তবে চিঠিতে জ্বালানির প্রকৃত ধরন গোপন করে ডিজেল হিসেবে দেখানোর উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করা হয়নি। চিঠিতে ডায়নামিক ওয়েভ ও এর গ্রাহক ন্যাশনাল এনার্জি প্রাইম এভিয়েশন সার্ভিসেস কোম্পানিকে চালানের মূল্য তাইওয়ানকে পরিশোধের অনুমতিও দেওয়া হয়।
গত জানুয়ারিতে প্রকাশিত রয়টার্সের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর প্রধান জেট জ্বালানি সরবরাহকারী ছিল ইরান। এই বাণিজ্যের বড় অংশ পরিচালিত হয় রিফ—যার নতুন নাম ম্যারিস—এবং নোবল নামের দুটি ট্যাংকারের মাধ্যমে।
রয়টার্সের অনুসন্ধানে উন্মোচিত এই কৌশল ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞার ক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতা—দুই দিকই তুলে ধরেছে। জ্বালানি বাণিজ্য গোপন করতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর নেওয়া পদক্ষেপ থেকে বোঝা যায়, নিষেধাজ্ঞার চাপ রয়েছে। তবে তা সত্ত্বেও ইরানি জেট জ্বালানি মিয়ানমারে পৌঁছাচ্ছে। এর ফলে তেহরান গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক মুদ্রা পাচ্ছে এবং মিয়ানমার বাণিজ্যিক বিমান চলাচল ও বিমান হামলা পরিচালনার জন্য জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারছে।
ইরান থেকে মিয়ানমারে জেট জ্বালানি সরবরাহের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় কোনো মন্তব্য করেনি। ডায়নামিক ওয়েভের জ্বালানি কেনার চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছিল, অর্থ পরিশোধ করতে হবে তাওয়ানের থাইল্যান্ডের সিয়াম কমার্শিয়াল ব্যাংকের (এসসিবি) একটি হিসাবে। ব্যাংকটি থাইল্যান্ডের সবচেয়ে পুরোনো ব্যাংক।
২০২৪ সালে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের এক প্রতিবেদনে তাইওয়ানকে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর জেট জ্বালানি সরবরাহকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি কোনো মন্তব্য করেনি। ওই প্রতিবেদনে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর জন্য সরঞ্জাম ও অন্যান্য সামরিক উপকরণ সংগ্রহে এসসিবিকে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তাকারী হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছিল।
প্রতিবেদন প্রকাশের পর ব্যাংকটি জানিয়েছিল, তারা অর্থ পাচারবিরোধী আইন মেনে চলে এবং মিয়ানমার-সংশ্লিষ্ট তাদের লেনদেন বৈধ ও অস্ত্র বাণিজ্যের সঙ্গে সম্পর্কহীন। তাইওয়ানের ব্যবসার প্রকৃতি সম্পর্কে এসসিবি অবগত ছিল কি না, তা নিশ্চিত হতে পারেনি রয়টার্স। এ বিষয়ে ব্যাংকটির কাছে বারবার জানতে চাওয়া হলেও তারা কোনো জবাব দেয়নি।
মে মাসেও একই কৌশলে জ্বালানি আমদানি
ডিসেম্বরের চালানটিই প্রথম নয়, এর আগেও ডিজেলের আড়ালে মিয়ানমারে জেট জ্বালানি পৌঁছানোর ঘটনা ঘটেছে। ২০২৫ সালের মে মাসে ডায়নামিক ওয়েভ তাইওয়ানের কাছ থেকে দুই লাখ দুই হাজার ব্যারেল দক্ষিণ আফ্রিকান ডিজেল কেনার চুক্তি করে। জান্তানিয়ন্ত্রিত সার্ভার থেকে পাওয়া দ্বিতীয় চুক্তিপত্রে বলা হয়, এক মাসের মধ্যে জ্বালানিটি ইয়াঙ্গুনে পৌঁছাতে হবে। এর জন্য ডায়নামিক ওয়েভকে তাইওয়ানের এসসিবি হিসাবেই দুই কোটি ৬০ লাখ ডলার পরিশোধ করতে হতো।
তবে ওই চুক্তির চালানসংক্রান্ত ইনভয়েসে কয়েকটি অসংগতি পাওয়া যায়, যা থেকে জ্বালানিটি প্রকৃতপক্ষে জেট জ্বালানি ছিল বলে ইঙ্গিত মেলে। ওয়াশিংটন স্টেট ইউনিভার্সিটির জেট জ্বালানিবিষয়ক বিশেষজ্ঞ জোশুয়া হেইনের বিশ্লেষণ এবং জ্বালানি খাতের তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান প্ল্যাটসের উপাত্ত অনুযায়ী, নথিতে উল্লেখ করা জ্বালানির ঘনত্ব দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বিক্রি হওয়া ডিজেলের পরিবর্তে জেট জ্বালানির বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মেলে।
এছাড়া জ্বালানিটির দাম আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের একটি মানদণ্ডমূলক দামের চেয়ে ৫০ শতাংশেরও বেশি ছিল। জ্বালানি সরবরাহের রেকর্ড অনুযায়ী, নোবল নামের ট্যাংকারটি ১৭ জুন ইয়াঙ্গুন বন্দরে পৌঁছায়। জাহাজটিতে ডায়নামিক ওয়েভের জন্য নির্ধারিত প্রায় দুই লাখ ব্যারেল জেট জ্বালানি ছিল।
সিনম্যাক্সের স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ অনুযায়ী, রিফ-এর মতো নোবল ট্যাংকারটিও ইরানের বন্দর আব্বাস থেকে জ্বালানি বোঝাই করেছিল। মিয়ানমারের বাণিজ্যিক রাজধানীর দিকে যাত্রার সময় জাহাজটি তার অবস্থানসংক্রান্ত সংকেত এমনভাবে পাঠায়, যাতে গন্তব্য বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দর বলে মনে হয়।
রিফ ও নোবল ট্যাংকারের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানটির তালিকাভুক্ত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও তারা কোনো জবাব দেয়নি। চলতি বছরেও ইরান থেকে মিয়ানমারে জেট জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। গত অক্টোবরে সিনম্যাক্সের বিশ্লেষণ ও স্যাটেলাইট চিত্রের ভিত্তিতে এ তথ্য জানিয়েছিল রয়টার্স।
সূত্র: রয়টার্স
আরএ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যশোরে মাছবাহী পিকআপের ধাক্কায় মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে মা ও তার চার বছরের ছেলের মৃত্যু ঘটেছে। এই ঘটনায় মোটরসাইকেলচালকও আহত হয়েছেন।
রোববার সন্ধ্যা ৬টার দিকে যশোর-রাজগঞ্জ সড়কের তালতলা এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন মৌসুমি (৩২) এবং তার ছেলে আবদুর রহমান (৪)। তাদের বাড়ি যশোরের মণিরামপুর উপজেলার হানুয়ার গ্রামে। মৌসুমির স্বামীর নাম ওমর ফারুক।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে শিশুসন্তানকে নিয়ে যশোরে এসেছিলেন ওই নারী। সন্ধ্যায় ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলে চড়ে বাড়ি ফিরছিলেন। তালতলা এলাকায় পেছন থেকে একটি মাছবাহী পিকআপ মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেলচালকসহ তিনজনই ছিটকে পড়ে আহত হন।
স্থানীয় লোকজন আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মা ও ছেলের মৃত্যু ঘটে।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক রাজিব রায়চৌধুরী জানান, মা ও ছেলের মাথায় আঘাত ছিল। হাসপাতালে আনার আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।
এমই
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ