ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

স্ত্রীকে বেঁধে স্বামীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ


স্ত্রীকে বেঁধে স্বামীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ

যশোরের চৌগাছায় স্ত্রীকে বেঁধে এক যুবক জুয়েল আহমেদ রানা (৩৫) নামক ব্যক্তিকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার সময়, চৌগাছা উপজেলার পাতিবিলা ইউনিয়নের মুক্তদাহ মোড়ে এই হত্যার ঘটনা ঘটেছে।

নিহত জুয়েল রানা মুক্তদাহ গ্রামের ওয়াদুদ খন্দকারের ছেলে ছিলেন। জুয়েল রানার স্ত্রী মায়া বেগম জানিয়েছেন, তিনি দিনমজুরি করতেন এবং গ্রামে কসমেটিক্স বিক্রি করে সংসার পরিচালনা করতেন।

স্থানীয় অধিবাসীরা জানিয়েছেন, রাজনৈতিক সমালোচনা নিয়ে কথা কাটাকাটির এক সময় মুক্তদাহ গ্রামের ইউসুফ, কাশেম, বাবু, সুমনসহ ৫/৬ জন দেশীয় ধারালো অস্ত্র এবং লাঠিসোটা নিয়ে জুয়েলের ওপর হামলা চালিয়েছিল। এই হামলায় জুয়েলের দুই পা ভেঙে দেওয়ার পরে তাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করা হয়।

আরও পড়ুন: শেরপুরে বাস-সিএনজির সংঘর্ষে জুয়েল মিয়া নিহত, আহত ৪

গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা জুয়েলকে উদ্ধার করে প্রথমে চৌগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মোবাশ্বের হোসেন জানিয়েছেন, দুপুর ১২টার দিকে জুয়েল রানাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

মায়া বেগম দাবি করেছেন যে, তার স্বামী কোনো ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। সন্ত্রাসী এবং চাঁদাবাজদের কর্মকাণ্ড দেখে ফেলায় তার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি আরও জানান, মুক্তাদাহ মোড়ে একটি চায়ের দোকানের কাছে দুর্বৃত্তরা তার স্বামীর ওপর হামলা চালায়। তখন মায়া বেগম তাদের বাধা দিতে গেলে তাকে চায়ের দোকানের পিলারের সাথে বেঁধে রাখা হয় এবং তখনই তার স্বামীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মোবাশ্বের হোসেন বলেছেন, দুপুর ১২টার দিকে জুয়েল আহমেদ রানাকে হাসপাতালে আনা হয়। তার মাথা এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্যান্ডেজ করা ছিল। ইসিজি করার পরে নিশ্চিত হয়ে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তাঁর মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত করা যাচ্ছে না, কারণ মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: কেন্দুয়ায় পাচারের সময় ৩২ বস্তা সার জব্দ, চালক পালিয়েছে

চৌগাছা থানার ওসি মো. মামুনুর রশিদ বলেছেন, হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। তিনি জানান যে, তদন্ত ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে এবং হত্যাকারীদের ধরতে অভিযানে নেমেছে পুলিশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দখলকৃত এলাকায় উৎপাদিত কৃষিপণ্য ‘ইসরাইলি’ লেবেলে যাচ্ছে ইউরোপে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:৩২ পি.এম


দখলকৃত এলাকায় উৎপাদিত কৃষিপণ্য ‘ইসরাইলি’ লেবেলে যাচ্ছে ইউরোপে

জবর দখল করা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ও সিরিয়ার গোলান মালভূমির অবৈধ ইসরাইলি বসতিগুলোতে উৎপাদিত কৃষিপণ্য বর্তমানে মিথ্যা ‘ইসরাইলি’ লেবেল ব্যবহার করে ইউরোপীয় বাজারে প্রবেশ করতে দেখা যাচ্ছে। নতুন একটি তদন্ত প্রতিবেদন থেকে এমন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ইকো লিটিগেশন সেন্টারের তৈরি ‘ইমপোর্টিং অকুপেশন’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি গত বুধবার (১০ জুন) প্রকাশ হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে যে, বিভিন্ন অবৈধ বসতিতে উৎপাদিত পণ্যগুলোকে ইইউ নীতির বিরুদ্ধে গিয়ে ‘ইসরাইল থেকে আসা’ হিসেবে দেখানো হচ্ছে, যদিও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিয়ম অনুযায়ী ১৯৬৭ সালের পরে দখলকৃত অঞ্চলের পণ্য আলাদাভাবে চিহ্নিত করার কথা।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, যেসব পণ্যের লেবেলে ‘ওয়েস্ট ব্যাংক’ অথবা ‘গোলান হাইটস’ লেখা থাকা উচিত, সেগুলো অনেক ক্ষেত্রে শুধু ‘মেইড ইন ইসরাইল’ হিসেবে বিক্রি হচ্ছে। এতে ভোক্তাদের ভুল তথ্য প্রদান করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

গবেষকরা ২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৩০ হাজারের বেশি রফতানি রেকর্ড বিশ্লেষণ করেছেন, যা অন্তর্ভুক্ত ছিল ৬ হাজার ৮২৭টি কৃষিপণ্য চালান।

তাদেরের তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপে পাঠানো কৃষিপণ্যের মধ্যে ১৭ শতাংশেরও বেশি পণ্য এসেছে ইসরাইলি বসতি হতে। আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর জন্য এই হার প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে, এসব পণ্যের আসল উৎস আড়াল করতে বিভিন্ন টেকনিক ব্যবহার করা হয়। যেমন—উৎপাদনস্থলকে ইসরাইলের অভ্যন্তরের এলাকা হিসেবে দেখানো, ইসরাইলের অভ্যন্তরের ঠিকানা ব্যবহার করা, যা আসল উৎপাদনস্থলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, এবং অবৈধ বসতি অঞ্চলের পণ্যকে ইসরাইলের মূল ভূখণ্ডের পণ্যের সঙ্গে মিলিয়ে রফতানি করা।

গবেষকদের মতে, এটি একটি বিচ্ছিন্ন ভুল নয়, বরং একটি পরিকল্পিত ব্যবস্থা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে বসতি এলাকার পণ্য ‘সরকারি কাগজপত্রে’ ইসরাইলের অভ্যন্তরের পণ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তারা আরও দাবি করেছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নীতির দুর্বলতার কারণে এসব পণ্য নিয়মিতভাবে ইউরোপের বাজারে আসছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এই ধরনের ভুল লেবেলিং ইউরোপীয় আইন, বাণিজ্য নীতি, খাদ্য নিরাপত্তা এবং জৈব পণ্যের সার্টিফিকেশন ব্যবস্থাকে সংকটের মুখে ফেলছে। এছাড়া বলা হয়েছে, বসতি অঞ্চলের কৃষি কার্যক্রম এসব বসতিগুলোকে টিকিয়ে রাখতে ভূমি ব্যবহার ও সম্পদ আহরণের মাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

গবেষকরা আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) ২০২৪ সালের একটি পরামর্শমূলক মতামতের বিষয়েও উল্লেখ করেছেন, যেখানে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে—রাষ্ট্রগুলোকে ইসরাইল এবং অধিকৃত অঞ্চল আলাদা করে চিহ্নিত করতে হবে এবং এমন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে হবে যা দখলদারিত্বকে টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফ্যাসিবাদ আমলে সবচেয়ে সংকটাপন্ন খাত ছিল শিক্ষা: সংসদে অর্থমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:৩৪ পি.এম


ফ্যাসিবাদ আমলে সবচেয়ে সংকটাপন্ন খাত ছিল শিক্ষা: সংসদে অর্থমন্ত্রী

অর্থ এবং পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ফ্যাসিবাদের দীর্ঘ সময়ে রাষ্ট্রকাঠামোর সবচেয়ে সংকটাপন্ন খাতগুলোর একটি ছিল শিক্ষা।

তিনি উল্লেখ করেন, দেশের তরুণদের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে যে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে’ দেশ আজ গণতান্ত্রিক পথে ফিরে এসেছে, সেখানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আমাদের অবশ্যই একটি পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা সৎ, যোগ্য, দক্ষ এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বক্তৃতায় শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতের বাজেট বরাদ্দ ঘোষণা করার সময় তিনি এই মন্তব্য করেন।

শিক্ষা খাতকে পুনর্গঠনের ওপর বিশেষ জোর দিয়ে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে তরুণদের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতকে এবারের বাজেটে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার।

এই লক্ষ্যে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা খাতে রেকর্ড ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, প্রস্তাবিত বাজেটে প্রধান অগ্রাধিকারের খাতগুলোর মধ্যে শিক্ষা খাতকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার খাত হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, শিক্ষা খাতে এসব লক্ষ্যে বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের সামগ্রিক শিক্ষা কারিকুলামকে সম্পূর্ণ রূপান্তরের যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। নতুন এই রূপান্তরের মূল উদ্দেশ্য হল— শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধ, সামাজিক দায়িত্ববোধ, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং মানবিক চরিত্রের দৃঢ় বিকাশ ঘটানো।

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় জানান, বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ছিল ৮৭ হাজার ২০৬ কোটি টাকা, যা ছিল জিডিপি’র ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ। আগামী অর্থবছরের জন্য এই বরাদ্দ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়ে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা জিডিপির ২ শতাংশ। এছাড়া পর্যায়ক্রমে শিক্ষা খাতে সরকারি বিনিয়োগ ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি করে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সূত্র: বাসস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউজিসির জন্য ১২ হাজার ৩০০ কোটি টাকার বরাদ্দ প্রস্তাব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:৩৪ পি.এম


পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউজিসির জন্য ১২ হাজার ৩০০ কোটি টাকার বরাদ্দ প্রস্তাব

দেশের ৫৮টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ব্যয় নির্বাহের জন্য ১২ হাজার ৩০০ কোটি ৪ লাখ টাকার বাজেট অনুমোদন করেছে ইউজিসি।

এই বাজেটে দেশের ৫৮টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ১২ হাজার ১ কোটি ৮২ লাখ টাকা এবং ইউজিসির জন্য ২৯৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের মোট বাজেটের মধ্যে ৭ হাজার ৪২৮ কোটি ৪৩ লাখ টাকা পরিচালন ব্যয় এবং ৪৩টি প্রকল্পের অনুকূলে ৪ হাজার ৫৭৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা উন্নয়ন ব্যয় হিসেবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ১৭৮তম পূর্ণ কমিশন সভায় বৃহস্পতিবার (১১ জুন) এ বাজেট অনুমোদন করা হয়।

সভার কার্যপত্র উপস্থাপন করেন ইউজিসি সচিব ড. ফখরুল ইসলাম। সভায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মূল বাজেটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন ইউজিসির অর্থ ও হিসাব বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম।

বর্তমান ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৫৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুকূলে সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ১০ হাজার ৮০২ কোটি ২১ লাখ টাকা। সে হিসাবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য বরাদ্দ বেড়েছে ১ হাজার ৪৯৭ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সর্বোচ্চ রাজস্ব বাজেট পেয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, যার পরিমাণ ৯৪৯ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।

উচ্চশিক্ষায় গবেষণা ও বৈদেশিক স্কলারশিপ খাতের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ইউজিসির মূল বাজেটে ২৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে গবেষণা ও বৈদেশিক স্কলারশিপ খাতে মোট ২২৯ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের বাজেটে ১৯৪ কোটি টাকা এবং ইউজিসির বাজেটে গবেষণা ও বৈদেশিক স্কলারশিপ খাতের জন্য ৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। সে হিসাবে আগামী অর্থবছরে এ খাতে মোট বরাদ্দ ৯ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরে ইউজিসির জন্য বরাদ্দকৃত মোট বাজেটের প্রায় ৮০ শতাংশ গবেষণা ও বৈদেশিক স্কলারশিপ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০২৬ সালের ৪ এপ্রিল অনুষ্ঠিত মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামো (২০২৬-২৭ থেকে ২০২৮-২৯) বিষয়ক ত্রিপক্ষীয় সভায় গবেষণা খাতে দ্বৈততা পরিহারের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের গবেষণা খাত একীভূত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের গবেষণা খাতের ২০০ কোটি টাকা কমিশনের বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে ইউজিসির গবেষণা খাতে বরাদ্দ দাঁড়িয়েছে ২২৬ কোটি টাকা। এর সঙ্গে বৈদেশিক স্কলারশিপ খাতে ১২ কোটি টাকা যোগ হয়ে মোট বরাদ্দ হয়েছে ২৩৮ কোটি টাকা।

বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের সঙ্গে পরামর্শক্রমে শিগগিরই একটি নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে গবেষণা খাতের এ বরাদ্দ আরো কার্যকরভাবে ব্যবহারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলে সভাকে জানান ইউজিসি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, গবেষণার অর্থ কেন্দ্রীয়ভাবে বরাদ্দ করা হলেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। বরং গবেষণার সম্ভাব্য প্রভাব, গুণগত মান এবং প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় অর্থ আরও কার্যকরভাবে বণ্টনের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

ইউজিসি চেয়ারম্যান আরো বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের চাহিদার তুলনায় এ বরাদ্দ অপ্রতুল। তবে সমাজের প্রয়োজন এবং অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতগুলো চিহ্নিত করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে অর্থ ব্যয় করা গেলে দেশের উচ্চশিক্ষা খাত উল্লেখযোগ্যভাবে উপকৃত হবে। ইউজিসির মূল লক্ষ্য দেশে গুণগত উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করা এবং গবেষণার সংস্কৃতি গড়ে তোলা। দেশের টেকসই উন্নয়ন ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি বিনির্মাণে মানসম্পন্ন গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রম সম্প্রসারণে উৎসাহিত করতে ইউজিসি গবেষণা ও উদ্ভাবন খাতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এ খাতে বরাদ্দ আরও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সভায় ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, প্রফেসর ড. মো. সাইদুর রহমান, প্রফেসর ড. মাছুমা হাবিব, প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম ও প্রফেসর ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন, পরিকল্পনা কমিশনের আর্থসামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) নাসরীন জাহান, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন, চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. পেয়ার আহম্মেদ, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. নাজমুল আহসান, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ডিন ক্যাটাগরি) প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ডিন (প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদ) প্রফেসর ড. মো. নিজাম উদ্দিন এবং সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ডিন ক্যাটাগরি) প্রফেসর ডা. মো. জিয়াউর রহমান চৌধুরী এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ববিদ্যালয়) আলিফ রুদাবা পূর্ণ কমিশনের সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আগামী বাজেটে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতিতে ১ হাজার ৮১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:৩৬ পি.এম


আগামী বাজেটে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতিতে ১ হাজার ৮১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব

প্রাথমিকভাবে আগামী বাজেটে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি বাবদ ১ হাজার ৮১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনের সময় এ প্রস্তাব দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন অর্থবছরের জন্য তিনি ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট প্রস্তাব করেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ধর্মীয় বিভাজনের বিপরীতে সংহতি ও সাম্যে বিশ্বাস করি। সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি নিশ্চিতকরণ, মূল্যবোধ ও নৈতিকতা সৃষ্টি, সব ধর্মীয় প্রধানের সামাজিক মর্যাদা ও জীবনমান উন্নয়ন, সুষ্ঠুভাবে হজ কার্যক্রম সম্পাদন, ইসলামী গবেষণা কার্যক্রম, নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা ইত্যাদি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘মসজিদের ক্ষেত্রে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমকে মোট ১০ হাজার টাকা এবং অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পুরোহিত ও সেবায়েতকে মোট ৮ হাজার টাকা মাসিক ভিত্তিতে প্রদান করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত মোট ৬,৪৩৮টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ৯,৫২০ জনকে মাসিক সম্মানি ও উৎসব ভাতা প্রদান করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এ সুবিধা সব ধর্মীয় উপসনালয়ে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে আগামী বাজেটে এ বাবদ ১,০৮১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করছি।’

ওয়াকফ সম্পত্তির অবৈধ উচ্ছেদ ও উদ্ধার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ১১টি ওয়াকফ এস্টেটের ২৮.২০ একর সম্পত্তি উদ্ধার করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘হজ ব্যবস্থাপনা অধিকতর সাশ্রয়ী, সহজ ও সাবলীল করতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে। আগামীতে ইমাম ও মুয়াজ্জিনকে প্রশিক্ষণের লক্ষ্যমাত্রা বৃদ্ধির কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%