ঢাকা শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ০৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বাং

লন্ডনে তৌফিক ইমরোজ খালিদীর জানাজা সম্পন্ন, লাশ আসছে ঢাকায়


লন্ডনে তৌফিক ইমরোজ খালিদীর জানাজা সম্পন্ন, লাশ আসছে ঢাকায়

যুক্তরাজ্যের পূর্ব লন্ডনের ব্রিকলেন জামে মসজিদে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশিষ্ট সাংবাদিক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব তৌফিক ইমরোজ খালিদীর। জানাজাটি বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) জোহরের নামাজের পর অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলা ভাষাভাষী সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ, সংস্কৃতিকর্মী এবং তার পরিবারের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।

জানাজা শেষে কমনওয়েলথ জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি সৈয়দ নাহাস পাশা মন্তব্য করেন, "তৌফিক ইমরোজ খালিদী বাংলাদেশের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমে অনন্য অধ্যায় সৃষ্টি করেছেন। তিনি শুধু সাংবাদিকই ছিলেন না, ছিলেন মানবিক ও ধার্মিক মানুষ।"

সৈয়দ নাহাস পাশা আরও জানান, হজ পালনের পর তৌফিক ইমরোজ খালিদী নিজের কাফনের কাপড় সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন। লন্ডনে সফরের সময়ও কাপড়টি তার সঙ্গে ছিল। সেখানে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি নিজেই অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন। পরে সেই কাফনের কাপড় পরেই তিনি শেষ বিদায় নেন।

আরও পড়ুন: এনসিপি কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ, দুর্বৃত্তদের হামলা

এদিকে, তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন ইউকে বাংলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মুহাম্মদ শাহেদ রাহমান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাছির, সহকারী সম্পাদক এ রহমান অলি, ব্রিজবাংলা২৪-এর সম্পাদক শাহ মোস্তাফিজুর রহমান বেলালসহ সাংবাদিক নেতারা।

তার ছেলে রাজ খালিদী জানিয়েছেন, শুক্রবার বিকেলে লন্ডন থেকে বাবার মরদেহ নিয়ে বাংলাদেশে রওনা হবেন তারা। শনিবার (৯ অক্টোবর) ঢাকার বনানীতে দ্বিতীয় জানাজা শেষে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

গত ২ অক্টোবর লন্ডনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৫৯ বছর বয়সে মারা যান তৌফিক ইমরোজ খালিদী।

আরও পড়ুন: মোটরসাইকেলের সামনে ম্যানুয়াল নম্বরপ্লেট বাধ্যতামূলক করেছে বিআরটিএ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরান যুদ্ধ বন্ধে সব ধরনের সহযোগিতায় প্রস্তুত রাশিয়া: পুতিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৯ এম


ইরান যুদ্ধ বন্ধে সব ধরনের সহযোগিতায় প্রস্তুত রাশিয়া: পুতিন

ইরানের যুদ্ধের অবসান ঘটাতে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত মস্কো। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে এ আশ্বাস প্রদান করেন। তিনি উল্লেখ করেন, চলমান সংঘাতের অবসানে ইরানকে সহায়তা করতে রাশিয়া তার সামর্থ্যের মধ্যে সবকিছু করতে প্রস্তুত।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) মধ্য এশিয়ার দেশ তুর্কমেনিস্তানে দুই নেতার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত কয়েকটি দেশের জোট কমনওয়েলথ অব ইন্ডিপেনডেন্ট স্টেটসের (সিআইএস) সম্মেলনে যোগ দিতে তাঁরা সেখানে উপস্থিত হন। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) কাস্পিয়ান সাগরের তীরবর্তী অবকাশকেন্দ্র আভাজায় এ সম্মেলন শুরু হওয়ার কথা।

বৈঠকে পুতিন বলেন, পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে ইরানকে সহযোগিতা করার জন্য রাশিয়া তার সামর্থ্যের মধ্যে সবকিছু করতে প্রস্তুত। তিনি দাবি করেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকেই ইরান যুদ্ধের অবসানে আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে।

ইরান ও রাশিয়ার সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন পুতিন। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে দেশ দুটি কূটনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করেছে। বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতাও বেড়েছে। উভয় দেশই পশ্চিমা দেশগুলোর বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞার মুখে রয়েছে।

গত সেপ্টেম্বরে কিরগিজস্তানে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) সম্মেলনের ফাঁকে পুতিন ও পেজেশকিয়ানের সর্বশেষ সাক্ষাৎ হয়েছিল। এর আগে বুধবার এক ফোনালাপেও পুতিন ইরান যুদ্ধের অবসানে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টায় সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেন বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে।

ইউক্রেন ও পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগ, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য ইরান মস্কোকে শাহেদ ড্রোন ও স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করেছে। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য ইরানকে লক্ষ্যসংক্রান্ত তথ্য দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে রাশিয়ার বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগ নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থান এক নয়।

এদিকে, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা অচলাবস্থায় রয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে একে ‘অর্থহীন’ বলে মন্তব্য করেন। এমন পরিস্থিতিতে পুতিনের এই আশ্বাস যুদ্ধের অবসানে কূটনৈতিক উদ্যোগে রাশিয়ার ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। তথ্যসূত্র: এএফপি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নানা পাটেকরের মৃত্যু: শেষ মুহূর্তে বাঁচার চেষ্টা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৪০ এম


নানা পাটেকরের মৃত্যু: শেষ মুহূর্তে বাঁচার চেষ্টা

ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকরের আকস্মিক মৃত্যুতে। ৭৫ বছর বয়সী এই অভিনেতা মৃত্যুর আগে গভীর রাতে অসুস্থ বোধ করে এক বন্ধুকে বার্তা পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু বার্তাটি দেখতে দেরি হওয়ায় সাহায্য পৌঁছাতে বিলম্ব ঘটে। চিকিৎসকদের দীর্ঘ চেষ্টার পরও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

গোয়ার মণিপাল হাসপাতালের ক্যানসার চিকিৎসা বিভাগের প্রধান চিকিৎসক শেখর সালকার, সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মৃত্যুর আগের কয়েক ঘণ্টার ঘটনাবলী তুলে ধরেন। চিকিৎসকের মতে, রাত আড়াইটার দিকে নানা পাটেকর শারীরিক অস্বস্তি অনুভব করে এক বন্ধুকে বার্তা পাঠান। গভীর রাত হওয়ায় বন্ধু তখন বার্তাটি দেখতে পাননি। ভোর ৪টার দিকে বার্তাটি দেখে তিনি অভিনেতাকে ফোন করেন এবং দ্রুত তার বাড়িতে ছুটে যান।

বাড়িতে গিয়ে বন্ধুটি দেখতে পান, নানা পাটেকরের শরীর ঘামে ভিজে গেছে এবং তিনি ধীরে ধীরে জ্ঞান হারাচ্ছেন। এরপর দ্রুত পরিচর্যাকারীকে হাসপাতালে পাঠিয়ে অ্যাম্বুলেন্স ডাকা হয়। জরুরি চিকিৎসা দল পৌঁছে তাকে সম্পূর্ণ সাড়াহীন অবস্থায় পায়। তখনই হৃদযন্ত্র সচল করার চেষ্টা শুরু হয়। ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

হাসপাতালে প্রায় ৪৫ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা ধরে হৃদযন্ত্র সচল করতে বক্ষচাপসহ জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকদের চেষ্টা সফল হয়নি। ভোর সাড়ে ৫টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে বিষয়টি জানায়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ গোয়া মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়। ঘটনার সময় অভিনেতার সঙ্গে পরিবারের কেউ ছিলেন না; কয়েকজন বন্ধু ও পরিচর্যাকারী তার পাশে ছিলেন। এ ঘটনায় চিকিৎসা-সংক্রান্ত আইনি মামলা হয়েছে।

নানা পাটেকর স্ত্রী নীলকান্তি, ছেলে মল্লার পাটেকর এবং দুই ভাই অশোক ও দিলীপ পাটেকরকে রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে অক্ষয় কুমার, শাহরুখ খান, রিতেশ দেশমুখ, কিয়ারা আদভানি ও রাকুল প্রীত সিংসহ ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনের অনেক তারকা শোক প্রকাশ করেছেন।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মুক্তি পাওয়া বিশাল ভরদ্বাজের ‘ও রোমিও’ ছবিতে শাহিদ কাপুর ও তৃপ্তি ডিমরির সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন নানা পাটেকর। ছবিটি বক্স অফিসে প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারলেও তার অভিনয় সমালোচকদের প্রশংসা পেয়েছিল।

এছাড়া প্রাইম ভিডিওর সুবেদার ছবিতে বিশেষ উপস্থিতি এবং এমএক্স প্লেয়ারে প্রকাশ ঝা পরিচালিত সামাজিক-রাজনৈতিক ধারাবাহিক সংকল্প-এও তাকে দেখা গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৩২১ দিনের অভিযানের পর দেশে ফিরল মার্কিন রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৪০ এম


৩২১ দিনের অভিযানের পর দেশে ফিরল মার্কিন রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগো বন্দরে মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ৩২১ দিনের মোতায়েন শেষে ফিরে এসেছে। ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর রণতরিটি মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হয়েছিল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ২০২৫ সালের ২১ নভেম্বর সান ডিয়েগো ত্যাগ করে। পরে যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়, তখন সেটিকে ওই অঞ্চলে পাঠানো হয়। দীর্ঘ এই অভিযানে প্রায় পাঁচ হাজার নাবিক ও মেরিন সেনা জাহাজটিতে দায়িত্ব পালন করেন।

গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ রণতরিটি পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি অভিযানে অংশ নেওয়া নৌসদস্যদের ভূমিকার প্রশংসা করেন। বিশেষ স্বীকৃতির বিষয়টিও সামনে আসে, যা দীর্ঘ মোতায়েনের জন্য জাহাজটির সদস্যদের দেওয়া হবে।

তবে এই দীর্ঘ অভিযানে রণতরির নাবিকদের খাবার ও অন্যান্য সরবরাহের ঘাটতি এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর চাপ নিয়ে উদ্বেগের খবর প্রকাশিত হয়েছে। টানা দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থান করায় নৌসদস্যদের ওপর এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের সান ডিয়েগোতে প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে এর দীর্ঘ মোতায়েনের সমাপ্তি ঘটেছে। তবে রণতরিটি ফিরে আসার অর্থ এই নয় যে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রমও শেষ হয়ে গেছে। তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রে সাবেক সেনা কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড দেখতে পারবেন সাধারণ মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৪১ এম


যুক্তরাষ্ট্রে সাবেক সেনা কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড দেখতে পারবেন সাধারণ মানুষ

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর নিদাল মালিক হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার দৃশ্য সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হবে, এমন তথ্য জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। ভারতীয় সংবাদসংস্থা এএনআই নিউজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বৃহস্পতিবার এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, আগামী ৩ ডিসেম্বর টেক্সাসের ফোর্ট হুড সেনাঘাঁটিতে ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে।

২০০৯ সালে ফোর্ট হুড সেনাঘাঁটিতে গুলি চালিয়ে ১৩ জনকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন হাসান। ২০১৩ সালে সামরিক আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘রিয়েল আমেরিকা’স ভয়েস’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হেগসেথ বলেন, ৩ ডিসেম্বর দুপুর ১টায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর একই সময়ে হাসান ওই হামলা চালিয়েছিলেন।

হেগসেথ জানান, ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে সেনাসদস্যরা হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করবেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে হামলা চালানোর পরিণতি জনগণকে বোঝাতে এই মৃত্যুদণ্ড প্রকাশ্যে দেখার ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি। এবার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সাধারণ মানুষের দেখার সুযোগ দেওয়া হবে। তবে সাধারণ মানুষ কীভাবে এই দৃশ্য দেখতে পারবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৩৬ সালের পর দেশটিতে প্রকাশ্যে কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়নি। হেগসেথের বক্তব্যের পর প্রশ্ন উঠেছে, সেনাবাহিনী কীভাবে সাধারণ মানুষকে এই দৃশ্য দেখার সুযোগ দেবে।

অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, পেন্টাগনের পক্ষ থেকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কোথায় বা কীভাবে এই সম্প্রচার দেখা যাবে, সে বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় সাধারণ মানুষ সরাসরি উপস্থিত থাকতে পারবেন, নাকি টেলিভিশন বা অনলাইনে তা দেখানো হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। চলতি সপ্তাহের শুরুতে পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এই পদ্ধতিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সুপারিশ করেছিলেন। ট্রাম্প তাতে অনুমোদন দিয়েছেন। পারনেল আরও জানান, কখন ও কোথায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে, তা সেনাবাহিনীর সচিব ঠিক করবেন।

অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে ১৯৬১ সালের পর প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে। ২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর টেক্সাসের ফোর্ট হুড সেনাঘাঁটির একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে গুলি চালান তৎকালীন মার্কিন সেনা কর্মকর্তা মেজর নিদাল মালিক হাসান। ওই হামলায় ১৩ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে ১২ জন সেনাসদস্য এবং একজন বেসামরিক নাগরিক ছিলেন। আহত হন ৩০ জনের বেশি।

হামলার সময় ফোর্ট হুড ছিল ইরাক ও আফগানিস্তানে দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতি নেওয়া মার্কিন সেনাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি। ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছানো বেসামরিক পুলিশ কর্মকর্তারা হাসানকে গুলি করেন। এতে তার শরীরের কিছু অংশের নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হয় এবং তিনি আংশিকভাবে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েন।

২০১৩ সালে সামরিক আদালতের একটি জুরি তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেন। বিচার চলাকালীন হাসান নিজেই নিজের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি কোনো সাক্ষী হাজির করেননি এবং নিজেও সাক্ষ্য দেননি। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগও তিনি চ্যালেঞ্জ করেননি।

হাসানের পক্ষে আদালত নিযুক্ত আইনজীবীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে, তিনি নিজেই মৃত্যুদণ্ড পেতে চাইছেন। সরকারি কৌঁসুলিদের দাবি, আল-কায়েদার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে হাসান এই হামলা চালিয়েছিলেন। বিচার চলাকালে উপস্থাপিত তথ্যে উঠে আসে, ইরাক ও আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের বিরোধিতা করতেন তিনি।

এ ছাড়া আল-কায়েদার সঙ্গে যুক্ত উগ্রপন্থী ধর্মীয় বক্তা আনোয়ার আল-আওলাকির সঙ্গে অনলাইনে তার যোগাযোগ ছিল। পরে ইয়েমেনে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় আল-আওলাকি নিহত হন।

অ্যাক্সিওসের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে সর্বশেষ ১৯৬১ সালে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। আর ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে সর্বশেষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল ১৯৪৫ সালে। সে সময় এডি স্লোভিক নামের এক সেনাসদস্যকে ফ্রান্সে দায়িত্ব থেকে পালিয়ে যাওয়ার অপরাধে গুলি করে হত্যা করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রে ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অনুমতি রয়েছে আইডাহো, মিসিসিপি, ওকলাহোমা, সাউথ ক্যারোলাইনা ও ইউটাহ অঙ্গরাজ্যে। মৃত্যুদণ্ডবিষয়ক তথ্যকেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর সাউথ ক্যারোলাইনায় এই পদ্ধতিতে একজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এর আগে ১৫ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে এই পদ্ধতিতে কারও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়নি।

দেশটিতে সর্বশেষ প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল ১৯৩৬ সালে। সে সময় কেন্টাকিতে রেইনি বেথিয়া নামের এক কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তিকে ফাঁসি দেওয়া হয়। এক শ্বেতাঙ্গ নারীকে ধর্ষণের দায়ে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রে একাধিক ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে গুলির ঘটনা প্রায়ই ঘটে। তবে সামরিক স্থাপনায় এ ধরনের হামলা তুলনামূলকভাবে কম। ২০২৫ সালে জর্জিয়ার একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে এক সেনাসদস্যের গুলিতে তার পাঁচ সহকর্মী আহত হন। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

২০১৯ সালে হাওয়াইয়ের একটি সামরিক স্থাপনায় মার্কিন নৌবাহিনীর এক সদস্যের গুলিতে দুজন নিহত ও একজন আহত হন। একই বছর ফ্লোরিডায় একটি সামরিক স্থাপনায় সৌদি আরবের এক সামরিক প্রশিক্ষণার্থীর গুলিতে তিনজন নিহত হন।

২০১৫ সালে টেনেসির দুটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে চারজন মেরিন সেনা ও একজন নৌবাহিনীর সদস্যকে হত্যা করেন এক বন্দুকধারী। পরে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই জানায়, একটি বিদেশি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি হামলা চালিয়েছিলেন।

এ ছাড়া ২০১৩ সালে ওয়াশিংটনের নেভি ইয়ার্ডে এক বন্দুকধারীর হামলায় ১২ জন নিহত ও আটজন আহত হন। পরে পুলিশ গুলি করে ওই হামলাকারীকে হত্যা করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৪
মাগরিব ০৫:৩২
ইশা ০৬:৪৩
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%