১০:২৭ পি.এম
আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর জন্মস্থান হওয়ায় বিগত ১৭ বছর পিরোজপুর বঞ্চিত ছিল, বলেছিলেন তার ছেলে এবং পিরোজপুর-১ আসনের এমপি মাসুদ সাঈদী। বুধবার আমার দেশকে এমনটি জানিয়েছেন তিনি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহারে মাসুদ সাঈদী পিরোজপুরকে অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছিলেন, যাতে সেখানে শিল্প কল-কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা যাবে এবং ঢাকার সঙ্গে রেল যোগাযোগ স্থাপন করে রাজধানীসহ সারা দেশের সঙ্গে পিরোজপুরের যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্রুত ও সহজ করা সম্ভব হবে। তিনি নির্বাচিত হওয়ার আগে থেকেই মাঠে-ময়দানে, সভা-সমাবেশে এসব দাবির বিষয়ে বক্তব্য রাখছিলেন, সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে এনিয়ে আলোচনা করেছিলেন। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনুসের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন এবং পিরোজপুরের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে পিরোজপুরকে অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন।
জানা গেছে, নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এলাকায় উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য ব্যাপকভাবে তৎপরতা চালাচ্ছেন মাসুদ সাঈদী। নির্বাচিত হওয়ার মাত্র চার মাসের মধ্যেই তার অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এতে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে এক ধরনের আস্থা তৈরি হচ্ছে। জনগণ এমপি মাসুদ সাঈদীকে অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: ‘জমি দখল-চাঁদা তুলতে যাইনি, মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে গিয়েছি’ : ইশরাক হোসেন
সূত্রমতে, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি জাতীয় সংসদে ৭১ বিধিতে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশ প্রদান করে পিরোজপুরকে অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘোষণা এবং ঢাকা থেকে রেল লাইন পিরোজপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণের দাবি দুটি পুনরায় আলোচনায় এনেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে এ দাবি নিয়ে সাক্ষাৎ করেছেন। জনগণের দাবির প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী পিরোজপুরকে অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা বিষয়ে ইতিবাচক মতামত দেন। অবশেষে পিরোজপুরকে অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার বিষয়টি গত ১৪ জুন সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে একনেকের সভায় উপস্থাপিত হয় এবং তা অনুমোদিত হয়। অন্যদিকে, গত ১৬ জুন সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ঢাকার সঙ্গে পিরোজপুরে রেল যোগাযোগ স্থাপনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী আমার দেশকে বলেন, বিগত ১৭ বছর দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম অবহেলিত জেলা ছিল পিরোজপুর। আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর জন্মস্থান হওয়ায় এ জেলাটি নানা ক্ষেত্রে বঞ্চনার শিকার হয়েছিল। বিশেষ করে তার নির্বাচনি এলাকা সদর, নাজিরপুর ও জিয়ানগর সব ধরনের উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। পিরোজপুরের বিভিন্ন দপ্তরে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে। শুধুমাত্র স্থানীয় সরকারের এলজিইডি বিভাগ থেকে কোনো কাজ না করেই ৬ হাজার কোটি টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমি নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, ইনশাআল্লাহ ধাপে ধাপে সবগুলো বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি। আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পিরোজপুরের সমস্যাগুলোর বিষয়ে তাকে অবহিত করেছি এবং পিরোজপুরের উন্নয়নে সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছি। তিনি আমার কথা গভীর মনোযোগের সঙ্গে শুনেছেন এবং পর্যায়ক্রমে আমার দাবিকৃত বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করবেন বলে আশ্বস্ত করেছিলেন। আমি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তিনি অবহেলিত পিরোজপুরের প্রতি সুদৃষ্টি দিয়ে অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘোষণা ও রেললাইন স্থাপনের মতো যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। এছাড়া পিরোজপুরের সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এলজিইডির আওতায় বিভিন্ন সড়কের পূর্ণ সংস্কারের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং বিশেষ করে পিরোজপুর থেকে নাজিরপুরের বৈঠাকাটা ১৭ কিলোমিটার রাস্তা দ্রুত সংস্কারের চেষ্টা চলছে।
সূত্রমতে, পিরোজপুরে অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইকোনমিক জোন) প্রতিষ্ঠিত হলে তা উপকূলীয় অঞ্চলের অর্থনীতিতে যুগান্তকারী উন্নতি আনবে। এর ফলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, এবং মৎস্য, কৃষি ও সামুদ্রিক সম্পদ প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের ব্যাপক প্রসার ঘটবে। স্থানীয় যুবসমাজ, বিশেষ করে নারীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। এতে রাজধানী বা বড় শহরমুখী হওয়ার প্রবণতা হ্রাস পাবে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এই অঞ্চলে কারখানা স্থাপনে উৎসাহিত হবেন, যা সামগ্রিক মূলধন প্রবাহ বাড়াবে। পিরোজপুর ও এর আশেপাশের জেলাগুলো কৃষিপণ্য, সুস্বাদু পেয়ারা, আমড়াসহ মৎস্য সম্পদে সমৃদ্ধ। অর্থনৈতিক অঞ্চলের মাধ্যমে এসবের খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গড়ে উঠবে, যা কৃষকদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করবে। পিরোজপুরের নদী ও সড়কপথের শক্তিশালী যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে পণ্য পরিবহন অত্যন্ত সহজ হবে। উৎপাদিত পণ্য সরাসরি বিদেশে রপ্তানি করে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
আরও পড়ুন: ইশরাক কাণ্ডে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতা স্পষ্ট: আখতার হোসেন
এদিকে, ঢাকার সঙ্গে পিরোজপুরের রেল লাইন চালু হলে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। এর মাধ্যমে ঢাকা ও অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে পণ্য ও যাত্রী পরিবহন সহজ হবে, যা স্থানীয় জীবনযাত্রার মান বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। পিরোজপুর ও পার্শ্ববর্তী এলাকাতে উৎপাদিত কৃষিপণ্য এবং অন্যান্য কাঁচামাল দ্রুত ও সহজে দেশের অন্যান্য বিভাগে পাঠানো যাবে। এতে কৃষকরা তাদের পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাবেন। রেল যোগাযোগের ফলে পিরোজপুরে নতুন শিল্প-কারখানা, হিমাগার এবং পর্যটন খাতের বিকাশ ঘটবে, যা স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।
পিরোজপুরকে অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার সরকারি সিদ্ধান্তের পর পিরোজপুরবাসীর মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। জেলার সর্বস্তরের মানুষ এজন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠিত হলে নতুন শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে, স্থানীয়দের জন্য কর্মসংস্থান সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং জেলার অর্থনৈতিক কার্যক্রমে নতুন গতি আসবে। একই সঙ্গে রেল যোগাযোগ চালু হলে পণ্য পরিবহন সহজ হবে, ব্যবসার খরচ কমবে এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে পিরোজপুরের যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় হবে।
পিরোজপুরবাসী আশা করছেন, অনুমোদিত প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে জেলার দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বঞ্চনার অবসান ঘটবে এবং দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় পিরোজপুর একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
আরও পড়ুন: আমি হাসপাতালের প্রতিমন্ত্রী নই: স্বাস্থ্যের প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন