শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:২৩ এম
শেরপুরে সরকারি বরাদ্দের ১৪ কোটি টাকার সার কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগে করা মামলায় ১০ বিসিআইসি ডিলারসহ ১৫ জনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ জহিরুল কবির মঙ্গলবার দুপুরে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে বিকেলে আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মো. জিয়াউর রহমান নিশ্চিত করেন যে, তাঁদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সার ডিলার মো. ফরহাদ আলী, মাজাহারুল ইসলাম, মো. রফিকুল ইসলাম, সুবর্ণা সাহা রায়, সুফিয়া বেগম, মরিয়ম আক্তার মুন্নী, তাপস নন্দী, সিরাজুল হক, ছামিদুল ইসলাম ফারাজী ও বোরহান উদ্দিন। এছাড়া ডিলার পরিচালনাকারী আনোয়ার হোসেন, মনিরুজ্জামান মনির, প্রশান্ত সাহা, মো. বাদশা মিয়া ও জাকির হোসেন রতনও অভিযুক্ত হয়েছেন।
মামলার সূত্রে জানা যায়, সরকারি বরাদ্দের ১৪ কোটি টাকা মূল্যের বিভিন্ন সার কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগে গত ২২ জুলাই সদর উপজেলার ১৫ ডিলারসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে যে, গত মৌসুমে শেরপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন সার ডিলারের দোকান পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট ডিলারদের সার বিক্রির রেজিস্ট্রার ও ক্যাশ মেমো জব্দ করে যাচাই-বাছাই করা হলে ব্যাপক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়। অধিক মুনাফার আশায় ডিলাররা সরকারি বরাদ্দের প্রায় ১৪ কোটি টাকা মূল্যের সার কালোবাজারে বিক্রি করেন। এর ফলে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি কৃষকেরা সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার কিনতে বাধ্য হন।
ওই মামলায় ডিলাররা কিছুদিন আগে উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিন নেন। মঙ্গলবার জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় তাঁরা জেলা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে নতুন করে জামিনের আবেদন করেন। পরে জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ জহিরুল কবির উভয় পক্ষের জামিন শুনানি শেষে আসামিদের জামিন নামঞ্জুর করে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যখন বক্তৃতা শুরু করেন, তখন বিভিন্ন দেশের অনেক প্রতিনিধি কক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে যান। গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান এবং ফিলিস্তিন নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে এই ওয়াকআউটের ঘটনা ঘটে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে নেতানিয়াহু অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করার পরপরই পোডিয়ামে উঠে বক্তব্য শুরু করার আগেই কিছু প্রতিনিধি কক্ষ ত্যাগ করেন। ফলে বক্তব্যের সময় অধিবেশন কক্ষের একটি বড় অংশের আসন খালি হয়ে যায়।
এ সময় অধিবেশন কক্ষে নেতানিয়াহুর বক্তব্যের বিরোধিতা করে দুয়োধ্বনি ও প্রতিবাদ শোনা যায়। অন্যদিকে, ইসরাইলি প্রতিনিধিদলের সদস্যরা দাঁড়িয়ে নেতানিয়াহুকে সমর্থন জানিয়ে করতালি দেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ফিলিস্তিনি মিশন জাতিসংঘের সদস্যদেশগুলোর প্রতিনিধিদের নেতানিয়াহুর বক্তব্যের সময় সম্মিলিতভাবে অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছিল। এর ফলে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা একসঙ্গে কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান।
নেতানিয়াহুর বক্তব্যের পর প্রতিনিধি ওয়াকআউটের প্রতিক্রিয়ায় তিনি তাদের ‘নৈতিকভাবে কাপুরুষ’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, যারা এখনো কক্ষে রয়েছেন, তাদের মধ্যে কেউ একই অবস্থান ধারণ করলে তাদেরও কক্ষ ছেড়ে যেতে হবে।
বক্তব্যে নেতানিয়াহু গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষিতে ইসরাইলের অবস্থানের পক্ষে সাফাই দেন এবং ইসরাইলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন। একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইলের সামরিক পদক্ষেপের সমর্থনে বক্তব্য রাখেন।
নেতানিয়াহুর বক্তব্যের কারণে এই ওয়াকআউট জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ইসরাইলের গাজা নীতি নিয়ে বিদ্যমান তীব্র কূটনৈতিক মতবিরোধের আরেকটি প্রকাশ হিসেবে দেখা যায়।
এর আগে অধিবেশনের অন্যান্য বক্তব্যেও গাজা ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইসরাইলের নীতির সমালোচনা করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে বাংলাদেশের নতুন করে ১১টি বিমান কেনার চুক্তি সই হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে বিশেষ পোস্ট দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দেওয়া ওই পোস্টে বাংলাদেশ ও তুরস্কের সাথে হওয়া এই বিমান ক্রয় চুক্তিকে বোয়িং কোম্পানির জন্য একটি ‘ঐতিহাসিক’ দিন হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। একই সাথে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও অভ্যন্তরীণ কর্মসংস্থানের জন্যও একে এক বিশাল সাফল্য বলে অভিহিত করেছেন মার্কিন এই প্রেসিডেন্ট।
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সাথে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার সম্পূরক চুক্তি সই করে বাংলাদেশ। এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ বিমান পাঁচটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার এবং ছয়টি ৭৩৭-৮ মডেলের উড়োজাহাজ সংগ্রহ করবে। এই বিশাল বাণিজ্যিক চুক্তি প্রসঙ্গে ট্রুথ সোশ্যালের পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প উল্লেখ করেন, মার্কিন বাণিজ্য বিভাগ এবং বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিকের সহায়তায় বাংলাদেশ ও তুরস্ক একত্রে মোট ১১১টি বোয়িং বিমান কেনার ঘোষণা দিয়েছে, যার সাথে আরও ৫০টি বিমান কেনার অতিরিক্ত বিকল্প সুযোগও রাখা হয়েছে।
হাজার হাজার কোটি ডলারের এই বিশাল রপ্তানি চুক্তি আমেরিকার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, এই চুক্তি দেশজুড়ে হাজার হাজার মার্কিন নাগরিকের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে। মার্কিন উৎপাদন খাত ও শ্রমিকদের সমর্থনের ওপর জোর দিয়ে তিনি আরও বলেন, বোয়িং এবং তিনি যা শুরু করেছন, বাজার আজ সেটাই স্বীকৃতি দিচ্ছে। আমেরিকায় তৈরি ও মার্কিন শ্রমিকদের কাজের সুযোগ করে দিলে যেকোনো প্রতিষ্ঠান আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে দক্ষ ধাত্রীসেবা বা মিডওয়াইফারির কার্যকর সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে মাতৃ ও নবজাতকের প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু রোধে। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও কার্যকর পদক্ষেপ বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের এক সাইড ইভেন্টে তুলে ধরা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের জাতিসংঘ সদর দপ্তরের কনফারেন্স রুম-৭-এ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয় এই সাইড ইভেন্টটি।
‘অঙ্গীকার থেকে কার্যকর পদক্ষেপ: প্রতিরোধযোগ্য মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যু বন্ধে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় ধাত্রীসেবার (মিডওয়াইফারি) সমন্বয়’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে দক্ষ ধাত্রীসেবার কার্যকর সমন্বয় এবং প্রতিরোধযোগ্য মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যু রোধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা আলোচনা করা হয়।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের অংশ হিসেবে আয়োজিত এই উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিভিন্ন অঙ্গীকারকে বাস্তব পদক্ষেপে রূপ দেওয়ার বিভিন্ন দিক নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘ শান্তি বিনির্মাণ কমিশনের (পিবিসি) মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে জাতীয় নেতৃত্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ জোরদারে পাঁচটি প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ‘ন্যাশনাল ওনারশিপ ইন প্র্যাকটিস: স্ট্রেনদেনিং ইনক্লুসিভ স্টেট ইনস্টিটিউশনস থ্রু ইন্টারন্যাশনাল পিসবিল্ডিং সাপোর্ট’ শীর্ষক বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত দুই দশকে স্থানীয় জনগোষ্ঠী, জাতীয় সরকার ও জাতিসংঘের যৌথ প্রচেষ্টায় সহিংসতা প্রতিরোধ ও টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ তৈরি হয়েছে। শান্তি বিনির্মাণ কমিশনকে এসব অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে কাজ আরও জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি।
হুমায়ুন কবির বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব তিন দশকের বেশি সময়ের। বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা পেশাদারত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে বৈশ্বিক সম্মান অর্জন করেছে।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ অন্তর্ভুক্তিমূলক সুশাসন, সামাজিক ন্যায়বিচার, নারী ও যুব ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক সংহতি প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে।
বাংলাদেশের পাঁচ প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে—স্থানীয় শিল্পকে বৈশ্বিক মূল্য শৃঙ্খলের সঙ্গে যুক্ত করে নারী ও যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শান্তিরক্ষা থেকে শান্তি বিনির্মাণে রূপান্তরে পিবিসির পরামর্শমূলক ভূমিকা জোরদার, নারী-শান্তি-নিরাপত্তা ও যুব-শান্তি-নিরাপত্তা কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করা, ২০২৫ সালের শান্তি বিনির্মাণ কাঠামো পর্যালোচনার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা এবং টেকসই অর্থায়ন নিশ্চিত করা।
বক্তব্যের শেষে তিনি জাতিসংঘ শান্তি বিনির্মাণ কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে বাংলাদেশের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ