বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:২২ পি.এম
খুলনার পাইকগাছায় শিবসা নদীর ওপর নির্মাণাধীন ৭৪৮ মিটার দীর্ঘ সেতুর কাজ প্রায় ৭৬ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে, যার জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১২০ কোটি টাকা। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে মূল চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, এই সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নির্মাণকাজ শেষ করার জন্য আরও ছয় মাস সময় বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে। লক্ষ্য করা হচ্ছে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ সেতুটির কাজ সম্পন্ন হতে পারে।
তবে সেতুর নির্মাণকাজ এগিয়ে চললেও, ভারী ট্রাকের চাপের কারণে গ্রামীণ সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের মধ্যে সংযোগ সড়কের অবস্থান নিয়ে কিছু আপত্তি রয়েছে।
লস্কর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ করে বলেন, "সেতুর নির্মাণসামগ্রী বহনকারী ভারী ট্রাক চলাচলের কারণে গ্রামীণ সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।" তিনি উল্লেখ করেন, বাইনতলা বাজারের সংযোগ সড়ক সামান্য বৃষ্টিতেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, গিলাবাড়ীর পরিবর্তে গড়ইখালীর সঙ্গে সংযোগ সড়ক হওয়ায় লস্কর ইউনিয়নের অনেক মানুষ সেতুটির প্রত্যাশিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
প্রকাশ সরকার সংশয় প্রকাশ করে বলেন, "আগামী ছয় মাসের মধ্যে মূল ব্রিজের কাজ শেষ হলেও সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।" তিনি জানান, সড়কের জন্য জমি অধিগ্রহণ এখনও করা হয়নি। আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে ব্রিজ হলেও সংযোগ সড়ক নির্মাণে কত বছর লাগবে, সেটাই ভাবছেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা লাভলু সানা বলেন, "প্রথমে ব্রিজের সংযোগ সড়কটি খড়িয়া খালপাড় হয়ে বগুড়ারচক দিয়ে গিলাবাড়ি পর্যন্ত হওয়ার পরিকল্পনা ছিল।" কিন্তু বর্তমানে শুধুমাত্র ব্রিজ নির্মাণ হচ্ছে, সংযোগ সড়ক হচ্ছে না। এতে কয়রা উপজেলায় মানুষ এ ব্রিজের সুবিধা ভোগ করতে পারবে না।
এছাড়া, সেতু নির্মাণের ফলে শিবসা নদীতে পলি জমে নাব্য কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কয়েকজন। তাঁদের ধারণা, এতে ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতা বা বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তবে এ আশঙ্কার পক্ষে কোনো কারিগরি সমীক্ষার তথ্য পাওয়া যায়নি।
সেতুটির অবস্থান পাইকগাছা জিসি-লস্কর বাজার, বাইনতলা, বগুড়ারচক, শুড়িখালী, ভান্ডারপোল ও গিলাবাড়ী জিসি সড়কের ২ হাজার ৩০০ মিটার চেইনেজে। লস্কর ও গড়ইখালী ইউনিয়নের লস্কর গ্রামের শিবসা নদীর ওপর নির্মিত সেতুটির দৈর্ঘ্য ৭৪৮ মিটার এবং প্রস্থ ৯ দশমিক ৮ মিটার।
ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড (এনডিই) ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু করে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, সেতুটির ২৪০টি পাইলের সবগুলোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। দুই পাড়ে প্রায় ২ দশমিক ৭১ একর জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। জমি পরিদর্শনের কাজও সম্পন্ন হয়েছে।
বর্তমানে প্রকল্পের ৭৬ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। মূল চুক্তি অনুযায়ী চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে তা শেষ হচ্ছে না। ফলে চুক্তির মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কালাম ও ব্যবসায়ী তেজেন মণ্ডল বলেন, চিকিৎসা ও জরুরি প্রয়োজনে তাঁদের খুলনায় যেতে দীর্ঘ পথ ঘুরতে হয়। শিবসা নদী পারাপারের বর্তমান ব্যবস্থা এবং শিববাটী সেতু হয়ে যাতায়াতের কারণে সময় ও খরচ দুটোই বাড়ে। নতুন সেতু চালু হলে এ দুর্ভোগ কমবে।
ব্যবসায়ী আলীমুজ্জমান বলেন, সেতুটি দ্রুত চালু হলে ঘেরের মাছসহ কৃষি ও ব্যবসাপণ্য সহজে খুলনায় নেওয়া যাবে। এতে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যও বাড়বে।
পল্লী সড়ক (সিআইবিআরআর) প্রকল্পের আওতায় নির্মিত এ সেতু চালু হলে পাইকগাছার সঙ্গে খুলনা শহরের সরাসরি যোগাযোগ আরও সহজ হবে। পাশাপাশি আশপাশের কয়েকটি উপজেলার মানুষও এর সুফল পাবেন।
প্রকল্পের ম্যানেজার সাহেব আলী জানান, সেতুর প্রায় ৭৬ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। দ্রুতগতিতে কাজ এগিয়ে চলছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলী শাফীন সোহেব ও উপসহকারী প্রকৌশলী সজল বিশ্বাস বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। লস্কর প্রান্তে তিন রাস্তার মোড়ে একটি গোলচত্বর নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে যানবাহন চলাচল সহজ হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী বলেন, সেতুটি চালু হলে একাধিক উপজেলার মানুষের যোগাযোগ সহজ হবে। নির্মাণকাজ শেষ করে দ্রুত সেতুটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার চেষ্টা চলছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সেতুর কাজ দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি নির্মাণকাজে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো সংস্কার করা হবে। একই সঙ্গে সংযোগ সড়কের অবস্থান নিয়ে স্থানীয়দের আপত্তিও বিবেচনায় নেওয়া হবে। তাঁদের মতে, শুধু সেতু নির্মাণ শেষ করলেই হবে না, নিরাপদ ও কার্যকর সংযোগ সড়ক নিশ্চিত হলেই এর সুফল মানুষের কাছে পৌঁছাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সরকার দেশজুড়ে সব ধরনের তেলের দাম এক লাফে লিটারপ্রতি ২০ টাকা বৃদ্ধি করেছে। এই আকস্মিক ও অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধির কারণে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন যে, সরকার বাধ্য হয়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কঠিন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
তিনি এও আশ্বাস দিয়েছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট সমাধান হলে সরকার আবারও তেলের দাম কমিয়ে দেবে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মেহেরপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই আশ্বাস প্রদান করেন।
জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, "বাংলাদেশ জ্বালানি তেল আমদানিনির্ভর দেশ। দেশে জ্বালানি তেল উৎপাদন হয় না। যে অঞ্চল থেকে বাংলাদেশ জ্বালানি তেল আমদানি করে, সেখানে বর্তমানে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। এর প্রভাব সারা বিশ্বের জ্বালানি বাজারে পড়েছে। ফলে বিভিন্ন দেশে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে।"
তিনি উল্লেখ করেন, "বৈদেশিক মুদ্রার মাধ্যমে বিদেশ থেকে জ্বালানি তেল আমদানি করতে হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি বীমা প্রিমিয়ামসহ আমদানি ব্যয়ও বেড়েছে। ফলে দীর্ঘ সময় জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় না করে রাখা সরকারের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল।"
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, "সরকার প্রথমে প্রায় ছয় মাস পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু কোনো বিকল্প না থাকায় শেষ পর্যন্ত কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তবে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট দ্রুত কেটে যাবে বলে সরকার আশাবাদী। সংকট কেটে গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমলে খুব দ্রুত দেশের বাজারেও দাম সমন্বয়ের চেষ্টা করা হবে।"
এর আগে, বৃহস্পতিবার সকালে মেহেরপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন মেহেরপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি জাভেদ মাসুদ মিলটন এবং মেহেরপুরের পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে সরকারি জমি অবৈধভাবে ভরাটের বিরুদ্ধে বাধা দেওয়ার কারণে ভূমি কার্যালয়ের কর্মচারীদের উপর মারধর ও হত্যার হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে উপজেলা যুবদলের দুই নেতার বিরুদ্ধে শ্রীনগর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ভুক্তভোগী ও ভূমি কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।
অভিযুক্ত নেতাদের মধ্যে রয়েছেন— উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম পার্থ এবং সদস্য অনিক ইসলাম অভি।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২১ সেপ্টেম্বর দুপুর ১টার দিকে শ্রীনগর-দোহার সড়কের রাঢ়ীখাল ইউনিয়নের দামলা এলাকার রবি টাওয়ারের সামনে সরকারি খালের জমি অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে ভরাট করা হচ্ছিল। বিষয়টি জানার পর সহকারী কমিশনারের (ভূমি) নির্দেশে রাঢ়ীখাল ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা আরিফ হোসেন খান ও ভূমি অফিসের পিয়ন সুজন ঘটনাস্থলে গিয়ে ভরাটকাজ বন্ধ করতে বলেন।
এ সময় নুরুল ইসলাম পার্থ ও অনিক ইসলাম অভি সরকারি কাজে বাধা প্রদান করেন। একপর্যায়ে তারা ভূমি অফিসের দুই কর্মচারী এবং অটোরিকশাচালক সোহেলকে মারধর করে আহত করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, পরবর্তীতে ভরাটকাজে বাধা দিলে ভূমি অফিসে গিয়ে আহতদের খুন-জখম করার হুমকি দেওয়া হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে শ্রীনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আফরোজা হক তানিয়া অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে সেখানে অবৈধ ড্রেজারটি ধ্বংস করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত যুবদলের নেতা নুরুল ইসলাম পার্থ ও অনিক ইসলাম অভিকে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুয়েল মিঞা জানিয়েছেন, ঘটনাটি নিয়ে থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনে ফুটপাতে বিশ্রাম নেওয়ার সময় গাড়িচাপায় নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান মীম নিহত হওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার কিশোর আজান আলী শরীফকে সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮-এর বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদির শুনানি শেষে এই আদেশ প্রদান করেন।
এই দিনে কিশোরের পক্ষে অ্যাডভোকেট মো. আলমগীর হোসেন জামিনের আবেদন করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার সময় আজান আলী শরীফ গাড়ির চালকের পাশের আসনে বসা ছিল। নিহত মেহেদী শ্রবণ ও বাক্প্রতিবন্ধী ছিলেন। তাকে হর্ন বাজানো হলেও দ্রুত সরে যেতে না পারায় দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে দাবি করা হয়।
জামিন আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, স্থানীয়ভাবে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে কিশোরের পরিবারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ৯ লাখ টাকা নগদ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, আইনের সংঘাতে জড়িত শিশুকে আদালতে হাজির করে তাকে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার উপপরিদর্শক মো. আরিফীন ইসলাম।
আবেদনে বলা হয়, মামলার তদন্তকালে ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়েছে। ফুটেজে দেখা যায়, ঘটনার পরপরই প্রাইভেটকারের ডান পাশের চালকের আসনের দরজা খুলে আজান আলী শরীফকে বের হতে দেখা যায়। তদন্তে ঘটনার সঙ্গে তার জড়িত থাকার প্রাথমিক সত্যতাও পাওয়া যাচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
এদিকে, মেহেদী হাসান মীমের মৃত্যুর ঘটনায় তার বড় ভাই মোক্তাদীর ইসলাম বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) গুলশান থানায় সড়ক পরিবহন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রাইভেটকারটির চালক হিসেবে আকাশ মারক (৪৪) নামের একজন ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, আকাশ মারক বেপরোয়া গতিতে প্রাইভেটকার চালিয়ে মেহেদীকে চাপা দেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মারা যান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি মোট ৫২৯ কোটি ৩৮ লাখ টাকা খরচ করেছে। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের জন্য ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৮৭ কোটি টাকা। পাঁচ রাজ্যের মোট নির্বাচনি ব্যয়ের অর্ধেকেরও বেশি বাংলার ভোটে ব্যয় হয়েছে। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া দলের নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাব থেকে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি আসাম, কেরালা, তামিলনাড়ু এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরিতেও বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কমিশনে জমা দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, আসামে বিজেপির ব্যয় ৯৬ কোটি ২৬ লাখ টাকা, কেরালায় ৮২ কোটি ৬৭ লাখ, তামিলনাড়ুতে ৫১ কোটি ৫৬ লাখ এবং পুদুচেরিতে ১১ কোটি ৮৯ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। বাংলায় বিজেপির মোট ব্যয়ের মধ্যে ২১৭ কোটি ১৬ লাখ টাকা গেছে দলের সাধারণ নির্বাচনি প্রচারে। প্রার্থীদের সঙ্গে সম্পর্কিত খাতে ব্যয় হয়েছে ৬৯ কোটি ৮৩ লাখ টাকা, যার মধ্যে প্রচারের জন্য প্রার্থীদের দেওয়া হয়েছে ৫৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা।
বিজেপির বাংলাকে ঘিরে এই বিপুল খরচ নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাবে বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। পাঁচ রাজ্যের মোট ৫২৯ কোটি ৩৮ লাখ টাকার মধ্যে বাংলায় খরচ হয়েছে প্রায় ৫৪ শতাংশ। অন্য চার রাজ্যে মিলিয়ে দলের ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৪২ কোটি টাকা। নির্বাচন কমিশনে রাজনৈতিক দলগুলোর জমা দেওয়া ব্যয়ের হিসাব অনুযায়ী, নির্বাচনের সময় বিজেপির কাছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ এসেছে। নির্বাচনি পর্বে দলের প্রাপ্তির পরিমাণ ছিল প্রায় ১ হাজার ৪৯৪ কোটি টাকা। ভোটপর্ব শেষ হওয়ার পর ব্যাংকে থাকা অর্থ এবং হাতে থাকা নগদ মিলিয়ে দলের তহবিলে ৭ হাজার ৬৮৯ কোটি ৬ লাখ টাকা ছিল বলে হিসাবপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্বাচনি ব্যয়ের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট সর্বোচ্চ সীমা থাকলেও রাজনৈতিক দলের সামগ্রিক নির্বাচনি ব্যয়ের ক্ষেত্রে একই ধরনের নির্দিষ্ট সীমা নেই। নির্বাচন শেষ হওয়ার পর রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের নির্বাচনি ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দিতে হয়। প্রচার, সভা, যাতায়াত, বিজ্ঞাপন এবং নির্বাচনি প্রচারসামগ্রীসহ বিভিন্ন খাতে হওয়া খরচ এই হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকে।
পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির জন্য ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য। দলের জমা দেওয়া হিসাবেও তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। পাঁচ রাজ্যের ভোটে দলের মোট ব্যয়ের অর্ধেকের বেশি বাংলায় খরচ হওয়া নির্বাচনি গুরুত্বের একটি আর্থিক চিত্র তুলে ধরেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ