০৮:৫১ এম
মিসর-সুদান সীমান্তে একটি বিমান হামলায় ৭২ জন বেসামরিক স্বর্ণখনি শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এই তথ্যটি একটি আঞ্চলিক মানবাধিকার সংস্থা নিশ্চিত করেছে।
সুদানের রাজধানী খার্তুমভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ‘ইমার্জেন্সি লয়ার্স’ জানায়, শনিবার (১০ অক্টোবর) সুদানের নীল নদ রাজ্যের একটি জনপ্রিয় স্বর্ণখনির এলাকায় হামলাটি সংঘটিত হয়। বিবিসি জানাচ্ছে, সকাল প্রায় ৬টায় একটি যুদ্ধবিমান খনি শ্রমিকদের শিবিরের দিকে পাঁচটিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এই হামলায় শ্রমিকদের থাকার জায়গা ও গর্তগুলো ধসে পড়ে এবং বহু মানুষ হতাহত হন।
হামলায় বেঁচে যাওয়া একজন ব্যক্তির সূত্রে সংবাদমাধ্যম সুদান ট্রিবিউন জানিয়েছে, প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আরো অনেক বেশি হতে পারে এবং অনেকেই গুরুতর আহত হয়েছেন। হামলার ব্যাপারে মিসর সরকার কিংবা সুদানের বর্তমান কর্তৃপক্ষ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে এর আগে মিসরের বিরুদ্ধে সীমান্ত এলাকায় অবৈধ কার্যক্রম বন্ধের নামে স্বর্ণ অনুসন্ধানকারীদের ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছিল। মিসর সরকারের দাবি, তারা সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অভিবাসন, মাদক চোরাচালান ও বেআইনি খনি খনন বন্ধে কঠোর নিরাপত্তা অভিযান চালাচ্ছে।
আরও পড়ুন: জাতীয় স্বার্থে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করলেন ট্রাম্প
‘ইমার্জেন্সি লয়ার্স’ জানিয়েছে, বেসামরিক নাগরিকদের ওপর এই হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের চরম লঙ্ঘন এবং এটি ‘যুদ্ধাপরাধ’-এর শামিল। একই সঙ্গে এটি সুদানের ভূখণ্ডে সরকারের নিয়ন্ত্রণহীনতা প্রকাশ করে।
উল্লেখ্য, সুদানে চলমান গৃহযুদ্ধের কারণে দেশের সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষ জীবিকার টানে সরকারি অনুমতি ছাড়াই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে সোনা উত্তোলন শুরু করেছে। স্বর্ণসমৃদ্ধ নীল নদ রাজ্যটি ঐতিহ্যগতভাবে চোরাচালানপ্রবণ সীমান্ত অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায়, সেখান থেকে উত্তোলিত বেআইনি সোনা সহজেই পাচার হয়ে যায় এবং এই চোরাচালানের অর্থ সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর আয়ের প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করে। অন্যদিকে, এই অবৈধ সুদানি সোনা মিসরের বাজারে ঢুকে পড়ায় দেশটির বৈধ সোনার বাজার বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যার কারণে গত জুনেই মিসরীয় সীমান্তরক্ষীরা ৮৬ টন সোনার আকরিক ও খনন সরঞ্জাম জব্দ করেছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন