শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:১৭ পি.এম
মাদক বিক্রিতে রাজি না হওয়ায় হামলার দাবি, মাথায় ৪–৫ সেলাই; থানায় অভিযোগের পরও তদন্তে অগ্রগতি নেই বলে অভিযোগ
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের শিমলাপাড়া এলাকায় যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সেলিমের বিরুদ্ধে মাদক বিক্রি ও মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। একই সঙ্গে মাদক বিক্রিতে সহযোগিতা করতে রাজি না হওয়ায় এক ব্যক্তিকে মারধর করে গুরুতর আহত করার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগীর দাবি, গত কয়েকদিন ধরে সেলিম তাকে বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন ও চাপ প্রয়োগ করে মাদক বিক্রির কাজে সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু তিনি এতে রাজি না হওয়ায় তার ওপর ক্ষুব্ধ হন সেলিম।
ভুক্তভোগী গণমাধ্যমের কাছে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, পরবর্তীতে বাংলাবাজার এলাকায় তাকে একা পেয়ে অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এ সময় তার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে গোপালপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে মাথায় চার থেকে পাঁচটি সেলাই দিতে হয় বলে জানান তিনি।
ঘটনার পর তিনি থানায় অভিযোগ করেছেন বলেও দাবি করেন। তবে অভিযোগ করার পরও পুলিশের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো তদন্ত বা কার্যকর অগ্রগতি তার চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
এখানেই শেষ নয়—ভুক্তভোগীর আরও অভিযোগ, হামলার ঘটনার পর তার বাবা-মাসহ পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন বলে দাবি করেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, শিমলাপাড়া এলাকায় মাদক কেনাবেচা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ ও আলোচনা রয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা প্রভাবের কারণে কেউ যদি মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত হন, তাহলে সেই অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
প্রশ্ন উঠছে—একজন ব্যক্তি থানায় লিখিত অভিযোগ করার পরও যদি তদন্তের দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকে, তাহলে একজন ভুক্তভোগী নিরাপত্তা চাইবে কার কাছে?
এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীর দাবি, অভিযোগটি কোনো রাজনৈতিক বিবেচনায় নয়, বরং নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হোক। হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে সত্য-মিথ্যা যাচাই করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কারণ মাদকের অভিযোগ হোক কিংবা হামলার অভিযোগ—অভিযুক্তের পরিচয় নয়, প্রমাণই হওয়া উচিত আইনি ব্যবস্থার ভিত্তি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গতকাল ১৭ ই সেপ্টেম্বর রোজ বৃহস্পতিবার প্রকাশিত জাগো নারায়ণগঞ্জ ২৪, নারায়ণগঞ্জ চাষাড়া শহীদ মিনারে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা সাখাওয়াত ইসলাম রানার বিরুদ্ধে, যে চাঁদাবাজির অপবাদ প্রকাশ করা হয়েছে তাহার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন, যাহা ভিত্তিহীন এবং তাকে হে পণ্য করার লক্ষ্যে এ কাজ করার হয়েছে বলে জানিয়েছেন,
নারায়ণগঞ্জে যেখানে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ফুটপাত থেকে সকল প্রকার দোকানপাট উঠিয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার প্রদান করেছেন, সেখানে তো আর নতুন করে দোকান বসিয়ে, চাঁদাবাজির প্রশ্নই উঠে না, শহীদ মিনারের যারা ব্যবসা করে আসছেন পূর্বে থেকেই তারা এখানে অস্থায়ীভাবে ব্যবসা করে আসছেন পুনরায় বসার কোন সুযোগই নেই ,কারণ নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন প্রশাসক সকল ফুটপাতের দোকানদারদের জন্য নির্দিষ্ট একটি জায়গা করার চেষ্টা করছেন ওখানে সকল উঠিয়ে নেওয়া হবে, তারপর স্বেচ্ছাসেবক দলের শাখাওয়াত ইসলাম রানা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের সাথে হাত মিলিয়ে এ কাজ করে আসছেন দীর্ঘদিন যাবত, তাই এটি একটি ভিত্তিহীন অপপ্রচার এ বিষয়ে নিন্দাও প্রতিবাদ জানিয়েছেন দলের স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা শাখাওয়াত ইসলাম রানা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পুরাতন ব্রিজের লোহার পাইলিং বিক্রি করে ৮০ শতাংশ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
পটুয়াখালী সদর থানার ১৪ নম্বর ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ শাহিন তালুকদারের বিরুদ্ধে ইউনিয়নের উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাদের শিকদার বাড়ির দরজার পুরাতন ব্রিজ সংস্কারের জন্য বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ১৪ নম্বর ইউনিয়ন পরিষদের অনুকূলে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৬০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, ব্রিজটির পুরাতন লোহার পাইলিং বিক্রি করে সেখান থেকে প্রাপ্ত অর্থের প্রায় ৮০ শতাংশ আত্মসাৎ করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী ব্রিজটির সংস্কারকাজ যথাযথভাবে করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বরাদ্দের অর্থ দিয়ে যে ধরনের সংস্কারকাজ করার কথা ছিল, বাস্তবে তা করা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় একটি করাতকল থেকে কিছু কাঠ এনে তা দিয়ে দায়সারাভাবে ব্রিজটি সংস্কার করা হয়েছে। ফলে সংস্কারের পর এক বছর না যেতেই ব্রিজটির স্থায়িত্ব ও কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি অর্থ ও পুরাতন ব্রিজের মালামাল ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম হয়ে থাকলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করা প্রয়োজন।
এ ঘটনায় ১৪ নম্বর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোঃ ইদ্রিস বেপারী পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত আবেদন করেছেন। আবেদনে ব্রিজ সংস্কারের বরাদ্দ, পুরাতন লোহার পাইলিং বিক্রির অর্থ এবং বাস্তবায়িত কাজের মান ও ব্যয়ের হিসাব তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
তবে ইউপি সদস্য মোঃ শাহিন তালুকদারের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা এবং সরকারি বরাদ্দের অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় হয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে দুই কেজি গাঁজাসহ লাবনী আক্তার (২২) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তার সঙ্গে থাকা এক ব্যক্তি কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। বুধবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোবিন্দগঞ্জ পৌরশহরের চারমাথা মায়ামনি এলাকায় অভিযান চালিয়ে লাবনী আক্তারকে দুই কেজি গাঁজাস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিয়ের পাঁচ বছর পার হলেও সন্তান লাভ হয়নি আঁখি আক্তারের। সন্তানের জন্য মানত করতে স্বামী, বাবা, বোন, ভাগনে ও ভাগনিকে নিয়ে মৈনট পীরের মাজারে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন তিনি। তাদের বহনকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি ধামরাইয়ের নান্দেশ্বরী এলাকায় পৌঁছানোর পর বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এই দুর্ঘটনায় অটোরিকশাটি সম্পূর্ণরূপে দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর আঁখি, তার ১২ বছর বয়সী ভাগনে জাকারিয়া এবং সিএনজিচালক জুয়েল মারা যান।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকালে ধামরাই উপজেলার আমতা ইউনিয়নের পশ্চিম নান্দেশ্বরী বটতলা এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন—সিএনজি অটোরিকশাচালক জুয়েল (৪০), যাত্রী আঁখি আক্তার (৩০) এবং তার ভাগনে জাকারিয়া (১২)। নিহতদের সকলের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলায়। জাকারিয়া ছিল আঁখির বড় বোনের ছেলে। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন লাকী আক্তার (৩২), আবুল হোসেন (৬৫), সেলিম আহমেদ (৩৫) এবং লাকী আক্তারের পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে সাদিয়া।
আহত আবুল হোসেন তার মেয়ে ও নাতিকে একসঙ্গে হারিয়ে হাসপাতালে আহাজারি করছিলেন। দুর্ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, "আমরা যামু মৈনট, আমার জামাই-মেয়ে নিয়া যামু পীর বাড়ির মাজারে। হেই সময় এরকম হইলো। জামাই সামনে ড্রাইভারের পাশে বাম সাইডে বইছে। ডান সাইডে খালি। হঠাৎ কইরা সামনে থাইকা গাড়িডা আইলো।"
তিনি আরও বলেন, "আমার ছোট মেয়ের সন্তান হচ্ছিল না। বড় মেয়ে মানত করার পর মেয়ে হয়েছিল। সেই নাতনির মানত পূরণ করতে আর ছোট মেয়ের জন্য সন্তানের মানত করতে যাচ্ছিলাম। কিন্তু এখন আমার সব শেষ।" এই কথা বলতে গিয়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।
নিহত আঁখির স্বামী সেলিম আহমেদ জানান, "আমাদের বিয়ের পাঁচ বছর হয়েছে। তবে আমরা নিঃসন্তান। আমরা মৈনট পীরের বাড়ি যাচ্ছিলাম। গাড়িতে ছয় জন ছিলাম। আমি, আমার স্ত্রী, জেঠাস ও তার দুই ছেলে যাচ্ছিলাম। আমার স্ত্রী ও তার বড় ভাগনে মারা গেছে।"
পুলিশ ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার দিকে নান্দেশ্বরী বটতলা এলাকায় আরবিসি ব্রিকসের পাশে পাকা সড়কে কালামপুরগামী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে সাটুরিয়াগামী একটি অজ্ঞাত পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এই ঘটনায় অটোরিকশাটি সম্পূর্ণরূপে দুমড়েমুচড়ে যায়। অটোরিকশার চালকসহ চারজন গুরুতর আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জুয়েল ও জাকারিয়ার মৃত্যু ঘটে। গুরুতর আহত আঁখিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তারও মৃত্যু হয়।
সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো. রোকনুজ্জামান জানান, "২টার দিকে তাদের নিয়ে আসে। তিনজন অজ্ঞান ছিল। রক্তপাত ছিল প্রচুর। পরে আঁখিকে রেফার করি। বাকি দুজনকে চিকিৎসা দিই। প্রায় ১০ মিনিট পর দুজনের মৃত্যু হয়। আর আঁখিকে ঢাকা নেওয়ার পথে তারও মৃত্যু হয়।"
খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। ধামরাই থানার কাওয়ালীপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন বলেন, "আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতদের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির কাজ চলছে। দুর্ঘটনার ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ