১০:৪৫ পি.এম
বাংলাদেশ এবং ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে প্রচলিত বাণিজ্যের ছন্দের বাইরে হালাল পণ্য এবং সেবাভিত্তিক খাতে বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে, এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত লিসতিওয়াতি।
এটি সোমবার রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআই এবং ইন্দোনেশিয়ার উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক সভায় তিনি প্রকাশ করেন।
রাষ্ট্রদূত লিসতিওয়াতি বলেন, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ফ্যাশন সামগ্রী, ফার্মাসিউটিক্যালস, চিকিৎসা সরঞ্জাম, স্বাস্থ্যসেবা, ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং অন্যান্য উদীয়মান খাতে বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণের উল্লেখযোগ্য সুযোগ বিদ্যমান।
আরও পড়ুন: ইশরাকের পিস্তল উঁচানো দৃশ্য ত্রাসের রাজত্বের প্রতীক: জামায়াত
তিনি জানান, আগামী ৮ থেকে ১২ জুলাই ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় ‘ডি-৮ হালাল এক্সপো ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হবে। এ প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণের জন্য তিনি বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের বাণিজ্য প্রতিনিধি দল অংশ নেবে বলে তারা প্রত্যাশা করছেন। এ বিষয়ে ঢাকাস্থ ইন্দোনেশিয়া দূতাবাস প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করবে।
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, হালাল পণ্যের ধারণা শুধুমাত্র খাদ্য বা মাংসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর পরিধি পোশাক, প্রসাধনী, ওষুধ, স্বাস্থ্যসেবা, মেডিকেল সরঞ্জাম, হালাল অর্থায়ন এবং পর্যটন খাতের মধ্যে রয়েছে।
তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, ডি-৮ হালাল এক্সপো কেবল একটি প্রদর্শনী নয়, এটি ডি-৮ ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে হালাল ইকোসিস্টেমকে শক্তিশালী করা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং নতুন অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটর্ফম।
সভায় ‘ডি-৮ হালাল এক্সপো ২০২৬’-এর উপরে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ইন্দোনেশিয়ার ন্যাশনাল কমিটি ফর ইসলামিক ইকোনমি অ্যান্ড ফাইন্যান্স-এর ডিরেক্টর জেনারেল পুতু রাহউইধিয়াসা। তিনি বলেন, ইন্দোনেশিয়া শুধু হালাল পণ্য রপ্তানিতে সীমাবদ্ধ নয়, বরং ‘হালাল ভ্যালু চেইন’ উন্নয়নের মাধ্যমে একটি সমন্বিত হালাল অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তুলছে। এ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ এবং ইন্দোনেশিয়া দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকে আরও সম্প্রসারণ করতে পারে।
আরও পড়ুন: রাজনীতিকে সঠিক পথে পরিচালনায় সাংবাদিকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: সড়ক পরিবহণমন্ত্রীর মন্তব্য
তিনি প্রতিবেদনটিতে জানান, ওআইসি ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ২০২২ সালে ইন্দোনেশিয়া শীর্ষ ১০টি রপ্তানিকারক দেশের মধ্যে স্থান করে নিয়েছে। এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে কেবল তুরস্ক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)।
অন্যদিকে, গ্লোবাল হালাল ইকোনমি ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ইনডেক্স-এর সূচকে ইন্দোনেশিয়া বর্তমানে বিশ্বের মধ্যে ৬ষ্ঠ অবস্থানে আছে। এই সূচকে দেশটির হালাল খাদ্য খাতের বর্তমান র্যাংকিং ৪র্থ। এছাড়া ফ্যাশন ও পোশাক খাতেও ৬ষ্ঠ স্থান অর্জন করে দেশে বৈচিত্র্যময় হালাল বাজারের সক্ষমতা তুলে ধরেছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৩ সালে ওআইসি যুক্ত দেশগুলোতে হালাল খাদ্য খাতে ব্যয়ের পরিমাণ ছিল প্রায় ১ দশমিক ২৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং এর সম্ভাব্য বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ২ শতাংশ। একই সময়ে মুসলিম ভোক্তাদের হালাল পোশাক খাতে ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ২৭৭ দশমিক ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং সম্ভাব্য প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৮ শতাংশ।
সভায় ইন্দোনেশিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (আইবিসিসিআই) সভাপতি মোহাম্মদ রিয়াদ আলী বলেন, ডি-৮ ভুক্ত দেশগুলো তাদের দৈনন্দিন জীবনে ও বাণিজ্যে হালাল পদ্ধতিগুলো প্রয়োগের একটি বড় সুযোগ রয়েছে ডি-৮ হালাল এক্সপো। পাশাপাশি, আমাদের দেশে হালাল সার্টিফিকেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে তাদের অভিজ্ঞতা থেকে শেখার সুযোগ রয়েছে।
আরও পড়ুন: রটারডাম কনভেনশনে যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশ, বিপজ্জনক রাসায়নিক ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা পাবেন
এর আগে, এফবিসিসিআই’র মহাসচিব মো. আলমগীর স্বাগত বক্তব্যে জানান, বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে একটি চমৎকার ও সুদৃঢ় বাণিজ্য সম্পর্ক বিদ্যমান। যদিও এ বাণিজ্যে বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে রয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ডি-৮ হালাল এক্সপোর মতো আন্তর্জাতিক আয়োজন দুই দেশের বাণিজ্যিক অংশীদারিত্বকে আরও বহুমুখী করবে এবং নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে।
তিনি বাংলাদেশ থেকে একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল ডি-৮ হালাল এক্সপো ২০২৬-এ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এফবিসিসিআই আন্তরিকভাবে কাজ করবে বলেও আশ্বস্ত করেন।
সভায় এফবিসিসিআই’র সাবেক পরিচালক ও বারভিডা’র সভাপতি আব্দুল হক, এফবিসিসিআই’র সাবেক পরিচালক গিয়াসউদ্দিন চৌধুরী (খোকন), এফবিসিসিআই’র সাবেক পরিচালক ও বাংলাদেশ চিনি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. আবুল হাশেম আবুল হাশেম, বিভিন্ন চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ, এফবিসিসিআই’র সাধারণ পরিষদের সদস্যবৃন্দ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়, বিএসটিআই, বিডা, ইপিবি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-ভারতের দুর্গাপূজার মধ্যে গভীর মিলের কথা বললেন ডেপুটি হাই কমিশনার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন