প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিনিয়োগের গতি বৃদ্ধির লক্ষ্যে, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও একটি আধুনিক ও স্বচ্ছ কর ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মানসিকতার সহিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে আয়কর সংক্রান্ত বিভিন্ন বড় প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে। মধ্যবিত্ত করদাতাদের শুধু স্বস্তি দেওয়ার লক্ষ্য নয়, বরং তরুণদের জন্য আরও নতুন সুযোগ তৈরি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণেও এবারের বাজেটে কর কাঠামোতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে যে, করদাতাদের জন্য যেন তারা আগেই নিজেদের করের হার অনুমান করতে পারেন, সেজন্য আগামী ৫ বছরের জন্য একটি প্রগতিশীল কর কাঠামো ঘোষণা করার প্রস্তাব হতে পারে।
ধাপে ধাপে বাড়ানো হচ্ছে করমুক্ত আয়ের সীমা।
মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের বাস্তবতা মাথায় রেখে আগামী ৫ বছরের জন্য ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়ের সীমা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর ব্যবস্থা করা হতে পারে। সম্ভাব্য প্রস্তাবনার মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে-
সাধারণ করদাতা: ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ করবর্ষে তাদের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা এবং ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ করবর্ষে এটি বাড়িয়ে ৪ লক্ষ টাকা এবং ২০৩০-৩১ করবর্ষে ৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকায় উন্নীত হবে।
নারী ও সিনিয়র সিটিজেন (৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব): সাধারণ সীমার চেয়ে আরও ৫০ হাজার টাকা বেশি সুবিধা পাবেন। ফলে, তাদের করমুক্ত সীমা হবে ৪ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা।
জুলাই যোদ্ধা ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা: ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত গেজেটভুক্ত "জুলাই যোদ্ধা" এবং যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য এই সীমা শুরুতেই ৫ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা থাকবে, যা ২০৩০-৩১ করবর্ষে বৃদ্ধি পেয়ে ৬ লক্ষ টাকা হবে।
তৃতীয় লিঙ্গ ও প্রতিবন্ধী করদাতা: তাদের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা শুরু হচ্ছে ৫ লক্ষ টাকা থেকে।
বিশেষ ছাড়: প্রতিবন্ধী ব্যক্তির পিতামাতা বা আইনানুগ অভিভাবকের জন্য প্রত্যেক সন্তান বা পোষ্যের জন্য করমুক্ত সীমা আরও ৫০,০০০ টাকা বাড়ানো হবে।
সম্ভাব্য প্রস্তাবনা অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ করবর্ষের জন্য করের ধাপগুলো এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে মধ্যবিত্তের ওপর কোনো চাপ না পড়ে।
ধনীদের ওপর অতিরিক্ত কর ধার্য করা হবে: সমাজের উচ্চবিত্ত বা স্বল্পসংখ্যক ধনী করদাতাদের জন্য ২০২৮-২৯ করবর্ষ থেকে ৩ কোটি টাকার বেশি অবশিষ্ট আয়ের ওপর ৩৫% (৫% অতিরিক্ত) করের প্রস্তাব রয়েছে। মধ্যবিত্তরা এই উচ্চ হারের আওতার বাইরে থাকবেন।
তরুণ ও প্রযুক্তি খাতের জন্য 'মেগা ধামাকা'
দেশের আইটি সেক্টর, তরুণ ও নারী উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করার জন্য বাজেটে অভূতপূর্ব কিছু সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করা হতে পারে।
ফ্রিল্যান্সিং ও কনটেন্ট ক্রিয়েশন: সব ধরনের ফ্রিল্যান্সিং এবং সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট ক্রিয়েশন থেকে অর্জিত আয়কে সম্পূর্ণ করমুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে।
স্টার্টআপ: নতুন উদ্ভাবনী উদ্যোগ বা প্রযুক্তিনির্ভর স্টার্টআপ ব্যবসার ক্ষেত্রে টার্নওভার ট্যাক্স ০% করার প্রস্তাব রাখা হতে পারে।
এসএমই ও নারী উদ্যোক্তা: ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য ৫০ লাখ টাকা এবং নারী ও প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত টার্নওভার থেকে অর্জিত আয় সম্পূর্ণ করমুক্ত থাকবে।
সাধারণ মানুষের জন্য নিত্যপণ্যে করছাড়:
মার্কেটের মূল্যস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্য কমানোর লক্ষ্যে চাল, ধান, গম, আলু, পেঁয়াজ, ভোজ্যতেলসহ ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় এবং কৃষিপণ্যের ওপর উৎসের করের হার কমিয়ে ০.৫ শতাংশ করার প্রস্তাব রাখা হতে পারে।
উল্লেখযোগ্য অন্যান্য ক্ষেত্র যেখানে করছাড়ের প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে-
স্বাস্থ্য খাত: কিডনি ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে ৫% অগ্রিম কর সম্পূর্ণ মওকুফ করার প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে, যার ফলে প্রতি ডায়ালাইসিসে খরচ ৬০০ টাকার কাছাকাছি কমে যাবে।
পরিবেশবান্ধব যানবাহন: ইলেকট্রিক বাস, ট্রাক এবং চার্জিং স্টেশন আমদানির ওপর কর ৫% থেকে কমিয়ে ০% করার প্রস্তাব রয়েছে। এছাড়া বিআরটিএ-তে ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল (ইভি) রেজিস্ট্রেশন ও নবায়নের অগ্রিম কর দুই লাখ টাকা থেকে কমিয়ে সিসি/কিলোওয়াট অনুযায়ী ২৫ হাজার থেকে ১ লাখ টাকায় আনার প্রস্তাব হয়েছে।
স্বর্ণালংকার: স্বর্ণ ও স্বর্ণালংকার সরবরাহে উৎসে কর ৫% থেকে কমিয়ে ০.৫% করার প্রস্তাব করা হতে পারে।
প্রযুক্তি পণ্য: কম্পিউটার মনিটর, প্রিন্টার ও ফ্ল্যাশ মেমোরি আমদানিতে অগ্রিম কর ৫% থেকে কমিয়ে ২% করার সম্ভাবনা রয়েছে।
সেরা করদাতাদের জন্য থাকছে ভিআইপি সুবিধা।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে যে, বাজেটে কর ভিত্তি সম্প্রসারণ এবং সৎ করদাতাদের রাষ্ট্রীয় সম্মান দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। "সেরা করদাতা পুরস্কার নীতিমালার" অধীনে মোট ৬৭ জন সর্বোচ্চ করদাতাকে পুরস্কৃত করা হতে পারে।
পুরস্কারপ্রাপ্তরা উপভোগ করবেন: জাতীয় ও জেলা পর্যায়ের অনুষ্ঠানে বিশেষ আমন্ত্রণ ও অংশগ্রহণের সুযোগ। সরকারি হাসপাতালগুলিতে কেবিন সুবিধা এবং সরকারি সার্কিট হাউসে থাকার জন্য অগ্রাধিকার। বিমান, ট্রেন বা অন্যান্য যানবাহনের টিকিট প্রাপ্তিতে অগ্রাধিকার। বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহারের বিশেষ সুযোগ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন