ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

থাইল্যান্ডে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে নতুন উদ্যোগ


থাইল্যান্ডে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে নতুন উদ্যোগ

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে একটি প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে, যা থাইল্যান্ডের। বুধবার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক।

মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এই সময় বলেন, বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫৪তম বার্ষিকী উদযাপন সত্যিই একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তিনি বলেন, বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য কর্মী নিয়োগের সম্ভাব্য এবং কার্যকর পথ উন্মোচনের লক্ষ্যে থাইল্যান্ডের দূরদর্শী উদ্যোগকে বাংলাদেশ গভীরভাবে প্রশংসা করে।

এছাড়া, মন্ত্রী একটি নৈতিক ও দায়িত্বশীল শ্রমিক নিয়োগ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, "আমরা এমন একটি ব্যবস্থা চাই, যেখানে নিয়োগের প্রাথমিক ব্যয় নিয়োগকর্তা বহন করবেন, স্থানীয় ভাষায় প্রমিত কর্মসংস্থান চুক্তি নিশ্চিত করা হবে এবং কর্মীদের কল্যাণ, ন্যায্য মজুরি, আবাসন ও চিকিৎসা বীমার জন্য কার্যকর সুরক্ষা ব্যবস্থা বিদ্যমান থাকবে।"

আরও পড়ুন: পূজামণ্ডপে মুসলমানদের উপস্থিতি সম্প্রীতির উজ্জ্বল উদাহরণ: খাদ্যমন্ত্রী

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, "থাইল্যান্ডের দক্ষ জনশক্তি প্রয়োজন এবং বাংলাদেশের রয়েছে জনশক্তির অফুরন্ত ভান্ডার।" তিনি এ সময় সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) মাধ্যমে দক্ষ বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার জন্য থাই প্রতিনিধি দলকে আহ্বান জানান।

মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ উল্লেখ করেন, "থাইল্যান্ডে ‘ব্লু কলার’ জবের পাশাপাশি ‘হোয়াইট কলার’ জবের জন্যও বাংলাদেশে উপযুক্ত কর্মী রয়েছে।" তিনি জানান, সাংস্কৃতিক এবং আবহাওয়াগত দিক বিবেচনায় থাইল্যান্ড বাংলাদেশী কর্মীদের জন্য একটি উৎকৃষ্ট স্থান। তবে তিনি স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া, কম খরচে কর্মী প্রেরণ এবং কর্মীদের অধিকার নিশ্চিত করতে যৌথভাবে কাজ করার ওপর জোর দেন।

থাইল্যান্ডের শ্রম বিষয়ক সিনেট স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান নিতরুত্তি সুথিনন জানান, থাইল্যান্ড বর্তমানে কর্মী নিয়োগের জন্য চারটি দেশের সাথে চুক্তিবদ্ধ। তবে কম্বোডিয়ার সঙ্গে সাম্প্রতিক সীমান্ত উত্তেজনার কারণে দেশটির নির্মাণ, হালাল ফ্যাক্টরি ও কৃষি খাতে কর্মী নেওয়া বন্ধ রয়েছে। ফলে সৃষ্টি হওয়া কর্মী সংকট কাটাতে পঞ্চম দেশ হিসেবে থাইল্যান্ড বাংলাদেশের সাথে চুক্তি করতে আগ্রহী। তবে, বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার ক্ষেত্রে ভিসা মেয়াদ শেষের পর অবস্থান, থাইল্যান্ডকে অন্য দেশে যাওয়ার ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার এবং মানবপাচারের মতো বিষয়ে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী থাই প্রতিনিধি দলের প্রস্তাব সানন্দে গ্রহণ করেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে, থাইল্যান্ডের চিহ্নিত উদ্বেগের বিষয়গুলো দ্রুত সমাধান করে অচিরেই দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন: ভারতের পথে যুব মহিলা লীগ নেত্রী সুলতানা বেগম আটক

প্রতিনিধি দলে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন: শ্রম বিষয়ক সিনেট স্ট্যান্ডিং কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান চিনাচট সেনস্যাঙ্ক ও শ্রম বিষয়ক ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য ড. পিরাসিথ কুনলার্তারিপন। এছাড়া, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আহমাদুল হক, যুগ্মসচিব দেবজিৎ সিংহসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গভর্নরের সঙ্গে ভিসা প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ, ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৩৮ এম


গভর্নরের সঙ্গে ভিসা প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ, ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা

বাংলাদেশে ডিজিটাল লেনদেনের পরিধি বাড়ানোর লক্ষ্যে এবং পেমেন্ট ব্যবস্থার নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ভিসার এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট স্টিফেন কারপিন।

বুধবার (১৩ আগস্ট) গভর্নরের সঙ্গে স্টিফেন কারপিনের নেতৃত্বে ভিসার একটি প্রতিনিধিদল বৈঠকটি করে। বৈঠকে বাংলাদেশের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং লেনদেনের নিরাপত্তা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহমেদ, ডেপুটি গভর্নর মো. সরওয়ার হোসেন এবং পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে, তিন দিনের সফরে মঙ্গলবার ঢাকায় আসে ভিসার প্রতিনিধিদল। সফরের প্রথম দিনেই তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি জানান, বাংলাদেশে ডিজিটাল আর্থিক সেবা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী খাতে কার্যক্রম পরিচালনায় আগ্রহ প্রকাশ করেছে বৈশ্বিক ডিজিটাল পেমেন্ট প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ভিসা।

বৈঠকে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন লেনদেনকে আরও সহজতর করতে সরকারি এবং জনসেবামূলক বিভিন্ন খাতে ভিসা কার্ড ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। এর মধ্যে মেট্রোরেল, টোল প্লাজা এবং এক্সপ্রেসওয়েসহ বিভিন্ন সেবায় কার্ডভিত্তিক লেনদেন সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নারী কেবিন ক্রুকে যৌন হয়রানির মামলায় সমঝোতায় ৪.৫ মিলিয়ন ডলার দিচ্ছে এয়ারলাইনস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৪০ এম


নারী কেবিন ক্রুকে যৌন হয়রানির মামলায় সমঝোতায় ৪.৫ মিলিয়ন ডলার দিচ্ছে এয়ারলাইনস

কর্মক্ষেত্রকে নিরাপদ রাখতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে নারী কেবিন ক্রুদের দায়ের করা এক দশকের পুরোনো একটি মামলা ৪.৫ মিলিয়ন কানাডীয় ডলারে নিষ্পত্তি করতে রাজি হয়েছে কানাডার বিমান পরিবহন সংস্থা ওয়েস্টজেট। বাংলাদেশের মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৪০ কোটি টাকার কাছাকাছি।

সোমবার ব্রিটিশ কলম্বিয়ার একটি আদালত সমঝোতার শর্ত অনুমোদন করেছে। ২০১৬ সালে সাবেক কেবিন ক্রু ম্যান্ডালেনা লুইস ওয়েস্টজেটের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

তার অভিযোগ ছিল, ২০১০ সালে হাওয়াইয়ে একটি লে-ওভারের সময় ওয়েস্টজেটের একজন পাইলট তাকে যৌন নির্যাতন করেন। তার দাবি, একই পাইলট এর আগে ২০০৮ সালে আরেক নারী ফ্লাইট অ্যাটেন্ডেন্টকেও যৌন নির্যাতন করেছিলেন।

লুইস অভিযোগ করেন, তিনি যখন ঘটনাটি ওয়েস্টজেটকে জানান, তখন সংশ্লিষ্ট পাইলটকে কাজে বহাল রাখা হয়। এমনকি তিনি দাবি করেন, পুলিশ যেন হাওয়াইয়ে ওই পাইলটকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে না পারে, সে জন্য তাকে অন্য রুটে পাঠানো হয়েছিল।

পরে ২০১৬ সালে লুইসকে 'চরম অবাধ্যতার' অভিযোগে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। তবে লুইস ও তার আইনজীবীরা দাবি করেন, প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহি চাওয়ার কারণে তাকে প্রতিশোধমূলকভাবে বরখাস্ত করা হয়।

২০১৮ সালে ইউএস অ্যাসোসিয়েশন অব ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টস ৩ হাজার ৫০০ জনের বেশি কেবিন ক্রুর ওপর একটি জরিপ চালায়। জরিপে দেখা যায়, ৬৮ শতাংশ কর্মী তাদের কর্মজীবনে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন।

এদিকে, সাবেক কেবিন ক্রু লুইসের নিপীড়নের অভিযোগ, কর্মক্ষেত্রে নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখতে ব্যর্থতা কিংবা যৌন নিপীড়নের অভিযোগ সঠিকভাবে তদন্ত না করার বিষয়ে ওয়েস্টজেট কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

অন্যদিকে, কানাডার বিমান পরিবহন সংস্থা ওয়েস্টজেট এক বিবৃতিতে বলেছে, 'উভয় পক্ষের সম্মতিক্রমে এই সমঝোতায় পৌঁছাতে পেরে আমরা আনন্দিত। আমরা ওয়েস্টজেটের প্রতিটি কর্মীর সুরক্ষা ও সুরক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে আমাদের কার্যক্রম ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।'

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিদেশ থেকে ফেরত আসা শ্রমিকদের ভাতা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে : নুরুল হক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৪২ এম


বিদেশ থেকে ফেরত আসা শ্রমিকদের ভাতা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে : নুরুল হক

বিদেশ থেকে ফেরত আসা শ্রমিকদের জন্য সরকার কর্তৃক দেওয়া ভাতার পরিমাণ বাড়ানোর প্রচেষ্টা চলছে, জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক।

বুধবার (১২ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ের একটি হোটেলে শ্রম অভিবাসনবিষয়ক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা-২০২৬ চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে আয়োজিত এক পরামর্শ সভায় এ তথ্য প্রকাশ করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দল মতের ঊর্ধ্বে উঠে প্রবাসী ও ফেরত আসা শ্রমিকদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। বিদেশ থেকে ফিরে আসা শ্রমিকদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তাদের দক্ষতা বাড়ানো জরুরি। পাশাপাশি সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রয়োজন রয়েছে। এই উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী আরো উল্লেখ করেন, ফেরত আসা শ্রমিকদের জন্য প্রবাসী কল্যাণ সংস্থা থেকে দেওয়া ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ার প্রচেষ্টা চলছে।

সভায় বক্তারা বলেন, শ্রম অভিবাসন বাংলাদেশের কর্মসংস্থান, বৈদেশিক রেমিট্যান্স এবং অর্থনীতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বিদেশ যাওয়ার জন্য অতিরিক্ত খরচ, দক্ষতার অভাব, সীমিত শ্রমবাজার এবং বিদেশ থেকে ফিরে আসা শ্রমিকদের পুনর্বাসনে সহায়তার অভাবসহ বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে।

শ্রম অভিবাসন ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করার জন্য জাতীয় কর্মপরিকল্পনা-২০২৬-এর খসড়া তৈরি করা হয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের মতামত ও সুপারিশ নিয়ে পরিকল্পনাটি চূড়ান্ত করার উদ্দেশ্যে এই পরামর্শ সভার আয়োজন করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির মহাসচিব পদে আলোচনায় যারা রয়েছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৫৬ এম


মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির মহাসচিব পদে আলোচনায় যারা রয়েছেন

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন দলীয় সূত্রের দাবি অনুযায়ী, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি করার সিদ্ধান্ত অনেকটাই চূড়ান্ত অবস্থায় রয়েছে। যদি তিনি রাষ্ট্রপতি হন, তবে দলের মহাসচিবের পদটি শূন্য হয়ে যাবে। এই কারণে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পাশাপাশি বর্তমানে সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে— মির্জা ফখরুলের জায়গায় বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব কে হচ্ছেন?

আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সেখানে রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। একই সঙ্গে আলোচনায় রয়েছে মহাসচিব পদে সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়েও।

এই পদে সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নাম। পাশাপাশি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নামও পর্যালোচনায় রয়েছে।

বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, মহাসচিব দায়িত্ব পালনে অনুপস্থিত বা অক্ষম হলে সিনিয়র স্তরের দায়িত্বশীল নেতা সাময়িকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। এই কারণে যদি মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হন, তবে দলের অনেক নেতার মতে, রুহুল কবির রিজভী এগিয়ে থাকবেন।

দীর্ঘ সময় ধরে বিএনপির রাজনৈতিক কর্মসূচি, সাংগঠনিক কার্যক্রম ও গণমাধ্যমে দলের বক্তব্য তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন রিজভী। আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকা ও মাঠের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তার যোগাযোগও এ ক্ষেত্রে বড় বিষয়।

তবে মহাসচিব পদ নিয়ে দলের ভিতরে সবাই একমত নয়। স্থায়ী কমিটির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা মনে করেন, মহাসচিব একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী পদ। তাই যদি স্থায়ী কমিটির কোনো সদস্যকে এ পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়, তাহলে দলের নীতিনির্ধারণী কাঠামো ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় আরো কার্যকর হতে পারে। এই দৃষ্টিতে সালাহউদ্দিন আহমদের নামও আলোচনা চলছে।

বিএনপির গঠনতন্ত্রে 'ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব' নামে কোনো স্থায়ী পদ নেই। তাই মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে তার জায়গায় কাউকে সাময়িক দায়িত্ব দেওয়া হবে কিনা, নাকি সরাসরি নতুন মহাসচিব নির্বাচন করা হবে— এটি দলীয় সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।

দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, মহাসচিব জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্বাচিত হন। অতএব স্থায়ীভাবে নতুন মহাসচিব নির্বাচন করতে হলে কাউন্সিলের বিষয়োর কথাও আসবে। তা ছাড়া সাংগঠনিক প্রয়োজন বিবেচনায় অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।

এই বিষয়ে রুহুল কবির রিজভী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, তিনি এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কিছু জানেন না। তার মন্তব্য, ‘প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে ভালো জানেন।’

আজ ১৩ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। এই কারণে আজকেই অনেকটা স্পষ্ট হয়ে যাবে দেশের ২৩ তম রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন। এর সঙ্গে সামনে চলে আসবে বিএনপির পরবর্তী মহাসচিবের সম্ভাব্য নামও।

মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি করার ব্যাপারটি শুধুমাত্র একজন ব্যক্তিকে বঙ্গভবনে পাঠানোর বিষয় হিসেবে দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা। বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য বা ‘চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স’ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। একইসঙ্গে দলটি জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের কথাও বলছে।

বর্তমান সংবিধানে রাষ্ট্রপতির অধিকাংশ দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শের উপর নির্ভর দুর্বল। তাই রাষ্ট্রপতির পদটি বর্তমানে আনুষ্ঠানিকই নয়। তবে জুলাই জাতীয় সনদে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও দায়িত্ব বাড়ানোর প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে, বঙ্গভবনের ভূমিকা ভবিষ্যতে আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

তাহলে রাষ্ট্রপতি হিসেবে কে দায়িত্ব নিচ্ছেন, সেটি শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নয়। ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য এবং সাংবিধানিক কাঠামোর দিক থেকেও বিষয়টি অতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

দলের সংশ্লিষ্ট নেতাদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি পদে একজন প্রয়োজন, যিনি রাজনৈতিকভাবে অভিজ্ঞ, দলের প্রতি আস্থাশীল এবং একই সঙ্গে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে গ্রহণযোগ্যতা বজায় রাখতে সক্ষম।

বিএনপির মহাসচিব হিসেবে এক দশকের বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি সংসদ সদস্য ছিলেন এবং সরকারের প্রতিমন্ত্রী ও মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

রাজনৈতিক জীবনে মামলা, গ্রেপ্তার ও কারাবরণের পাশাপাশি দলের কঠিন সময়েও নেতৃত্বের সঙ্গে সমন্বয় করে নেতা-কর্মীদের সংগঠিত রাখার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ারও আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি।

দলীয় সংশ্লিষ্টদের মতে, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক ভূমিকা এবং দলের ভিতরে গ্রহণযোগ্যতার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়েই রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের নাম গুরুত্ব পাচ্ছে।

মহাসচিবের পদটির দ্রুত পূরণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বিএনপির সামনে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন, দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ অবস্থায় নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ এবং দলের কাউন্সিল— সব মিলিয়ে সামনে রয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি।

তাহলে মহাসচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদ দীর্ঘ সময় শূন্য রাখার সুযোগ নেই বলে মনে করছেন দলের নেতা-কর্মীরা।

রুহুল কবির রিজভীকে ঘিরে দলের ভিতরে মতপার্থক্য থাকলেও, তার দীর্ঘ রাজনৈতিক ত্যাগ, আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা এবং নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অনেকে। অন্যদিকে স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের পক্ষে থাকা নেতারা নীতিনির্ধারণী দিক থেকে সাংগঠনিক নেতৃত্বের সমন্বয়ের বিষয়টি সামনে আনছেন।

সুতরাং শেষ পর্যন্ত মহাসচিব পদে কে আসছে, তা নিয়ে বিএনপির অভ্যন্তরীণ আলোচনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে, তার সংসদীয় আসন ঠাকুরগাঁও-১ শূন্য হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে সংবিধান ও নির্বাচনি আইন অনুযায়ী, আসনটির উপনির্বাচনের আয়োজন করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে।

এ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের পাশাপাশি মির্জা ফখরুলের বড় মেয়ে ড. শামারুহ মির্জার নামও স্থানীয়ভাবে আলোচনায় এসেছে। গত জাতীয় নির্বাচনে বাবার পক্ষে প্রচারে সক্রিয় ছিলেন তিনি। তবে তাকে প্রার্থী করার বিষয়ে বিএনপির কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত এখনো নেই।

মোটের ওপর, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপির সামনে একসঙ্গে একাধিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে শূন্য হবে মহাসচিবের পদ, সামনে আসবে নতুন নেতৃত্বের প্রশ্ন। একই সঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদের সম্ভাব্য সাংবিধানিক পরিবর্তন বাস্তবায়িত হলে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্যও নতুন গুরুত্ব পেতে পারে। আর ঠাকুরগাঁও-১ আসনে সম্ভাব্য উপনির্বাচন নিয়ে তৈরি হবে আরেকটি রাজনৈতিক হিসাব।

অর্থাৎ, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিএনপির জন্য কেবল একজন প্রার্থী বাছাইয়ের বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব, সাংগঠনিক কাঠামো ও দেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্ন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%