০৪:৩৭ পি.এম
টাঙ্গাইলের মধুপুর গড়াঞ্চল এলাকায় বানরসহ বিভিন্ন বন্য প্রাণীর নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করতে বন বিভাগ দ্বারা পাঁচটি রোপওয়ে করিডর নির্মাণ করা হয়েছে। এই উদ্যোগ দ্রুতগতির যানবাহনের ধাক্কায় বন্য প্রাণীর অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু ও দুর্ঘটনারোধ করার জন্য নেওয়া হয়েছে।
টাঙ্গাইল বন বিভাগের সূত্রে জানা যায়, এই পাঁচটি রোপওয়ে করিডর মধুপুর জাতীয় উদ্যান সদর রেঞ্জের আওতাধীন আঞ্চলিক মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে রাস্তাঘাটের দুই পাশের সুউচ্চ গাছের সঙ্গে শক্ত দড়ি সংযুক্ত করে বিশেষ কৌশলে তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে বানর, হনুমান, কাঠবিড়ালিসহ অন্যান্য বৃক্ষবাসী প্রাণীরা মাটিতে না নেমেই বন থেকে অন্য পাশে নিরাপদে যাতায়াত করতে পারছে।
বন্য প্রাণী গবেষকদের মতে, বর্তমানে মধুপুর জাতীয় উদ্যানে প্রায় ১৯০ প্রজাতির বন্যপ্রাণীর আবাস রয়েছে। এর মধ্যে ২১ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ১৪০ প্রজাতির পাখি এবং ২৯ প্রজাতির সাপ ও অন্যান্য প্রাণী রয়েছে। বিশেষ করে, পূর্বে সিলেট ও চট্টগ্রামের চিরহরিৎ বনের অধিবাসী হিসেবে পরিচিত আইইউসিএনের লাল তালিকাভুক্ত মহাবিপন্ন ‘বাংলা লজ্জাবতী বানর’-এর বিচরণ সম্প্রতি মধুপুরের শালবনেও লক্ষ্য করা গেছে। নিশাচর ও লাজুক স্বভাবের এই বিরল প্রাণীটি মূলত গাছের মগডালে বা বাঁশঝাড়ে বাস করে। বন সংকোচন ও মহাসড়কের কারণে এদের স্বাভাবিক বিচরণ ও খাদ্য সংগ্রহের পথ খুব বেশি বিঘ্নিত হচ্ছিল।
আরও পড়ুন: লক্ষ্মীপুরের অফিসপাড়ায় পাখির কলতানে সজীব পরিবেশ, প্রশাসনের সংরক্ষণ উদ্যোগ
টাঙ্গাইল বন বিভাগের একাধিক সূত্র জানায়, মধুপুর গড়াঞ্চলের বুক চিরে আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণের ফলে প্রাকৃতিকভাবেই বন্য প্রাণীদের আবাসস্থল খণ্ডিত হয়ে পড়েছে। খাদ্যসংকট ও বংশবৃদ্ধির প্রয়োজনে রাস্তা পার হতে গিয়ে দ্রুতগতির যানবাহনের নিচে চাপা পড়ে প্রায়ই লজ্জাবতী বানরসহ বিভিন্ন বিরল প্রজাতির প্রাণী প্রাণ হারাত। নতুন এই রোপওয়ে করিডর চালুর ফলে এই ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলেও আশা করা হচ্ছে। পরীক্ষামূলকভাবে নির্মিত পাঁচটি রোপওয়ে করিডরের কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণের পর ইতিবাচক ফল পাওয়া গেলে বনাঞ্চলের অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে একই ধরনের রোপওয়ে নির্মাণ করা হবে।
টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ এস এম সাইফুল্লাহ জানিয়েছেন, বনাঞ্চল সংলগ্ন মহাসড়কে এ ধরনের বন্য প্রাণী বান্ধব অবকাঠামো নির্মাণ করলে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি কমবে এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বন্য প্রাণীর নিরাপদ চলাচলের জন্য রোপওয়ে করিডর ব্যবহৃত হচ্ছে এবং সেখান থেকে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে।
মধুপুর জাতীয় উদ্যান সদর রেঞ্জের ডেপুটি রেঞ্জার মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন, স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মধুপুর শালবন প্রতিষ্ঠা প্রকল্পের আওতায় পঁচিশ মাইল থেকে রসুলপুর বাজার পর্যন্ত পরীক্ষামূলকভাবে পাঁচটি রোপওয়ে করিডোর নির্মাণ করা হয়েছে। এতে বণ্যপ্রাণির মৃত্যুহার অনেক কমে আসবে। টাঙ্গাইলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. আবু নাসের মোহসিন হোসেন কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, মধুপুর শালবন প্রতিষ্ঠা প্রকল্পের আওতায় রোপওয়ে করিডর নির্মাণের ফলে বানর, হনুমান, সিভেটসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী নিরাপদে চলাচল করতে পারছে। গত জুন মাসে পাঁচটি রোপওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। এর ফলে যানবাহনের নিচে পিষ্ট হয়ে বন্য প্রাণীর মৃত্যুর ঝুঁকি অনেকাংশে কমবে।
আরও পড়ুন: শারদীয় দুর্গাপূজায় সাদাপাথরে পর্যটকদের ভিড়, পাহাড়, স্বচ্ছ পানি ও পাথরের মিতালি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন