০৩:৫৯ পি.এম
খুলনার পাইকগাছায় স্ত্রীর সামনে প্রসব করতে বসার প্রতিবাদ করায় হাসান সরদার (৩৫) নামে এক যুবককে আবারও দফায় দফায় নৃশংসভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে।
রোববার (৭ জুন) বিকেলে ঘটে যাওয়া এ ঘটনার পর নিহতের চাচা সিরাজুল বাদী হয়ে থানায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন। নিহত হাসান উপজেলার চাঁদখালী ইউনিয়নের কালিদাসপুর গ্রামের মালেক সরদারের ছেলে।
নিহতের পরিবার এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার বিকেল আনুমানিক ৫ টার দিকে হাসানের স্ত্রীর সামনে স্থানীয় খালেক গাজার ছেলে কুদ্দুস গাজী প্রসব করতে বসে। এমন অবস্থায় প্রতিবাদ করেন হাসান সরদার। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে কুদ্দুস গাজীর লোকজন প্রকাশ্যে হাসানকে মারপিট শুরু করেন, যা চালানোর নেতৃত্ব দেন পাইকগাছা উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক নামজুল হুদা মিন্টু।
আরও পড়ুন: দিরাইয়ের পূর্বাঞ্চলে চ্যাপ্টিয়ার হাওরের পানি কমে বিপাকে যাত্রী ও কৃষক, দুশ্চিন্তায় বোরো চাষিরা
মারপিটের এক-দেড় ঘন্টা পরে, হাসান কিছুটা সুস্থ হলে হামলাকারীরা আবারও তার ওপর নির্যাতন চালায়। এক সময় হাসান বেহুঁশ হয়ে পড়েন। সন্ধ্যার পর যখন তার জ্ঞান ফিরে আসে, তখন পুনরায় হামলার শিকার হন। হাতুড়ি, ইট ও দরজার হাক দিয়ে আবারও তাকে আঘাত করেন মিন্টু, কুদ্দুস এবং তাদের অন্যান্য লোকজন। এ কারণে তিনি আবারও জ্ঞান হারান। পরে এশার নামাজের পরে হামলাকারীরা তাকে নসিমনের সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে হাসপাতালে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যায়।
হাসপতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ নয়ন কুমার সরকার জানান, হাসপাতালে আসার আগেই হাসানের প্রাণ চলে গেছে।
নিহতের ভাতিজি, যে অষ্টম শ্রেণী পড়ছে, তার নাম মীম আক্তার। তিনি জানান, নিহতের মাথার পিছনে মগজ বের হয়ে গেছে, কপাল ও চোয়ালে পেরেক ফুটানোর ছিদ্র রয়েছে, বাম চোখ রক্তাক্ত এবং চারটি হাত-পা ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। এছাড়া কোনো ছবি তুলতে গেলে বা ঠেকাতে গেলে তাদেরকেও মারপিট করা হয়েছে, বলে জানান তারা।
নিহতের চাচা এসময় জানান, পাইকগাছা উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক স্থানীয় নাজমুল হুদা মিন্টু, ইবাদাত গাজী, মনিরুল ইসলাম, কুদ্দুস গাজী, কবির সরদার, জহুরুল ইসলাম, আজহারুল গাজী, ইয়াসিন সরদার, পলাশ সরদার এবং শুকুর আলীরা মিলে তার ভাতিজা হাসানকে অমানবিকভাবে নির্যাতন করে হত্যা করেছে।
আরও পড়ুন: সাজেকের সমস্যা সমাধানে আলোচনা অব্যাহত: প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল
এদিকে সোমবার (৭ জুন) সকালে নিহত হাসান সরদারের পরিবারের লোকজন ও এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে অভিযুক্ত কুদ্দুস গাজী এবং তার ভাইয়ের বাড়িঘরে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।
আরেক অভিযুক্ত নাজমুল হুদা মিন্টু বলেন, নিহত হাসান সরদার একজন খারাপ প্রকৃতির লোক ছিলেন। তিনি সারাক্ষণ গাঁজা বিক্রি ও সেবন করতেন এবং এলাকার যুব সমাজকে নেশায় আসক্ত করছিলেন। এজন্য জনগণ গণধোলাই দিয়ে তাকে হত্যা করেছে। আমি প্রথমে ঘটনাস্থলে ছিলাম না। পরে পুলিশকে সহায়তা করে তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলাম।
পাইকগাছা থানা উপ-পুলিশ পরিদর্শক আঃ আজিজ বলেন, আমি লাশের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করেছি। নিহতের মাথা, মুখমণ্ডল এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের চাচা সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এজহার দাখিল করেছেন।
পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কিবরিয়া বলেন, আমি শুনেছি এজহার দাখিল হয়েছে। বর্তমানে আমি খুলনাতে আছি। থানায় পৌঁছানোর পর যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
আরও পড়ুন: জকিগঞ্জ উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন