০৫:৪০ পি.এম
ওমান উপসাগরে একটি তেলবাহী জাহাজে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিন ভারতীয় নাবিকের প্রাণহানির ঘটনায় ভারত এখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছে। ক্রমাগত অবনতির দিকে যাচ্ছে দুই দেশের সম্পর্ক। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর দুই দফায় দিল্লিতে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত জ্যাসন মিকসকে তলব করার পর এবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে ফোনালাপ করেছেন।
তবে, ভারতের এই প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্র কোনো পাত্তা না দিয়ে বরং কড়াভাবে ধমকে দিয়েছে। ফোনালাপে মার্কো রুবিও জয়শঙ্করকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা সহ্য করা হবে না এবং সব বাণিজ্যিক জাহাজকে মার্কিন বাহিনীর নির্দেশ মেনে চলতে হবে।
রোববার (১৪ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার একটি প্রতিবেদন অনুসারে, ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর শনিবার (১৩ জুন) মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে ফোনে আলোচনা করেন।
আরও পড়ুন: ধ্রুব রাঠির বিরুদ্ধে ৮ বছরের পুরোনো মানহানির মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি
এর আগে, চলতি সপ্তাহে ভারত দুইবার যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত জ্যাসন মিকসকে তলব করেছে। প্রথমবার, ওমান উপকূলে পালাউয়ের পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজ ‘এমটি সেট্টেবেলো’তে মার্কিন হামলার পর তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হন। এই হামলার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীও স্বীকার করেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, ওই জাহাজটি মার্কিন নৌবাহিনীর নির্দেশনা মানেনি এবং চলমান মার্কিন অবরোধ অমান্য করে ইরান থেকে তেল পরিবহনের চেষ্টা করছিল।
সেন্টকমের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ওমান উপসাগরে তাদের একটি যুদ্ধব্যবস্থার জাহাজটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। মার্কিন বাহিনীর দাবি, ক্রুরা বারবার নির্দেশ অমান্য করায় ওই জাহাজকে অচল করা হয়। একই এলাকায় ২০ ভারতীয় নাবিক বহনকারী আরেকটি বাণিজ্যিক জাহাজ হামলা হলে, ভারত দ্বিতীয়বারের মতো মার্কিন কূটনীতিককে তলব করে।
পরপর দুইবার তলবের পাশাপাশি জয়শঙ্কর ফোনে রুবিওর সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রাণহানির ঘটনায় ভারতের তীব্র আপত্তি ও ক্ষোভের কথা জানান। এরপর দুই নেতার আলোচনার ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র একটি বিবৃতি প্রকাশ করে।
বিবৃতিতে বলা হয়, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সম্প্রতি জয়শঙ্করের সঙ্গে কথা বলেছেন। তারা হরমুজ প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। এতে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে মার্কিন বাহিনীর যে নির্দেশনা রয়েছে, তা সব বাণিজ্যিক জাহাজকে অবিলম্বে মেনে চলতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অবরোধ লঙ্ঘন ও ইরানি তেলের অবৈধ পরিবহন যেন সহ্য করা না হয়।
আরও পড়ুন: আলবেনিয়ায় সহিংস বিক্ষোভ: সরকারের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী ও দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন
এর আগে, জয়শঙ্কর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছিলেন যে, মার্কিন হামলার বিরুদ্ধে ভারতের ‘কঠোর প্রতিবাদ’ পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি লেখেন, শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে কথা বলেছি। উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হওয়ার ঘটনায় ভারতের কঠোর প্রতিবাদ পুনর্ব্যক্ত করেছি। বাণিজ্যিক জাহাজের বিরুদ্ধে এমন প্রাণঘাতী পদক্ষেপ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
জয়শঙ্কর আরও বলেন, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের বিরুদ্ধে এমন প্রাণঘাতী ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো যৌক্তিকতা নেই। বিজেপি সরকারের আগে, শুক্রবার (১২ জুন) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ওমান উপসাগরে ভারতীয় নাবিক বহনকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর উপর মার্কিন নৌবাহিনীর ধারাবাহিক হামলার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, এই হামলার ফলে তিন ভারতীয় নাগরিকের ‘দুঃখজনক ও এড়ানো সম্ভব ছিল’ এমন মৃত্যু ঘটেছে।
ভারত আরও জানায়, বেসামরিক জাহাজের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের ঘটনায় তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। নয়াদিল্লির মতে, এসব পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্যের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও সুরক্ষাকে দুর্বল করে দেয়। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ মার্কিন কূটনীতিক জেসন মিকসকে অনুরোধ করে, যেন তিনি ওয়াশিংটনের কাছে ভারতের উদ্বেগ পৌঁছে দেন এবং অঞ্চলে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীকে বেসামরিক প্রাণহানি ঠেকাতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।
অন্যদিকে, মার্কিন বিবৃতি প্রকাশের পর ভারতীয় কংগ্রেস নেতা ও সংসদ সদস্য শশী থারুর প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, এই সরকারি মার্কিন বিবৃতি পড়ে আমি গভীরভাবে বিস্মিত। এতে নিরীহ ভারতীয়দের প্রাণহানির জন্য সামান্য অনুশোচনা বা সমবেদনাও নেই। একজন বন্ধু ও কৌশলগত অংশীদার কিভাবে এতটা অসংবেদনশীল হতে পারে? থারুর প্রশ্ন তুলেছেন, কোনো জাহাজ নির্দেশ না মানলে তাকে থামানোর জন্য প্রাণঘাতী হামলা ছাড়া অন্য উপায় কী ছিল? বেসামরিক নাবিকদের না মেরে জাহাজের ইঞ্জিন বা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অকেজো করা কি সম্ভব ছিল না? ভারতীয় কংগ্রেসের এই নেতা আরও বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে চলাচলকারী প্রায় প্রতিটি বাণিজ্যিক জাহাজেই ভারতীয় নাবিক রয়েছেন। তাহলে কি এখন তারা সবাই মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বৈধ লক্ষ্যবস্তু? এই ধরনের অবস্থান মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়।
আরও পড়ুন: উত্তরায় গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলনে পুলিশের ওপর হামলা, ৭ পুলিশ আহত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন