০৩:৩২ পি.এম
গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের (ডিআরসি) পূর্বাঞ্চলে রুয়ান্ডা-সমর্থিত এম২৩ সশস্ত্র গোষ্ঠী হাজার হাজার মানুষকে তাদের বাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করেছে। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে বেসামরিক নাগরিক ও যুদ্ধবন্দীদের অমানবিক অবস্থায় আটকে রাখার অভিযোগ করেছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। সংস্থাটি বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানায়, ২০২১ সালে পুনরায় সক্রিয় হওয়ার পর থেকে সরকার বিরোধী এই গোষ্ঠী পূর্বাঞ্চলে বিশাল এলাকা দখল করে রেখেছে। গত ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সেখানে সংঘাত চলছে। এম২৩ তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় 'ব্যাপকভাবে জোরপূর্বক তাদের বাহিনীতে নিয়োগ ও অন্যান্য অভিযান' চালিয়েছে গোমা ও বুকাভু শহর দখলের পর। প্রতিবেদন অনুযায়ী, তারা কঙ্গোর হাজার হাজার সেনা ও মিলিশিয়া সদস্যকে আটক করেছে এবং বেসামরিক নাগরিকদেরকেও আটক করেছে, আর তাদেরকে অমানবিক ও প্রাণঘাতী অবস্থায় রেখেছে। এইচআরডব্লিউ জানায়, প্রতিবেদনটি ১০২ জন সাবেক বন্দি ও আরও বহু সূত্রের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও সাবেক বন্দিরা জানিয়েছেন, মানুষকে রাস্তাঘাট, বাড়িঘর, সভা, গির্জা ও স্কুল থেকে অপহরণ করে অস্থায়ী আটককেন্দ্র, সামরিক ক্যাম্প বা অজ্ঞাত স্থানে রাখা হতো। প্রতিবেদনে বলা হয়, কিছু বন্দির মধ্যে ১২ বছর বয়সী শিশুও ছিল, যাদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বা সামরিক ক্যাম্পে পাঠানো হতো এবং সেখানে সপ্তাহ বা মাসব্যাপী অমানবিক অবস্থায় রাখা হতো। এসময় তাদেরকে মারধর ও নির্মম নির্যাতন করা হত। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এদেরকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করা হত। এইচআরডব্লিউ আরও জানায়, এম২৩ যোদ্ধা ও রুয়ান্ডার সেনারা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে হাজার হাজার মানুষকে তাদের দলে যোগ দিতে বাধ্য করেছে। প্রতিবেদনটি উল্লেখ করেছে, বন্দিদের মারধর ও ভয়াবহ অত্যাচার করা হতো। এই সময়ে তাদেরকে পানি বা খাবার দেওয়া হতো না এবং এ কারণে অনাহারে ক্ষুধা-তৃষ্ণায় অনেকের মৃত্যু ঘটেছে। এইচআরডব্লিউ জানিয়েছে, এ সমস্ত ক্যাম্পে মোট কতজনের মৃত্যু হয়েছে, তা নির্ভুলভাবে জানা সম্ভব হবে কেবল তখনই, যখন সবগুলো গণকবর পুরোপুরি উন্মোচিত হবে। তবে সাবেক বন্দিদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৫ সালে শত শত, সম্ভবত তারও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং ২০২৬ সালেও এসব ক্যাম্প কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। সাবেক বন্দিরা জানান, তারা ক্যাম্পগুলোতে উচ্চপদস্থ এম২৩ কর্মকর্তাদের উপস্থিতি ও আশপাশে রুয়ান্ডার সামরিক ইউনিটগুলোর অবস্থান শনাক্ত করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন