মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৬:৩০ পি.এম
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ ক্রমাগত শক্তি বাড়াচ্ছে। ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যে ঘূর্ণিঝড়টি তীব্র থেকে অতি তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।
ভোর সাড়ে ৫টার তথ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম থেকে ২৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্বে, ওড়িশার গোপালপুর থেকে ৩৮০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছে।
স্থানীয় আবহাওয়াবিদদের মতে, ঘূর্ণিঝড়টি পশ্চিম এবং উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হবে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাতে এটি খানিক বাঁক নিয়ে উত্তর-পশ্চিম দিকে এগোবে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে অন্ধ্রপ্রদেশ এবং পুদুচেরীর ইয়ানাম উপকূলের বাপটলা এবং বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী এলাকায় স্থলভাগে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে ‘অর্ণব’র। আছড়ে পড়ার সময় অন্ধ্র উপকূলে ঘণ্টায় ১১৫-১২৫ কিলোমিটার বেগে ঝড় বইতে পারে। ঝোড়ো হাওয়ার সর্বোচ্চ গতিবেগ ১৪০ কিলোমিটার হতে পারে।
এখন পর্যন্ত অন্ধ্রের চারটি জেলায় ঝড়বৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে। এই জেলাগুলি হলো- অনকাপল্লী, শ্রীকাকুলম, বিশাখাপত্তনম এবং বিজয়নগরম। উদ্ধারকাজে গতি আনতে কাকীনাডা, কোনাসীমা, রাজামুন্দ্রি, এলুরু, মছলিপত্তনম এবং নাকাপল্লীর মতো স্থানে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর (এনডিআরএফ) একাধিক দল মোতায়েন করা হয়েছে। উদ্ধারকারী দল ইয়ানাম, কৃষ্ণা এবং বিশাখাপত্তনমেও মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে মঙ্গল এবং বুধবার অন্ধ্রে ৫৩টি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে বিজয়ওয়াড়া, রাজামুন্দ্রি, কাকীনাডা এবং বিশাখাপত্তনমের মধ্যে সংযোগ রক্ষাকারী একাধিক ট্রেনের পরিষেবা এই দু’দিন পাওয়া যাবে না। মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৮টি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে ওড়িশাতেও। উল্লেখযোগ্য ট্রেনগুলোর মধ্যে রয়েছে বিশাখাপত্তনম-কোরাপুট প্যাসেঞ্জার এবং বিশাখাপত্তনম-কিরন্ডুল প্যাসেঞ্জার। যাত্রীদের সুবিধার্থে বিশাখাপত্তনমে বিশেষ কন্ট্রোল রুম খুলেছে দক্ষিণ উপকূলীয় রেলওয়ে।
মূলত অন্ধ্র লাগোয়া দক্ষিণ ওড়িশায় ঘূর্ণিঝড়ের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে। বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে গঞ্জাম, গজপতি, রায়গড়া, মালকানগিরি, কোরাপুট এবং নবরংপুর জেলায়। এই ছয় জেলায় মঙ্গল এবং বুধবার সমস্ত স্কুল-কলেজ, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বন্ধ রাখা হচ্ছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে মঙ্গল এবং বুধবার সমস্ত স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে আন্দামান ও নিকোবর প্রশাসন। আপৎকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ওড়িশা রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং এনডিআরএফ-এর সদস্যরা মোতায়েন থাকবেন। নিচু এবং বিপদসঙ্কুল এলাকা থেকে ইতিমধ্যেই বাসিন্দাদের ত্রাণশিবিরে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝিঁ বিপর্যয় মোকাবিলার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখার জন্য আট মন্ত্রীকে দায়িত্ব দিয়েছেন। তারা ভিন্ন ভিন্ন স্থানে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
‘অর্ণব’র প্রভাব পশ্চিমবঙ্গ উপকূলেও পড়তে চলেছে। উপকূল সংলগ্ন জেলাগুলিতে ভারি বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে বজ্রপাত ও ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে উপকূল সংলগ্ন সমুদ্র উত্তাল হতে পারে। মৎস্যজীবীদের জন্য আলিপুর আবহাওয়া দফতর বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণবের’ প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের উপকূল সংলগ্ন সমুদ্র মঙ্গলবার থেকে উত্তাল হতে শুরু করবে। ঢেউ ‘অতি উত্তাল’ হয়ে উঠতে পারে। তাই বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সমুদ্রে মৎস্যজীবীদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া ও হুগলিতে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। বুধবার ভারি বৃষ্টি (৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার) হতে পারে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে। এই চার জেলায় ঝোড়ো হাওয়ার বেগ থাকবে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলাতেও ঝোড়ো হাওয়া বইবে, সঙ্গে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি। বৃহস্পতি এবং শুক্রবার ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার এবং জলপাইগুড়ি জেলায়। বর্ষণের কারণে পাহাড়ি এলাকায় ধস নামার আশঙ্কা রয়েছে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া অফিস।
ঘূর্ণিঝড়ের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে ভারি বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়াও গভীর নিম্নচাপ ও পূর্ণিমার কটালের কারণে নদী ও সমুদ্রে জলোচ্ছ্বাসের শঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানা-সহ উপকূলীয় অঞ্চলের ফ্রেজারগঞ্জ উপকূল থানা, গঙ্গাসাগর কোষ্টাল থানা, গোবর্ধনপুর কোষ্টাল থানার পক্ষ থেকে এলাকাবাসীকে সতর্ক করতে মাইকে প্রচার শুরু হয়েছে। মৎস্যজীবীদের জন্য সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়ার সকল মৎস্যজীবীদের নিরাপদ স্থানে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য সাগর, নামখানা-সহ উপকূলীয় এলাকায় সিভিল ডিফেন্সের কর্মীদের মোতায়েন করা হয়েছে।
উপকূলবর্তী না হওয়া সত্ত্বেও ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব বিহার এবং উত্তর প্রদেশেও পড়তে পারে। পূর্ব উত্তর প্রদেশ এবং বিহারে ভারি বর্ষণের পূর্বাভাস রয়েছে। এই বিষয়ে দুই রাজ্যকে সতর্ক করেছেন ক্যাবিনেট সচিব টিভি সোমনাথন।
সূত্র: আনন্দবাজার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জুলাই বিপ্লবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনার প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক মাকসুদ কামাল এবং শাবিপ্রবির সাবেক অধ্যাপক জাফর ইকবালসহ পাঁচজনকে আত্মসমর্পণের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই নির্দেশনা প্রদান করে।
এর আগে, গত ২০ সেপ্টেম্বর, আসামিদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দেওয়া অভিযোগ গ্রহণ করে ট্রাইব্যুনাল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। আজ সকালে এই মামলার তিন আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
প্রসিকিউটর মইনুল করিম বলেন, "আগেই পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের ঠিকানায় গিয়ে খুঁজে পায়নি। পরে আসামিদের আত্মসমর্পণ করতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।"
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন দমনে ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল করিম শয়ন ও সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকতসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা তৎপর হয়ে ওঠেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ১৩ জুলাই আসামি জামাল উদ্দিন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের একাংশের সভাপতি ও মুখপাত্র হিসেবে এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সমাবেশে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারীদের রাজাকারের বংশধর, পরাজিত অপশক্তি, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ট্যাগ দিয়ে তাদের দমনে বল প্রয়োগের উসকানি ও প্ররোচনা দেন। জামাল উদ্দিন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতাবিরোধী ট্যাগ দিয়ে সমূলে উৎপাটন করে বঙ্গোপসাগরে ডুবিয়ে মারার ঘোষণা দেন। অপরদিকে সাবেক বিচারপতি মানিক বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারীদের দমনের লক্ষ্যে উদ্দেশ্যমূলকভাবে পাকিস্তানপন্থী এবং স্বাধীনতাবিরোধী আখ্যা দিয়ে উসকানি ও প্ররোচনা প্রদান করেন।
অভিযোগের বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের রাজাকার ট্যাগ দিয়ে জাফর ইকবাল লেখেন, "ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমার বিশ্ববিদ্যালয়, আমার প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়। তবে আমি মনে হয় আর কোনো দিন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে চাইব না। ছাত্রছাত্রীদের দেখলেই মনে হবে, এরাই হয়তো সেই রাজাকার। আর যে কদিন বেঁচে আছি, আমি কোনো রাজাকারের মুখ দেখতে চাই না। একটাই তো জীবন। সেই জীবনে আবার কেন নতুন করে রাজাকারদের দেখতে হবে?" এভাবে তিনি শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনের পক্ষে না নিয়ে তাদের রাজাকার ট্যাগ দিয়ে নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে তাদের দমনের উসকানি দেন।
এছাড়া ভিসি মাকসুদ কামাল আন্দোলনের সময় ছাত্রলীগের সঙ্গে মিটিং করে আন্দোলন দমনের পরামর্শ দেন। তিনি শেখ হাসিনার সঙ্গে কথোপকথনের মধ্যে আন্দোলনকারীরা খুব বেড়ে গেছে উল্লেখ করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, আসামিদের উসকানি, প্ররোচনা, নির্দেশনা ও অংশগ্রহণের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করা হয়। এতে সানজিদা আহমেদ তন্বিসহ প্রায় ৩০০ জন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন। এ ছাড়া ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ঢাবি ক্যাম্পাস ও পার্শ্ববর্তী নিউমার্কেট, নীলক্ষেত, সায়েন্স ল্যাব ও ইডেন কলেজ এলাকায় গুলি করে শাজাহান, খালিদ হাসান সাইফুল্লাহ, সাইদুল ইসলাম শোভন ও মো. আব্দুল ওয়াদুদ শাওন শিকদারকে হত্যা এবং ১৫ জনসহ আরও অনেককে গুরুতর জখম করা হয়। এর মাধ্যমে হত্যার চেষ্টা, নির্যাতন এবং অন্যান্য অমানবিক আচরণের মাধ্যমে আসামিরা মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করেন।
আসামি বিচারপতি মানিক, আ.ক.ম. জামাল উদ্দিন ও সৈকত বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। বাকিরা পলাতক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের নির্দোষ কর্মীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে কোনো বাধা নেই।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর কাকরাইলে জামায়াতে ইসলামী কর্তৃক আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন, যা পল্টন ট্রাজেডি দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।
শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, ‘আওয়ামী লীগের নির্দোষ কর্মীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে বাঁধা নেই৷ তবে দোষীদের বিচার এ দেশের মাটিতে হতেই হবে।’
তিনি আওয়ামী লীগকে একটি ফ্যাসিস্টদের ক্লাব হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘মিথ্যা মামলা দিয়ে জামায়াত নেতৃবৃন্দকে হত্যার ফলাফল আওয়ামী লীগকে অবশ্যই ভোগ করতে হবে৷’
জামায়াতের আমির নতুন কোনো ফ্যাসিবাদের হাতে বাংলাদেশকে ইজারা না দেওয়ার বিষয়ে হুঁশিয়ারি দেন।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, ‘চব্বিশের চেতনা বাস্তবায়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বর্তমান সরকার। ফ্যাসিবাদের পথে হেঁটে আওয়ামী লীগের পরিণতির দিকেই এগোচ্ছে বিএনপি।’
এদিকে, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম মন্তব্য করেন, ‘ইতিহাস সাক্ষী, বিএনপি সরকারে এলে বারবার ব্যার্থতার পরিচয় দেয়৷ বিএনপি এখন আওয়ামী লীগ সাজার চেষ্টা করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যারাই জামায়াতকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করেছে, তারাই ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। জামায়াত কচুপাতার পানি নয়। দেশের গণমানুষের আদর্শিক দল।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মাম বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচলে বিধিনিষেধের ফলে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ১৪৬টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর যাত্রী সংখ্যা ২২,২৪১ জন।
মঙ্গলবার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট ৬৯টি এবং ট্রানজিট ফ্লাইট ৭৭টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বাতিল হওয়া সরাসরি ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ২৯টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ১৯টি এবং রিয়াদ এয়ারের ১১টি ফ্লাইট রয়েছে।
অন্যদিকে, বাতিল হওয়া ট্রানজিট ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ইন্ডিগোর ৩০টি, সালাম এয়ারের ৭টি, ইজিপ্ট এয়ারের ১টি, এমিরেটস এয়ারলাইনসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, ফ্লাই দুবাইয়ের ৮টি এবং এয়ার ইন্ডিয়ার ৮টি ফ্লাইট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ : সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম আমদানির ক্ষেত্রে শুল্কহার ১ শতাংশ নির্ধারণের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে অস্ট্রেলীয় বিনিয়োগের সম্ভাবনা বৃদ্ধি করতে পারে। তবে, এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করার জন্য নীতির ধারাবাহিকতা, স্পষ্ট বিধিবিধান এবং বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন অস্ট্রেলীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কমিশনের (অস্ট্রেড) এক কর্মকর্তা।
অস্ট্রেডের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কমিশনার মারে স্পেন্স বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন, সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জামের দাম কমলে প্রকল্পের প্রাথমিক বিনিয়োগ ব্যয়ও কমে যাবে। এর ফলে প্রকল্পের আর্থিক সম্ভাব্যতা বৃদ্ধি পাবে। বিদ্যুৎ খরচ কমানো এবং জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে আগ্রহী রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও এই উদ্যোগ সহায়ক হবে।
স্পেন্স জানান, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, ব্যাটারিতে বিদ্যুৎ সংরক্ষণ, জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পসেবায় বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে অস্ট্রেলীয় কোম্পানিগুলোর। এই লক্ষ্যে, দেশটির পরিচ্ছন্ন জ্বালানি বিষয়ক আটটি কোম্পানির একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের ব্যবসায়ী ও প্রকল্প উদ্যোক্তাদের সঙ্গে অংশীদারিত্বের সুযোগ খতিয়ে দেখছে।
তবে, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য শুল্কনীতির স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন স্পেন্স। তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীরা জানতে চান, বর্তমান শুল্কসুবিধা তাঁদের বিনিয়োগ ও সরঞ্জাম কেনার পরিকল্পনার পুরো সময়জুড়ে কার্যকর থাকবে কি না। এই বিষয়ে নিশ্চয়তা থাকলে প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ এবং বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়। একই সঙ্গে, স্থানীয় উদ্যোক্তারাও সরঞ্জাম আমদানি, সংযোজন কারখানা স্থাপন এবং বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রযুক্তিগত অংশীদারত্ব গড়ে তোলার বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে সক্ষম হবেন।
স্পেন্স আরও বলেন, শুধুমাত্র আমদানি শুল্ক কমালেই দীর্ঘমেয়াদি বিদেশি বিনিয়োগ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। প্রকল্পের অনুমোদন, বিদেশি মালিকানা, করব্যবস্থা, চুক্তির শর্ত এবং মুনাফা দেশে ফেরত নেওয়ার নিয়মও স্পষ্ট থাকা প্রয়োজন। প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ, যৌথ উদ্যোগ এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ এবং স্বচ্ছ হলে প্রশাসনিক জটিলতা কমবে এবং বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত হবে।
বিভিন্ন সরকারি সংস্থার অনুমোদন ও আনুষ্ঠানিকতা সহজে সম্পন্ন করতে সমন্বিত ‘ওয়ান-স্টপ’ বিনিয়োগসেবা ব্যবস্থা চালুর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। পাশাপাশি, মেধাস্বত্বের সুরক্ষা নিশ্চিত হলে অস্ট্রেলীয় কোম্পানিগুলো বাংলাদেশের অংশীদারদের সঙ্গে নিজস্ব প্রযুক্তি ও কারিগরি দক্ষতা ভাগ করে নিতে আরও আগ্রহী হবে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে বিনিয়োগ বাড়াতে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির (পিপিএ) শর্ত স্বচ্ছ ও পূর্বানুমানযোগ্য হওয়া প্রয়োজন। স্পেন্সের মতে, বিদ্যুতের দাম, চুক্তির মেয়াদ, অর্থ পরিশোধের শর্ত এবং বিরোধ নিষ্পত্তির পদ্ধতি স্পষ্ট থাকলে বিনিয়োগকারীরা সম্ভাব্য আয় হিসাব করে প্রকল্পের আর্থিক লাভজনকতা নির্ধারণ করতে পারবেন।
জাতীয় গ্রিডে সংযোগ এবং উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ বিক্রির নিয়ম স্পষ্ট ও ধারাবাহিক হলে কারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে উৎসাহিত হবে। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে ব্যাটারিতে বিদ্যুৎ সংরক্ষণ করে চাহিদা বাড়ার সময় তা ব্যবহার করা সম্ভব হবে। তবে, এর জন্য উপযুক্ত কারিগরি ব্যবস্থা ও কার্যকর বাণিজ্যিক শর্ত নিশ্চিত করতে হবে। এতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারও সম্প্রসারিত হতে পারে।
বাংলাদেশে অস্ট্রেলীয় কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগের সুযোগ শুধুমাত্র সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম রপ্তানিতে সীমাবদ্ধ নয়। স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ, প্রযুক্তি ব্যবহারের লাইসেন্স, উৎপাদন এবং কারিগরি সেবার ক্ষেত্রেও অংশীদারত্ব গড়ে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তি, ব্যাটারি সংরক্ষণ এবং বিদ্যুৎব্যবস্থা সমন্বয়ের দক্ষতার সঙ্গে বাংলাদেশের শিল্প সক্ষমতাকে কাজে লাগানো সম্ভব। পাশাপাশি, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষ জনবল তৈরি এবং দেশে সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জামে ১ শতাংশ আমদানি শুল্ক বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে, এই সম্ভাবনাকে বাস্তব বিনিয়োগে রূপ দিতে শুল্কনীতির ধারাবাহিকতা, সহজ অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিক্রির স্বচ্ছ বাণিজ্যিক কাঠামো নিশ্চিত করতে হবে। এতে বিদেশি পুঁজি আকৃষ্ট করার পাশাপাশি শিল্পের জ্বালানি ব্যয় কমানো এবং নিরাপত্তা জোরদার করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে, অস্ট্রেলীয় কোম্পানিগুলোর জন্য প্রযুক্তি রপ্তানি এবং দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক অংশীদারত্বের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ