বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:২৬ পি.এম
পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি মন্তব্য করেছেন যে, কোনো নেতা যদি মাদক, নারী ও অপকর্মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে তবে বিএনপিতে তার জন্য কোনো স্থান নেই।
তিনি বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার চরশাহী ইউনিয়নের তিতারকান্দি ফাজিল মাদরাসা মাঠে মহিলা দলের পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি উল্লেখ করেন, ‘ভালো লোককে যুবদলের নেতৃত্বে দেব। যুবদলের নেতাগিরি করবেন, আর লোহালক্কড় নিয়ে হাঁটাহাঁটির চেষ্টা করবেন, ওইদিন শেষ। লোহালক্কড়ের রাজনীতি লক্ষ্মীপুরে চলবে না।’
এ্যানি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের আগের লোকের সঙ্গে থেকে অপকর্মে লিপ্ত হয়ে কিছু মাল কামাবেন, অপকর্ম করবেন, ওই সুযোগ বিএনপির রাজনীতিতে তারেক জিয়ার আমলে হবে না।’
সভায় বাফুফে সহসভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি, বিএনপি নেতা আবুল হাশেম, চন্দ্রগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি বেলাল হোসেন এবং জেলা মহিলা দলের সভাপতি সাবেরা আনোয়ারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের অব্যবহৃত সিরিঞ্জ, ক্যানুলা, স্যালাইনসহ বিভিন্ন চিকিৎসাসামগ্রী নগরের শম্ভুগঞ্জ এলাকার একটি বর্জ্য সংরক্ষণাগারে পাওয়া যাচ্ছে। এসব সামগ্রীর মেয়াদ ২০২৮ ও ২০৩১ সাল পর্যন্ত থাকলেও, হাসপাতাল থেকে বর্জ্যের সঙ্গে সেগুলো কীভাবে বাইরে যাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
মমেক হাসপাতাল বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন এখানে হাজারো রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। প্রয়োজনীয় ওষুধ ও কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ার অভিযোগের মধ্যে অব্যবহৃত চিকিৎসাসামগ্রী বর্জ্য সংরক্ষণাগারে পাওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শম্ভুগঞ্জের ওই বর্জ্য সংরক্ষণাগারে কয়েক বস্তা সিরিঞ্জ, ক্যানুলা, স্যালাইনসহ বিভিন্ন চিকিৎসাসামগ্রী পাওয়া গেছে। এসব সামগ্রীর মেয়াদ শেষ হতে এখনো কয়েক বছর বাকি। বর্জ্য সংগ্রহ ও বাছাইয়ের কাজে যুক্ত শ্রমিকদের দাবি, বর্জ্যের সঙ্গে আসা নতুন চিকিৎসাসামগ্রী আলাদা করে রাখা হয়। পরে কিছু সামগ্রী হাসপাতালে ফেরত দেওয়া হয় এবং অবশিষ্টগুলো পাইকারি দরে বিক্রি করা হয়।
বর্জ্য সংগ্রহ ও বাছাইয়ের কাজে যুক্ত শ্রমিক জুবেদা খাতুন জানিয়েছেন, এ কাজে ১১ জন শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে চারজন মমেক হাসপাতাল থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করেন। অন্য সাতজন বর্জ্য সংরক্ষণাগারে সেগুলো বাছাই করেন।
তিনি আরও বলেন, প্রতিদিন বর্জ্যের সঙ্গে নতুন সিরিঞ্জ, ক্যানুলা ও স্যালাইন আসে। এগুলো আলাদা বস্তায় রাখা হয়। ১০ থেকে ১২ দিন পর তিন থেকে চার বস্তা জমলে সেগুলো হাসপাতালে ফেরত দেওয়া হয়। অবশিষ্ট সামগ্রী পাইকারি দরে বিক্রি করা হয়।
হাসপাতালের অব্যবহৃত চিকিৎসাসামগ্রী কীভাবে বর্জ্য সংরক্ষণাগারে যাচ্ছে, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন নাগরিক সংগঠন ময়মনসিংহ মঞ্চের মুখ্য সমন্বয়ক ইমতিয়াজ আহমেদ। তিনি বলেন, এসব সামগ্রী হাসপাতালের বাইরে যাওয়ার ঘটনায় কর্তৃপক্ষের দায় ও তদারকির বিষয়টি খতিয়ে দেখা জরুরি। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এ বিষয়ে ঠিকাদার আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
হাসপাতালের সিনিয়র স্টোর কর্মকর্তা ঝন্টু সরকার জানিয়েছেন, অব্যবহৃত সিরিঞ্জ, ক্যানুলা, স্যালাইনসহ চিকিৎসাসামগ্রী হাসপাতালের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, এসব সামগ্রী হাসপাতালের বাইরে যাওয়ার সুযোগ না থাকলে সেগুলো কীভাবে ফেরত দেওয়া হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ছুটি শেষে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ডেকে জবাবদিহি চাওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন মমেক হাসপাতাল থেকে ৩৫ থেকে ৪০ ভ্যানগাড়ি বর্জ্য সরানো হয়। এসব বর্জ্য থেকে প্রতি সপ্তাহে তিন থেকে কয়েক বস্তা অব্যবহৃত সিরিঞ্জ, ক্যানুলা, স্যালাইনসহ বিভিন্ন চিকিৎসাসামগ্রী পাওয়া যায় বলে জানা গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাভারের ‘আব্বাস স্পেশালাইজড হাসপাতাল লিমিটেড’-এ নাকের পলিপাস অপারেশন করতে গিয়ে ভুল চিকিৎসার কারণে আবরাহাম নামের নয় বছরের এক কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে। এই ঘটনার পর এলাকাজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হলেও, পরে প্রভাবশালী একটি চক্রের মধ্যস্থতায় ঘটনাটি ২০ লাখ টাকায় ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, নিহতের পরিবার মাত্র ১০ লাখ টাকা পেয়েছে; বাকি ১০ লাখ টাকা শালিসকারীরা নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নিয়েছে বলে জানা গেছে।
বুধবার (২২ অক্টোবর) রাতে পৌর এলাকার মুক্তির মোড়ে অবস্থিত লন্ডনাস রেস্টুরেন্টের ভিতরে রেস্টুরেন্টটির মালিক ঢাকা জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ও জনৈক আবুল কালাম তাপসের উপস্থিতিতে এবং তাদের মধ্যস্থতায় স্ট্যাম্পে লিখে মৃতের স্বজনদের ১০ লক্ষ টাকা দিয়ে ঘটনাটি আপস-মীমাংসা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাভার উপজেলার পার্শ্ববর্তী রাজাবাড়ী এলাকার আব্বাস স্পেশালাইজড হাসপাতাল লিমিটেডে বুধবার নাকের সাধারণ পলিপাস অপারেশনের জন্য ভর্তি করা হয় ৯ বছরের শিশু আবরাহামকে। কিন্তু অপারেশনের সময় চিকিৎসকদের চরম অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণে অস্ত্রোপচার কক্ষে শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়লে তাকে সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের দায়িত্ব চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসকরা বিষয়টি গোপন করার চেষ্টা করেন এবং শিশুটি আগেই অসুস্থ ছিল বলে দায় এড়ানোর বাহানা খোঁজেন।
ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ার পর শিশুর স্বজনরা আব্বাস হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ করেন এবং ভিতরে ঢুকে রিসিপশনসহ বিভিন্ন দরজার কাচ ভাঙচুর করে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ও আইনি ঝামেলা এড়াতে হাসপাতালের মালিকপক্ষ দ্রুত স্থানীয় কতিপয় নেতা, প্রভাবশালী মাতব্বরের শরণাপন্ন হন।
শিশু আবরাহাম (৯) মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর থানার রাজনগর নোয়াদ্দা এলাকায় মায়ের সাথে বসবাস করত। তার বাবা আল আমিন দুবাই প্রবাসী।
শিশুটির মামা মোঃ রুবেল বলেন, "যে চলে গেছে সে তার ফেরত আসবে না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সমঝোতার জন্য শিশু আবরাহামের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা দিয়েছে। আমাদের লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে যা হাসপাতাল ভাঙচুর করেছিল এ ব্যাপারে ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিবে না এই শর্তে আমরা সমঝোতা করেছি।"
যদিও বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে লন্ডনাস রেস্টুরেন্টের মালিক সাবেক ছাত্রদল নেতা সাইফুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করলে আপস-মীমাংসার বিষয়টি স্বীকার করলেও টাকা লেনদেনের বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি হননি তিনি। যারা বিচার সালিশ করে আপোষ করেছে তাদের মধ্যে দশ লাখ টাকা ভাগ বাটোয়ারা করে নিয়েছে এমন বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "হাসপাতালই আমাদের, আমরা আবার টাকা নেব। টাকা কি এতই সস্তা।"
এদিকে, সমঝোতার পর পর রাতেই শিশুটির পরিবারের সদস্যরা বিনা ময়নাতদন্তে লাশ গ্রহণ করে নিজ গ্রামে নিয়ে যায়।
তবে আপস মিমাংসার সময় ভুক্তভোগী পরিবার ছাড়াও সাভার মডেল থানায় ২ লক্ষ টাকা দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলেও শোনা গেছে।
সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন বলেন, "হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় আপস মীমাংসা হয়েছে শুনেছি। তবে টাকা লেনদেনের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।"
এ বিষয়ে জানতে আব্বাস স্পেশালাইজড হাসপাতালের মালিক ডা. মো. আব্বাস উদ্দিনের মুঠোফোন একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি। ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও কোনও সাড়া দেননি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা বিভাগের উদ্যোগে প্রকাশিত ‘প্রবন্ধসমগ্র’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। গ্রন্থটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সেমিনারে উপস্থাপিত নির্বাচিত ১৩টি প্রবন্ধ স্থান পেয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের চাকসু প্রাঙ্গণে এ মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে চাকসুর নেতৃবৃন্দ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
গ্রন্থটিতে চাকসুর বিভিন্ন বিভাগের উদ্যোগে গত এক বছরে আয়োজিত সেমিনারে উপস্থাপিত নির্বাচিত প্রবন্ধ সংকলিত হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, সংকলনটি শিক্ষার্থীদের গবেষণা, জ্ঞানচর্চা ও মুক্তবুদ্ধির বিকাশে ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন চাকসুর সহ-সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদক জিহাদ আহনাফ। এ সময় বক্তব্য দেন চাকসুর সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদক হারেস মাতব্বর, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক মোনায়েম শরীফ, সহ-যোগাযোগ ও আবাসনবিষয়ক সম্পাদক ওবায়দুল সালমান, লাইব্রেরি ও ক্যাফেটেরিয়াবিষয়ক সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ, সহ-দপ্তর সম্পাদক জান্নাতুল আদন নুসরাত, গবেষণা ও উদ্ভাবনবিষয়ক সম্পাদক তানভীর আনজুম শোভন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক মো. মাহবুবুর রহমান।
‘চাকসু নির্বাচিত প্রবন্ধসমগ্র’ গ্রন্থের সম্পাদক ও চাকসুর সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদক হারেস মাতব্বর জানান, চাকসুর গত এক বছরে আয়োজিত বিভিন্ন সেমিনারের প্রবন্ধ একত্র করে বইটি প্রকাশ করা হয়েছে। বইটিতে স্বনামধন্য লেখকদের ১৩টি প্রবন্ধ সংকলিত হয়েছে। এসব প্রবন্ধের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন নতুন বিষয় সম্পর্কে জানতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, চাকসু শুধু অনুষ্ঠান আয়োজনের মধ্যেই নিজেদের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখেনি; বরং শিক্ষার্থীদের কল্যাণে এসব আয়োজনের বিষয়বস্তু ইতিহাসের পাতায় সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে। বইটি প্রকাশের সঙ্গে যুক্ত সম্পাদক, সম্পাদকীয় উপদেষ্টা, সম্পাদনা সহযোগীসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
চাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সাঈদ বিন হাবিব মন্তব্য করেন, এ ধরনের প্রবন্ধ সংকলন শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ও গবেষণামূলক ভাবনাগুলোকে একটি প্ল্যাটফর্মে তুলে ধরতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, এ উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রকে আরও সমৃদ্ধ করবে। বইটি প্রকাশের জন্য প্রবন্ধ সংগ্রহ থেকে শুরু করে মোড়ক উন্মোচন পর্যন্ত চাকসুর সংশ্লিষ্ট সম্পাদকরা অনেক পরিশ্রম করেছেন। এ ধরনের শিক্ষা ও সাহিত্যবান্ধব কার্যক্রম ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের নতুন আশার আলো দেখাবে।
অনুষ্ঠানে চাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) ইব্রাহিম হোসেন রনি বলেন, “আমরা সব সময় শিক্ষার্থীদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছি। ক্যাম্পাসে চক্রাকার বাস চালু করেছি, তিনটি হলে এক্সটেনশনের ব্যবস্থা করেছি। শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ১০ তলা ভবন নির্মাণের বিষয়েও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করেছি এবং চাপ দিয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “প্রত্যেক হলে রিডিং রুমের ব্যবস্থা করা হয়েছে। গণরুম ও গেস্টরুম সংস্কৃতি ভেঙে সেসব জায়গায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। আমাদের বিরুদ্ধে অনেক অপবাদ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রমাণ হাজির করতে না পেরে এখন ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হচ্ছে।”
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ইব্রাহিম হোসেন রনি বলেন, চাকসুর ভিপি হিসেবে তাঁর বিরুদ্ধে তিনটি বিষয়ে প্রমাণ দিতে পারলে তিনি পদত্যাগ করবেন। প্রথমত, চাকরির জন্য সুপারিশ করা বা কাউকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সঙ্গে তিনি জড়িত নন। দ্বিতীয়ত, তাঁর বিরুদ্ধে এক টাকার দুর্নীতির অভিযোগও প্রমাণিত হলে তিনি পদত্যাগ করবেন। তৃতীয়ত, ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোনো শিক্ষার্থীকে বিশেষ সুবিধা দিতে তিনি আসন বরাদ্দের আবেদন করেননি বলে দাবি করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ : আগামীকাল ৮০তম জন্মদিন উদযাপন করবেন গবেষক, প্রথিতযশা প্রাবন্ধিক, লেখক ও সাংবাদিক সৈয়দ আবুল মকসুদ।
১৯৪৬ সালের এই দিনে মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার এলাচিপুর গ্রামে তাঁর জন্ম হয়। সৈয়দ আবুল মকসুদের পিতার নাম সৈয়দ আবুল মাহমুদ এবং মাতার নাম সালেহা বেগম।
তিনি ঝিটকা আনন্দমোহন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ঢাকা কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন এবং সাংবাদিকতায় উচ্চতর প্রশিক্ষণ নেন জার্মানির বার্লিনের ‘ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর জার্নালিজম’ থেকে।
২০০৩ সালে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিবাদে সৈয়দ আবুল মকসুদ পশ্চিমা পোশাক পরিধান ত্যাগ করেন। গান্ধীর সত্যাগ্রহ আন্দোলনের প্রতি অনুরক্ত এই সামাজিক ও পরিবেশ আন্দোলনের কর্মী সুতির সাদা কাপড়কে প্রতিবাদের পোশাক হিসেবে বেছে নেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি টানা দেড় যুগ এই পোশাক পরিধান করেন।
‘সহজিয়া কড়চা’ এবং ‘বাঘা তেঁতুল’ শিরোনামে কলাম লিখে তিনি দেশের একটি জাতীয় দৈনিকে পরিচিতি পান।
মওলানা ভাসানীকে নিয়ে তিনি লিখেছেন ‘মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর জীবন, কর্মকাণ্ড, রাজনীতি ও দর্শন’ (১৯৮৬) এবং ভাসানী কাহিনী। সৈয়দ মকসুদের লেখা বইয়ের সংখ্যা ৪০টিরও বেশি।
সাহিত্যে অবদানের জন্য ১৯৯৫ সালে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কারে সম্মানিত হন।
২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় তিনি রাজধানীর একটি হাসপাতালে ৭৫ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ