০৮:১৯ পি.এম
ঢাকা, ৯ আগস্ট, ২০২৬ : বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার সংক্রান্ত পাঁচ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। আজ বিকেলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
৯ থেকে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত এ প্রশিক্ষণের আওতায় বাণিজ্য পরিচালনা, নীতি প্রণয়ন, সরকারি নথি প্রস্তুত ও বিশ্লেষণ, আমদানি-রপ্তানি তথ্য বিশ্লেষণ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তি বিশ্লেষণে এআইয়ের ব্যবহার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।
ইউকে ইন্টারন্যাশনাল, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয় একযোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করেছে। প্রথম ব্যাচে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ৩০ জন কর্মকর্তা এ প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করছেন।
আরও পড়ুন: ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশ গঠনের লক্ষ্যে বিএনপি: প্রতিমন্ত্রী টুকু
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, সরকারি কাজে এআইয়ের ব্যবহার প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও দ্রুত, দক্ষ এবং তথ্যনির্ভর করাতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, আমদানি-রপ্তানি তথ্য বিশ্লেষণ, বাজার পরিস্থিতি এবং পণ্যের চাহিদা-দর পর্যবেক্ষণসহ বাণিজ্যনীতির সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্লেষণে এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এর মাধ্যমে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং ব্যবসায়ীসহ সাধারণ জনগণকে আরও কার্যকর সেবা প্রদান করা সম্ভব হবে। তবে, তিনি জানান যে, এআই ব্যবহারের পাশাপাশি তথ্যের নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, স্বচ্ছতা এবং মানবিক তদারকি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিতকরণের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন এবং একটি আধুনিক ও স্মার্ট বাণিজ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতি মনোনিবেশ করেন।
প্রশিক্ষণের বিভিন্ন পর্বে জেনারেটিভ এআইয়ের মৌলিক ধারণা ও বাণিজ্যে এর ব্যবহার, সরকারি নথি সংক্ষেপণ ও বিশ্লেষণ, প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং, চিঠি-মেমো, বক্তৃতা ও সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রস্তুত, আমদানি-রপ্তানি ও বাজারদর বিশ্লেষণ, সাপ্লাই চেইন, ডব্লিউটিও চুক্তি এবং এফটিএ ও পিটিএ বিশ্লেষণে এআইয়ের প্রয়োগ শেখানো হবে। এছাড়াও, বৈশ্বিক বাণিজ্যনীতি, নীতি প্রণয়ন এবং ই-গভর্নেন্সে এআইয়ের কৌশলগত ব্যবহার নিয়েও আলোচনা হবে। শেষ দিনে ক্যাপস্টোন প্রকল্প ও সরাসরি উপস্থাপনার মাধ্যমে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সমাপ্ত হবে।
অনুষ্ঠানে ইউএনডিপির সিনিয়র ইকোনমিক অ্যাডভাইজর ওয়াইস প্যারী এবং ট্রান্সফরমেটিভ ইকোনমিক পলিসি প্রোগ্রাম (টিইপিপি-২)-এর প্রজেক্ট ম্যানেজার মারুফ আজম বক্তব্য প্রদান করেন।
স্বাগত বক্তব্যে ওয়াইস প্যারী বলেন, বিপুল পরিমাণ ডেটা, নথি ও তথ্য দ্রুত বিশ্লেষণ করে এআই নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের কাজকে আরও সহজ ও দক্ষ করতে পারে। তিনি জানান, এতে কাজের চাপ কমার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ বাণিজ্য ও শিল্পনীতি প্রণয়নে অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ হবে। তবে এআইয়ের ওপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভর না করে মানবিক বিচার-বিশ্লেষণ এবং তদারকি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তিনি বাণিজ্যভিত্তিক এআই মডেল নিয়ে ভবিষ্যতে আরও প্রশিক্ষণের আয়োজনের গুরুত্বারোপ করেন।
আরও পড়ুন: ইশরাকের পদত্যাগে আইনের ব্যত্যয় হয়নি: অ্যাটর্নি জেনারেল
ইউএনডিপির অর্থায়নে পরিচালিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের এআইভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়ন এবং সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নীতি প্রণয়নে প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন