মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১১:৪৬ এম
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন যে, তিনি বিশ্বাস করেন না যে চীন বা রাশিয়া ইরানকে ‘বিন্দুমাত্রও’ সহায়তা করছে। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, তেহরানকে সাহায্য করার সিদ্ধান্ত নিলে মস্কো এবং বেইজিংয়ের জন্য অনেক কিছু হারানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি পোস্টে ট্রাম্প বলেন, তার রাজনৈতিক বিরোধীরা অভিযোগ করছেন যে চীন ও রাশিয়া ইরানকে সমর্থন দিচ্ছে। ট্রাম্পের বক্তব্য ছিল, ‘যদি তারা সাহায্য করে থাকে, তবে তা অত্যন্ত সামান্য। তবে আমি তা মোটেও বিশ্বাস করি না। কারণ তাদের হারানোর মতো অনেক কিছু আছে। তারা যদি সত্যিই সহায়তা করত, তবে আমরা তা দ্রুত জানতাম।’
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এই মন্তব্য প্রকাশিত হয়েছে। এর আগে তিনি দাবি করেছিলেন যে, চীনা প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরান ইস্যুতে নিরপেক্ষ অবস্থান গ্রহণ করছেন। গত মাসে শি চিনপিংয়ের মার্কিন সফরের সময় চীন ইরানকে কোনো সহায়তা না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বলেও জানান যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত তৎকালীন কর্মকর্তারা।
যদিও মস্কো এবং বেইজিং দীর্ঘদিন ধরে তেহরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে বেইজিং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপকে ইরানের সার্বভৌমত্বের ওপর হামলা হিসেবে নিন্দা জানিয়ে আসছে। তবে একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, ইরান চীনের সহায়তায় আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল বিক্রি করছে এবং মার্কিন ঘাঁটির স্যাটেলাইট তথ্য ব্যবহার করছে—যদিও এসব প্রতিবেদনকে ট্রাম্প আগেও অস্বীকার করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহের ভালুকায় ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় মাহিদ আল হাসান মুদুলকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। এ উপলক্ষে বর্ণিল সাংস্কৃতিক আনন্দ উৎসবের আয়োজন করা হয়।
সোমবার (১২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টায় ভালুকা পৌর এলাকার অডিট মার্কেটের পাঁচ রাস্তার মোড়ে ‘ভাই বন্ধু মহল ভালুকা’র উদ্যোগে এ সম্মাননা অনুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক আনন্দ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
মাহিদ আল হাসান মুদুল ভালুকা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব। বর্তমানে তিনি ভালুকা পৌর ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় তাঁকে এ বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা শ্রমিক নেতা আসাদুজ্জামান আসাদ,উপজেলা শ্রমিক নেতা আবু হানিফ,৭নংমল্লিকবাড়ী ইউনিয়ন শ্রমিক নেতা মনির জামান মনির,৭নংমল্লিকবাড়ী শ্রমিক নেতা একলাছ মুন্সী, ভালুকা পৌর যুবদল নেতা সজীব মল্লিক,শ্রমিক নেতা ইসমাইলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
অনুষ্ঠানের সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন বিরহী পারভেজ ফকির। এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সম্মাননা প্রদান ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
আয়োজকরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী অতিথি, নেতাকর্মী ও সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে মর্নিং ওয়াকের জন্য বের হয়ে অজ্ঞাত গাড়ির চাপায় স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু ঘটে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গৌরীপুর ইউনিয়নের হরিপুর মসজিদের সামনে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলার জিংলাতলী গ্রামের নজরুল ইসলাম (৬২) এবং তার স্ত্রী ঝরনা বেগম (৪৮)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফজরের নামাজ শেষে ওই দম্পতি বাড়ি থেকে মর্নিং ওয়াকের উদ্দেশ্যে বের হন। হাঁটার সময় তারা মহাসড়কের হরিপুর মসজিদের কাছে পৌঁছালে একটি দ্রুতগামী অজ্ঞাত যানবাহন তাদেরকে সজোরে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় দুজনেই সড়কের পাশে ছিটকে পড়ে যান।
দুর্ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা পর অন্যান্য পথচারীরা তাদের রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখে দ্রুত দাউদকান্দির গৌরীপুরস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
পরে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর নিহতদের মরদেহ তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রেমলাল দাস জানান, অজ্ঞাত যানবাহনের চাপায় স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। ঘাতক গাড়িটি শনাক্ত করার জন্য এবং চালককে আটক করতে মহাসড়কের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে আট বছর বয়সী একটি শিশুর হত্যার ৬৫ বছর পর রহস্যের সমাধান হয়েছে। তদন্তকারীরা ডিএনএ পরীক্ষা ও সংরক্ষিত আঙুলের ছাপের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করেছেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, শনাক্ত হওয়া ব্যক্তি একসময় শিকাগো পুলিশের একজন খুনের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন।
নিহত শিশুটির নাম গ্লোরিয়া কোয়ালেউইচ। ১৯৬০ সালের ১২ নভেম্বর, শিকাগোর দক্ষিণাঞ্চলে গির্জায় যাওয়ার পথে তাকে অপহরণ করা হয়। এরপর শহরজুড়ে কয়েক মাস ধরে পুলিশ তল্লাশি চালায়। হাজারো মানুষকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং শত শত সূত্র খতিয়ে দেখা হয়। কিন্তু সে সময় হত্যাকারীকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
শিকাগো পুলিশ বিভাগের বিবৃতি অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাইয়ে আধুনিক ডিএনএ প্রযুক্তি এবং সাবধানে সংরক্ষিত একটি আঙুলের ছাপের সূত্র ধরে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়। তার নাম থমাস এফ ম্যাকইনার্নি জুনিয়র।
ম্যাকইনার্নি ১৯৫৯ সালে শিকাগো পুলিশে যোগদান করেন। ১৯৬০ সালে গ্লোরিয়া হত্যার সময় তার বয়স ছিল ২৪ বছর। তখন তিনি পশ্চিম শিকাগোতে একজন টহল পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ১৯৬৪ সালে তিনি গোয়েন্দা কর্মকর্তা হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ম্যাকইনার্নি ২৮ বছর চাকরি করার পর ১৯৮৭ সালে গোয়েন্দা কর্মকর্তা হিসেবে অবসর নেন। পরে তিনি নেভাদা অঙ্গরাজ্যে চলে যান এবং সেখানে কেন্দ্রীয় সরকারের আইনজীবীদের দপ্তরে তদন্তকারী হিসেবে কাজ করেন। ২০০৪ সালে ওই চাকরি থেকেও অবসর নেন।
২০০৬ সালে ৭০ বছর বয়সে লাস ভেগাসে তার মৃত্যু হয়। ফলে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে শনাক্ত হলেও জীবদ্দশায় তাকে বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব হয়নি।
শিকাগো পুলিশ বিভাগের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ম্যাকইনার্নির কখনোই পুলিশ বিভাগের পরিচয়চিহ্ন ধারণ করার যোগ্যতা ছিল না। জীবিত থাকাকালে তাকে শনাক্ত করে জবাবদিহির আওতায় আনা যায়নি—এটি মেনে নেওয়া অত্যন্ত কষ্টের।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের দিন শনিবার সকাল ৮টার কিছু আগে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল গ্লোরিয়া। তার গন্তব্য ছিল কয়েক ব্লক দূরে সেন্ট মেরি অব মাউন্ট কারমেল গির্জায় সকালের প্রার্থনায় যোগ দেওয়া। তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী গ্লোরিয়া কিছুদিন আগে প্রথম ধর্মীয় দীক্ষা গ্রহণ করেছিল। সেদিন তার পরনে ছিল গোলাপি ও বাদামি রঙের ছককাটা পোশাক এবং নীল রঙের একটি পোশাক।
কিন্তু গির্জায় পৌঁছানো হয়নি তার। বাড়ি ও গির্জার মাঝপথ থেকেই তাকে অপহরণ করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্লোরিয়াকে মাথায় দুবার গুলি করে হত্যা করা হয়। এরপর শিকাগোর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি বনাঞ্চল সংরক্ষিত এলাকার পাশের নালায় তার মরদেহ ফেলে রাখা হয়। এক গাড়িচালক শিশুটির রঙিন পোশাক দেখে কাছে গিয়ে মরদেহটি খুঁজে পান।
ঘটনাস্থল থেকে গুলি, গ্লোরিয়ার কোট, জুতা এবং প্রার্থনার বই রাখা সাদা ব্যাগসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করেন তদন্তকারীরা। ওই ব্যাগের ফিতায় পাওয়া যায় একটি আঙুলের ছাপ। তবে দীর্ঘদিন এসব আলামত থেকেও হত্যাকারীকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
হত্যাকাণ্ডের চার দিন পর সেন্ট মেরি অব মাউন্ট কারমেল গির্জায় গ্লোরিয়ার শেষকৃত্যে এক হাজারের বেশি মানুষ অংশ নেন।
দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষিত আলামত নতুন করে পরীক্ষা করার পর ২০১০ সালে তদন্তকারীরা গ্লোরিয়ার পোশাকে পাওয়া বীর্যের নমুনা থেকে সম্ভাব্য হত্যাকারীর ডিএনএ পরিচিতি তৈরি করতে সক্ষম হন। তবে তখনও কাউকে শনাক্ত করা যায়নি।
২০২৪ সালে শিকাগো পুলিশের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই ওই ডিএনএ নমুনার সঙ্গে পারিবারিক বংশপরিচয় অনুসন্ধানের ওয়েবসাইটে জমা দেওয়া বিভিন্ন জিনগত নমুনার তুলনা করে। এ প্রক্রিয়ায় ম্যাকইনার্নির পরিচয় শনাক্ত হয়।
এরপর তদন্তকারীরা ১৯৫৯ সালে শিকাগো পুলিশে চাকরির আবেদনের সময় ম্যাকইনার্নির দেওয়া আঙুলের ছাপের সঙ্গে গ্লোরিয়ার ব্যাগের ফিতায় পাওয়া ছাপের মিল খুঁজে পান। ডিএনএ ও আঙুলের ছাপ—দুই ধরনের আলামত মিলিয়ে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ম্যাকইনার্নির ডিএনএ যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার সম্মিলিত ডিএনএ তথ্যভান্ডারেও রয়েছে। তার সঙ্গে অন্য কোনো অমীমাংসিত অপরাধের যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে সংস্থাটি।
এফবিআই জানিয়েছে, গ্লোরিয়া হত্যার আলামত এবং শিশুদের লক্ষ্য করে অপরাধ সংঘটনকারীদের আচরণ ও ভুক্তভোগীদের বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট সময়ের অন্যান্য অমীমাংসিত অপরাধের সূত্রও অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
গ্লোরিয়ার ভাই অ্যাডাম কোয়ালেউইচ তখন শিশু ছিলেন। বোনের হত্যার ঘটনায় ম্যাকইনার্নি জীবদ্দশায় শাস্তি না পাওয়ায় আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন তিনি। তার ভাষ্য, হত্যাকারী স্বাভাবিক জীবন কাটিয়ে মারা গেছেন, কখনো নিজের অপরাধের শাস্তি পাননি।
তবে গ্লোরিয়াকে কেন লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ম্যাকইনার্নির বাবা-মায়ের বাড়ি কোয়ালেউইচ পরিবারের বাড়ি থেকে এক মাইলেরও কম দূরে ছিল। কিন্তু গ্লোরিয়ার সঙ্গে ম্যাকইনার্নির আগে কোনো পরিচয় বা যোগাযোগ ছিল বলে প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এছাড়া গ্লোরিয়া হত্যার তদন্তে ম্যাকইনার্নি কখনো যুক্ত ছিলেন কি না, তা-ও তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি। অবসরের পর তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের আইনজীবীদের দপ্তরে তদন্তকারী হিসেবে কাজ করার সময় ২০০৩ সালে অসামান্য কাজের স্বীকৃতিও পেয়েছিলেন। তিনি ছিলেন সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য, পাঁচ সন্তানের বাবা এবং কয়েকজন নাতি-নাতনির দাদা।
৬৫ বছর ধরে অমীমাংসিত থাকা এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে আধুনিক ডিএনএ প্রযুক্তি ও সংরক্ষিত আলামত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছে শিকাগো পুলিশ।
সূত্র: এনবিসি নিউজ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং জেলার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক ও প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানের যাতায়াতের পথে সেফটি ট্যাংকের উপচে পড়া নোংরা পানি, বিভিন্ন ভবনের ওপর থেকে পড়া ময়লা পানি, আবর্জনার স্তূপ এবং মাদকদ্রব্যের ধ্বংসাবশেষের কারণে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। একই অবস্থা দেখা যাচ্ছে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের চারপাশেও। এই পথে চলাচলকারী বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী, আইনজীবী সহকারী এবং সাধারণ মানুষ দুর্গন্ধ ও নোংরা পরিবেশের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই এলাকার আশপাশে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, আইনজীবী সমিতি ভবন, আইন কলেজ এবং জেলার বিভিন্ন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও জুডিশিয়াল আদালত অবস্থিত। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন আইনগত, প্রশাসনিক ও বিচারিক প্রয়োজনে হাজারো মানুষ যাতায়াত করে। মামলার শুনানি, জামিন, নথিপত্র সংগ্রহ, আইনি পরামর্শ এবং বিভিন্ন সরকারি সেবা নিতে আসা মানুষের জন্য এই এলাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ এলাকার চলাচলের পথে সেফটি ট্যাংকের উপচে পড়া দুর্গন্ধযুক্ত পানি এবং আবর্জনা জমে রয়েছে। পাশাপাশি, কয়েকটি ভবনের ওপর থেকে নোংরা পানি সরাসরি পথের ওপর পড়ছে, যা পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। অন্যদিকে, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের চারপাশেও নোংরা পানি ও আবর্জনার কারণে পরিবেশ অসহনীয় হয়ে উঠেছে। সব মিলিয়ে আদালত ও প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার আশপাশে পরিচ্ছন্ন পরিবেশের অভাব জনদুর্ভোগ বাড়িয়ে তুলেছে।
বিশেষ করে দূরদূরান্ত থেকে আদালতে আসা বিচারপ্রার্থী, নারী, বয়স্ক ব্যক্তি এবং অসুস্থ মানুষকে এসব নোংরা পানি ও আবর্জনা মাড়িয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। দুর্গন্ধের কারণে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করাও কষ্টকর হয়ে পড়ছে। এ ছাড়া, মাদকদ্রব্যের ধ্বংসাবশেষ যত্রতত্র পড়ে থাকার বিষয়টিও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আদালত ও প্রশাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের আশপাশে এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ থাকায় ভুক্তভোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পাশাপাশি নোংরা পানি নির্গমনের উৎস চিহ্নিত করা এবং ভবনগুলো থেকে পানি সরাসরি চলাচলের পথে পড়া বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
সচেতন মহলের মতে, জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে সেফটি ট্যাংকের উপচে পড়া পানি বন্ধ করা, ভবনের বর্জ্যপানি নিষ্কাশনের সুষ্ঠু ব্যবস্থা গ্রহণ, আবর্জনা অপসারণ এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানো দরকার।
এ অবস্থায় কক্সবাজারের বিচারক, জেলা প্রশাসক, গণপূর্ত বিভাগ, আইনজীবী সমিতি এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল। তাঁদের দাবি, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে আদালত ও প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানসংলগ্ন এলাকাকে পরিচ্ছন্ন, দুর্গন্ধমুক্ত ও জনবান্ধব পরিবেশে ফিরিয়ে আনা হোক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ