ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে সকালে হাঁটতে বেরিয়ে স্বামী-স্ত্রীর গাড়িচাপায় মৃত্যু


কুমিল্লার দাউদকান্দিতে সকালে হাঁটতে বেরিয়ে স্বামী-স্ত্রীর গাড়িচাপায় মৃত্যু

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে মর্নিং ওয়াকের জন্য বের হয়ে অজ্ঞাত গাড়ির চাপায় স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু ঘটে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গৌরীপুর ইউনিয়নের হরিপুর মসজিদের সামনে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলার জিংলাতলী গ্রামের নজরুল ইসলাম (৬২) এবং তার স্ত্রী ঝরনা বেগম (৪৮)।

আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: সকাল হলে ভাগ্য নির্ধানের পালা

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফজরের নামাজ শেষে ওই দম্পতি বাড়ি থেকে মর্নিং ওয়াকের উদ্দেশ্যে বের হন। হাঁটার সময় তারা মহাসড়কের হরিপুর মসজিদের কাছে পৌঁছালে একটি দ্রুতগামী অজ্ঞাত যানবাহন তাদেরকে সজোরে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় দুজনেই সড়কের পাশে ছিটকে পড়ে যান।

দুর্ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা পর অন্যান্য পথচারীরা তাদের রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখে দ্রুত দাউদকান্দির গৌরীপুরস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

পরে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর নিহতদের মরদেহ তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রেমলাল দাস জানান, অজ্ঞাত যানবাহনের চাপায় স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। ঘাতক গাড়িটি শনাক্ত করার জন্য এবং চালককে আটক করতে মহাসড়কের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: বালিয়াডাঙ্গীতে পতিলাভাষা যুব সমাজের উদ্যোগে তাফসিরুল কুরআন মাহফিল অনুষ্ঠিত

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৬৫ বছর পর ধরা পড়লেন খুনি, ছিলেন পুলিশের গোয়েন্দা কর্মকর্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৪৭ এম


৬৫ বছর পর ধরা পড়লেন খুনি, ছিলেন পুলিশের গোয়েন্দা কর্মকর্তা

যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে আট বছর বয়সী একটি শিশুর হত্যার ৬৫ বছর পর রহস্যের সমাধান হয়েছে। তদন্তকারীরা ডিএনএ পরীক্ষা ও সংরক্ষিত আঙুলের ছাপের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করেছেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, শনাক্ত হওয়া ব্যক্তি একসময় শিকাগো পুলিশের একজন খুনের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন।

নিহত শিশুটির নাম গ্লোরিয়া কোয়ালেউইচ। ১৯৬০ সালের ১২ নভেম্বর, শিকাগোর দক্ষিণাঞ্চলে গির্জায় যাওয়ার পথে তাকে অপহরণ করা হয়। এরপর শহরজুড়ে কয়েক মাস ধরে পুলিশ তল্লাশি চালায়। হাজারো মানুষকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং শত শত সূত্র খতিয়ে দেখা হয়। কিন্তু সে সময় হত্যাকারীকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

শিকাগো পুলিশ বিভাগের বিবৃতি অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাইয়ে আধুনিক ডিএনএ প্রযুক্তি এবং সাবধানে সংরক্ষিত একটি আঙুলের ছাপের সূত্র ধরে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়। তার নাম থমাস এফ ম্যাকইনার্নি জুনিয়র।

ম্যাকইনার্নি ১৯৫৯ সালে শিকাগো পুলিশে যোগদান করেন। ১৯৬০ সালে গ্লোরিয়া হত্যার সময় তার বয়স ছিল ২৪ বছর। তখন তিনি পশ্চিম শিকাগোতে একজন টহল পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ১৯৬৪ সালে তিনি গোয়েন্দা কর্মকর্তা হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, ম্যাকইনার্নি ২৮ বছর চাকরি করার পর ১৯৮৭ সালে গোয়েন্দা কর্মকর্তা হিসেবে অবসর নেন। পরে তিনি নেভাদা অঙ্গরাজ্যে চলে যান এবং সেখানে কেন্দ্রীয় সরকারের আইনজীবীদের দপ্তরে তদন্তকারী হিসেবে কাজ করেন। ২০০৪ সালে ওই চাকরি থেকেও অবসর নেন।

২০০৬ সালে ৭০ বছর বয়সে লাস ভেগাসে তার মৃত্যু হয়। ফলে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে শনাক্ত হলেও জীবদ্দশায় তাকে বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব হয়নি।

শিকাগো পুলিশ বিভাগের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ম্যাকইনার্নির কখনোই পুলিশ বিভাগের পরিচয়চিহ্ন ধারণ করার যোগ্যতা ছিল না। জীবিত থাকাকালে তাকে শনাক্ত করে জবাবদিহির আওতায় আনা যায়নি—এটি মেনে নেওয়া অত্যন্ত কষ্টের।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের দিন শনিবার সকাল ৮টার কিছু আগে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল গ্লোরিয়া। তার গন্তব্য ছিল কয়েক ব্লক দূরে সেন্ট মেরি অব মাউন্ট কারমেল গির্জায় সকালের প্রার্থনায় যোগ দেওয়া। তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী গ্লোরিয়া কিছুদিন আগে প্রথম ধর্মীয় দীক্ষা গ্রহণ করেছিল। সেদিন তার পরনে ছিল গোলাপি ও বাদামি রঙের ছককাটা পোশাক এবং নীল রঙের একটি পোশাক।

কিন্তু গির্জায় পৌঁছানো হয়নি তার। বাড়ি ও গির্জার মাঝপথ থেকেই তাকে অপহরণ করা হয়।

পুলিশ জানায়, গ্লোরিয়াকে মাথায় দুবার গুলি করে হত্যা করা হয়। এরপর শিকাগোর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি বনাঞ্চল সংরক্ষিত এলাকার পাশের নালায় তার মরদেহ ফেলে রাখা হয়। এক গাড়িচালক শিশুটির রঙিন পোশাক দেখে কাছে গিয়ে মরদেহটি খুঁজে পান।

ঘটনাস্থল থেকে গুলি, গ্লোরিয়ার কোট, জুতা এবং প্রার্থনার বই রাখা সাদা ব্যাগসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করেন তদন্তকারীরা। ওই ব্যাগের ফিতায় পাওয়া যায় একটি আঙুলের ছাপ। তবে দীর্ঘদিন এসব আলামত থেকেও হত্যাকারীকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

হত্যাকাণ্ডের চার দিন পর সেন্ট মেরি অব মাউন্ট কারমেল গির্জায় গ্লোরিয়ার শেষকৃত্যে এক হাজারের বেশি মানুষ অংশ নেন।

দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষিত আলামত নতুন করে পরীক্ষা করার পর ২০১০ সালে তদন্তকারীরা গ্লোরিয়ার পোশাকে পাওয়া বীর্যের নমুনা থেকে সম্ভাব্য হত্যাকারীর ডিএনএ পরিচিতি তৈরি করতে সক্ষম হন। তবে তখনও কাউকে শনাক্ত করা যায়নি।

২০২৪ সালে শিকাগো পুলিশের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই ওই ডিএনএ নমুনার সঙ্গে পারিবারিক বংশপরিচয় অনুসন্ধানের ওয়েবসাইটে জমা দেওয়া বিভিন্ন জিনগত নমুনার তুলনা করে। এ প্রক্রিয়ায় ম্যাকইনার্নির পরিচয় শনাক্ত হয়।

এরপর তদন্তকারীরা ১৯৫৯ সালে শিকাগো পুলিশে চাকরির আবেদনের সময় ম্যাকইনার্নির দেওয়া আঙুলের ছাপের সঙ্গে গ্লোরিয়ার ব্যাগের ফিতায় পাওয়া ছাপের মিল খুঁজে পান। ডিএনএ ও আঙুলের ছাপ—দুই ধরনের আলামত মিলিয়ে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ম্যাকইনার্নির ডিএনএ যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার সম্মিলিত ডিএনএ তথ্যভান্ডারেও রয়েছে। তার সঙ্গে অন্য কোনো অমীমাংসিত অপরাধের যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে সংস্থাটি।

এফবিআই জানিয়েছে, গ্লোরিয়া হত্যার আলামত এবং শিশুদের লক্ষ্য করে অপরাধ সংঘটনকারীদের আচরণ ও ভুক্তভোগীদের বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট সময়ের অন্যান্য অমীমাংসিত অপরাধের সূত্রও অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

গ্লোরিয়ার ভাই অ্যাডাম কোয়ালেউইচ তখন শিশু ছিলেন। বোনের হত্যার ঘটনায় ম্যাকইনার্নি জীবদ্দশায় শাস্তি না পাওয়ায় আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন তিনি। তার ভাষ্য, হত্যাকারী স্বাভাবিক জীবন কাটিয়ে মারা গেছেন, কখনো নিজের অপরাধের শাস্তি পাননি।

তবে গ্লোরিয়াকে কেন লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ম্যাকইনার্নির বাবা-মায়ের বাড়ি কোয়ালেউইচ পরিবারের বাড়ি থেকে এক মাইলেরও কম দূরে ছিল। কিন্তু গ্লোরিয়ার সঙ্গে ম্যাকইনার্নির আগে কোনো পরিচয় বা যোগাযোগ ছিল বলে প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এছাড়া গ্লোরিয়া হত্যার তদন্তে ম্যাকইনার্নি কখনো যুক্ত ছিলেন কি না, তা-ও তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি। অবসরের পর তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের আইনজীবীদের দপ্তরে তদন্তকারী হিসেবে কাজ করার সময় ২০০৩ সালে অসামান্য কাজের স্বীকৃতিও পেয়েছিলেন। তিনি ছিলেন সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য, পাঁচ সন্তানের বাবা এবং কয়েকজন নাতি-নাতনির দাদা।

৬৫ বছর ধরে অমীমাংসিত থাকা এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে আধুনিক ডিএনএ প্রযুক্তি ও সংরক্ষিত আলামত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছে শিকাগো পুলিশ।

সূত্র: এনবিসি নিউজ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কক্সবাজার আদালত পাড়ায় ময়লা পানি ও আবর্জনার স্তূপ, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৪৭ এম


কক্সবাজার আদালত পাড়ায় ময়লা পানি ও আবর্জনার স্তূপ, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং জেলার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক ও প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানের যাতায়াতের পথে সেফটি ট্যাংকের উপচে পড়া নোংরা পানি, বিভিন্ন ভবনের ওপর থেকে পড়া ময়লা পানি, আবর্জনার স্তূপ এবং মাদকদ্রব্যের ধ্বংসাবশেষের কারণে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। একই অবস্থা দেখা যাচ্ছে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের চারপাশেও। এই পথে চলাচলকারী বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী, আইনজীবী সহকারী এবং সাধারণ মানুষ দুর্গন্ধ ও নোংরা পরিবেশের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই এলাকার আশপাশে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, আইনজীবী সমিতি ভবন, আইন কলেজ এবং জেলার বিভিন্ন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও জুডিশিয়াল আদালত অবস্থিত। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন আইনগত, প্রশাসনিক ও বিচারিক প্রয়োজনে হাজারো মানুষ যাতায়াত করে। মামলার শুনানি, জামিন, নথিপত্র সংগ্রহ, আইনি পরামর্শ এবং বিভিন্ন সরকারি সেবা নিতে আসা মানুষের জন্য এই এলাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ এলাকার চলাচলের পথে সেফটি ট্যাংকের উপচে পড়া দুর্গন্ধযুক্ত পানি এবং আবর্জনা জমে রয়েছে। পাশাপাশি, কয়েকটি ভবনের ওপর থেকে নোংরা পানি সরাসরি পথের ওপর পড়ছে, যা পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। অন্যদিকে, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের চারপাশেও নোংরা পানি ও আবর্জনার কারণে পরিবেশ অসহনীয় হয়ে উঠেছে। সব মিলিয়ে আদালত ও প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার আশপাশে পরিচ্ছন্ন পরিবেশের অভাব জনদুর্ভোগ বাড়িয়ে তুলেছে।

বিশেষ করে দূরদূরান্ত থেকে আদালতে আসা বিচারপ্রার্থী, নারী, বয়স্ক ব্যক্তি এবং অসুস্থ মানুষকে এসব নোংরা পানি ও আবর্জনা মাড়িয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। দুর্গন্ধের কারণে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করাও কষ্টকর হয়ে পড়ছে। এ ছাড়া, মাদকদ্রব্যের ধ্বংসাবশেষ যত্রতত্র পড়ে থাকার বিষয়টিও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আদালত ও প্রশাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের আশপাশে এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ থাকায় ভুক্তভোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পাশাপাশি নোংরা পানি নির্গমনের উৎস চিহ্নিত করা এবং ভবনগুলো থেকে পানি সরাসরি চলাচলের পথে পড়া বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

সচেতন মহলের মতে, জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে সেফটি ট্যাংকের উপচে পড়া পানি বন্ধ করা, ভবনের বর্জ্যপানি নিষ্কাশনের সুষ্ঠু ব্যবস্থা গ্রহণ, আবর্জনা অপসারণ এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানো দরকার।

এ অবস্থায় কক্সবাজারের বিচারক, জেলা প্রশাসক, গণপূর্ত বিভাগ, আইনজীবী সমিতি এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল। তাঁদের দাবি, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে আদালত ও প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানসংলগ্ন এলাকাকে পরিচ্ছন্ন, দুর্গন্ধমুক্ত ও জনবান্ধব পরিবেশে ফিরিয়ে আনা হোক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সোনালী ব্যাংকের নতুন দুই ডিএমডিকে পরিচালনা পর্ষদের ফুলেল শুভেচ্ছা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৫৪ এম


সোনালী ব্যাংকের নতুন দুই ডিএমডিকে পরিচালনা পর্ষদের ফুলেল শুভেচ্ছা

সোনালী ব্যাংক পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ নতুন দুই ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি) মো. জামান মোল্লা এবং মো. সাফায়েত হোসেন পাটওয়ারীকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছে। তারা জেনারেল ম্যানেজার পদ থেকে পদোন্নতি পেয়ে ডিএমডি হিসেবে নিয়োগ লাভ করেছেন।

ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের পর্ষদ সভাকক্ষে সোমবার (১২ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. শওকত আলী খানসহ অন্যান্য পরিচালকবৃন্দ নতুন দুই ডিএমডিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

এটি উল্লেখযোগ্য যে, গত ৮ অক্টোবর অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের একটি প্রজ্ঞাপনে সোনালী ব্যাংকের জেনারেল ম্যানেজার পদ থেকে পদোন্নতি পেয়ে ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে নিয়োগ পান মো. জামান মোল্লা ও মো. সাফায়েত হোসেন পাটওয়ারী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৩৪ বছর বয়সে মারা গেলেন ‘ব্রেকিং ব্যাড’ খ্যাত আরজে মিট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৫৫ এম


৩৪ বছর বয়সে মারা গেলেন ‘ব্রেকিং ব্যাড’ খ্যাত আরজে মিট

মার্কিন টেলিভিশন সিরিজ ‘ব্রেকিং ব্যাড’-এ ওয়াল্টার হোয়াইটের বিদ্রোহী ছেলে ওয়াল্টার হোয়াইট জুনিয়র চরিত্রে অভিনয় করে পরিচিতি অর্জন করা অভিনেতা আরজে মিট মারা গেছেন। তাঁর বয়স ছিল ৩৪ বছর।

অভিনেতার প্রতিনিধি বিবিসিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, ‘প্রিয় অভিনেতা, জনহিতৈষী এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার নিয়ে সোচ্চার কর্মী আরজে মিটের মর্মান্তিক প্রয়াণে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।’

টেক্সাসের ব্রাউনসভিলে তাঁর মৃত্যু ঘটেছে। তবে মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। উল্লেখ্য, আরজে মিট নিজেও সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত ছিলেন। নিজের শারীরিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি ‘ব্রেকিং ব্যাড’ সিরিজে ওয়াল্টার হোয়াইট জুনিয়র চরিত্রে অভিনয় করেন। ব্রায়ান ক্র্যানস্টন ও অ্যারন পলের সঙ্গে অভিনয় করা এই সিরিজের জন্য ২০১৪ সালে স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড অ্যাওয়ার্ডও লাভ করেন তিনি।

অভিনেতার প্রতিনিধি শন রেইলি বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, ‘মিট চরিত্রটিতে বাস্তবতার ছাপ এনেছিলেন। পাশাপাশি প্রতিবন্ধিতা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অন্তর্ভুক্তির পক্ষে কাজ করার একটি শক্তিশালী ক্ষেত্র তৈরি করেছিলেন তিনি।’

মিট ইউনাইটেড সেরিব্রাল পালসি এবং শ্রাইনার্স চিলড্রেনসের দূত হিসেবেও কাজ করেছেন। এছাড়া জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড ও বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগকে সহায়তা দিতে তিনি ‘দ্য মিট ফাউন্ডেশন’ প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর প্রতিনিধি জানান, নিজের পরিচিতিকে কাজে লাগিয়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়ে প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করা এবং তাঁদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর জন্য কাজ করতেন এই অভিনেতা।

ব্রাউনসভিল পুলিশ বিভাগ বিবিসিকে জানিয়েছে, অভিনেতার মৃত্যুর কারণ ও ধরন এখনো নির্ধারণ করা যায়নি। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। তবে তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সংশ্লিষ্টতা সন্দেহ করা হচ্ছে না।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে ক্যামেরন কাউন্টির জাস্টিস অব দ্য পিস সিন্ডি হিনোজোসা জানান, ১২ অক্টোবর নিজের বাড়ি বলে ধারণা করা হচ্ছে- এমন একটি স্থানে মিটকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তাঁর মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে ময়নাতদন্ত করা হবে।

‘ব্রেকিং ব্যাড’ ও ওয়াল্টার হোয়াইট জুনিয়র ২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল এএমসিতে পাঁচ মৌসুম প্রচারিত হয় ‘ব্রেকিং ব্যাড’। ভিন্স গিলিগান নির্মিত অপরাধনির্ভর এই সিরিজটি ব্যাপক সাফল্য অর্জন করে। প্রাইমটাইম এমি অ্যাওয়ার্ডে সিরিজটি ৫৮টি মনোনয়ন পায়, যার মধ্যে ১৬টি পুরস্কার জিতে নেয়। ২০১৩ ও ২০১৪ সালে সেরা ড্রামা সিরিজ বিভাগেও পুরস্কার পায় এটি।

সিরিজে ব্রায়ান ক্র্যানস্টন অভিনয় করেন নিউ মেক্সিকোর এক উচ্চবিদ্যালয়ের রসায়নের শিক্ষক ওয়াল্টার হোয়াইট চরিত্রে। ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার পর পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি অপরাধজগতে জড়িয়ে পড়েন। মেথামফেটামিনের অবৈধ ব্যবসায় যত গভীরভাবে প্রবেশ করতে থাকেন, ততই ছেলের কাছ থেকে দূরে সরে যান তিনি। সিরিজের বিভিন্ন পর্বে ওয়াল্টার জুনিয়র রসিকতার মাধ্যমে বাবার কর্মকাণ্ডের প্রতি নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করে।

মিটের মৃত্যুর খবরে শোক প্রকাশ করেছেন তাঁর পর্দার বাবা ব্রায়ান ক্র্যানস্টন। ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, এই খবর তাঁকে ‘গভীর হতাশা ও শোকে’ ডুবিয়ে দিয়েছে।

ক্র্যানস্টন বলেন, ‘ওয়াল্টার হোয়াইট জুনিয়র চরিত্রে অভিনয়ের জন্য যখন তাকে নেওয়া হয়, তখন তার বয়স মাত্র ১৪ বছর। চরিত্রটিতে সে আনন্দ ও উৎসাহ নিয়ে অভিনয় করেছিল।’

তিনি আরও লেখেন, ‘২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে যখন আমরা পাইলট পর্বের শুটিং শুরু করি, তখন ছেলেটি অভিনয়ে বেশ কাঁচা ছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে আমরা তাকে একজন সত্যিকারের ভালো অভিনেতা হয়ে উঠতে দেখেছি।’

মিটের প্রতিবন্ধী অভিনয়শিল্পীদের অধিকার নিয়ে কাজের কথাও স্মরণ করেন ক্র্যানস্টন। তাঁর ভাষ্য, নিজের সেরিব্রাল পালসিকে কখনোই কোনো কিছুর অজুহাত হতে দেননি মিট।

‘এত সম্ভাবনা, এত প্রতিভা—সবকিছু এভাবে হারিয়ে যাওয়া সত্যিই বড় ক্ষতি,’ লেখেন ক্র্যানস্টন। ‘ব্রেকিং ব্যাড’-এর শুটিং চলাকালে এবং সিরিজটির জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার পরও মিটের সঙ্গে সময় কাটাতে ভালো লাগত তাঁর।

শেষে পর্দার ছেলেকে উদ্দেশ করে ক্র্যানস্টন লেখেন, ‘তোমাকে খুব মিস করব, ছেলে।’

সিরিজে জেসি পিংকম্যান চরিত্রে অভিনয় করা অ্যারন পলও শোক প্রকাশ করেছেন। হলিউড রিপোর্টারকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আরজে, বন্ধু, তোমাকে আমি ভালোবাসি। তোমাকে মিস করব। আর যাঁরা এই কথাগুলো পড়ছেন, তাঁদের বলছি-জেনে রাখুন, আপনাদের ভালোবাসা হয় এবং আপনারা একা নন। সব সময় এটা মনে রাখবেন।’

মিটের পর্দার চাচা হ্যাঙ্ক শ্রেডার চরিত্রে অভিনয় করা ডিন নরিসও তাঁকে স্মরণ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘আরজে আমার টেলিভিশনের ছেলে ছিল না, তবে সেটে ছোটবেলা থেকেই আমি সব সময় তার খেয়াল রাখতাম। সে ছিল অসাধারণ মনের একজন তরুণ। তাকে ভীষণ মিস করা হবে।’

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে কাজ লুইজিয়ানায় বেড়ে ওঠা মিট ২০০৫ সালে ছোট বোনের অভিনয়জীবনে সহায়তা করতে লস অ্যাঞ্জেলেসে যান। তখন তাঁর বয়স ছিল কৈশোরের শুরুর দিকে। সেখানেই ‘ব্রেকিং ব্যাড’-এ অভিনয়ের সুযোগ পান তিনি।

লস অ্যাঞ্জেলেসে তাঁর প্রথম অডিশন ছিল মেথামফেটামিনবিরোধী একটি জনসচেতনতামূলক বিজ্ঞাপনের জন্য। চলতি মাসের শুরুতে জো ভলপিস পডকাস্টে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মিট বলেছিলেন, ‘এরপর “ব্রেকিং ব্যাড”-এর অডিশনে অংশ নিই। আমার মতে, এটিও মাদকবিরোধী একটি কাজ, কারণ শেষ পর্যন্ত এতে কারও পরিণতি ভালো হয় না।’

সিরিজের ওয়াল্টার হোয়াইট জুনিয়র চরিত্রটি নির্মিত হয়েছিল নির্মাতা ভিন্স গিলিগানের প্রয়াত এক বন্ধুর আদলে। ওই ব্যক্তির সেরিব্রাল পালসি ছিল আরও গুরুতর এবং তিনি চলাফেরার জন্য হাতের বাহুতে ভর দিয়ে ব্যবহৃত ক্রাচ ব্যবহার করতেন। তবে মিটের সেগুলোর প্রয়োজন হতো না।

নিজের শারীরিক অবস্থার বিষয়টি সিরিজে আলাদা করে উল্লেখ না করেও চরিত্রটিকে বিশ্বাসযোগ্যভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন মিট। কিশোর ওয়াল্টার জুনিয়রের রসবোধ ও স্বাভাবিক আচরণ দর্শকের কাছে চরিত্রটিকে গ্রহণযোগ্য করে তোলে।

‘ব্রেকিং ব্যাড’-এর মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়ার পর মিট প্রতিবন্ধী অভিনয়শিল্পীদের জন্য আরও বৈচিত্র্যময় চরিত্র এবং জটিল ও বাস্তবসম্মত উপস্থাপনার দাবি জানাতে থাকেন। দৃশ্যমান কিংবা অদৃশ্য-সব ধরনের প্রতিবন্ধিতার ক্ষেত্রেই প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর পক্ষে কাজ করেন তিনি।

২০২১ সালে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মিট বলেছিলেন, ‘পুরস্কারের মৌসুম এলে আমরা সব সময় এমন বৈচিত্র্যময় কাজ দেখতে চাই, যা শারীরিক ও মানসিক-সব দিক থেকেই আমাদের সবার প্রতিনিধিত্ব করে।’

তিনি আরও বলেছিলেন, ‘প্রতিবন্ধিতা নিয়ে সচেতনতা বাড়তে দেখা দারুণ ব্যাপার। তবে পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কখনো কখনো বড় ধরনের রূপান্তরের বদলে ছোট ছোট অগ্রগতি ও বিচ্ছিন্ন মুহূর্তের মধ্য দিয়েই সাফল্য আসে।’

‘ব্রেকিং ব্যাড’ ছাড়াও ‘হান্না মন্টানা’, ‘সুইচড অ্যাট বার্থ’ ও ‘ওয়েস্টহ্যাম্পটন’-এর মতো টেলিভিশন প্রযোজনায় অভিনয় করেছেন মিট। এ বছরের শুরুর দিকে মুক্তি পাওয়া ‘টকিং টু স্ট্রেঞ্জার্স’ ছিল তাঁর সাম্প্রতিক কাজগুলোর একটি।

বিবিসি অবলম্বনে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%