মুবাশশির আলম রাহুল, জামালপুর প্রতিনিধি
০৭:০৩ পি.এম
জামালপুরের এবারের এসএসসি পরীক্ষায় তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। ইসলামপুর উপজেলার কদমতলী কারিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে যাদের মধ্যে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে, তারা মোট তিনজন। বিদ্যালয়টিতে ১১ জন শিক্ষক রয়েছেন। তবে, এই তিনজন পরীক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
জেলা শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে যে ইসলামপুর উপজেলার কদমতলী কারিপাড়া এই উচ্চ বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত। বিদ্যালয়টি এই বছর প্রথমবারের মতো এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। তিনজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও তাদের মধ্যে কেউই পাস করতে পারেনি।
ইসলামপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার মোহাম্মদ মামুন অর রশীদ বলেছেন, ‘কদমতলী কারিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে তিনজন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। তাদের কেউই পাস করতে পারেনি। বিদ্যালয়ে ১১ জন শিক্ষক রয়েছেন।’
অন্যদিকে, সরিষাবাড়ী উপজেলার ছাপারকোনা মনিজা আবুল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও কোনো ভালো ফলাফল করতে পারেনি। এখানেও শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। এমপিওভুক্ত এই প্রতিষ্ঠানে চারজন শিক্ষক রয়েছেন এবং এবার এই বিদ্যালয় থেকে ১১ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে তাদের মধ্যে একজনও উত্তীর্ণ হয়নি।
সরিষাবাড়ী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর কবীরও বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, ‘ছাপারকোনা মনিজা আবুল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে চারজন শিক্ষক রয়েছেন। বিদ্যালয়টি থেকে ১১ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। তবে দুঃখজনকভাবে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি।’
এ ছাড়া, বকশীগঞ্জ উপজেলার শেফালী মফিজ মহিলা মাদরাসা থেকেও ১৪ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে এবং তাদের সবাই অকৃতকার্য হয়েছে।
জামালপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শামছুল আলম বলেছেন, ‘যে তিনটি প্রতিষ্ঠান শতভাগ অকৃতকার্য হয়েছে, সেগুলো সবই এমপিওভুক্ত। প্রতিষ্ঠানগুলোর পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কম। তারা সরকারি সব সুযোগ-সুবিধা পায়। তবে সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার পরেও কেন শতভাগ ফেল হলো, এ বিষয়ে আমরা তাদের কাছে জবাবদিহিতা চাইব। পাশাপাশি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।’
জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে আরও জানা গেছে, এ বছর জামালপুর জেলার ৮৫টি কেন্দ্রে মোট ৩৯ হাজার ৬৭২ জন পরীক্ষার্থী মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে এসএসসি পরীক্ষার্থী ৩০ হাজার ৭৮ জন, দাখিল ৫ হাজার ৩২১ জন এবং ভোকেশনাল পরীক্ষার্থী ৪ হাজার ২৭৩ জন। এ বছর জেলায় পাসের হার ৫৫ দশমিক ৬০ শতাংশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, ভারত সরকার আর রাষ্ট্রের কোনো স্তম্ভকে খাটো বা দুর্বল করার মতো কোনো কাজ করবে না। তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন যে, বাংলাদেশ তার রাষ্ট্রীয় কাঠামোর প্রতি বিশ্বের সবার শ্রদ্ধা প্রত্যাশা করে। ভারতের সঙ্গে আলোচনায় তিনি কিছুটা হলেও আশ্বস্ত হয়েছেন যে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না।
সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান। এর আগে সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ভারতীয় হাইকমিশনার বাংলাদেশে তার দায়িত্ব পালনের প্রথম দুই মাসের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাকে বাংলাদেশে স্বাগত জানান।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাইকমিশনারের বৈঠকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। এর মধ্যে দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের বিষয়টি অন্যতম। বাংলাদেশ এ প্রক্রিয়াটি দ্রুত করার জন্য ভারতের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে। এবং আশা করছেন ভারত ইতিবাচক সাড়া দেবে।
সেই সঙ্গে শহিদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহভাজন হত্যাকারীদের বাংলাদেশে ফেরত দেওয়ার বিষয়টি বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এসব হত্যাকাণ্ডের সন্দেহভাজনরা ভারতে ধরা পড়েছে। ভারত যেসব কাগজপত্র চেয়েছিল, বাংলাদেশ সেগুলো ইতোমধ্যে সরবরাহ করেছে। বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল উল্লেখ করে হত্যাকারীদের যত দ্রুত সম্ভব বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের জন্য ভারতকে বলা হয়েছে।
দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অনুকূল পরিবেশ তৈরির ওপরও বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান ড. খলিলুর রহমান। ৫ আগস্ট ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার বক্তব্যের বিষয়ে বাংলাদেশ যে লিখিত অসন্তোষ জানিয়েছে, সেটিও আলোচনায় এসেছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ভারতকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে অনুধাবন করেছে বলে তিনি জানান।
গতকালও ভারতীয় পক্ষ তাকে বিষয়টি জানিয়েছে এবং আজ (সোমবার) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছেও একই বার্তা দেওয়া হয়েছে। শেখ হাসিনার বক্তব্যের বিষয়ে ভারতের ভূমিকা নিয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একটি রাষ্ট্রের তিনটি স্তম্ভ হলো নির্বাহী বিভাগ, আইনসভা ও বিচার বিভাগ। শেখ হাসিনা বাংলাদেশের একটি উপযুক্ত আদালতের মাধ্যমে দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন। ফলে তার বক্তব্য বা আত্মপক্ষ সমর্থনের বিষয় আদালতের মাধ্যমেই হওয়া উচিত।
তিনি বলেন, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাতে বাংলাদেশের বিচার বিভাগের প্রতি অসম্মান করার ঘটনা ঘটেছে। সেই কাজটি ভারত সরকার করতে দিয়েছে। আমরা চাই, বিশ্বের সবাই বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোক। খলিলুর রহমান বলেন, আমরা আশা করব, ভারত সরকার বিষয়টি অনুধাবন করবে। তাদের সঙ্গে কথা বলে আমার ধারণা হচ্ছে, তারা জিনিসটা বুঝতে পেরেছে। রাষ্ট্রের কোনো স্তম্ভকে খাটো বা দুর্বল করার মতো কোনো কাজ ভারত সরকার আর করবে না—এটাই বাংলাদেশের প্রত্যাশা। ‘তাদের সঙ্গে আমার যা কথা হয়েছে, তাতে আমি কিছুটা হলেও আশ্বস্ত যে, এ ধরনের পুনরাবৃত্তি আর হবে না।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সরকারের দেওয়া দুটি আমন্ত্রণের বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমন্ত্রণের বিষয়ে এখনও বাংলাদেশ কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়নি। তিনি স্পষ্ট করে জানান, বিমসটেকের চেয়ারপারসন হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে যে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, সেটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাকে দেওয়া আমন্ত্রণের সঙ্গে এক নয়। এর আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সরকার গঠনের দিন একটি চিঠি দিয়েছিলেন। ৩ তারিখের ওই চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
ভারতীয় হাইকমিশনার আজ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় দিল্লি সফরের আমন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না, এমন এক সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে খলিলুর রহমান বলেন, আমরা এখনও এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফেসবুকে আমরা, সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট মেটার প্ল্যাটফর্মে, প্রতিদিন কোটি কোটি মানুষ মনের ভাব প্রকাশ করি। তবে, একটি সাধারণ পোস্ট বা মন্তব্যও মুহূর্তেই উধাও হয়ে যেতে পারে যদি তা মেটার ‘কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড’ লঙ্ঘন করে।
বিখ্যাত সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ফেসবুকের অভ্যন্তরীণ ‘রুলবুক’ বা নিয়মাবলী ফাঁস করা হয়েছিল। সেখানে সহিংসতা, যৌনতা এবং ঘৃণা উদ্রেককারী বক্তব্যের বিষয়ে কঠোর নির্দেশনার কথা বলা হয়েছে।
এ ছাড়া, মেটার সেন্সরশিপ প্যাটার্ন নিয়ে ম্যাশেবল-এর প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে কীভাবে নির্দিষ্ট কিছু শব্দ বা বিষয়বস্তু স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
ফেসবুকে কোন ধরনের শব্দ বা বক্তব্য আপনার পোস্টকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে, তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
ফেসবুকের নীতি অনুযায়ী, কাউকে শারীরিকভাবে ক্ষতি করার সরাসরি হুমকি দেওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। দ্য গার্ডিয়ান-এর তথ্যমতে, ‘কাউকে গুলি করো’ (যেমন- ‘Someone shoot Trump’) এ জাতীয় সুনির্দিষ্ট হুমকি যদি দেওয়া হয়, তবে সেই পোস্ট দ্রুত রিমুভ করা হয়। তবে মজার বিষয় হলো, ‘Fuck off and die’-এর মতো গালিগালাজ সব সময় রিমুভ হয় না। কারণ ফেসবুকের অ্যালগরিদম এগুলোকে অনেক সময় ‘বিশ্বাসযোগ্য হুমকি’ হিসেবে গণ্য করে না। এছাড়া ‘লুটতরাজ শুরু হলে গুলিও শুরু হবে’—এ ধরনের উস্কানিমূলক বাক্য ব্যবহারের কারণে স্বয়ং ডোনাল্ড ট্রাম্পের পোস্টও মেটা রিভিউয়ের আওতায় এনেছিল।
কোনও জাতি, ধর্ম বা বর্ণের মানুষকে হেয় করে কথা বললে ফেসবুক তা সেন্সর করে। উদাহরণস্বরূপ, ‘আইরিশরা বোকা’ বা ‘অভিবাসীরা নোংরা’—এ জাতীয় বাক্য সরাসরি ঘৃণা উদ্রেককারী হিসেবে গণ্য হতে পারে। এমনকি নির্দিষ্ট কিছু প্রাণীর সাথে তুলনা (যেমন- গরু, বানর বা আলু/potato) করেও যদি কাউকে আক্রমণ করা হয়, তবে তা হেইট স্পিচ হিসেবে রিমুভ হতে পারে।
বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত কোনো ব্যক্তি বা সন্ত্রাসী সংগঠনের প্রশংসা করা ফেসবুকে নিষিদ্ধ। যেমন- মার্কিন অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসী টিমোথি ম্যাকভেই কিংবা শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী গোষ্ঠী কেকেকে-এর সমর্থনে কোনো শব্দ বা প্রতীক ব্যবহার করলে আপনার পোস্ট সরিয়ে দেওয়া হবে এবং অ্যাকাউন্ট ঝুঁকির মুখে পড়বে।
যৌনতা এবং নগ্নতা নিয়ে ফেসবুকের ফিল্টার অত্যন্ত সংবেদনশীল। দ্য গার্ডিয়ান-এর ফাঁস করা তথ্যে দেখা যায়, শরীরের নির্দিষ্ট অঙ্গের নাম বা বর্ণনা সরাসরি ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। এমনকি শিল্পকর্মের ক্ষেত্রেও যদি ডিজিটাল পদ্ধতিতে তৈরি যৌন আবেদনময় চিত্র থাকে, তবে তা রিমুভ করা হয়।
ইন্টারনিউজের একটি গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ফেসবুকের অটোমেটেড সিস্টেম অনেক সময় শব্দের সঠিক অনুবাদ বা প্রসঙ্গের গভীরতা বুঝতে ভুল করে। উদাহরণস্বরূপ, আরবিতে ‘সহিংসতার ডাক’ (calls to action)-কে ভুল অনুবাদ করে ‘ফোন কল’ হিসেবে দেখানো হয়েছিল। যা ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করেছিল।
বাংলার ক্ষেত্রেও দেখা গেছে, ‘ধর্মীয় কোরবানি’ বা নির্দিষ্ট ধর্মীয় উপাসনালয়ের নাম (যেমন- মসজিদ বনাম উপাসনাস্থল) ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনুবাদের পার্থক্যের কারণে অনেক সময় পোস্টের রিচ কমে যায় বা ভুলবশত ফ্ল্যাগ করা হয়।
ফেসবুকের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই অনেক সময় রূপক অর্থ বা ব্যঙ্গাত্মক ভাষা বুঝতে ব্যর্থ হয়। তাই বিতর্কিত কোনো শব্দ ব্যবহারের সময় সতর্ক থাকা জরুরি। বিশেষ করে রাজনৈতিক অস্থিরতা বা নির্বাচনের সময় ফেসবুকের অ্যালগরিদম ‘স্লাল লিস্ট’ বা নিষিদ্ধ শব্দের তালিকা আরও বাড়িয়ে দেয়।
তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান ও ম্যাশেবল
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ৩৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল সম্প্রতি প্রকাশ করা হয়েছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়ের পেরিত প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই সব বিদ্যালয় থেকে মোট ৩ হাজার ৩৭২ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৯৬৫ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাশের হার ৫৮ দশমিক ২৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে মোট ১৫৪ জন।
প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, বিদ্যালয়ভিত্তিক ফলাফল নিম্নরূপ—
গৌরীপুর রাজেন্দ্র কিশোর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়— পাশের হার ৭৪.৪৯%, জিপিএ-৫-১৮ জন।
গৌরীপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়— ৮০.৪৬%, জিপিএ-৫-৩৫ জন।
নূরুল আমিন খান উচ্চ বিদ্যালয়— ৬৮.৪০%, জিপিএ-৫-২৪ জন।
অগ্রদূত নিকেতন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়— ২১.০৫%, জিপিএ-৫,০ জন।
রামগোপালপুর পি.জে.কে উচ্চ বিদ্যালয়— ৭৪.৬৫%, জিপিএ-৫,০ জন।
লালখান উচ্চ বিদ্যালয়— ৪৮.৩৯%, জিপিএ-৫,০ জন।
বেতান্দর উচ্চ বিদ্যালয়— ৭৫%, জিপিএ-৫ ০ জন।
মাইজহাটি উচ্চ বিদ্যালয়— ৩৭.২১%, জিপিএ-৫, ০ জন।
ডক্টর মোহাম্মদ রেজাউর করিম উচ্চ বিদ্যালয়— ৫৪.৩৯%, জিপিএ-৫,০ জন।
১০. শাহগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ— ৩৪.৭২%, জিপিএ-৫-৬ জন।
১১. তালে হোসেন খান উচ্চ বিদ্যালয়— ৪২.৮৬%, জিপিএ-৫-২ জন।
১২. নহাটা উচ্চ বিদ্যালয়— ৫৫.১৩%, জিপিএ-৫,০ জন।
১৩. পাছার উচ্চ বিদ্যালয়— ৫৯.১৪%, জিপিএ-৫-৫ জন।
১৪. গিধাঊষা হাসন আলী উচ্চ বিদ্যালয়— ৪০.৮৩%, জিপিএ-৫.০ জন।
১৫. ডৌহাখলা উচ্চ বিদ্যালয়— ৫১.১৮%, জিপিএ-৫-৩ জন।
১৬. মোজাফ্ফর আলী ফকির উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ— ৩৬%, জিপিএ-৫.=০ জন।
১৭. বারুয়ামারী উচ্চ বিদ্যালয়— ৫৬.৬৭%, জিপিএ-৫-৬ জন।
১৮. চান্দের সাটিয়া মডেল উচ্চ বিদ্যালয়— ৫৬.৩২%, জিপিএ-৫-৩ জন।
১৯. শালীহর হাজী আমির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়— ৬৯.৫৭%, জিপিএ-৫-১ জন।
২০. গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়— ৫৮.৩৩%, জিপিএ-৫-১ জন।
২১. লামাপাড়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়— ৫২.৬৩%, জিপিএ-৫,০ জন।
২২. শ্যামগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়— ৩৮%, জিপিএ-৫-৩ জন।
২৩. মনাটি উচ্চ বিদ্যালয়— ৬৫.৬৫%, জিপিএ-৫-১৫ জন।
২৪. কবুলেরনেচ্ছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়— ৭৯.৩১%, জিপিএ-৫-৩ জন।
২৫. ধুরুয়া নাজিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়— ৫০.৬৩%, জিপিএ-৫-০ জন।
২৬. বানিজুজী উচ্চ বিদ্যালয়— ৭১.৮৫%, জিপিএ-৫-২ জন।
২৭. খলতবাড়ী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়— ৪৭.০৬%, জিপিএ-৫-১ জন।
২৮. লংকাকান্দা উচ্চ বিদ্যালয়— ৫৪.৭৬%, জিপিএ-৫,০ জন।
২৯. শ্যামগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়— ৮০.২০%, জিপিএ-৫-৫ জন।
৩০. মাওহা উচ্চ বিদ্যালয়— ৫১.৪৭%, জিপিএ-৫-১ জন।
৩১. ভালুকাপুর উচ্চ বিদ্যালয়— ৬৭.৩৯%, জিপিএ-৫,০ জন।
৩২. বড়ভাগ উচ্চ বিদ্যালয়— ৫০.৬৮%, জিপিএ-৫-১ জন।
৩৩. ভুটিয়ারকোনা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ— ৫৪.৩৫%, জিপিএ-৫,০ জন।
৩৪. সহরবানু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়— ৪৯.২৮%, জিপিএ-৫-১ জন।
৩৫. সিধলা উচ্চ বিদ্যালয়— ৭৩.৭৭%, জিপিএ-৫-১৭ জন।
জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে এগিয়ে
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, গৌরীপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সর্বোচ্চ ৩৫ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ প্রাপ্ত করেছে। এরপর নূরুল আমিন খান উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২৪ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে, গৌরীপুর রাজেন্দ্র কিশোর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৮ জন, সিধলা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৭ জন এবং মনাটি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৫ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
পাশের হারের দিক থেকে বেশকিছু বিদ্যালয় উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে। এর মধ্যে শ্যামগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ৮০.২০ শতাংশ পাশের হার অর্জন করেছে, গৌরীপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ৮০.৪৬ শতাংশ, কমলরেনহা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ৭৯.৩১ শতাংশ, বেতান্দর উচ্চ বিদ্যালয় ৭৫ শতাংশ এবং গৌরীপুর রাজেন্দ্র কিশোর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ৭৪.৪৯ শতাংশ পাশের হার লাভ করেছে।
অন্যদিকে, অগ্রদূত নিকেতন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের হার ২১.০৫ শতাংশ, মোজাফ্ফর আলী ফকির উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের পাশের হার ৩৬ শতাংশ এবং মাইজহাটি উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের হার ৩৭.২১ শতাংশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলাম, যিনি সম্প্রতি আলোচনায় ছিলেন, হত্যা চেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন পেয়েছেন।
এটি ঘটেছে সোমবার (১০ আগস্ট) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার এবং বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চের অধীনে।
আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী এস এম শাহজাহান।
সম্প্রতি সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটিতে তাকে একটি কক্ষে তরুণীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে দেখা যায়। ওই ভিডিও ফাঁসের ঘটনায় অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ হিসেবে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টা করা হয়। ২২ জুলাই এমপি গাজী নজরুল ইসলামসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টার মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী তরুণীর মামা ওবায়দুর রহমান। রাজধানীর পল্লবী থানায় এ মামলা করা হয়।
মামলার এজাহারে বাদী ওবায়দুর রহমান জানান, তিনি পল্লবীর কালশী এলাকায় তার বোনের ‘রোজ গার্ডেন টাওয়ারের’ বাসায় থাকেন এবং এমপি গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়িচালক হিসেবে কাজ করতেন। আত্মীয়তার সম্পর্কের জেরে নজরুল ইসলাম ওই বাসায় যাতায়াত করতেন। এক সময় তিনি ওবায়দুর রহমানের ভাগ্নির সঙ্গে ‘অনৈতিক’ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। বিষয়টি টের পেয়ে, ওবায়দুর রহমান তাকে এ সম্পর্ক থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান। তবে এতে ক্ষিপ্ত হয়ে এমপি নজরুল ইসলাম তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন।
বাদীর অভিযোগ হলো, সম্প্রতি মগবাজারের একটি চক্র এমপি নজরুল ইসলাম এবং তার ভাগ্নির কিছু ‘অপ্রীতিকর ভিডিও’ সংগ্রহ করে নজরুল ইসলামকে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে। এমপি নজরুল ইসলামের ধারণা হয় যে, ওবায়দুর রহমানই গোপন ভিডিও ধারণ করে গণমাধ্যম এবং ওই চক্রের হাতে সেগুলো তুলে দিয়েছেন। এছাড়া, এ নিয়ে বিরোধের কারণে ১৪ জুলাই এমপি নজরুল ইসলামের নির্দেশে অন্য আসামিরা তার ওপর হামলা চালায়।
এজাহারে ওবায়দুর রহমান আরও দাবি করেন যে, ঘটনার দিন বেলা ১১টার সময় আসামি আমিনুর রহমান তাকে কৌশলে ড্রয়িংরুমে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে অন্যান্য আসামিরা মিলে তাকে লাঠি দিয়ে হামলা শুরু করে। একপর্যায়ে আমিনুর তাকে ফ্লোরে ফেলে গলা চেপে ধরায় শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। সেই সময়ে ওবায়দুর রহমানের মা তাহমিনা এবং ছোট বোন মীম এগিয়ে এসে তাকে বাঁচানোর চেষ্টার পাশাপাশি চিৎকার শুরু করলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। এর পরবর্তী পর্বে, ওবায়দুর রহমান কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
উল্লেখ্য, এমপি গাজী নজরুল ইসলামের ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সম্প্রতি তার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানায়। জরুরি বৈঠকে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় জামায়াতের পক্ষ থেকে ২২ জুলাই বিকেলে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ