০৫:৫২ পি.এম
আজ রাজধানীর গুলশান সেন্ট্রাল পার্কে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এক কার্যক্রমে তিন মাসব্যাপী মশক নিধন ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচির উদ্বোধন উপলক্ষ্যে আয়োজিত র্যালিতে অংশগ্রহণ করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী, ড. এম. এ. মুহিত।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী, ড. এম. এ. মুহিত বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, জনস্বাস্থ্যের সার্বিক উন্নয়ন শুধুমাত্র হাসপাতাল নির্মাণ, সরকারি উদ্যোগ বা চিকিৎসকদের প্রচেষ্টার মাধ্যমে সম্ভব নয়; জনগণকে সম্পৃক্ত করে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। তিনি যোগ করেন, ‘জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সচেতনতা ছাড়া ডেঙ্গুসহ জনস্বাস্থ্যগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা অত্যন্ত কঠিন। তাই ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)-সহ দেশের সকল সিটি কর্পোরেশনের সহযোগিতায় জনগণকে সম্পৃক্ত করে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’
আজ অনুষ্ঠিত রাজধানীর গুলশান সেন্ট্রাল পার্কে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই তিন মাসব্যাপী মশক নিধন ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচির উদ্বোধন উপলক্ষ্যে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।
আরও পড়ুন: শারদীয় দুর্গাপূজার মহাষ্টমী উপলক্ষে আজ সারা দেশে বন্ধ স্বর্ণ বেচাকেনা
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘জনগণকে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমেই জাতীয় পর্যায়ের বড় বড় কর্মসূচি সফল হয়েছে। যেমন, হামের টিকাদান কর্মসূচিতে অল্প সময়ে প্রায় ২ কোটি শিশুকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছিল। তেমনি, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণেও জনগণের অংশগ্রহণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
তিনি বলেন, ‘প্রতিটি নাগরিক যদি ডেঙ্গু প্রতিরোধকে নিজের দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করেন এবং তাদের প্রতিদিনের জীবনযাপনে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আনেন, নিজের বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখেন এবং প্রতিবেশী, বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনকে সচেতন করেন, তাহলে ডেঙ্গু পরিস্থিতি অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।’
জনগণের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সরকার আরও বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সুস্থ জনগোষ্ঠী ছাড়া উন্নত রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়। একটি জাতির উন্নয়নের প্রকৃত সুফল তখনই নিশ্চিত হয়, যখন সেই উন্নয়ন মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবনমানের উন্নয়নে ভূমিকা রাখে।’
তিনি বলেন, ডিএনসিসির নেতৃত্বে আগামী তিন মাসব্যাপী যে কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে, তার মূল লক্ষ্য হচ্ছে জনগণকে সচেতন করা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা। এই কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে চলবে।
আরও পড়ুন: আমি খুবই চিন্তিত: নেতানিয়াহু আসন্ন নির্বাচনে জয় নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন
সোসাইটিভিত্তিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিটি আবাসিক এলাকা ও সোসাইটিকে সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে, যাতে তারা নিজেদের এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে সক্ষম হয়। কিন্তু কেউ যদি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয় এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করে, তাহলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
ডেঙ্গু প্রতিরোধে ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগের কথাও তিনি উল্লেখ করেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজের সময় ইমামদের মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করা হবে, যেন এই বিষয়ে একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে ওঠে।
সভাপতির বক্তব্যে ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, আগামী তিন মাসে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। এই কর্মসূচির আওতায় মশক নিধন, নগরবাসীকে সচেতন করার জন্য ব্যাপক প্রচারণা, ক্যাম্পেইন, সভা-সমাবেশ ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
তিনি বলেন, ‘কোরবানির ঈদে চারটি সোসাইটির সহযোগিতায় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন সফলভাবে কোরবানির বর্জ্য অপসারণে সক্ষম হয়েছে। একইভাবে জনগণ ও সোসাইটিগুলোর সক্রিয় সহযোগিতা পেলে ডেঙ্গু পরিস্থিতিও সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।’
আরও পড়ুন: আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি, ৪৭.৪২% পরিবার ঋণের চাপের মধ্যে
তিনি উপস্থিত জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আজ যারা এখানে উপস্থিত আছেন, তারা যদি নিজেদের পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও প্রতিবেশীদের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধের বার্তা ছড়িয়ে দেন, তাহলে সচেতনতার একটি শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে উঠবে।’
তিনি নগরবাসীকে বৃষ্টির পানি, ফুলের টব, ছাদ, বারান্দা, পরিত্যক্ত পাত্র কিংবা যেকোনো স্থানে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করার আহ্বান জানান। কারণ, এসব স্থানেই এডিস মশা বংশ বিস্তার করে।
প্রশাসক আরও জানান, আগামী তিন মাস ডিএনসিসির পক্ষ থেকে বাসা-বাড়িতে ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হবে। একইসঙ্গে বিভিন্ন ওয়ার্ডে সচেতনতামূলক সভা, পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও মশক নিধন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। নগরবাসীর সেবায় ডিএনসিসির কার্যক্রম ২৪ ঘণ্টা চালু থাকবে বলেও তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস. এম. জিয়াউদ্দিন হায়দার, প্রধানমন্ত্রীর গবেষণা কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী, ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বক্তব্য রাখেন।
আরও পড়ুন: ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে ইউপি নির্বাচনের তফসিলের সম্ভাবনা
সমাবেশের পর একটি বর্ণাঢ্য র্যালি গুলশান সেন্ট্রাল পার্ক থেকে শুরু হয়ে গুলশান-২-এর বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ পার্কে গিয়ে শেষ হয়। র্যালিতে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, ডিএনসিসি প্রশাসক, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী, বিভিন্ন সোসাইটির নেতৃবৃন্দ, ডিএনসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিপুলসংখ্যক নগরবাসী অংশগ্রহণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন