ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জনগণকে সম্পৃক্ত করেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী


জনগণকে সম্পৃক্ত করেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

আজ রাজধানীর গুলশান সেন্ট্রাল পার্কে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এক কার্যক্রমে তিন মাসব্যাপী মশক নিধন ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচির উদ্বোধন উপলক্ষ্যে আয়োজিত র‌্যালিতে অংশগ্রহণ করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী, ড. এম. এ. মুহিত।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী, ড. এম. এ. মুহিত বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, জনস্বাস্থ্যের সার্বিক উন্নয়ন শুধুমাত্র হাসপাতাল নির্মাণ, সরকারি উদ্যোগ বা চিকিৎসকদের প্রচেষ্টার মাধ্যমে সম্ভব নয়; জনগণকে সম্পৃক্ত করে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। তিনি যোগ করেন, ‘জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সচেতনতা ছাড়া ডেঙ্গুসহ জনস্বাস্থ্যগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা অত্যন্ত কঠিন। তাই ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)-সহ দেশের সকল সিটি কর্পোরেশনের সহযোগিতায় জনগণকে সম্পৃক্ত করে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

আজ অনুষ্ঠিত রাজধানীর গুলশান সেন্ট্রাল পার্কে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই তিন মাসব্যাপী মশক নিধন ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচির উদ্বোধন উপলক্ষ্যে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।

আরও পড়ুন: শারদীয় দুর্গাপূজার মহাষ্টমী উপলক্ষে আজ সারা দেশে বন্ধ স্বর্ণ বেচাকেনা

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘জনগণকে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমেই জাতীয় পর্যায়ের বড় বড় কর্মসূচি সফল হয়েছে। যেমন, হামের টিকাদান কর্মসূচিতে অল্প সময়ে প্রায় ২ কোটি শিশুকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছিল। তেমনি, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণেও জনগণের অংশগ্রহণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি বলেন, ‘প্রতিটি নাগরিক যদি ডেঙ্গু প্রতিরোধকে নিজের দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করেন এবং তাদের প্রতিদিনের জীবনযাপনে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আনেন, নিজের বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখেন এবং প্রতিবেশী, বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনকে সচেতন করেন, তাহলে ডেঙ্গু পরিস্থিতি অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।’

জনগণের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সরকার আরও বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সুস্থ জনগোষ্ঠী ছাড়া উন্নত রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়। একটি জাতির উন্নয়নের প্রকৃত সুফল তখনই নিশ্চিত হয়, যখন সেই উন্নয়ন মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবনমানের উন্নয়নে ভূমিকা রাখে।’

তিনি বলেন, ডিএনসিসির নেতৃত্বে আগামী তিন মাসব্যাপী যে কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে, তার মূল লক্ষ্য হচ্ছে জনগণকে সচেতন করা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা। এই কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে চলবে।

আরও পড়ুন: আমি খুবই চিন্তিত: নেতানিয়াহু আসন্ন নির্বাচনে জয় নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন

সোসাইটিভিত্তিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিটি আবাসিক এলাকা ও সোসাইটিকে সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে, যাতে তারা নিজেদের এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে সক্ষম হয়। কিন্তু কেউ যদি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয় এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করে, তাহলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

ডেঙ্গু প্রতিরোধে ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগের কথাও তিনি উল্লেখ করেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজের সময় ইমামদের মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করা হবে, যেন এই বিষয়ে একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে ওঠে।

সভাপতির বক্তব্যে ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, আগামী তিন মাসে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। এই কর্মসূচির আওতায় মশক নিধন, নগরবাসীকে সচেতন করার জন্য ব্যাপক প্রচারণা, ক্যাম্পেইন, সভা-সমাবেশ ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

তিনি বলেন, ‘কোরবানির ঈদে চারটি সোসাইটির সহযোগিতায় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন সফলভাবে কোরবানির বর্জ্য অপসারণে সক্ষম হয়েছে। একইভাবে জনগণ ও সোসাইটিগুলোর সক্রিয় সহযোগিতা পেলে ডেঙ্গু পরিস্থিতিও সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।’

আরও পড়ুন: আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি, ৪৭.৪২% পরিবার ঋণের চাপের মধ্যে

তিনি উপস্থিত জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আজ যারা এখানে উপস্থিত আছেন, তারা যদি নিজেদের পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও প্রতিবেশীদের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধের বার্তা ছড়িয়ে দেন, তাহলে সচেতনতার একটি শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে উঠবে।’

তিনি নগরবাসীকে বৃষ্টির পানি, ফুলের টব, ছাদ, বারান্দা, পরিত্যক্ত পাত্র কিংবা যেকোনো স্থানে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করার আহ্বান জানান। কারণ, এসব স্থানেই এডিস মশা বংশ বিস্তার করে।

প্রশাসক আরও জানান, আগামী তিন মাস ডিএনসিসির পক্ষ থেকে বাসা-বাড়িতে ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হবে। একইসঙ্গে বিভিন্ন ওয়ার্ডে সচেতনতামূলক সভা, পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও মশক নিধন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। নগরবাসীর সেবায় ডিএনসিসির কার্যক্রম ২৪ ঘণ্টা চালু থাকবে বলেও তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস. এম. জিয়াউদ্দিন হায়দার, প্রধানমন্ত্রীর গবেষণা কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী, ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বক্তব্য রাখেন।

আরও পড়ুন: ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে ইউপি নির্বাচনের তফসিলের সম্ভাবনা

সমাবেশের পর একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি গুলশান সেন্ট্রাল পার্ক থেকে শুরু হয়ে গুলশান-২-এর বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ পার্কে গিয়ে শেষ হয়। র‌্যালিতে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, ডিএনসিসি প্রশাসক, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী, বিভিন্ন সোসাইটির নেতৃবৃন্দ, ডিএনসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিপুলসংখ্যক নগরবাসী অংশগ্রহণ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র মজুদ ২১-২২ শতাংশ আছে, ট্রাম্পের দাবি মার্কিন হামলার পর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:৫২ পি.এম


ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র মজুদ ২১-২২ শতাংশ আছে, ট্রাম্পের দাবি মার্কিন হামলার পর

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলাবেহারিত হতে ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদন ক্ষমতার বেশিরভাগই হারিয়েছে এবং ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদের মাত্র ২১ থেকে ২২ শতাংশ অবশিষ্ট রয়েছে।

 

এনবিসি নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘বেশিরভাগ ড্রোন কারখানা, বেশিরভাগ উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন এলাকা ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে।’

রোববার সম্প্রচারিতব্য এই সাক্ষাৎকারের কিছু অংশ শুক্রবার প্রকাশ করা হয়।

ট্রাম্প আরও বলেন, তাদের এখনও কিছু সামর্থ্য আছে, তবে তা সামান্যই। তাদের কাছে কিছু ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, কিছু ড্রোনও বিদ্যমান।’

‘আমি বলব শতাংশের হিসাবে, হয়তো তা তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের ২১-২২ শতাংশ। এটাও অনেক, কিন্তু আমরা যখন প্রথম হামলা চালিয়েছিলাম, তখন যা ছিল, এখন আর তা নেই।’ ট্রাম্প এই মন্তব্যটি করেছেন।

২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধের স্থায়ীভাবে শেষ করার চুক্তিতে ইরান কেন এখনও রাজি হয়নি, সে সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা গর্বিত এবং এমন কিছু কাজ আছে যা তারা কখনও ভাবেনি যে তাদের করতে হবে, কিন্তু এখন তাদের তা করতে হবে। তাদের আর কোনো উপায় নেই, তবে এতে কিছুটা সময় লাগে।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট এভাবে জানান।

সূত্র: আনাদোলু

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ট্রাম্পের সঙ্গে মোজতবার দেখা হওয়ার সম্ভাবনা নাকচ ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:৫৩ পি.এম


ট্রাম্পের সঙ্গে মোজতবার দেখা হওয়ার সম্ভাবনা নাকচ ইরানের

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে দেখা হওয়ার ধারণা নাকচ করেছে ইরান। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প, মোজতবার সঙ্গে সাক্ষাতের সম্ভাবনা উত্থাপন করার পর, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এটি নাকচ করে দেন।

 

বুধবার (৩ জুন) নিউ ইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে, মোজতবার সাথে তার দেখা হওয়ার প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি তার সঙ্গে দেখা করতে চাই।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘সবকিছু কীভাবে এগোয় তার ওপর নির্ভর করে, সম্ভবত কোনো এক সময় আমাদের দেখা হবে।’

তবে, ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক আরাঘচি এই সম্ভাবনাকে গুরুত্বহীন উল্লেখ করেন এবং বলেন যে, এটি বাস্তবসম্মত নয়।

বৃহস্পতিবার রাতে লেবাননের গণমাধ্যমে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে এমনটা বলেন তিনি।

আরাঘচি আল মায়াদিন টেলিভিশন চ্যানেলকে বলেন, ‘আমি একটি প্রতিবেদন দেখেছি, যেখানে বলা হয়েছে যে তিনি (ট্রাম্প) বলেছেন, তিনি মোজতবার সাথে একটি বৈঠকের জন্য প্রস্তুত অথবা তিনি একটি বৈঠক করতে চান।’

কিন্তু পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমাদের বাস্তববাদী হওয়া উচিত এবং বাস্তব জগতে থাকা উচিত।’

২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় তার পিতা ও পূর্বসূরি আলী খামেনির মৃত্যুর পর মার্চ মাসে আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিযুক্ত করা হয়।

আরাঘচি সাক্ষাৎকারে আরও বলেন, যে হামলায় আলী খামেনি নিহত হন, সে সময় তিনি নেতার সেই কার্যালয়ের ভেতরেই ছিলেন যেখানে তিনি মারা যান, কিন্তু ভবনের অন্য একটি অংশে থাকায় তিনি অক্ষত ছিলেন।

এই হামলার কারণে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে ইসরাইল ও মার্কিন মিত্রদের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে প্রতিশোধ নেয়।

আরাঘচি আরও জানান, নতুন সর্বোচ্চ নেতার দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সম্পূর্ণ ও কার্যকর উপস্থিতি এবং পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।

নিয়োগের পর থেকে মোজতবা খামেনির জনসমক্ষে অনুপস্থিতির কারণ হলো যুদ্ধকে ঘিরে থাকা ‘নিরাপত্তাজনিত বিবেচনা।’ বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

এর আগে মার্কিন হামলায় মোজতবা গুরুতর আহত হনে বলে খবর বেরিয়েছিল।

সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মার্কিন আগ্রাসনের জবাবে হরমুজ বন্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:৫৬ পি.এম


মার্কিন আগ্রাসনের জবাবে হরমুজ বন্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের

কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইরানের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে আবারও চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানাচ্ছে, নতুন এই উত্তেজনার মধ্যে আগ্রাসনের জবাবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও গ্যাস রপ্তানি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়ার কঠোর হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে দেশটির পক্ষ থেকে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে, হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকার চলাচল নিয়ে উত্তেজনার কারণে কেশম দ্বীপ ও সিরিক অঞ্চলে তাদের যোগাযোগ অবকাঠামোতে মার্কিন ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।

আইআরজিসি জানায়, এর জবাবে তাদের অ্যারোস্পেস ইউনিট কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমান ঘাঁটি এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তরের বিভিন্ন স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

বিবৃতিতে আইআরজিসি আরো বলে, স্থানীয় সময় শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার সময় কিছু ট্যাংকার অনুমতি ছাড়াই হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করে। সতর্ক করার পর একটি ট্যাংকারে আঘাত হানা হয় এবং বাকি জাহাজগুলো ফিরে যায়।

এর কিছু সময় পরই, ইরানের দাবি অনুযায়ী, তাদের দুটি টেলিযোগাযোগ স্থাপনায় মার্কিন বাহিনী ড্রোন হামলা চালায়। এর প্রতিক্রিয়ায় কুয়েত ও বাহরাইনের মার্কিন স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে।

পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে আইআরজিসি সতর্ক করে জানায়, এ ধরনের আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে তার জবাব আরো কঠোর হবে।

একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়ার সম্ভাবনার কথাও তারা উল্লেখ করে, বলে যে, এর পরিণতির দায় মার্কিন-ইসরায়েলি জোটকেই বহন করতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্বাধীন বাংলাদেশ পুনর্গঠনের রূপকার জিয়াউর রহমান : মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:৫৮ পি.এম


স্বাধীন বাংলাদেশ পুনর্গঠনের রূপকার জিয়াউর রহমান : মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশ পুনর্গঠন ও রাষ্ট্রীয় ভিত্তি শক্তিশালীকরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বলে মন্তব্য করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান।

তিনি শনিবার (৬ জুন) রাজধানীর মগবাজারে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ অডিটরিয়ামে আয়োজিত এক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেছিলেন।

জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনাসভার আয়োজন করা হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অবদান রেখে চলেছেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের সূচনালগ্নে তার ভূমিকা জাতিকে দিকনির্দেশনা দিয়েছিল এবং তার পরে যুদ্ধ পরিচালনায় সংগঠিত কাঠামো গড়ে তুলতে সহায়ক ছিল।

তিনি আরও বলেন, তেলিয়াপাড়া সম্মেলনে জিয়াউর রহমানের প্রস্তাবে যুদ্ধের নাম ‘মুক্তিযুদ্ধ’ নির্ধারণ করা হয় এবং প্রাথমিকভাবে সেক্টরভিত্তিক যুদ্ধ পরিচালনার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, যা মুক্তিযুদ্ধকে সুসংগঠিত করার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

আহমেদ আযম খান বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে জিয়াউর রহমান সামরিক শাসন থেকে দেশের গণতান্ত্রিক ধারায় প্রত্যাবর্তন ঘটান। তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন, রাজনৈতিক কার্যক্রমের সুযোগ সৃষ্টি করেন এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

মন্ত্রী আরো জানান, জিয়াউর রহমান ছিলেন সাদাসিধে ও মিতব্যয়ী জীবনযাপনের অনুসারী একজন রাষ্ট্রনায়ক। তিনি কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নকে জাতীয় অগ্রগতির মূল ভিত্তি হিসেবে গণ্য করতেন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতেন।

মন্ত্রী বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও রাষ্ট্রচিন্তা আজও বাংলাদেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্র এবং জাতীয় ঐক্যের জন্য প্রাসঙ্গিক। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আত্মনির্ভরশীলতা, উৎপাদনমুখী অর্থনীতি ও জনগণের ক্ষমতায়নের পথে এগিয়ে যেতে শুরু করেছিল।

তিনি জানান, মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে বর্তমান সরকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। মুক্তিযোদ্ধা সংসদের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, মিলনায়তন সংস্কার এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন ২০ তলা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া অতীতে বেদখল হওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পত্তি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সভায় বক্তারা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে একটি গণতান্ত্রিক, সমৃদ্ধ ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%