ঢাকা রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

গোদাগাড়ীতে প্রায় ৯০ লাখ টাকার হেরোইন উদ্ধার


গোদাগাড়ীতে প্রায় ৯০ লাখ টাকার  হেরোইন উদ্ধার

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে র‌্যাব পরিত্যক্ত অবস্থায় ৮৮৭.৫ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করেছে।

রোববার (৩০ আগস্ট) রাত সাড়ে ১২টার দিকে গোদাগাড়ী মডেল থানার হরিসংকরপুর গ্রামের বড়গাছীর নদীর চর এলাকা থেকে এই হেরোইন উদ্ধার করা হয়।

রবিবার র‍্যাব-৫, রাজশাহীর মোল্লাপাড়া ক্যাম্পের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

আরও পড়ুন: সিলেট চন্ডীপুল সিএনজি স্টেশনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, যাত্রীদের হয়রানী

র‌্যাব জানায়, সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে সংগ্রহ করা হেরোইন বিক্রির উদ্দেশ্যে কয়েকজন মাদক কারবারী ওই এলাকায় অবস্থান করছে, এমন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৮৮৭.৫ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উদ্ধারকৃত হেরোইন গোদাগাড়ী মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও সীমানাপ্রাচীর পুনরুদ্ধারের দাবিতে রাসিক প্রশাসকের কাছে রুয়েট শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৪৬ পি.এম


অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও সীমানাপ্রাচীর পুনরুদ্ধারের দাবিতে রাসিক প্রশাসকের কাছে রুয়েট শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) মালিকানাধীন জমিতে নির্মিত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীর পুনরুদ্ধারের দাবিতে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) প্রশাসক মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটনের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন রুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

রোববার (৩০ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা নগর ভবনে গিয়ে রাসিক প্রশাসকের কাছে এ স্মারকলিপি তুলে দেন। এ সময় প্রশাসক আন্তরিকতার সঙ্গে স্মারকলিপি গ্রহণ করে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার এবং আইনানুগভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন।

স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন যে, রুয়েটের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকানাধীন জমির একটি অংশে পাবলিক টয়লেটসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি ব্যবহার করে এসব স্থাপনা নির্মাণের কারণে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা, পরিবেশ এবং স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

শিক্ষার্থীরা আরও জানান, ওই এলাকার পাশে রুয়েটের পুরকৌশল অনুষদের ১০তলা একাডেমিক ভবনের নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ভবনটি দ্রুত শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ অবস্থায় অবৈধ স্থাপনাগুলো ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশ ও নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এর আগে শনিবার (২৯ আগস্ট) রুয়েটের প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী ক্লাস, ল্যাব ও পরীক্ষা বর্জন করে অবৈধ স্থাপনা অপসারণের দাবিতে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন। এর ধারাবাহিকতায় রোববার রাসিক প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীদের দুটি দাবি তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, রুয়েটের মালিকানাধীন জমিতে নির্মিত পাবলিক টয়লেট এবং সীমানাপ্রাচীর ঘেঁষে চলাচলের ফুটপাতে নির্মিত সব অননুমোদিত ও অবৈধ স্থাপনা দ্রুত অপসারণ করা এবং তালাইমারী মোড়ে রুয়েটের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি দখল বা ব্যবহারের যে অংশ সৃষ্টি হয়েছে, তা আগামী ৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অপসারণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

স্মারকলিপি প্রদানকালে রুয়েটের শিক্ষার্থী কাজী পারভেজ আহম্মেদ, মুবতাসিম সৌমিক, শাহান আল রিয়াজ, সুমাইয়া নওশীন, শামসুন নাহার সুমনা, ফাহাদ সরকার তুহিন, তন্ময় কর্মকার তনি, শাকিব উজ্জমান সিয়াম, পারভেজ আকন্দ প্রভাতসহ অন্যান্য শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।#

--

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এনএসসির পুরাতন ভবন ভেঙে আধুনিক ক্রীড়া কমপ্লেক্স গড়ার পরিকল্পনা সরকারের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৪৭ পি.এম


এনএসসির পুরাতন ভবন ভেঙে আধুনিক ক্রীড়া কমপ্লেক্স গড়ার পরিকল্পনা সরকারের

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) পুরাতন ভবনটি ভেঙে ক্রীড়াবিদদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের ইনডোর ও আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা সংবলিত একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

রোববার (৩০ আগস্ট) জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের জিমনেসিয়ামে বাংলাদেশ তায়কোয়ানডো ফেডারেশন আয়োজিত ‘৫ম ফেডারেশন কাপ তায়কোয়ানডো প্রতিযোগিতা’র সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা জানান তিনি।

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান পুরাতন ভবনটি ভেঙে আন্তর্জাতিক মানের সকল ফ্যাসিলিটিজ রেখে একটি বড় হাইরাইজ বিল্ডিং করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। অ্যাথলেটদের গরমে কষ্টের কথা বিবেচনা করে দ্রুতই আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা সংবলিত সুন্দর এক ক্রীড়া পরিবেশ গড়ে তুলতে চায় সরকার।

তিন দিনব্যাপী আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় ২৮টি দল ও সংস্থার ৪৫০ জন খেলোয়াড় মোট ৩৪টি ওজন ক্যাটাগরিতে অংশগ্রহণ করেন। টুর্নামেন্টের সিনিয়র পুরুষ বিভাগে যৌথভাবে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং সিনিয়র নারী বিভাগে এককভাবে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। 

অন্যদিকে জুনিয়র পুরুষ বিভাগে গাজীপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থা এবং জুনিয়র নারী বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হবার গৌরব অর্জন করে মিরপুর ডিওএইচএস তায়কোয়ানডো ক্লাব।

প্রতিযোগিতা শেষে প্রতিমন্ত্রী বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। তায়কোয়ানডো ফেডারেশনের সভাপতি ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল ইসলাম রানা এবং টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান শায়রুল কবির খান সহ অন্যান্য অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডায়াগনস্টিক সেন্টারের জন্য ভাড়া, কক্ষে প্রেসক্লাবের নামে, কয়েক জনে ষড়যন্ত্র করে সাইনবোর্ড —শাল্লায় উত্তেজনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শাল্লা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৪৯ পি.এম


ডায়াগনস্টিক সেন্টারের জন্য ভাড়া, কক্ষে প্রেসক্লাবের নামে, কয়েক জনে ষড়যন্ত্র করে সাইনবোর্ড —শাল্লায় উত্তেজনা

শাল্লা উপজেলায় সুনামগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের বাণিজ্যিক স্থান ভাড়া নেওয়ার প্রেক্ষাপটে দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এক পক্ষের দাবি, ভবনের প্রথম ও দ্বিতীয় তলা একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনার জন্য চুক্তির মাধ্যমে ভাড়া নেওয়া হয়েছে। অপরদিকে, গত ২৯ আগস্ট ভবনের দুটি কক্ষে ‘শাল্লা উপজেলা প্রেসক্লাব’ লেখা সাইনবোর্ড লাগানোর অভিযোগ উঠেছে।

চুক্তিপত্র অনুযায়ী, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের প্রথম ও দ্বিতীয় তলা ‘প্রস্তাবিত ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ স্থাপনের জন্য রনি সূত্রধরের সঙ্গে ২০২৬ সালের ৮ জুলাই চুক্তি সম্পাদন করা হয়। চুক্তিতে মাসিক ভাড়া ২২ হাজার টাকা এবং দুই লাখ টাকা জামানতের উল্লেখ রয়েছে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট শর্তে পাঁচ বছরের জন্য চুক্তির মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া, চুক্তিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভাড়া নেওয়া স্থান শুধুমাত্র ডায়াগনস্টিক সেন্টার স্থাপন ও পরিচালনার কাজে ব্যবহার করা যাবে এবং প্রথম পক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া ভবনের অন্য কোনো তলা, ছাদ, বারান্দা বা খালি জায়গা ব্যবহার বা দখল করা যাবে না। অন্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে স্থান হস্তান্তর বা উপ-ভাড়া দেওয়াও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ডায়াগনস্টিক সেন্টার কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছে, চুক্তির পর থেকে তারা ক্লিনিকের জন্য ফার্নিচারসহ বিভিন্ন কাজ করে আসছেন এবং উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করেছেন। এর মধ্যে গত ২৯ আগস্ট ‘শাল্লা উপজেলা প্রেসক্লাব’-এর নামে দুটি কক্ষে সাইনবোর্ড লাগানোর পর উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

ক্লিনিকপক্ষের অভিযোগ, বাদল চন্দ্র দাস ও সন্দীপন দাস সুজন নামে দুই ব্যক্তি প্রেসক্লাবের সাইনবোর্ড লাগানোর সঙ্গে জড়িত। তাদের দাবি, বিপ্লব রায় নামের একজনও এ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত এবং তার একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

এদিকে, স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মধ্যে প্রেসক্লাবের পক্ষের লোকজনের উপস্থিতি ও যোগাযোগ নিয়ে আলোচনা চলছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক নেতা প্রশ্ন তুলেছেন যে, দলের নেতাদের একটি অংশের এমন অবস্থান নিয়ে দলের ভেতরেই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে বিএনপির অপর একটি পক্ষ বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখছে বলে জানা গেছে।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বিশ্বপতি চক্রবর্তী জানিয়েছেন, "আমরা রনি সূত্রধর নামের একজনকে ক্লিনিকের জন্য প্রথম ও দ্বিতীয় তলা ভাড়া দিয়েছি। প্রেসক্লাবের নামে যারা সাইনবোর্ড লাগিয়েছেন, তারা অনেক আগে থেকেই নিয়েছিলেন। তবে তারা এখন পর্যন্ত কোনো সিকিউরিটি দেননি এবং এক টাকাও ভাড়া পরিশোধ করেননি। বিষয়টি নিয়ে ইউএনও স্যারের সঙ্গে কথা বলে কী করা যায়, তা দেখব।"

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়াসচন্দ্র দাসের সঙ্গে সাংবাদিকরা রাতে যোগাযোগ করলে তিনি অসুস্থতার কারণে সাক্ষাৎ করতে পারেননি। পরদিন সকালে ক্লিনিকপক্ষের লোকজন তাঁর সঙ্গে কথা বললে তিনি দুই পক্ষকে নিয়ে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান।

মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের মতো সরকারি ব্যবস্থাপনার একটি ভবনে একই স্থানের দখল ও ব্যবহার নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। চুক্তিপত্রের শর্ত, ভাড়া ও জামানত প্রদান এবং প্রেসক্লাবের নামে কক্ষ ব্যবহারের বৈধতা—এসব বিষয় প্রশাসনের মাধ্যমে দ্রুত পরিষ্কার করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

রনি সূত্রধরের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, "এখানে আরও একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক রয়েছেন। তাঁর ষড়যন্ত্রেই আমার ভাড়া নেওয়া স্থানে এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে বলে আমি মনে করি। চুক্তি অনুযায়ী আমি জায়গাটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনার জন্য ভাড়া নিয়েছি এবং ইতোমধ্যে সেখানে বিভিন্ন কাজে অর্থ ব্যয় করেছি।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘বাড়ি ছাড়ুন, না হলে মেরে গুম করে দেব’—বৃদ্ধা ও প্রতিবন্ধী ছেলের আতঙ্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাদারীপুর প্রতিনিধি

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৫১ পি.এম


‘বাড়ি ছাড়ুন, না হলে মেরে গুম করে দেব’—বৃদ্ধা ও প্রতিবন্ধী ছেলের আতঙ্ক

আগুনের লেলিহান শিখা ঘরজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। বৃদ্ধা জরিনা বেগম প্রাণ বাঁচাতে বের হওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ছেলে ঠান্ডু মিয়া। একদিকে আগুনের তীব্রতা, অন্যদিকে ছেলেকে নিরাপদে বের করে আনার উৎকণ্ঠা। শেষ পর্যন্ত চিৎকার করে ছেলেকে ঘর থেকে বের করে আনতে সক্ষম হন তিনি। প্রাণে বেঁচে গেলেও সেই রাতের আতঙ্ক এখনো মা-ছেলেকে তাড়া করে ফিরছে।

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার মানিকপুর এলাকায় জমিজমা নিয়ে বিরোধের কারণে বৃদ্ধা জরিনা বেগম ও তাঁর বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ছেলে ঠান্ডু মিয়াকে মারধর, বসতঘর ভাঙচুর এবং পরে ঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, জমি দখলের উদ্দেশ্যে তাঁদের দীর্ঘদিন ধরে বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার জন্য ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এমনকি বাড়ি না ছাড়লে মেরে গুম করে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার প্রতিকার ও নিরাপত্তা চেয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে আদালতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি তদন্তের জন্য থানায় পাঠানো হয়েছে।

রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে গণমাধ্যমকর্মী ও প্রশাসনের কাছে অভিযোগের বিষয়টি তুলে ধরেন জরিনা বেগম। তিনি জানান, তাঁর স্বামী জীবিত থাকা অবস্থায় জমি কিনে সেখানে বসতবাড়ি নির্মাণ করেন। দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা ওই বাড়িতে বসবাস করে আসছেন। স্বামীর মৃত্যুর পর তাঁর কবরও ওই জমির উঠানে দেওয়া হয়েছে।

জরিনা বেগম বলেন, “এই বাড়ি আমার স্বামীর। আমরা বহু বছর ধরে এখানে থাকি। যে জমি নিয়ে তারা দাবি করছে, সেই জায়গাতেই আমার স্বামীর কবর রয়েছে। আমাকে এক সপ্তাহের মধ্যে বাড়ি ছেড়ে যেতে বলা হয়েছে। না গেলে মেরে গুম করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমি একজন বৃদ্ধ মানুষ। বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে একা থাকি। অন্য ছেলেরা ঢাকায় চাকরি করে। এই সুযোগে আমাদের বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।”

জরিনা বেগমের মেয়ে হোসনে-আরা বেগম আদালতে দেওয়া অভিযোগে আটজনের নাম উল্লেখ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, জমি নিয়ে বিরোধের কারণে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বিভিন্ন সময় তাঁদের ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিলেন।

অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন—সেকান্দার ব্যাপারী (৫০), এসকান্দার ব্যাপারী (৪৫), বেলায়েত তালী (২০), নাদিম তালী (২০), ইদ্রিস তালী (৫৫), নূর ইসলাম তালী (৩০), আনোয়ারা বেগম (৫৫) ও ফাতেমা বেগম (৪৫)।

আদালতে দেওয়া অভিযোগে বলা হয়, গত ২১ আগস্ট রাতে কয়েকজন ব্যক্তি রামদা, ছেনদা ও লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁদের বসতবাড়িতে প্রবেশ করেন। এ সময় জরিনা বেগমকে গালিগালাজ করা হয়। প্রতিবাদ করলে তাঁকে মারধর এবং হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করার অভিযোগ করা হয়েছে।

মাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে ঠান্ডু মিয়াকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের। তাঁর গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যার চেষ্টা এবং পরে লোহার রড ও বাঁশের লাঠি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করার অভিযোগও রয়েছে।

পরিবারের দাবি, ওই ঘটনায় জরিনা বেগম ও ঠান্ডু মিয়া আহত হন। তাঁদের শরীরে এখনো আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ, হামলার পরও ঘটনার অবসান হয়নি। হামলাকারীরা তাঁদের বসতঘরের টিনের বেড়া ও চাল ভাঙচুর করেন। এতে প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, পরদিন ২২ আগস্ট রাত আনুমানিক একটার দিকে বসতঘরের চারপাশে পেট্রল ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়লে জরিনা বেগম চিৎকার শুরু করেন। একপর্যায়ে নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে ছেলেকে ঘর থেকে বের করে আনেন তিনি।

জরিনা বেগম বলেন, “আগুন লাগার পর আমি শুধু ছেলেকে কীভাবে বের করব, সেটাই ভাবছিলাম। আল্লাহর রহমতে দুজনই বের হতে পেরেছি। এখন রাত হলেই ভয় লাগে।”

স্থানীয় সালিশ লিটন মাতুব্বর বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি মীমাংসার জন্য তাঁরা একাধিকবার চেষ্টা করেছেন।

তিনি বলেন, “আমরা কয়েক দফা সালিশ করেছি। বৃদ্ধ মহিলা প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে বাড়িতে থাকেন। তাঁর অন্য ছেলেরা ঢাকায় চাকরি করেন। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হলেও তা মানা হয়নি। এরপর তাঁদের মারধরের ঘটনা ঘটেছে বলে আমরা জানতে পেরেছি।”

স্থানীয় বাসিন্দা ও সালিশি শহিদুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি নিয়ে আমরা স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করেছি। একজন বৃদ্ধ নারী ও তাঁর প্রতিবন্ধী ছেলের সঙ্গে এমন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে যারা দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, জমি নিয়ে বিরোধ থাকলে সেটি আইনগতভাবে সমাধান করা উচিত। হামলা, ভয়ভীতি বা আগুন দেওয়ার মতো ঘটনা এলাকায় আরও উত্তেজনা তৈরি করতে পারে।

তবে ভুক্তভোগী পরিবারের করা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত এসকান্দার ব্যাপারী। তিনি বলেন, “তাঁদের সঙ্গে আমাদের কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমরা তাঁদের মারধরও করিনি। এসব অভিযোগ মিথ্যা।”

শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, “আদালত থেকে অভিযোগটি তদন্তের জন্য আমাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হবে। তদন্তের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অভিযোগের সত্যতা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%