রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:৩৫ পি.এম
২০১২ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ককটেল’ সিনেমায় নারী চরিত্রগুলোর উপস্থাপনাকে বর্তমানে কিছুটা পশ্চাৎপদ মনে করছেন অভিনেতা সাইফ আলি খান। বিশেষ করে, একজন নারীকে প্রচলিত অর্থে ‘ভালো’ এবং অন্যজনকে ‘খারাপ’ হিসেবে উপস্থাপন করার প্রবণতাকে তিনি নিজের ভুল হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
সম্প্রতি ‘গালফ নিউজ’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাইফ ‘ককটেল’ সিনেমা নিয়ে তার উপলব্ধির কথা তুলে ধরেন। এ বিষয়ে ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদন তথ্য দেয়। সিনেমাটির গল্পে নারী চরিত্রগুলোর মধ্যে যে বৈপরীত্য তৈরি করা হয়েছিল, তা বর্তমান সময়ের দৃষ্টিতে প্রশ্নের মুখে পড়ে।
হোমি আদাজানিয়া পরিচালিত ‘ককটেল’ সিনেমায় সাইফ আলি খানের সঙ্গে দীপিকা পাড়ুকোন ও ডায়ানা পেন্টি অভিনয় করেন। দীপিকা চরিত্রে ভেরোনিকা হিসেবে অভিনয় করেন, যিনি স্বাধীনচেতা, প্রাণবন্ত ও পার্টিপ্রিয়। অন্যদিকে, ডায়ানা পেন্টির মীরা চরিত্রটি ছিল শান্ত, সংযত এবং তুলনামূলকভাবে ঘরোয়া।
সিনেমাটির কাহিনীতে ভেরোনিকাকে বেপরোয়া ও সমস্যাসংকুল নারী হিসেবে এবং মীরাকে আদর্শ ও গ্রহণযোগ্য নারী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। সাইফের মতে, এই ধরনের চরিত্রায়ন নারীদের নিয়ে প্রচলিত সামাজিক ধারণাকেই শক্তিশালী করে।
অভিনেতার বক্তব্য অনুযায়ী, সিনেমাটি নির্মাণের সময় বিষয়টি এভাবে ভাবা হয়নি। তবে সময়ের সঙ্গে তার দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে তার মনে হচ্ছে, ভেরোনিকার মতো চরিত্রকে শুধুমাত্র নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা এবং মীরাকে ‘ভালো মেয়ে’র প্রতীক হিসেবে দেখানো যথেষ্ট প্রগতিশীল ছিল না।
২০১২ সালে মুক্তির পর ‘ককটেল’ দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। সিনেমাটিতে সাইফের পাশাপাশি দীপিকা পাড়ুকোন ও ডায়ানা পেন্টির অভিনয়ও প্রশংসিত হয়। বিশেষ করে, দীপিকার ভেরোনিকা চরিত্রটি তার ক্যারিয়ারের অন্যতম আলোচিত চরিত্র হয়ে ওঠে।
এদিকে, ‘ককটেল’-এর দ্বিতীয় কিস্তি নির্মাণের খবরও ইতিমধ্যে আলোচনায় এসেছে। তবে নতুন সিনেমায় আগের চরিত্রগুলো কীভাবে উপস্থাপন করা হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মুক্তির প্রথম দিনেই দর্শকদের মধ্যে ঝড় তুলেছিল যশ অভিনীত ‘টক্সিক’। তবে সিনেমাটি সেই গতি ধরে রাখতে পারেনি। দর্শকদের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার কারণে ছবিটির আয় দ্বিতীয় দিন থেকেই কমতে শুরু করে। এখন ‘টক্সিক’-এর প্রেক্ষাগৃহ যাত্রা প্রায় শেষের পথে।
বিশ্বজুড়ে সিনেমাটির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ৩১২ কোটি ৫০ লাখ রুপি। বিপরীতে, ছবিটির লোকসানের পরিমাণ প্রায় ৩০০ কোটি রুপি বলে দাবি করা হয়েছে।
ভারতীয় বক্স অফিসে ‘টক্সিক’ আয় করেছে ২৬৬ কোটি ৭৫ লাখ রুপি। বিদেশের বাজার থেকে এসেছে ৪৮ লাখ মার্কিন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৪৫ কোটি ৫০ লাখ রুপি। সব মিলিয়ে বিশ্বব্যাপী ছবিটির আয় ৩১২ কোটি ৫০ লাখ রুপি।
তবে ছবিটির বক্স অফিস যাত্রা কার্যত প্রথম সপ্তাহেই থেমে যায়। মুক্তির প্রথম দিন ভারতে ১১২ কোটি রুপি আয় করে ‘টক্সিক’ বড়সড় সূচনা করেছিল। কিন্তু দর্শকদের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার প্রভাব পড়ে দ্বিতীয় দিন থেকেই। এরপর সপ্তাহের কর্মদিবসগুলোতে ছবিটির আয় আরও কমে যায়।
মুক্তির বর্ধিত প্রথম সপ্তাহে ভারতে ছবিটির আয় হয় ২৫৬ কোটি রুপি। দ্বিতীয় সপ্তাহেই অধিকাংশ প্রেক্ষাগৃহ থেকে সিনেমাটি সরে যায়। ফলে ওই সপ্তাহে আয় নেমে আসে মাত্র ৯ কোটি রুপিতে। তৃতীয় সপ্তাহান্তে ছবিটির আয় ৭৫ লাখ রুপির কিছু বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যার প্রায় পুরোটাই আসছে কর্ণাটক থেকে।
বক্স অফিসের হতাশাজনক ফলাফলের চেয়ে ছবিটির আর্থিক ক্ষতির হিসাব আরও বড়।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ‘টক্সিক’-এর লোকসানের পরিমাণ প্রায় ৩০০ কোটি রুপি। ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে এটিকে সম্ভবত অন্যতম বড় লোকসানের নজির হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ছবিটির আয়ের চিত্রও ছিল বেশ অসম। কর্ণাটকে ৭৩ কোটি ৫০ লাখ, অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলেঙ্গানায় ২৯ কোটি, তামিলনাড়ুতে ১১ কোটি ৫০ লাখ এবং কেরালায় ৩ কোটি ৭৫ লাখ রুপি আয় করেছে সিনেমাটি। হিন্দি বলয় থেকে এসেছে ১৪৯ কোটি রুপি।
সব মিলিয়ে ভারতে ‘টক্সিক’-এর আয় ২৬৬ কোটি ৭৫ লাখ রুপি। বিদেশের বাজারে ৪৮ লাখ মার্কিন ডলার যোগ করে বিশ্বব্যাপী ছবিটির মোট সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৩১২ কোটি ৫০ লাখ রুপি।
মুক্তির আগে যশের তারকাখ্যাতি, বড় বাজেট এবং প্রথম দিনের দুর্দান্ত ব্যবসা ঘিরে ‘টক্সিক’ নিয়ে ছিল ব্যাপক প্রত্যাশা। কিন্তু দর্শকের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত বড় অঙ্কের লোকসানের মুখে পড়ল সিনেমাটি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকার গুলশানে একটি ফ্ল্যাট, চট্টগ্রামে জমি, দোকান এবং শিল্পকারখানা। যুক্তরাজ্যে শত শত বাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্ট। যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, ভারতসহ নয়টি দেশে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের বিশাল সম্পদ ছড়িয়ে রয়েছে। এসব দেশে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার সম্পদ আদালতের আদেশে ক্রোক, জব্দ বা অবরুদ্ধের আওতায় এসেছে বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মকর্তারা।
এছাড়া সিঙ্গাপুরে ব্যাংক ও বিনিয়োগ হিসাব, একটি কোম্পানিতে পরিচালকের পদ এবং একটি বাড়ির তথ্যও পেয়েছে দুদক।
সংস্থাটির কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, তার স্ত্রী রুকমিলা জামান এবং তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সম্পদ নিয়ে অনুসন্ধান যত এগিয়েছে, তত বড় হয়েছে তাদের ‘অবৈধ আয়ে গড়া সম্পদের মানচিত্র’। একই সঙ্গে বেড়েছে দুদকের মামলাও সংখ্যা।
ব্যাংক ঋণ, অর্থ আত্মসাৎ, ঘুষ ও অর্থপাচারের অভিযোগে জাবেদকে ঘিরে এখন পর্যন্ত ৩৩টি মামলা করেছে দুদক। এসব মামলায় অভিযোগ করা অর্থের পরিমাণ ৬১৮ কোটির বেশি। এর বাইরে অন্তত আরও এক হাজার কোটি টাকার দুটি বড় অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ‘ঘুস’ নেওয়ার অভিযোগও খতিয়ে দেখছে সংস্থাটি।
দুদকের মুখপাত্র ও জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম বলেন, সাইফুজ্জামান ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্টদের দেশে-বিদেশে পাওয়া সম্পদ শনাক্ত, ক্রোক ও অবরুদ্ধ করতে আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিদেশের সম্পদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের সহায়তা পেতে এমএলএআরসহ (মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট) আইনি প্রক্রিয়া চলছে। অনুসন্ধানে নতুন সম্পদের তথ্য পাওয়া গেলে সেগুলোর বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কর্মচারীকে ‘ব্যবসায়ী’ সাজিয়ে ১২৯ কোটি টাকার ঋণ
সাইফুজ্জামান জাবেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী বা তাদের আত্মীয়দের ব্যবসায়ী হিসেবে উপস্থাপন করে ব্যাংক ঋণের অর্থ বের করার অভিযোগ পেয়েছে দুদক। ইমিনেন্ট ট্রেডার্স, ভিশন ট্রেডিং, রিলায়েবল ট্রেডিং, প্রগ্রেসিভ ট্রেডিং, মডেল ট্রেডিং ও ক্রিসেন্ট ট্রেডার্সের নামে ছয়টি ঋণে মোট ১২৯ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ছয়টি মামলা হয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধান ও তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, এসব প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স নেওয়া হয়েছিল ব্যাংক হিসাব খোলার মাত্র দুই-তিন মাস আগে। হিসাব খোলার কয়েক দিনের মধ্যে ১৫ কোটি থেকে ২৫ কোটি টাকার ঋণ আবেদন করা হতো। বাস্তবে প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব না থাকলেও এক থেকে দুই দিনের মধ্যে পরিদর্শন প্রতিবেদন তৈরি করে ঋণ প্রস্তাব প্রধান কার্যালয়ে পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে।
দুদকের নথি অনুযায়ী, ঋণ অনুমোদনের পর ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে পে-অর্ডার ইস্যু করা হতো। পরে কয়েক দফা হিসাব বদলে সেই অর্থ নগদে তুলে নেওয়া হতো।
শ্রমিক-রিকশাচালকের নথি দিয়ে ঋণের অভিযোগ
আরেক কৌশলে শ্রমিক, কৃষক, রিকশাচালক, নাপিত, টেইলর ও অন্যান্য নিম্নআয়ের মানুষের জাতীয় পরিচয়পত্র ও ছবি ব্যবহারের তথ্য পেয়েছে দুদক। কোভিড প্রণোদনা বা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা বলে তাদের পরিচয়পত্র ও ছবি সংগ্রহ করে পরে ব্যবসায়ী সাজানো হয়েছিল বলে অভিযোগ। এভাবে ঋণ নিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ১৯টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় অভিযোগের অঙ্ক ১৩৪ কোটির বেশি।
দুদকের নথিতে এই ঋণগুলোর ক্ষেত্রেও নতুন ট্রেড লাইসেন্স, দ্রুত ব্যাংক হিসাব খোলা, কয়েক দিনের মধ্যে কোটি টাকার ঋণ আবেদন এবং অল্প সময়ের মধ্যে ঋণ অনুমোদনের একই ধরনের ছক কষার তথ্য পাওয়া গেছে।
নগদ থেকে হুন্ডি, পরে বিদেশে
দুদকের অনুসন্ধানে অর্থ বিদেশে নেওয়ার একটি চিত্রও উঠে এসেছে। সেখানে দেখা গেছে, ঋণের টাকা কয়েকটি ব্যাংক হিসাবে ঘোরানোর পর জুবিলী রোড ও আগ্রাবাদসহ বিভিন্ন শাখা থেকে নগদে তোলা হতো। এরপর সেই টাকা হুন্ডির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কাছে দেওয়া হতো। সমপরিমাণ অর্থ সংযুক্ত আরব আমিরাতে দিরহামে নেওয়া হতো।
পরে ব্যবসার অর্থ হিসাবে ব্যাংকে জমা করে টিটির মাধ্যমে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছে বলে দুদকের অনুসন্ধানে তথ্য এসেছে। সেই অর্থ দিয়ে বিদেশে সম্পত্তি কেনার অভিযোগ করছে সংস্থাটি।
পাঁচ প্রতিষ্ঠানের ২১৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকার ‘ঘুস’
পাঁচটি বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মোট ২১৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ঘুস নেওয়ার অভিযোগে পাঁচটি মামলা করেছে দুদক।
এর মধ্যে থার্মেক্স নিট ইয়ার্ন থেকে ৫২ কোটি টাকা, এইচএম শিপ ব্রেকিং ইন্ডাস্ট্রিজ থেকে ৫৫ কোটি টাকা, ওয়েল মার্ট থেকে ৫ কোটি টাকা, সাইফ পাওয়ারটেক ও ই-ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে ৪১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং আইকনএক্স সার্ভিস থেকে ৬০ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
মামলাগুলোর অনুসন্ধানে যাদের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে, তাদের বরাতে দুদক কর্মকর্তারা বলছেন, ঋণ সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে বা চাপ সৃষ্টি করে এসব টাকা নেওয়া হয়েছিল।
আরও এক হাজার কোটি টাকার দুই অভিযোগ
পারিবারিক প্রতিষ্ঠান আরামিট সিমেন্টের নামে ইসলামী ব্যাংক থেকে ৫০০ কোটি টাকার ঋণ সুবিধা নেওয়ার বিষয়েও অনুসন্ধান করছে দুদক।
অভিযোগে বলা হয়েছে, আরামিট গ্রুপের এক কর্মকর্তাকে কাঁচামাল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মালিক দেখিয়ে এই সুবিধা নেওয়া হয়েছিল। এই অর্থের একটি অংশ নিয়ে ইতোমধ্যে তিনটি মামলা হয়েছে।
আরেকটি অভিযোগে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা এড়িয়ে ইউসিবি ও আইএফআইসি ব্যাংকের মাধ্যমে মোট ৫০০ কোটি টাকার ঋণ দেওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দেশে ফ্ল্যাট, দোকান, জমি ও কারখানা
সাইফুজ্জামান জাবেদের দেশে থাকা সম্পদও চিহ্নিত করেছে দুদক। নথিতে ঢাকার দুটি ফ্ল্যাট, চট্টগ্রামের ১০টি ফ্ল্যাট, একটি মার্কেটের নয়টি দোকান, ২৭টি জমি এবং সাতটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের তথ্য রয়েছে।
গুলশানের দুটি ফ্ল্যাট ক্রোকের পর দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের পরিচালককে রিসিভার করা হয়েছে। ফ্ল্যাট দুটি থেকে আসবাবপত্র, পোশাক, গয়না, গাড়ির চাবি ও ইলেকট্রনিক সামগ্রীসহ ২৬০ ধরনের জিনিস জব্দের তালিকা করা হয়েছে।
চট্টগ্রামে কয়েকটি ফ্ল্যাটে ভাড়াটিয়া পাওয়া গেছে। কোনো কোনো ফ্ল্যাটের ভাড়া জেলা প্রশাসনের রাজস্ব শাখায় জমা হচ্ছিল। কয়েকটির ভাড়া আরামিট গ্রুপের প্রতিনিধিদের কাছে দেওয়া হচ্ছিল। আগ্রাবাদের আখতারুজ্জামান সেন্টারের নিচতলায় নয়টি দোকান ভাড়ায় থাকার তথ্যও রয়েছে।
দুদকের প্রতিবেদনে ২৭টি জমির তথ্য রয়েছে। এর বড় অংশ আনোয়ারায়। দুদক কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ের যাচাইয়ে কোথাও ধান ও সবজি চাষ করতে দেখেছেন। কোথাও জমি খালি। কোনোটি ভিটা বা কৃষিজমি। আবার কোনো অংশ সড়কের জন্য অধিগ্রহণ হয়েছে।
আদালতের আরেক আদেশে আনোয়ারায় ৯৫৭ বিঘা জমি ক্রোক এবং ২৩ কোম্পানির ১০২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা মূল্যের শেয়ার অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
সাত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ছয়টি বন্ধ
কালুরঘাট শিল্প এলাকার সাতটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অবস্থাও যাচাই করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। তাতে আরামিট পিএলসি আংশিক চালুর তথ্য মিলেছে। সেখানে ৫৫ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। অন্য ছয়টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। সেগুলো হল আরামিট সিমেন্ট, আরামিট থাই অ্যালুমিনিয়াম, আরামিট ফুটওয়্যার, আরামিট স্টিল পাইপস, আরামিট অ্যালু কম্পোজিট প্যানেলস ও আরামিট পাওয়ার।
এসব প্রতিষ্ঠানের সম্পদ সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় তিন সদস্যের রিসিভার কমিটি করার দুদকের প্রস্তাবে আদালত সায় দিয়েছে।
যুক্তরাজ্যে শত শত বাড়ি
বিদেশে সাইফুজ্জামান জাবেদের সবচেয়ে বেশি সম্পদ যুক্তরাজ্যে থাকার কথা জানিয়েছে দুদক কর্মকর্তারা। সেখানকার কোম্পানি ও ভূমি নিবন্ধনের নথি বিশ্লেষণ করে ব্লুমবার্গ ২০২৪ সালে জাবেদ ও রুকমিলা সংশ্লিষ্ট ৩৫৮টি সম্পত্তি শনাক্ত করেছিল। এসব সম্পত্তি শুধু মধ্য লন্ডনে নয়; পূর্ব লন্ডন, দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ড ও লিভারপুলেও ছিল। পরে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি তাদের শ্লিষ্ট ৩৪২টি সম্পত্তি ফ্রিজ করে।
দুদকের পরে অনুসন্ধানে চালালে তালিকা আরও বড় হয়। আদালতে দেওয়া একটি আবেদনে যুক্তরাজ্যে ৫১৮টি ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্টের তথ্য তুলে ধরে সংস্থাটি।
নয় দেশে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার সম্পদ
দুদকের অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট নথির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ফিলিপিন্স, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে জাবেদ ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্টদের প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার সম্পদ আদালতের আদেশে ক্রোক, জব্দ বা অবরুদ্ধের আওতায় এসেছে। এই নয় দেশের তালিকার বাইরে সর্বশেষ সিঙ্গাপুরে নতুন সম্পদের তথ্য সামনে এসেছে।
দুদকের ২ সেপ্টেম্বরের আবেদনে সম্পদের তালিকায় নতুন দেশ হিসেবে সিঙ্গাপুরের নাম সামনে এনেছে। দুদকের উপপরিচালক ও নয় সদস্যের টাস্কফোর্সের দলনেতা মশিউর রহমানের সই করা আবেদনে সেখানে আটটি ব্যাংক বা বিনিয়োগ হিসাব, একটি কোম্পানিতে পরিচালকের পদ এবং একটি স্থাবর সম্পত্তির তথ্য আদালতে দেওয়া হয়েছে।
জাবেদ ও রুকমিলা জামানের নামে তিনটি যৌথ ব্যাংক হিসাব ১৯৯৯, ২০০০ ও ২০০১ সালে খোলার তথ্য রয়েছে। এ ছাড়া ফার্স্ট আবু ধাবি ব্যাংক, সিটি ব্যাংক এবং ডিবিএসের হিসাবের তথ্য এসেছে। ডিবিএসের হিসাবের সঙ্গে আরামিট প্রপার্টিজ লিমিটেড এবং নিউ ভেঞ্চারস (লন্ডন) লিমিটেডের নাম রয়েছে।
জাসা ওশান পিটিই লিমিটেডে ২০১১ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সাইফুজ্জামান জাবেদ পরিচালক ছিলেন বলে আবেদনে বলা হয়েছে। সিঙ্গাপুরের সেন্ট থমাস ওয়াক এলাকায় ২০১৯ সালে ১৬ লাখ ১২ হাজার সিঙ্গাপুর ডলারে কেনা একটি সম্পত্তির মালিক হিসাবেও তার নাম রয়েছে।
দুদকের অভিযোগ, এসব সম্পদ হস্তান্তর বা বিক্রি হয়ে যেতে পারে। সে কারণে সিঙ্গাপুরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এমএলএআর বা পারস্পরিক আইনি সহায়তার অনুরোধ পাঠিয়ে সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধের ব্যবস্থা নিতে আদালতের অনুমতি চাওয়া হয়েছে।
দুদকের কৌঁসুলি দেলোয়ার জাহান রুমি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সিঙ্গাপুরে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্টদের যে সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে, সেগুলো ক্রোক ও ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করতে দুদক আদালতে আবেদন করেছিল। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেছে। এখন আদেশটি এমএলএআর বা পারস্পরিক আইনি সহায়তার প্রক্রিয়ায় সিঙ্গাপুরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
‘সম্পদ শনাক্ত আর দেশে ফেরানো এক নয়’
বিদেশে সম্পদের সন্ধান পাওয়া, সেটি ফ্রিজ করা এবং শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশে ফেরত আনার প্রক্রিয়া যে সহজ নয় তা মানছেন দুদক কর্মকর্তারা।
তাদের কয়েকজন বলছেন, প্রথমে সম্পদের সঙ্গে অপরাধের যোগসূত্র প্রমাণ করতে হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট দেশের কাছে নথি, তথ্য ও আইনি সহায়তা চাওয়া হয়। প্রয়োজনে সে দেশের আদালতেও আলাদা প্রক্রিয়া চালাতে হয়। এ কারণে বাংলাদেশের আদালতে ক্রোকের আদেশ হলেই বিদেশে থাকা সম্পদ সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের দখলে আসে না।
সাইফুজ্জামান জাবেদ এর আগে বিদেশের সম্পদ নিয়ে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলার চেষ্টা করেছেন, তার বাবা প্রয়াত এমপি আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর সময় থেকেই তাদের পরিবারের বিদেশে ব্যবসা রয়েছে। বিদেশের বৈধ ব্যবসার আয় ও ব্যাংক ঋণের অর্থ দিয়ে সম্পত্তি কেনা হয়েছে বলেও জাবেদ দাবি করেছেন। তার বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপকে তিনি ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে বর্ণনা করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বর্তমান বিশ্বের চ্যালেঞ্জগুলো এককভাবে কোনো দেশের পক্ষে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। ব্রিকসকে গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর বিচ্ছিন্ন সক্ষমতাগুলোকে সম্মিলিত সক্ষমতায় রূপ দিতে হবে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৮তম ব্রিকস প্লাস সম্মেলনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই মন্তব্য করেন।
পেজেশকিয়ান উল্লেখ করেন, ইরানের ভূরাজনৈতিক অবস্থান এবং দেশটির জ্বালানি ও ট্রানজিট সক্ষমতা ব্রিকসের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য ও জ্বালানি রুট উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, স্থিতিস্থাপকতা বলতে এমন সক্ষমতাকে বোঝায়, যা চাপের মধ্যেও উন্নয়নের ধারাকে বজায় রাখার এবং স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সংরক্ষণ করে। সীমিত আর্থিক ও বাণিজ্যিক ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা অর্থনীতিকে রাজনৈতিক ধাক্কায় ফেলতে পারে।
পেজেশকিয়ান আরও বলেন, একতরফা নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র অর্থনৈতিক বিষয় নয়। এটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা ও কল্যাণকে সরাসরি প্রভাবিত করে। তাই সদস্য দেশগুলোর অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি করতে জাতীয় মুদ্রায় বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংককে শক্তিশালী করার মাধ্যমে যৌথ সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে।
তার মতে, নিরাপত্তা ছাড়া অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতা টেকসই হবে না। অঞ্চলের সাম্প্রতিক ঘটনাবলী, বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার ইসরাইলের সামরিক আগ্রাসন দেখিয়েছে যে, কোনো দেশের অর্থনৈতিক, জ্বালানি ও উন্নয়ন অবকাঠামোতে হামলার প্রভাব দ্রুত দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিণতি তৈরি করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, এই আগ্রাসনের জন্য ইরানি জনগণকে চরম মূল্য দিতে হয়েছে। নারী, পুরুষ, শিশু ও বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং দেশের উন্নয়নের জন্য কয়েক দশক ধরে গড়ে তোলা অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ঘটনা বেসামরিক জনগণকে সুরক্ষা দেওয়া এবং বেসামরিক স্থাপনায় হামলাকে স্বাভাবিক করে তোলার প্রবণতা প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের গুরুতর দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
পেজেশকিয়ান বলেন, গাজা ও লেবাননের জনগণ এখনো সংঘাত ও ধ্বংসযজ্ঞের পরিণতি ভোগ করছে। সামরিক আগ্রাসন, মানুষের হত্যা এবং তাদের জীবন ধ্বংসের বিরুদ্ধে কার্যকর আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা না থাকলে আন্তর্জাতিক আইনের কথা বলা অর্থহীন। তাই জাতীয় সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং শক্তি প্রয়োগের নিষেধাজ্ঞা রক্ষায় ব্রিকসকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
সহযোগিতাই দ্বিতীয় স্তম্ভ
সহযোগিতাকে ব্রিকসের দ্বিতীয় স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করেন পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, আজকের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলো কোনো একক দেশ একা সমাধান করতে পারে না। তাই ব্রিকসকে সদস্য দেশগুলোর বিচ্ছিন্ন সক্ষমতাগুলোকে সম্মিলিত সক্ষমতায় রূপ দিতে হবে। টেকসই উন্নয়নকে তিনি তৃতীয় স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, যে উন্নয়ন বৈষম্য বাড়ায় অথবা বর্তমানের ব্যয় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর চাপিয়ে দেয়, তা টেকসই হতে পারে না।
পেজেশকিয়ান বলেন, যুদ্ধ পরিবেশ ধ্বংসের অন্যতম প্রধান কারণ। ইরানের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, জ্বালানি ও শিল্প অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির প্রভাব শুধুমাত্র অর্থনৈতিক ক্ষতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি অঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদের ওপরও প্রভাব ফেলে।
জ্ঞান ও উদ্ভাবনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে মন্তব্য করেন পেজেশকিয়ান। তার মতে, ব্রিকসকে নিশ্চিত করতে হবে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও নতুন প্রযুক্তি যেন আধিপত্য বিস্তারের হাতিয়ারে পরিণত না হয়। বরং এগুলোকে দেশগুলোর ক্ষমতায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যম হিসেবে কাজে লাগাতে হবে।
ব্রিকসের সহযোগিতাকে এগিয়ে নিতে ইরান তার সক্ষমতাগুলো কাজে লাগাতে প্রস্তুত বলেও তিনি জানান। তিনি বলেন, সহযোগিতা ছাড়া স্থিতিস্থাপকতা দীর্ঘস্থায়ী হবে না, ন্যায়বিচার ছাড়া সহযোগিতা টেকসই হবে না এবং শান্তি ও নিরাপত্তা ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। ব্রিকসকে এমন একটি প্ল্যাটফর্মে পরিণত করতে হবে, যেখানে এসব নীতিকে বাস্তব কর্মকাণ্ডে রূপ দেওয়া যায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দক্ষিণী অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রোলের শিকার হয়েছেন বিলাসবহুল গাড়ি কেনার কারণে। রেঞ্জ রোভার ইভোক কেনার প্রেক্ষাপটে তাঁকে প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে। তবে অভিনেত্রী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, গাড়িটি তিনি সম্পূর্ণ নিজের উপার্জনের অর্থে কিনেছেন।
সম্প্রতি ‘আশা’ সিনেমার প্রচারণার সময় সঞ্চালক রঞ্জিনী হরিদাসের সঙ্গে কথোপকথনে ঐশ্বরিয়া তাঁর জীবনের কঠিন এক সময়ের কথা স্মরণ করেন। সম্পর্কের টানাপোড়েন ও ব্রেকআপের পর নিজেকে নতুন করে গুছিয়ে নেওয়ার সময়েই তিনি গাড়িটি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঐশ্বরিয়া স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘২০২৪ সালে নিজের কষ্টার্জিত টাকায় গাড়িটি কিনেছিলাম। ব্রেকআপের পর এটি এমন এক সময় ছিল যখন নিজেকে নতুন করে গুছাচ্ছিলাম। সময়টা খুবই খারাপ ছিল এবং সেই সময়ে কিছু প্রজেক্ট থেকেও সরে দাঁড়িয়েছিলাম। কেবল বন্ধুরা এই বিষয়টি জানত। তাই সুস্মিতা সেনের ডায়মন্ড রিংয়ের মতোই নিজেকে একটা বিশেষ উপহার দিতে চেয়েছিলাম। গাড়ি ভালোবাসায় ট্রাইবেকা ব্লু রঙের একটি রেঞ্জ রোভার ইভোক উপহার দিই।’
ঐশ্বরিয়া গাড়িটির ডেলিভারি ১৪ ফেব্রুয়ারি নিতে চেয়েছিলেন, যাতে ভালোবাসা দিবসকে নিজের জন্য বিশেষ করে তুলতে পারেন। তিনি বলেন, ‘১৪ ফেব্রুয়ারিতেই গাড়িটির ডেলিভারি চেয়েছিলাম ভালোবাসা দিবসের উপহার হিসেবে। ফলে কেউ আমার সঙ্গে ডেট করতে চাইলে জেনে রাখুন, এটি আমি নিজেই নিজেকে উপহার দিয়েছি এবং এটিই আমার স্ট্যান্ডার্ড।’
যদিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাড়ি কেনার ছবি প্রকাশের পর থেকেই শুরু হয় নানা প্রশ্ন ও ট্রোলিং। অনেকেই জানতে চান, এত দামি গাড়ি কীভাবে কিনলেন অভিনেত্রী। কেউ কেউ এমন প্রশ্নও তোলেন, গাড়িটি তাঁকে কেউ উপহার দিয়েছেন কি না।
ঐশ্বরিয়া জানান, শুটিং সেটেও তাঁকে সরাসরি এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। একজন তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, গাড়িটি কেউ উপহার দিয়েছেন কি না। এমন প্রশ্নে তিনি অবাক হয়েছিলেন। তাঁর মনে হয়েছিল, এত দামি গাড়ি উপহার দেওয়ার মতো কেউ যদি থাকতেন, তাহলে তাঁকে কেন সিনেমায় কাজ করতে হবে!
তবে নেতিবাচক মন্তব্য তাঁর ওপর কোনো প্রভাব ফেলেনি। বরং নিজের উপার্জনের অর্থে গাড়ি কেনাকে তিনি ব্যক্তিগত সাফল্য হিসেবেই দেখছেন।
এর আগে ২০২৩ সালে ‘কিং অব কোঠা’ সিনেমাটি প্রত্যাশা অনুযায়ী ব্যবসা করতে না পারায় ট্রোলের মুখে পড়েছিলেন ঐশ্বরিয়া। একই সময়ে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের ব্রেকআপও ঘটে। কঠিন সেই সময় পেরিয়েই তিনি নিজের জন্য এই বিশেষ উপহার কেনেন।
বলা দরকার, কোচিন শহরের রাস্তায় রেঞ্জ রোভার ইভোকের আনুমানিক অন-রোড দাম প্রায় ৮২ দশমিক ৭৮ লাখ রুপি। এ ছাড়া তাঁর মালিকানায় রয়েছে মার্সিডিজ-বেঞ্জ জিএলসি ২২০ডি, যার দাম প্রায় ৯৮ দশমিক ১৭ লাখ রুপি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ