হুমায়ুন কবির, বানারীপাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি
০৮:২০ পি.এম
বরিশালের বানারীপাড়ায় অবৈধ মাদকদ্রব্য হেরোইন রাখার মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মো. মমনিরুজ্জামান ওরফে টিটুকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, বানারীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মজিবুর রহমানের নির্দেশনায় এসআই মো. জাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল র্যাবের সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে।
এক্ষেত্রে, ১৩ আগস্ট ২০২৬ সন্ধ্যা ৭টার দিকে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানাধীন জলসিঁড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মো. মমনিরুজ্জামান ওরফে টিটুকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত টিটু বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার ধারালিয়া গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে।
পুলিশ জানায়, হেরোইন রাখার মামলায় আদালতের দেওয়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা এড়াতে তিনি দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তার অবস্থান শনাক্ত করে র্যাবের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাজাপ্রাপ্ত ও পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় দুটি মাদার ভেসেলের (সমুদ্রগামী বড় জাহাজ) মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এই সংঘর্ষের ফলে একটি জাহাজের (তেলবাহী) ইঞ্জিন রুমের পোর্ট কোয়ার্টারে ফাটল দেখা দিয়েছে। শুক্রবার(১৪ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে একটি জাহাজ নিয়ন্ত্রণ হারালে এই ঘটনা ঘটে।
বন্দর কর্তৃপক্ষ, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড জাহাজ দুটিকে উদ্ধার এবং স্থিতিশীল রাখতে কাজ করছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানিয়েছেন, প্রায় ৩৩ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল বহনকারী তেলবাহী ট্যাংকার এমটি সি স্পাইক এবং নোঙর করে থাকা বাল্ক ক্যারিয়ার এমভি সানশাইন এর মধ্যে সংঘর্ষটি সংগঠিত হয়েছে। তীব্র স্রোতের কারণে তেলবাহী জাহাজটির নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা সম্ভব হয়নি, বলছেন তিনি। তদন্তের পর দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে পারা যাবে।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় এমটি সি স্পাইকের ইঞ্জিন রুমে পোর্ট কোয়ার্টারে আনুমানিক ১ বর্গমিটার ফাটল দিয়ে পানি প্রবেশ করায় সাময়িক ব্ল্যাকআউট বা বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটেছে। তবে, জরুরি ব্যাটারির সাহায্যে জাহাজের ভিএইচএফ যোগাযোগ ব্যবস্থা সক্রিয় রাখা হয়েছে। জাহাজের সবকটি কার্গো ট্যাংক সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে। কার্গো ট্যাংকে কোনো পানি প্রবেশ করেনি এবং কোনো ধরনের তেল নিঃসরণের ঘটনা ঘটেনি।
বন্দর সচিব জানান, ঘটনার পর পরই চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ নৌবাহিনী এবং কোস্ট গার্ড দ্রুততম সময়ে উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়। বন্দরের টাগবোট কান্ডারী-৮ দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। দ্রুত সময়ে জ্বালানি তেল খালাসের জন্য শিপিং এজেন্ট (প্রাইড শিপিং) এবং ফাটল মেরামত ও উদ্ধারের জন্য স্যালভেজ কোম্পানিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, জাহাজের মাস্টারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক ভিএইচএফ যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে। পরিস্থিতি সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরে বিচারের মুখোমুখি হওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে পালিয়ে থাকা শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরার জন্য অনুরোধ করছেন। শুক্রবার ১৪ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তিনি একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছেন।
ভিডিওর ক্যাপশনে সোহেল তাজ লেখেন, “প্রিয় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, দয়া করে ফিরে আসুন। বাংলাদেশের জনগণ আপনার জন্য অপেক্ষা করছে।”
সোহেল তাজ রাজধানীর জুলাই ৩৬ জাদুঘরের (সাবেক গণভবন) সামনে গাড়িতে অবস্থান করার সময় ভিডিওটি প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, “আজকে ১৪ আগস্ট ২০২৬, শুক্রবার। এখানে প্রচুর মানুষ এসেছে জাদুঘরটি প্রদর্শন করার জন্য।”
সোহেল তাজ বলেন, বাংলাদেশের সব মানুষ প্রত্যক্ষদর্শী বা স্বচক্ষে যে গণহত্যা দেখেছিল, সেটি এখানে পরিচালনা করা হয়েছিল। তিনি উল্লেখ করেন, হাজার হাজার মানুষ যারা আহত হয়েছেন অথবা নিহত হয়েছেন, তাদের আত্মীয়স্বজন বা সাধারণ মানুষ এই জাদুঘর দেখতে এসেছেন।
তিনি ভিডিওতে জাদুঘরের সামনে দর্শনার্থীদের ভিড়ের কথা উল্লেখ করে বলেন, “আজকে আমরা দেখতে পাচ্ছি, শুক্রবারে প্রচণ্ড ভিড় এবং এখানে প্রতিদিন ভিড় থাকে।”
শেখ হাসিনা দেশে ফেরার আলোচনার প্রসঙ্গে সোহেল তাজ বলেন, “আমরা শুনতে পাচ্ছি যে পলাতক প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নাকি দলবল নিয়ে বাংলাদেশে ফেরত আসবে। আমি মনে করি এই জনগণ আপনার জন্য অপেক্ষা করছে।”
তিনি বলেন, “আপনি আসেন, বিচারের সম্মুখীন হন। আপনার সাজা যেটা হয়েছে, সেটার সম্মুখীন হন।”
সবশেষে শেখ হাসিনার উদ্দেশে সোহেল তাজ বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ আপনার জন্য অপেক্ষা করছে।”
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফুটবল মাঠে অহেতুক নাটকীয়তা এবং সময়ক্ষেপণের দিন, সম্ভবত এবার শেষ হতে চলেছে! খেলার গতি বজায় রাখা এবং অযথা সময় অপচয় বন্ধ করার জন্য ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ) আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিয়ে আসছে একগুচ্ছ নতুন ও যুগান্তকারী নিয়ম। সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপে সফলভাবে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ হওয়ার পর, এবার ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগসহ বিশ্বের শীর্ষ সারির লিগগুলোতে কার্যকর হতে যাচ্ছে এই নতুন আইনগুলো।
গোল-কিক ও থ্রো-ইনের কাউন্টডাউনও থাকবে। এখন থেকে থ্রো-ইন বা গোল-কিকের সময়ে খেলোয়াড়েরা গড়িমসি করলে রেফারি সরাসরি ৫ সেকেন্ডের কাউন্টডাউন শুরু করবেন। নির্ধারিত সময়ে থ্রো-ইন না করলে প্রতিপক্ষকে থ্রো-ইনের সুযোগ দেওয়া হবে। একইভাবে গোল-কিকে দেরি করলে প্রতিপক্ষ সরাসরি পেয়ে যাবে কর্নার কিক।
বদলি হওয়া খেলোয়াড়কে রেফারির বাঁশি বাজার পরে মাঠের নিকটতম সীমানারেখা দিয়ে ১০ সেকেন্ডের মধ্যেই মাঠের বাইরে যেতে হবে। কেউ ব্যর্থ হলে কিংবা অহেতুক সময় নষ্ট করলে, নতুন যিনি মাঠে নামবেন তাকে অন্তত ১ মিনিট সাইডলাইনে বাধ্যতামূলক অপেক্ষা করতে হবে। ফলে ওই ১ মিনিট ১০ জনের দল নিয়ে খেলতে হবে ওই ক্লাবকে।
ভুয়া চোট বন্ধ করতে ১ মিনিটের বাধ্যবাধকতা নিয়ে আসা হচ্ছে। খেলার গতি ভাঙতে অথবা কৌশলগত কারণে কেউ মাঠে চোটের নাটক করলে এখন কড়া মূল্য চোকাতে হবে। চিকিৎসাসেবার জন্য খেলা থামলে আহত খেলোয়াড়কে মাঠের বাইরে অন্তত ১ মিনিট কাটাতে হবে।
তবে, প্রতিপক্ষ ফাউল করে হলুদ অথবা লাল কার্ড পেলে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। গোলরক্ষকদের ‘ট্যাকটিক্যাল টাইমআউট’ বন্ধের অধ্যায়ও সকলের জন্য নতুন। ম্যাচের মোড় ঘোরাতে কিংবা কোচের কাছ থেকে বুদ্ধি নিতে গোলরক্ষকরা হঠাৎ মাঠে শুয়ে পড়ে প্রাথমিক চিকিৎসার দাবি জানানোর দিন শেষ হতে চলেছে। এখন থেকে এমনটা করলে কোচের নির্দেশে দলের যেকোনো একজন আউটফিল্ড খেলোয়াড়কে ১ মিনিটের জন্য মাঠের বাইরে গিয়ে বসে থাকতে হবে।
পেনাল্টি এরিয়ার স্পষ্ট হ্যান্ডবল নিয়মও থাকবে। ডি-বক্সের ভেতর থেকে গোলরক্ষক বা ডিফেন্ডার কিক করার পরপরই বল সচল বা ‘ইন-প্লে’ হিসেবে গণ্য হবে। ওই অবস্থায় কোনো ডিফেন্ডারের গায়ে বল লাগলে সরাসরি পেনাল্টি দেওয়া হবে। আর ব্যাকপাসের বল গোলরক্ষক হাত দিলে মিলবে ইনডাইরেক্ট ফ্রিকিক।
ভিএআরের ক্ষমতা বৃদ্ধি সম্পর্কে বলা হচ্ছে যে, প্রযুক্তিগত সহায়তায় আসছে আরও বড় পরিবর্তন। এখন থেকে কোনো খেলোয়াড়কে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড (যার ফলে লাল কার্ড হয়) দেওয়া সঠিক ছিল কি না, তা ভিএআর রিভিউ করতে পারবে। এছাড়া, সেট-পিস শুরুর ঠিক আগের মুহূর্তে অব্যবহৃত ফাউল থেকে গোল হলেও তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখবে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নড়াইলের মেধাবী শিক্ষার্থী পূজা বিশ্বাসের স্বপ্ন ডাক্তার হওয়া। তবে তিনি জানেন না, তার বাবা-মা তাকে মেডিক্যাল পড়াতে পারবেন কি না। কষ্ট করে সফলতার এই কাহিনীকে তুলে ধরে পূজা বলেন, 'চিকিৎসক হয়ে গরিব মানুষের সেবা করার পাশাপাশি আমার মতো অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে চাই।'
তিনি আরও জানান, 'তাদের পক্ষে এত খরচ বহন করা কঠিন।' তবুও তিনি পরিশ্রম, শিক্ষকদের সহযোগিতা এবং নিজের চেষ্টায় ফল অর্জন করেছেন।
চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় যশোর বোর্ডের অধীনে নড়াইল সদর উপজেলার কৃষ্ণলতা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে ১২৫০ নম্বরের মধ্যে ১২১০ পেয়ে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে পূজা। এটি এ বছর নড়াইল জেলার সর্বোচ্চ ফল।
পূজা নড়াইল সদর উপজেলার কলোড়া ইউনিয়নের নলদিচর গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা নৃত্য গোপাল বিশ্বাস একজন কৃষক এবং মা দীপ্তি রানী বিশ্বাস গৃহিণী।
তাদের কৃষিকাজে সাত সদস্যের সংসার চালানো এবং বছরের অধিকাংশ সময় অভাব-অনটনের মধ্যে কাটাতে হয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও পূজার পড়াশোনায় কোনো বাধা আসেনি।
পূজা তিন ভাই-বোনের মধ্যে সবার বড়। শিক্ষায় তার আগ্রহ ছোটবেলা থেকেই ছিল। বিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি বাড়িতে বই নিয়ে পড়তেন। বিদ্যুৎ চলে গেলে কখনো চার্জলাইট আবার কখনো কেরোসিনের বাতির আলোতে পড়াশোনা করেছেন।
এখন এসএসসিতে জেলা সেরা পেয়ে কলেজ, ভর্তি কোচিং এবং মেডিক্যাল পড়াশোনার খরচ নিয়ে চিন্তিত পরিবার।
পূজার বাবা বলেন, 'মেয়েটার মেডিক্যাল পড়ার খুব ইচ্ছে, আমিও তার স্বপ্ন পূরণ করতে চাই। কিন্তু এত খরচ মেটানো আমার পক্ষে অসম্ভব।' মা দীপ্তি রানী বিশ্বাস জানান, 'অভাবের সংসার হলেও মেয়েকে পড়াশোনা ছাড়তে বলিনি।'
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার পর পাইতে শুরু থেকেই সেরা ফল করে আসছিল পূজা। শিক্ষকদের প্রত্যাশা ছিল শুরু থেকেই। কৃষ্ণলতা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সমীর গোলদার বলেন, 'পূজা ১২৫০ নম্বরের মধ্যে ১২১০ পেয়েছে, যা সেরা।' বিদ্যালয়টি প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থিত এবং এর সভাপতির মাধ্যমে এখানকার অসচ্ছল মেয়েরা পড়ার সুযোগ পেয়েছে।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি বলেন, 'পূজা বিশ্বাসের এই সাফল্য তার কঠোর পরিশ্রমের প্রমাণ।'
উল্লেখ্য, যশোর শিক্ষা বোর্ড অনুযায়ী, এ বছর নড়াইল জেলা থেকে মোট ৮ হাজার ২৬২ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে ৪০৪ জন জিপিএ ৫ পেয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ