ঢাকা শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ০৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বাং

সিলেটে হাম উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু


সিলেটে হাম উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু

সিলেটে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো দুই শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। একই সময়ে নতুন করে ২৮ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।

এটি ইঙ্গিত দেয় যে চলতি বছরের এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৪২ জনে। আর সন্দেহজনক ও নিশ্চিত দুই ধরনের রোগী মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে এখন ১৩৩ জনে পৌঁছেছে।

মারা যাওয়া দুই শিশুর মধ্যে একজন হলেন সিলেটের গোয়াইনঘাট এলাকার ৭ মাস বয়সী শিশু ইয়াসিন। তিনি সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

আরও পড়ুন: সিলেটকে নান্দনিক ও শান্তির নগরী করার প্রতিশ্রুতি দিলেন বিকেএম প্রার্থী আতাউর

অন্যজন হলেন সুনামগঞ্জের ৫ মাস ১৯ দিন বয়সী শিশু মো. সাইফান। তিনিও একই হাসপাতালের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

 

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১১৯ জন সন্দেহজনক হাম রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

আরও পড়ুন: দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য ব্রেইল কোরআন ও সাদাছড়ি বিতরণ করলেন ছাত্রদল নেতা বাসিত

এবং এখন, সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ২৮০ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১৫ আগস্ট উপলক্ষে জবিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের শোক ব্যানার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:৪৩ পি.এম


১৫ আগস্ট উপলক্ষে জবিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের শোক ব্যানার

শেখ মুজিবুর রহমান, তার সহধর্মিণী শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবসহ ১৫ আগস্টে নিহত পরিবারের সদস্যদের স্মরণে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসের পাশের এলাকায় শোক ব্যানার টানিয়েছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতারা।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় গেটের পাশে ফুটওভার ব্রিজ সংলগ্ন বিশ্বজিৎ চত্বর এলাকায় এ ব্যানারটি টাঙানো হয়েছিল।

এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আশিক-ই-আতাহার মেসবাহ এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান।

আশিক-ই-আতাহার মেসবাহ বলেন, ‘১৫ আগস্ট বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক গভীর শোকের দিন। এই দিন আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ইতিহাস কখনো ভুলে যাওয়ার বিষয় নয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তার সহধর্মিণী শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবসহ পরিবারের সদস্যদের নির্মম হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের ইতিহাসে গভীরতম ক্ষত হয়ে আছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আজকের এই শোকের দিনে আমাদের অঙ্গীকার হোক—শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করা, ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং গণতন্ত্র, মানবিকতা ও আইনের শাসনের প্রতি আস্থা আরও দৃঢ় করা।

শোক আমাদের থামিয়ে দেবে না, শোক আমাদের জাগাবে।’

 

মেহেদি হাসান বলেন, ‘১৫ আগস্ট আমাদের রাজনীতির ক্যালেন্ডারে শুধু একটি শোকের দিন নয়; এটি ক্ষমতা, ষড়যন্ত্র ও ইতিহাসের নির্মম বাস্তবতার একটি সতর্কবার্তা। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে তার আদর্শকে থামিয়ে দেওয়া যায়নি। কারণ আদর্শ কোনো ব্যক্তির জীবনে সীমাবদ্ধ থাকে না, তা প্রজন্মের চেতনায় বেঁচে থাকে।’

তিনি আরো বলেন, আজকের প্রজন্মের ছাত্রলীগের দায়িত্ব হলো শুধু অতীতের স্মরণ করা নয়, বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মানুষের অধিকারকে সামনে রেখে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ নির্মাণের সংগ্রামকে এগিয়ে নেওয়া।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. আজম খানের

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

একে একে ৩ জনকে খুন, আটকের পর পুলিশকে যা জানালেন বাবুল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:৪৬ পি.এম


একে একে ৩ জনকে খুন, আটকের পর পুলিশকে যা জানালেন বাবুল

সিলেটে আলোচিত ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় আটক আসামি বাবুল মিয়ার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছোরাটি উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে রায়নগরের একটি খালি প্লটে তল্লাশি চালিয়ে ছোরাটি উদ্ধার করা হয়।

বুধবার সকালে নগরীর রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসার দোতলায় এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। এ সময় বাসার ভেতরে ঢুকে স্বামী, স্ত্রী ও গৃহপরিচারিকাকে কুপিয়ে এবং গলা কেটে হত্যা করা হয়।

নিহতরা হলেন ওই এলাকার বাসিন্দা আব্দুস সাত্তার (৮২), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭২) এবং গৃহপরিচারিকা তাহমিনা আক্তার (২০)। উল্লেখ্য, তাহমিনা নগরীর জল্লারপাড়া এলাকার বাসিন্দা আফতাব মিয়ার মেয়ে।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) উপপুলিশ কমিশনার (উত্তর ও প্রসিকিউশন) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং আলামত উদ্ধারের বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানান।

তিনি উল্লেখ করেন, উদ্ধার করা ছোরাটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। এতে থাকা রক্তের নমুনার সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত রক্তের নমুনা মিলিয়ে দেখা হবে। এই মাধ্যমে ছোরায় থাকা রক্তের উৎস নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।

মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম আরও জানান, জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল মিয়া প্রকাশ করেছেন, হত্যাকাণ্ডের পর তিনি রায়নগরের একটি খালি স্থানে ছোরাটি ফেলে দেন। বুধবার (১২ আগস্ট) সন্ধ্যায় ওই এলাকায় তল্লাশি চললেও ছোরার সন্ধান পাওয়া যায়নি।

তবে, বৃহস্পতিবার সকালে শ্রমিকদের নিয়ে ফের তল্লাশি চালালে ছোরাটি উদ্ধার করে পুলিশ। বাবুল মিয়া যে ধরনের ছোরার কথা বলেছিলেন, উদ্ধার হওয়া ছোরাটি তার সঙ্গে যথেষ্ট মিল আছে বলে জানান উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বাবুল মিয়া রঙমিস্ত্রির পাশাপাশি কসাইয়ের কাজ করেন। আটকের পর তিনি পুলিশকে জানান, ছোরাটি ছয় থেকে সাত ইঞ্চি লম্বা ও কাঠের হাতলযুক্ত ছিল।’

উদ্ধার হওয়া ছোরাটির বর্ণনা বাবুল মিয়ার দেওয়া বিবরণের সঙ্গে যথেষ্ট মিল রয়েছে। তবে ফরেনসিক পরীক্ষা ও অন্যান্য সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, হত্যাকাণ্ডের পর ছোরাটি ধোয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল, আলামত বিশ্লেষণ করে তথ্য পাওয়া গেছে। বাসার বেসিন ও হাত ধোয়ার স্থানে রক্তের চিহ্ন পাওয়া গেছে এবং ছোরার ধাতব অংশেরও শুকনো রক্তের দাগ দেখা গেছে।

একটি ব্যাগে রক্তের দাগ পাওয়া গেছে। পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল মিয়া বলেছেন, রং করার কাজ করতে গিয়ে গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তাদের সম্পর্ক প্রেমের পর্যায়ে গিয়েছিল কিনা, সেটি জানাননি বাবুল। তবে গৃহকর্মীর কোনো আচরণে তিনি ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন, এবং সেই ক্ষোভ থেকেই তাকে হত্যা করতে শিশির নিয়ে বাসায় গিয়েছিলেন।

হত্যাকাণ্ডের বিবরণ দিতে গিয়ে বাবুল বলেন, প্রথমে গৃহকর্মীকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। যখন গৃহকর্ত্রী রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তিনি বাধা দেন, পরে গৃহকর্তা এগিয়ে আসলে তাকেও ছুরিকাঘাত করেন। এরপর বারান্দা দিয়ে পালিয়ে যান বাবুল মিয়া।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ বাসায় প্রবেশের সময় দেখেছে, দরজার নিচের ছোট ছিটকানি ভাঙা অবস্থায় রয়েছে। বাবুল মিয়া যে বারান্দা দিয়ে পালানোর কথা বলছেন, সেখান থেকে রেলের হাতের ছাপ ও পায়ের ছাপ মেলে। বিশদভাবে নিচেও রক্তের চিহ্ন মেলে। তবে, বাবুল মিয়া ছাড়া অন্য কেউ ওই বাসায় প্রবেশ করেছেন কিনা, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এছাড়া, হত্যাকাণ্ডের পরে বাসার কয়েকটি ওয়ারড্রোব ও আলমারি খোলা অবস্থায় পাওয়া যায়। তবে সেগুলি ভাঙা ছিল না। সেখান থেকে কোনো মূল্যবান জিনিস খোয়া গেছে কিনা, তা জানাতে পারেনি পুলিশ।

ঘটনাস্থল থেকে তিন পাতার একটি দলিলসদৃশ কাগজ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানাচ্ছে, উদ্ধার হওয়া দলিলসদৃশ কাগজটি মূল দলিল নয়, সম্ভবত একটি ফটোকপি বা অনুলিপি। এটির সঙ্গে কোনো মামলা কিংবা সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের যোগসূত্র রয়েছে কিনা, তা তদন্ত চলছে।

পুলিশ আরও জানায়, বাবুল মিয়া আগে ওই বাসায় রং করার কাজ করেছেন। এর ফলে বাসা এবং ঘরের ভেতরের পরিবেশ ও বিভিন্ন জিনিসপত্র সম্পর্কে তার ধারনা ছিল। দীর্ঘদিন ধরে বাসাভাড়া পরিশোধ করতে পারেননি। হত্যাকাণ্ডের পর তিনি বাসাভাড়া পরিশোধ করেছেন কিনা এবং ঘটনার পর কোথায় কোথায় গিয়েছিলেন, এটি নিয়েও তদন্ত চলছে।

উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম মামলার বিষয়ে জানান, নিহত দম্পতির প্রবাসী সন্তানরা দেশে এসে অভিভাবক ও আইনজীবীদের মাধ্যমে এজাহার দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এজাহার পাওয়া গেলে সেটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হবে এবং আটক বাবুলকে আদালতে হাজির করা হবে।

জানা গেছে, বুধবার সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে ওই এলাকায় লোডশেডিং চলাকালে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। নিহতদের বাসা ও পুরো এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকলেও লোডশেডিংয়ের কারণে কোনো ফুটেজ পাওয়া যায়নি। এছাড়া নিহতদের বাসার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে কাউকে দেখা যায়নি। তবে যে গলির মাধ্যমে হত্যাকারী পালিয়ে গিয়েছিলেন, সেখানের সিসিটিভির ফুটেজ দেখে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় বাবুলকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পরবর্তীতে সেদিন রাতে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) উপকমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, সিসিটিভির ফুটেজ দেখে খুনিকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয় পুলিশ। তখন বাসার সিসিটিভির ফুটেজের তথ্য গোপন রাখা হয়েছিল, কারণ এতে খুনি পালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। বাসার বিভিন্ন কক্ষে তিনটি সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল। এর মধ্যে একজনের সিসিটিভি ক্যামেরা অকেজো হয়ে গিয়েছিল। তবে বাকি দুটির ফুটেজ দেখে তাকে শনাক্ত করা হয়েছে। সেই ফুটেজের সূত্র ধরেই ৬ ঘণ্টার মধ্যে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আব্দুস সাত্তার দম্পতি মিতালী আবাসিক এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। পেশায় ব্যবসায়ী হলেও তিনি আওয়ামী লীগের একজন পুরনো কর্মী হিসেবে মহল্লায় পরিচিত ছিলেন। তবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পর তিনি নিষ্ক্রিয় ছিলেন। তাদের এক ছেলে ও একটি মেয়ে রয়েছে, যারা উভয়েই সপরিবারে লন্ডনে বাস করছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আটককেন্দ্রে আরও এক অভিবাসীর মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:৪৯ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আটককেন্দ্রে আরও এক অভিবাসীর মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের নিউয়ার্কে অবস্থিত ডিলানি হল অভিবাসন আটককেন্দ্রে আটক থাকার পর আরও একটি অভিবাসীর মৃত্যু ঘটেছে। এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিনে। মৃত ব্যক্তি গুয়াতেমালার নাগরিক।

ট্রাম্প প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, আইসিই (ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) পরিচালিত আটককেন্দ্রে অসুস্থ ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর তার মৃত্যু হয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের মে মাসে পুনরায় চালু হওয়া ডিলানি হল আটককেন্দ্রে এটি তৃতীয় মৃত্যুর ঘটনা। এটি ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে কেন্দ্রটি আবার চালু হয়েছিল।

মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) জানায়, আটককেন্দ্রে থাকা অবস্থায় হোসে চাখোন-রাখসোন হঠাৎ খিঁচুনির মতো শারীরিক জটিলতায় আক্রান্ত হন। দায়িত্বরত একজন নার্স তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেন এবং পরে জরুরি চিকিৎসাকর্মীদের ডাকা হয়। এরপর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

আইসিই জানায়, গত ১৮ জুলাই চাখোন-রাখসোনকে গ্রেপ্তার করে ডিলানি হলে আনা হয়। তবে চার দিন পরে, ২২ জুলাই তাকে আইসিইর হেফাজত থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। কেন তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল বা এরপর হাসপাতালে তার সঙ্গে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।

ডিএইচএস এক বিবৃতিতে বলেছে, আইসিইর নীতিমালা অনুযায়ী, কেউ হেফাজতের বাইরে চলে গেলে তার পরবর্তী মৃত্যু পর্যবেক্ষণ বা পর্যালোচনার দায়িত্ব সংস্থার থাকে না।

তবে এই অবস্থান নিয়ে সমালোচনা করেছেন নিউ জার্সির ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান রব মেনেনডেজ। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে তিনি জানান, এই নীতির কারণে একটি "ফাঁক" তৈরি হয়েছে। এর ফলে কাউকে হেফাজত থেকে ছেড়ে দিয়ে পরে তার মৃত্যুর বিষয়ে তদন্ত বা কংগ্রেস ও জনগণকে জানানো এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের শুরুতে আইসিই একটি নীতিগত পরিবর্তন আনে। এর আগে বাইডেন প্রশাসনের সময় ২০২১ সালে চালু হওয়া নীতি অনুযায়ী, হেফাজত থেকে মুক্তির ৩০ দিনের মধ্যে কোনো ব্যক্তির মৃত্যু হলে সেটিও প্রকাশ করা হতো। নতুন নীতিতে সেই বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়া হয়েছে।

চাখোন-রাখসোনের মৃত্যুর বিষয়টি প্রথমে প্রকাশ্যে আসেনি। গত সপ্তাহে কংগ্রেসম্যান রব মেনেনডেজ বিষয়টি প্রকাশ করার পর ঘটনাটি সামনে আসে।

ডিলানি হল আটককেন্দ্রে এর আগেও দুটি মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। চলতি মাসের শুরুতে আইসিইর হেফাজতে চিকিৎসাজনিত জরুরি অবস্থার পর এল সালভাদরের নাগরিক এডউইন লোপেজ-করনেহোর মৃত্যু হয়। এর আগে গত ডিসেম্বরে একই কেন্দ্রে আটক থাকা হাইতির নাগরিক জিন উইলসন ব্রুটাসেরও মৃত্যু ঘটে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আইসিইর হেফাজতে ৫০ জনেরও বেশি মানুষ মারা গেছে। এসব সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসন আটককেন্দ্রগুলোর চিকিৎসাসেবা ও বন্দিদের জীবনযাপনের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।

ডিলানি হল আটককেন্দ্র নিয়েও গত কয়েক মাসে নানা অভিযোগ উঠেছে। বন্দিদের ওপর প্রহরীদের শারীরিক নির্যাতন, নষ্ট খাবার সরবরাহ এবং অপর্যাপ্ত সেবার অভিযোগে একাধিক বিক্ষোভ হয়েছে। মে মাসের শেষ দিকে অন্তত ৩০০ অভিবাসী অনশন ও কর্মবিরতিতে অংশ নেন। পরে নারী বন্দিরাও পৃথকভাবে অনশন শুরু করেন। তাদের দাবি ছিল, আটককেন্দ্রের পরিস্থিতির উন্নতি এবং ২১ বছরের কম বয়সী নারী, অসুস্থ নারী ও মায়েদের মুক্তি দেওয়া।

তবে আইসিইর দাবি, তাদের হেফাজতে থাকা প্রত্যেক ব্যক্তিকে যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে বিএনপির কর্মসূচি ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:৫১ পি.এম


খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে বিএনপির কর্মসূচি ঘোষণা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দলের সাবেক চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিনের উপলক্ষে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এই বিশেষ দিন উপলক্ষে আগামীকাল শনিবার (১৫ আগস্ট) দেশব্যাপী দোয়া মাহফিল আয়োজন করবে দলটির নেতাকর্মীরা।

আজ শুক্রবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে ঢাকাসহ সারা দেশে দলীয় কার্যালয় অথবা মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

এতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকায় নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আগামীকাল শনিবার সকাল ১১টায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এই অনুষ্ঠানে বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।

ঢাকাসহ সারা দেশে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উক্ত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলগুলোতে অংশগ্রহণের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৪
মাগরিব ০৫:৩২
ইশা ০৬:৪৩
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%