শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:০৭ পি.এম
ভারতে বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ শেষে পাচার হওয়া শিশুসহ ৯ বাংলাদেশি নারী ও পুরুষ দেশে ফিরে এসেছেন। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ভারত সরকারের প্রদত্ত বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদের বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে।এই ফিরতি ৯ জনের মধ্যে ৪ জন পুরুষ, ৩ জন নারী এবং ২ জন শিশু রয়েছে।এদের মধ্যে নড়াইলের শহীদ মল্লিকের মেয়ে মুক্তা খানম (৩৪), একই জেলার ইমরান শিকদারের মেয়ে খাদিজা বেগম (৩৬) ও তার মেয়ে আয়েশা খাতুন (৮), শহিদ মল্লিকের মেয়ে জাহানারা বেগম (৩৯) ও তার মেয়ে রুকসানা খাতুন (৫), বরিশাল জেলার খগেন্দ্রনাথ মণ্ডলের ছেলে তপন মণ্ডল (২৯), রাজবাড়ী জেলার নিজাম মোল্লার ছেলে আশিক মোল্লা (২৮), খুলনা জেলার সন্তোষ সরকারের ছেলে তন্ময় সরকার (২৩) এবং একই জেলার বিধান চন্দ্র বাচ্চুর ছেলে রামকৃষ্ণ বাচ্চু (২০) অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুর রহমান জানিয়েছেন, ভালো কাজের আশায় দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে শিশুসহ ৯ বাংলাদেশি নারী ও পুরুষ তিন বছর আগে অবৈধভাবে বিভিন্ন সীমান্ত পথ দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে। সেখানে তারা বিভিন্ন বাসাবাড়িতে এবং ক্ষেত খামারে কাজ করার সময় ভারতীয় পুলিশের হাতে আটক হন।পুলিশ তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ শেষে একটি বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা তাদেরকে ছাড়িয়ে নিয়ে নিজস্ব শেল্টার হোমে রাখে। শনিবার সন্ধ্যায় ভারত সরকারের বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে তারা দেশে ফিরেছেন। তাদের বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।সেখান থেকে ‘জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার’ নামের একটি মানবাধিকার সংস্থা তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করবে।যশোর জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের ফিল্ড ওয়ার্কার শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ফেরত আসাদের তাদের নিজস্ব শেল্টার হোমে রাখার পর তাদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর জীবন, কর্ম, আদর্শ এবং তাঁর সময়ের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরতে রাজধানীর মিরপুরে আয়োজন করা হয়েছে এক ব্যতিক্রমী প্রদর্শনী। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, গবেষণামনস্কতা ও ইতিহাস চর্চাকে উৎসাহিত করতে আয়োজিত এ প্রদর্শনীতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিজ হাতে তৈরি বিভিন্ন মডেল ও প্রতিকৃতির মাধ্যমে ইসলামের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ নানা অধ্যায় তুলে ধরা হয়েছে।
যে ইতিহাস আমরা শুধু বইয়ের পাতায় পড়েছি কিংবা হৃদয়ে ধারণ করেছি, সেই ইতিহাস আজ যেন জীবন্ত ভেসে উঠলো এভেরোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল মিরপুরের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিপুণ হাতে। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর সময়কার ব্যবহৃত জিনিসপত্র কিংবা কাবার সেই প্রাচীন রূপ, ঠিক এমনই এক অলৌকিক অনুভূতি তৈরি করেছে এভেরোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল মিরপুরের এই খুদে শিক্ষার্থীরা!
প্রদর্শনীতে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ব্যবহৃত সামগ্রীর প্রতিরূপ হিসেবে বিভিন্ন মডেল স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জুতা, লাঠি, পাগড়ি এবং সে সময়ের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সামগ্রীর প্রতিকৃতি। এসব নিদর্শনের মাধ্যমে নবীজির সময়কার জীবনধারা ও ঐতিহাসিক বাস্তবতা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের ধারণা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শুধু মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর জীবনকাল নয়, প্রদর্শনীতে ইসলামের ইতিহাসের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সময় ও ঘটনাও তুলে ধরা হয়েছে। হিজরতের আগের আরব সমাজ, তৎকালীন মানুষের জীবনযাপন, নবুয়তের পর ইসলামের বিস্তার এবং হিজরতের পরবর্তী সময়ের বিভিন্ন ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট শিক্ষার্থীদের তৈরি মডেলে ফুটে উঠেছে।
বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে পবিত্র মক্কার ঐতিহাসিক পরিবেশ। কাবা শরিফের বিভিন্ন সময়ের স্থাপত্য ও পরিবর্তনের ধারণা দিতে শিক্ষার্থীরা তৈরি করেছে একাধিক মডেল। এর মাধ্যমে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা ইসলামের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোর অতীত ও বর্তমান সম্পর্কে একটি দৃশ্যমান ধারণা পাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
প্রদর্শনীর আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, এখানে ইতিহাসকে শুধু মুখস্থ করার বিষয় হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি। বরং শিক্ষার্থীদের নিজেদের হাতে বিভিন্ন মডেল তৈরির মাধ্যমে ইতিহাসকে জানার, বোঝার এবং উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ফলে পাঠ্যবইয়ে পড়া বিষয়গুলো বাস্তবধর্মী উপস্থাপনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
প্রদর্শনী দেখতে আসা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যেও দেখা গেছে উচ্ছ্বাস। অভিভাবকদের মতে, এ ধরনের আয়োজন শিশুদের ইতিহাসের প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি সৃজনশীল চিন্তা ও অনুসন্ধানী মানসিকতা গড়ে তুলতে সহায়তা করে। বিশেষ করে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন ও আদর্শ সম্পর্কে জানার ক্ষেত্রে এমন আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর আগ্রহ তৈরি করতে পারে।
শিক্ষকদের প্রত্যাশা, শ্রেণিকক্ষের পাঠের পাশাপাশি বাস্তবধর্মী ও সৃজনশীল উপস্থাপনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ইতিহাসের বিভিন্ন বিষয় আরও সহজে আয়ত্ত করতে পারবে। একই সঙ্গে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর জীবন, কর্ম ও আদর্শ সম্পর্কে তাদের জানার পরিধিও বিস্তৃত হবে।
আয়োজকদের এই উদ্যোগে ইতিহাস চর্চার সঙ্গে সৃজনশীলতার একটি সুন্দর সমন্বয় ঘটেছে। শিক্ষার্থীদের তৈরি প্রতিটি মডেল যেন বইয়ের পাতায় থাকা একটি ঐতিহাসিক অধ্যায়কে চোখের সামনে তুলে ধরেছে। এমন আয়োজন ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত পরিসরে করার প্রত্যাশা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইতিহাসকে শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে হাতে-কলমে শেখার এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি তাদের সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশেও ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম. এ. মুহিতকে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার বিষয়ক সংসদীয় ককাসের আহ্বায়ক হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে।
এটি শনিবার ঢাকায় সাইটসেভার্স, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল (ডিআই) এবং ব্লাইন্ড এডুকেশন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (বার্ডো)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার বিষয়ক সংসদীয় ককাস গঠন’ শীর্ষক উচ্চ-পর্যায়ের পরামর্শ সভায় ঘোষণা করা হয়।
সেলিমা রহমান এমপি, যিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, এবং জামায়াতে ইসলামীর মহিলা শাখার সম্পাদক নুরুন্নিসা সিদ্দিকী এমপি, সহ-আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম. এ. মুহিত। বিশিষ্ট অতিথিদের মধ্যে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান এমপি; মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান, অ্যাডভোকেট নেওয়াজ হালিমা আরলী, ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবা হাকিম, নাজমুন নাহার, নুরুন্নিসা সিদ্দিকী, নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতি, নীলুফার চৌধুরী মনি, সানসিলা জেবরিন, এবং তাসমিয়া প্রধান এমপি।
এছাড়া ওপিডি, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, উন্নয়ন সহযোগী, জাতিসংঘ সংস্থা, এনজিও, আন্তর্জাতিক এনজিও, শিক্ষাঙ্গন এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
সাইটসেভার্স-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর অমৃতা রেজিনা রোজারিও, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল-এর চিফ অব পার্টি আমিনুল এহসান এবং বারডো -এর নির্বাহী পরিচালক মো. সাইদুল হক সংলাপে বক্তব্য রাখেন। তারা বাংলাদেশে সংসদীয় ককাস প্রতিষ্ঠা এবং সকল অংশীজনের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির পরবর্তী পদক্ষেপগুলো সমর্থন দেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : রাজশাহীর বরেন্দ্র রাজশাহী টেক্সটাইল মিল পরিদর্শন করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। শনিবার বিকেলে তিনি রাজশাহীর নওদাপাড়ায় অবস্থিত কারখানাটির পরিদর্শনে যান।
কারখানায় পৌঁছানোর পর, প্রতিমন্ত্রীকে স্বাগত জানান প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (ফুটওয়্যার ও লাগেজ) রিফাত হোসেন রনি এবং কারখানার হেড অব অ্যাডমিন শরিফ উদ্দিন আহমেদ।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী কারখানার ব্যাগ ও লাগেজ উৎপাদন ইউনিট পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনের শেষে, প্রতিমন্ত্রী মন্তব্য করেন যে, দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত মিলটিকে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) আওতায় পরিবেশবান্ধব ও রপ্তানিমুখী শিল্পে রূপান্তরিত করার ফলে স্বল্প সময়ে উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, যা প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের প্রশংসার দাবিদার।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বন্ধ শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালু করে কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এসব কারখানায় পরিবেশবান্ধব উৎপাদনব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।’
অনুষ্ঠানে, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা রিফাত হোসেন রনি জানান, বন্ধ কারখানাটি ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বুঝে পাওয়ার পর মাত্র তিন মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে উৎপাদন শুরু করতে সক্ষম হয়েছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে কারখানাটিতে লাগেজ ও ব্যাগ উৎপাদনে আড়াই হাজারের বেশি মানুষ কর্মরত আছেন। পর্যায়ক্রমে আরও উৎপাদন লাইন চালু করা হবে, যা প্রায় ১২ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
রিফাত হোসেন রনি জানান, কারখানাটিতে উৎপাদিত ব্যাগ ও লাগেজ যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। কারখানাটিকে শতভাগ রপ্তানিমুখী সবুজ শিল্পপার্কে রূপান্তরের কাজও চলমান রয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, এর অংশ হিসেবে জলাধার সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ ও সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের মতো বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
কারখানা পরিদর্শনের সময় স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ এবং প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বাংলাদেশ ব্যাংক একটি নতুন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যার মাধ্যমে ডিজিটাল মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত স্বল্পমেয়াদি ঋণ প্রদান করা হবে। এই সুবিধাটি আগামীকাল রোববার ‘ই-পেমেন্ট ক্রেডিট’ নামে চালু হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানাচ্ছে, নগদ টাকার সাময়িক সংকট মোকাবেলা করা এবং ডিজিটাল লেনদেনে জনগণকে উৎসাহিত করা এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য। এই সুবিধার আওতায় যোগ্য গ্রাহকরা ৫০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ গ্রহণের সুযোগ পাবেন। তবে, এই অর্থ শুধুমাত্র অনুমোদিত ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পেমেন্ট পরিশোধের জন্য ব্যবহার করা যাবে।
বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ বিভিন্ন ইউটিলিটি বিল, মোবাইল রিচার্জ, শিক্ষা ও চিকিৎসার খরচ, ভ্রমণ ব্যয়, কর ও সরকারি সেবার ফি, ঋণ বা আমানতের কিস্তি এবং বিমার প্রিমিয়াম পরিশোধে এই ঋণ ব্যবহার করা যাবে।
প্রাথমিকভাবে অন্তত ছয় মাসের জন্য ব্যাংকগুলো এই সুবিধাটি পরীক্ষামূলকভাবে (পাইলট) পরিচালনা করবে। পাইলট কার্যক্রমের ফলাফল বিশ্লেষণের পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিয়ে বাণিজ্যিকভাবে এই সুবিধা চালু করা হবে।
তবে, এই ঋণের অর্থ নগদে তোলা যাবে না। গ্রাহকের ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর কিংবা মোবাইল আর্থিক সেবার (এমএফএস) ওয়ালেটেও জমা করা যাবে না। অনুমোদিত ঋণের অর্থ নির্ধারিত ডিজিটাল পেমেন্ট চ্যানেলের মাধ্যমে সরাসরি সংশ্লিষ্ট বিলদাতা বা সেবাদাতাকে পরিশোধ করতে হবে।
গ্রাহকেরা ঋণ পরিশোধের জন্য ৭, ১৫ ও ৩০ দিনের মেয়াদ পাবেন। এ ক্ষেত্রে সুদের পরিবর্তে ব্যাংক নির্ধারিত সেবা ফি নেওয়া হবে। ৫০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সেবা ফি হবে ৭ দিনের জন্য ৩ টাকা, ১৫ দিনের জন্য ৪ টাকা এবং ৩০ দিনের জন্য ৬ টাকা।
অন্যদিকে, ৭ হাজার ১ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে ৭ দিনের জন্য সর্বোচ্চ ৩৫ টাকা, ১৫ দিনের জন্য ৭০ টাকা এবং ৩০ দিনের জন্য ১৩০ টাকা সেবা ফি নেওয়া যাবে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণ পরিশোধ করলে গ্রাহককে অতিরিক্ত কোনো সুদ বা আগাম পরিশোধের জন্য বাড়তি কোনো ফি দিতে হবে না। তবে, নির্ধারিত সময়ের পর ঋণ পরিশোধ করলে জরিমানা আরোপ করা হতে পারে। এ জরিমানা সংশ্লিষ্ট ঋণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য দৈনিক সেবা ফির বেশি হতে পারবে না।
ব্যাংকগুলোকে গ্রাহক নিবন্ধন, ঋণের অনুমোদন, অর্থ পরিশোধ এবং ঋণ ফেরত নেওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটি ডিজিটালভাবে সম্পন্ন করতে হবে।
লেনদেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এককালীন পাসওয়ার্ড (ওটিপি), দুই স্তরের নিরাপত্তা যাচাই বা একাধিক স্তরের নিরাপত্তা যাচাইয়ের মতো নিরাপদ পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে।
এই সুবিধা পরিচালনার জন্য ব্যাংকগুলো মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা, পেমেন্ট সেবা প্রদানকারী এবং আর্থিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্ব করতে পারবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ শ্রেণীকরণ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, গ্রাহক সুরক্ষা, অর্থপাচার প্রতিরোধ এবং তথ্যনিরাপত্তা-সংক্রান্ত নিয়মকানুনের আওতায় থাকবে এই উদ্যোগ।
নতুন এই সুবিধার মাধ্যমে ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যবহার আরও বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি, প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে গ্রাহকেরা সহজে ছোট অঙ্কের স্বল্পমেয়াদি ঋণ পাওয়ার সুযোগ পাবেন বলেও বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ