বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৬:৩০ পি.এম
রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতালের সামনে দিয়ে রাস্তা পার হচ্ছিলেন মিজান বেগম (৪৬) নামে এক নারী। এ সময় তিনি দ্রুতগতির একটি মোটরসাইকেল দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পেছনে সরে যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন এবং তার মৃত্যু ঘটে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরের দিকে এই ঘটনাটি ঘটে।
ঘটনার পর তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিকাল ৪টা ১০ মিনিটে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, "মৃতদেহ মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানায় অবগত করা হয়েছে।"
নিহতের ছোট ভাই মোস্তাফিজুর রহমান জানান, মিজান বেগম কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের মো. আলীর স্ত্রী। তিনি গ্রামের বাড়ি থেকে মেয়ে রিমাকে (১৪) কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে যাচ্ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিদেশি শক্তির পক্ষে কাজ করার এবং গোপন তথ্য পাচারের অভিযোগে যুক্তরাজ্যের কাউন্টার টেররিজম পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন রয়্যাল নেভির (যুক্তরাজ্যের নৌবাহিনী) এক সদস্য। অভিযুক্ত ওই কর্মকর্তার নাম টেডি ইয়ং (২৪)। জাতীয় নিরাপত্তা আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বরাত দিয়ে আজ বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যের পুলিশ বাহিনী এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। কাউন্টার টেররিজম পুলিশের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের মে মাসের মধ্যে টেডি ইয়ং বিদেশি শক্তির লাভের উদ্দেশ্যে যুক্তরাজ্যের সংরক্ষিত ও গোপনীয় তথ্য সংগ্রহ, অনুলিপি তৈরি এবং তা হস্তান্তরের উদ্দেশ্যে নিজের কাছে রেখেছিলেন। তার বিরুদ্ধে ২০২৩ সালের জাতীয় নিরাপত্তা আইনের ১ ধারা ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে।
গ্রেফতারের পর টেডি ইয়ংকে লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই গ্রেফতারের বিষয়ে লন্ডনের কাউন্টার টেররিজম পুলিশিং প্রধান কমান্ডার হেলেন ফ্ল্যানাগান মন্তব্য করেছেন, “সামরিক বাহিনীর একজন কর্মরত সদস্যের বিরুদ্ধে এটি অত্যন্ত গুরুতর একটি অভিযোগ। এই ঘটনার পেছনে অন্য কোনো সম্ভাব্য ঝুঁকি রয়েছে কি না তা নিশ্চিত করতে আমরা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি।”
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা যায়, সম্প্রতি বেডফোর্ডশায়ারে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার হন ওই নৌ সদস্য। তবে পুলিশ স্পষ্ট জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমান ঘাঁটিতে ঘটে যাওয়া অন্য একটি চলমান ঘটনার সাথে এই গ্রেফতারের কোনো সম্পর্ক নেই।
অভিযুক্ত টেডি ইয়ং কোন দেশের পক্ষে কাজ করছিলেন এবং কী ধরনের স্পর্শকাতর তথ্য পাচার করেছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত এখনও প্রকাশ করেনি তদন্তকারী সংস্থা। সূত্র: আল-জাজিরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় একটি নকল ও ভেজাল ভোগ্যপণ্য তৈরি কারখানায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভেজাল পণ্য জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে জালিয়াতির দায়ে কারখানার মালিক আল আমিন হাওলাদার নামের একজনকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিবুল হাসানের নেতৃত্বে উপজেলার লক্ষ্মীপুরা মহল্লার সুমন মিয়ার ভাড়াটিয়া ভবনে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই ভবনে পরিচালিত অভিযানে নামি-দামি ব্যান্ডের মোড়কসহ বিপুল পরিমাণ নকল ও ভেজাল পণ্য জব্দ করা হয়। জব্দকৃত পণ্যের মধ্যে রয়েছে— কৃষাণী চিনিগুড়া চাল, কাশ্মিরি সুগন্ধি চাল, নিউ সান আইসক্রিম (কাপ, চকবার ও কোন), রোবো আইস পপ, ভেজাল মধু ও নিউ সান হোয়াইট ডিটারজেন্ট পাউডার, সয়াবিন তৈল।
এছাড়া ভেজাল ড্রিংকস ও জুস তৈরির কেমিক্যাল, হাই স্পিড ড্রিংক, ম্যাংগো ও লিচুর ক্ষতিকর ফ্লেভার, অননুমোদিত রঙ, বিভিন্ন মেশিনারিজ, ৪টি রেফ্রিজারেটর এবং ৩টি কম্পিউটার জব্দ করা হয়।
অভিযানকালে আটক আল আমিন হাওলাদার ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকার করলে তাকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। একই সঙ্গে অবৈধ কারখানাটি সিলগালা করা হয়।
পরবর্তীতে জব্দকৃত সকল নকল ও ভেজাল পণ্য ভাণ্ডারিয়া লঞ্চঘাট এলাকায় সর্বসাধারণের সম্মুখে ভেঙে ধ্বংস করা হয়।
অভিযান পরিচালনাকালে ভাণ্ডারিয়া থানা পুলিশের একটি চৌকস দল আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে। জনস্বার্থে ভেজালবিরোধী এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক।
মো. তরিকুল ইসলাম
ভাণ্ডারিয়া, পিরোজপুর।
০১৭১০০২০৩৮২
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পরিবারসহ কক্সবাজারে পাঁচ দিনের ভ্রমণ শেষে বরিশালে ফেরার পথে ডিবি পুলিশের হাতে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে পাঁচজনকে। পরে তাদের বিরুদ্ধে আগে দায়ের হওয়া একাধিক মাদক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হলে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক। পুলিশ জানিয়েছে, বাসে তল্লাশি চালিয়ে নতুন করে কোনো মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়নি।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—বরিশাল নগরীর কেডিসি এলাকার বাসিন্দা নিলুফা বেগম (৩৩), তার স্বামী রাসেল হাওলাদার (৩৪), মো. সোহেন (২৯), মো. মিঠু হাওলাদার (৩০) ও আসমা বেগম (৩৩)।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিলুফা বেগমের বিরুদ্ধে ৯টি, রাসেল হাওলাদারের বিরুদ্ধে ২টি, মো. সোহেনের বিরুদ্ধে ৪টি, মো. মিঠু হাওলাদারের বিরুদ্ধে ২টি এবং আসমা বেগমের বিরুদ্ধে ৩টি মামলা রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে মাদকসংক্রান্ত মামলাতেই তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
জানা গেছে, পাঁচজন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কক্সবাজারে বেড়াতে যান। যাতায়াতের জন্য ইউরো পরিবহনের একটি স্লিপার বাস ভাড়া করা হয়। পাঁচ দিন কক্সবাজারে অবস্থান শেষে ৫ অক্টোবর সোমবার দুপুরে তারা বরিশালের উদ্দেশে রওনা হন। পুলিশ জানিয়েছে, পুরো ভ্রমণে প্রায় দুই লাখ টাকা খরচ হয়েছে।
বরিশালে ফেরার পথে বিমানবন্দর এলাকায় বাসটিতে তল্লাশি চালায় মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় পাঁচজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়। তবে তল্লাশিতে তাদের কাছ থেকে কোনো মাদকদ্রব্য উদ্ধার হয়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পরে আগের দায়ের হওয়া মাদক মামলাগুলোতে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ৬ অক্টোবর মঙ্গলবার দুপুরে পাঁচজনকে আদালতে সোপর্দ করা হলে শুনানি শেষে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
বরিশাল মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেলের উপপরিদর্শক (এসআই) তানজিল আহমেদ জানান, পাঁচজনের বিরুদ্ধেই একাধিক মামলা রয়েছে। নিলুফা বেগমের বিরুদ্ধে ৯টি, রাসেল হাওলাদারের বিরুদ্ধে ২টি, সোহেনের বিরুদ্ধে ৪টি, মিঠু হাওলাদারের বিরুদ্ধে ২টি এবং আসমা বেগমের বিরুদ্ধে ৩টি মামলা রয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পূর্বের মাদক মামলাগুলোর কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। নতুন করে তল্লাশির সময় কোনো মাদকদ্রব্য উদ্ধারের ঘটনা ঘটেনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি ও আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষে চাষিদের উৎসাহিত করার লক্ষ্যে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এবং পরিবার উন্নয়ন সংস্থা (এফডিএ)-এর যৌথ উদ্যোগে উন্নত জাতের দ্রুত বর্ধনশীল জি-৩ রুই মাছের পোনা ও বিভিন্ন পুকুর ব্যবস্থাপনা উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) সংস্থা দুটির যৌথ পরিচালনায় এগ্রো মাইক্রো-এন্টারপ্রাইজ ডেভেলপমেন্ট ইউনিট (AMDU)-এর আওতাধীন মৎস্য খাতের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই উপকরণগুলো বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে পাঁচজন সদস্যের মাঝে পরিবার উন্নয়ন সংস্থা (এফডিএ)-এর নির্বাহী পরিচালক জনাব মোঃ কামাল উদ্দিন দ্রুত বর্ধনশীল জি-৩ রুই মাছের পোনা, ঝাঁকিজাল, পুকুরের চুন, রাসায়নিক সার ও সাইনবোর্ডসহএসব উপকরণ তুলে দেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন এফডিএ-এর সিনিয়র প্রোগ্রাম সমন্বয়কারী জনাব শংকর চন্দ্র দেবনাথ এবং মৎস্য কর্মকর্তা জনাব মোঃ সাইদুর রহমান।
উদ্যোক্তারা জানান, আধুনিক চাষ পদ্ধতি সম্প্রসারণের মাধ্যমে মৎস্য খাতের পাঁচজন নির্বাচিত ও সফল সদস্যের মাঝে প্রাথমিকভাবে এই উন্নত জাতের পোনা ও পুকুর ব্যবস্থাপনার আনুষঙ্গিক উপকরণ তুলে দেওয়া হয়েছে। বিতরণের উদ্দেশ্য হলো স্থানীয় পর্যায়ে আমিষের চাহিদা পূরণ, মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মৎস্য চাষিদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা।
মৎস্য কর্মকর্তা জনাব মোঃ সাইদুর রহমানজানান, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (BFRI) কর্তৃক উদ্ভাবিত এই জি-৩ রুই মাছ সাধারণ রুইয়ের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশের বেশি দ্রুত বর্ধনশীল এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন। ফলে আধুনিক পদ্ধতিতে এই মাছ চাষ করলে চাষিরা অল্প সময়ে অধিক লাভবান হতে পারবেন।
উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে পরিবার উন্নয়ন সংস্থা (এফডিএ)-এর নির্বাহী পরিচালক জনাব মোঃ কামাল উদ্দিন চাষিদের উদ্দেশ্যে বলেন, শুধু উপকরণ বিতরণই নয়, আধুনিক পদ্ধতিতে পুকুর প্রস্তুত করা, সঠিক নিয়মে সুষম খাদ্য প্রয়োগ এবং নিয়মিত পানির গুণাগুণ বজায় রাখার জন্য চাষিদের প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ ও প্রশিক্ষণও প্রদান করা হবে। তারা আরও জানান, পিকেএসএফ-এর সহযোগিতায় এফডিএ’র AMDU কার্যক্রমের আওতায় মৎস্য খাতের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আয়বর্ধক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি মৎস্যচাষিদের আর্থিক সক্ষমতা ও জীবিকায়নের সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উন্নত জাতের এই পোনা ও উপকরণ পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করেছেন সুবিধাভোগী মৎস্য চাষিরা। এই উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং অন্যান্য চাষিদেরও আধুনিক মৎস্য চাষে অনুপ্রাণিত করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ