০৯:০৪ এম
টানা বর্ষণ ও ভারী বৃষ্টিতে যশোরের ভবদহ অঞ্চল আবারও জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। ১০ জুলাই রাতজুরী বৃষ্টির পরে জল দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় এই এলাকায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, যেখানে দীর্ঘ দিন ধরে জলাবদ্ধতায় ভোগা যাচ্ছে। ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়ে গেছে মাছের ঘের এবং আবাদি জমি।
অভয়নগর উপজেলা মৎস্য অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টিতে উপজেলার ৫০৩ হেক্টর আয়তনের মধ্যে ২২০টি মাছের ঘের প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ১৭ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা লিপটন সরদার বলেন, অতিবৃষ্টির ফলে অনেক ঘেরের পাড় পানির নিচে চলে গেছে। যদি পানি আরও বৃদ্ধি পায় তাহলে মাছ ভেসে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এছাড়াও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
আরও পড়ুন: নওগাঁয়ে ঘরে মাটির নিচে ২৪৫ কেজির কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গ উদ্ধার, আটক ১
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লাভলী খাতুন জানান, টানা বৃষ্টিতে ভবদহ অঞ্চলের অন্তত ৩৭ হেক্টর আবাদি জমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার পায়রা, চলিশিয়া, শ্রীধরপুর, সিদ্ধিপাশা ও প্রেমবাগ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকাতে আমনের বীজতলা নষ্ট হয়েছে। এর ফলে চলতি মৌসুমে আমন চাষ এক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ভবদহ অঞ্চলের অধিকাংশ মাছের ঘেরের পাড় পানিতে প্লাবিত হয়ে গেছে। অনেক ঘেরে মাছের রক্ষা করার জন্য উঁচু করে নেট ও বাঁশের পাটা বসানো হয়েছে। মনিরামপুর উপজেলার সুজাতপুর গ্রামে বাড়ির উঠানে পানি উঠতে শুরু করছে। এ ছাড়াও ঘেরের পাড়ে চাষ করা বিভিন্ন ধরনের সবজি নষ্ট হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, কয়েক দিনের টানা বর্ষণে বিল ও খাল পানিতে পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। অনেক এলাকায় ঘেরের পাড় উপচে পানি প্রবেশ করছে। আবারও বৃষ্টি হলে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।
মশিয়াহাটি গ্রামের মাছচাষি রনি মণ্ডল বলেন, আগাম প্রস্তুতি হিসেবে মাছ রক্ষার জন্য নেট কিনেছিলেন। কিন্তু আচমকা পানির চাপ বেড়ে যাওয়ায় সময়মতো নেট বসানো সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে ব্যবসায়ীরা নেটের দামও বাড়িয়ে দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: দিনাজপুর বোর্ডের ১ কোটি ২৬ লাখ টাকার দুর্নীতির তদন্তের নির্দেশ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন