ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বড়শিতে ধরা পড়ল ৭৬ কেজির বিশাল আকৃতির মাছ


বড়শিতে ধরা পড়ল ৭৬ কেজির বিশাল আকৃতির মাছ

থাইল্যান্ডের বুং সামরান ফিশিং পার্কে মাছ ধরার সময় ৭৬ কেজি ওজনের মেকং জায়ান্ট ক্যাটফিশ ধরেছেন বাংলাদেশের দুই শখের মাছশিকারি। তবে বিশাল এই মাছটি বিক্রি করে কোনো টাকা পাননি তারা। কারণ, পার্কটির নিয়ম অনুযায়ী মাছ ধরার পর ছবি তোলা হয় এবং তারপর আবার পানিতে ছেড়ে দিতে হয়।

ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কারণে তাদের দীর্ঘদিন মাছ ধরার সুযোগ হয়নি। কিন্তু বন্ধু ওমর হায়দারের আগ্রহের কারণে এবার নতুন অভিজ্ঞতার জন্য দেশের বাইরে মাছ ধরতে যাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন দুই বন্ধু।

থাইল্যান্ডে মাছ ধরার অনেক জায়গা থাকলেও তারা শেষ পর্যন্ত বেছে নেন প্রায় ৪২ বছরের পুরোনো বুং সামরান ফিশিং পার্ক। গত ৫ আগস্ট ব্যাংককে পৌঁছে পরদিন গাড়িতে প্রায় দেড় ঘণ্টার পথ পাড়ি দিয়ে তারা এই পার্কে পৌঁছান।

আরও পড়ুন: ১০০ কোটি টাকার মালিক অবসরপ্রাপ্ত সাবরেজিস্ট্রার নুরুল আমিনের বেরিয়ে এলো থলের বিড়াল

নিবন্ধনের পরে তাদের দেওয়া হয় একটি বাংলো এবং একজন গাইড। ফিশিং প্যাকেজে ছিল রড, হুইল, মাছ ধরার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও অন্যান্য সুবিধা। দুজন মিলে একটি ফিশিং রডের জন্য খরচ করেন ৬ হাজার বাথ, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২২ হাজার টাকা। এর পাশাপাশি এক দিনের মাছ ধরার লাইসেন্সের জন্য জনপ্রতি দিতে হয়েছে ২ হাজার বাথ।

প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার বর্গমিটার আয়তনের এই হ্রদে ৪০টির বেশি প্রজাতির মাছ রয়েছে। এর মধ্যে মেকং জায়ান্ট ক্যাটফিশের ওজন ২০০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। রয়েছে ১০০ কেজি পর্যন্ত ওজনের জায়ান্ট সিয়ামিজ কার্পও।

বাংলোয় ওঠার পর গাইড টোপ তৈরির কাজ শুরু করেন। প্রায় ৩০ কেজি খাবার, চালের গুঁড়া, ছাতুসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপকরণ ব্যবহার করে টোপ তৈরি করা হয়।

ছিপ ফেলার মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যেই প্রথম মাছের টান পান ওমর হায়দার। প্রায় ২০ মিনিট লড়াই শেষে ধরা পড়ে ৩৬ কেজি ওজনের একটি মেকং জায়ান্ট ক্যাটফিশ। পরে প্রায় ৫০ কেজি ওজনের আরও একটি মাছ ধরা পড়ে।

আরও পড়ুন: সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ ১১ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে

দিনের শেষ দিকে আসে সবচেয়ে বড় চমক। প্রায় ৭৬ কেজি ওজনের একটি বিশাল মেকং জায়ান্ট ক্যাটফিশ বড়শিতে ধরা পড়ে। এত বড় মাছ সামলে নিতে তাদেরকে হিমশিম খেতে হয়।

তবে তারা মাছটিকে বিক্রি করে কোনো অর্থ পাননি। বুং সামরান ফিশিং পার্কে রয়েছে ‘ক্যাচ অ্যান্ড রিলিজ’ নীতি, অর্থাৎ মাছ ধরার পর ওজন করা ও ছবি তোলার পর সেটিকে আবার নিরাপদে পানিতে ছেড়ে দিতে হয়।

পার্ক কর্তৃপক্ষ মাছের নিরাপত্তার বিষয়ে বেশ কঠোর। মাছের শরীরে ক্ষতি হলে বা মাছ মারা গেলে বড় অঙ্কের জরিমানা দিতে হয়। এ কারণে সেখানে বিশেষ ধরনের বার্বলেস বড়শি ব্যবহার করা হয়, যাতে মাছের মুখ থেকে বড়শি সহজে খুলে ফেলা যায় এবং ক্ষতি কম হয়।

একদিনের মাছ ধরায় তারা প্রায় ২২ থেকে ২৩টি বড় মাছ ধরেন। কিন্তু দিনের সবচেয়ে স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকে ৭৬ কেজির সেই মেকং জায়ান্ট ক্যাটফিশ।

আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে দুই ইটভাটা গুঁড়িয়ে দিল ভ্রাম্যমাণ আদালত

ফিশিং পার্কটিতে সর্বোচ্চ প্রায় ১২০ কেজি ওজনের মাছ ধরার রেকর্ড রয়েছে। ১০০ কেজির বেশি ওজনের মাছ ধরতে পারলে শিকারিদের ছবি স্থান পায় পার্কের ‘হল অব ফেমে’।

এবার সেই স্বপ্ন পূরণ না হলেও তারা আবারও থাইল্যান্ডে গিয়ে ১০০ কেজির বেশি ওজনের মাছ ধরে হল অব ফেমে জায়গা করে নেওয়ার ইচ্ছা করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে খোকন তালুকদারের শুভেচ্ছা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাদারীপুর প্রতিনিধি

শনিবার, ২২শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৫১ এম


নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে খোকন তালুকদারের শুভেচ্ছা

নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন।

মাদারীপুর-৩ আসনের বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন। এ সময় তিনি রাষ্ট্রপতিকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

সাক্ষাৎকালে আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সফলতা কামনা করেন। পাশাপাশি দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা, গণতন্ত্র ও জনগণের কল্যাণে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা প্রত্যাশা করেন।

এ সময় মাদারীপুর-৩ আসনের বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকেও নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
শায়খ ড. আহমদ বিন আলী আল-হুজাইফি

তীব্র গরমে আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে ভাবার আহ্বান জানিয়েছেন শায়খ হুজাইফি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২২শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৫৩ এম


তীব্র গরমে আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে ভাবার আহ্বান জানিয়েছেন শায়খ হুজাইফি

শুক্রবার মসজিদে নববীতে প্রদত্ত জুমার খুতবায় মসজিদে নববীর ইমাম ও খতিব শায়খ ড. আহমদ বিন আলী আল-হুযাইফি বলেন, আল্লাহ তাআলা তাকওয়া অবলম্বনকারী, সৎকর্মশীল ও উত্তম প্রতিদানের প্রতি বিশ্বাসী বান্দাদের জন্য কল্যাণের পথ সহজ করে দেন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি দান করে, আল্লাহকে ভয় করে এবং সর্বোত্তম পুরস্কারে বিশ্বাস রাখে, আমরা তাকে সহজতার দিকে আরো সহজ করে দেব।’ (সুরা : লাইল, আয়াত : ৫-৭)

শায়খ হুযাইফি বলেন, বর্তমানে অনুভূত তীব্র গ্রীষ্মের তাপ ও প্রখর মধ্যাহ্নের সূর্য মুমিনের জন্য আল্লাহর কুদরত ও প্রভুত্ব নিয়ে চিন্তা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। দিন-রাতের পরিবর্তন, ঋতুর আবর্তন এবং বছর ও যুগের পরিক্রমা—সব কিছুই আল্লাহর অসীম ক্ষমতা ও নিখুঁত পরিচালনার নিদর্শন।

তিনি উল্লেখ করেন, আল্লাহই দিন ও রাতের পরিবর্তন ঘটান, সময়ের প্রবাহ পরিচালনা করেন এবং সমগ্র সৃষ্টিজগৎকে তাঁর নির্ধারিত বিধান অনুযায়ী পরিচালিত করেন। তাই একমাত্র তিনিই প্রকৃত ইবাদতের যোগ্য।

এ প্রসঙ্গে তিনি পবিত্র কোরআনের সেই আয়াত স্মরণ করিয়ে দেন, যেখানে আল্লাহ বলেন, ‘বলুন, তোমরা কি ভেবে দেখেছ, আল্লাহ যদি কিয়ামতের দিন পর্যন্ত তোমাদের ওপর রাতকে স্থায়ী করে দেন, তবে আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য তোমাদের আলো এনে দিতে পারে? তবু কি তোমরা শুনবে না?’ (সুরা : কাসাস, আয়াত : ৭১)

এরপর শায়খ হুযাইফি বলেন, যদি আল্লাহ কিয়ামত পর্যন্ত দিনকে স্থায়ী করে দিতেন, তাহলে কি এমন কোন উপাস্য আছে, যে মানুষকে বিশ্রামের জন্য রাত এনে দিতে পারত? এসব নিদর্শন মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেয়—পরম কর্তৃত্ব ও সার্বভৌমত্ব একমাত্র আল্লাহর।

আল্লাহ তাআলা এই পৃথিবীকে এমনভাবে সৃষ্টি করেছেন যে এখানে কোনো অবস্থাই চিরস্থায়ী নয়। সুখের পর দুঃখ আসে, সমৃদ্ধির পর সংকট আসে, আবার সংকটের পর স্বস্তিও ফিরে আসে। মানুষের জীবনও ঠিক এভাবেই পরিবর্তনশীল।

তিনি দুনিয়ার জীবনের ক্ষণস্থায়ী প্রকৃতি বোঝাতে সুরা হাদিদের ২০ নম্বর আয়াতের মর্ম তুলে ধরেন। সেখানে আল্লাহ দুনিয়ার জীবনকে খেলাধুলা, বিনোদন, সৌন্দর্য প্রদর্শন, পারস্পরিক অহংকার এবং ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে প্রতিযোগিতার সঙ্গে তুলনা করেছেন।

বৃষ্টির পর যেমন জমিনের ফসল সতেজ ও সবুজ হয়ে ওঠে, তা দেখে মানুষ আনন্দিত হয়; কিন্তু কিছুদিন পর সেই ফসল শুকিয়ে যায়, হলুদ হয়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত খড়কুটোয় পরিণত হয়—তেমনি দুনিয়ার চাকচিক্যও সাময়িক। আজ যে ব্যক্তি সুখ-সমৃদ্ধিতে আছে, কাল সে হয়তো পরীক্ষা ও সংকটের মুখোমুখি হবে।

শায়খ আল-হুযাইফি বলেন, দুনিয়ার এই পরিবর্তনশীলতা মুমিনকে হতাশ করার জন্য নয়; বরং তাকে আখিরাতের স্থায়ী জীবনের জন্য প্রস্তুত করার শিক্ষা দেয়। কারণ দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী, আর আল্লাহর সন্তুষ্টিই চূড়ান্ত সফলতার পথ।

হুযাইফি খুতবায় আরও বলেন, মানুষের স্বভাব হলো আরাম ও স্বাচ্ছন্দ্যের দিকে ঝুঁকে পড়া। যখন জীবনে বিলাসিতা আসে, তখন অনেক সময় মানুষ ইবাদত, সৎকর্ম ও আত্মসংযমে অলস হয়ে পড়ে। আবার কোনো ভালো কাজে সামান্য কষ্ট থাকলেও নফস তা এড়িয়ে যেতে চায়।

এ প্রসঙ্গে তিনি তাবুক অভিযানের সময় মুনাফিকদের মনোভাবের কথা উল্লেখ করেন। তারা প্রচণ্ড গরমের অজুহাত দেখিয়ে আল্লাহর পথে বের হতে অনীহা প্রকাশ করেছিল। আল্লাহ তাদের জবাবে বলেন, ‘বলুন, জাহান্নামের আগুন উত্তাপে আরও তীব্র।’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ৮১)

এই আয়াত মুমিনকে শিক্ষা দেয়—সাময়িক কষ্টকে ভয় পেয়ে সৎকর্ম থেকে পিছিয়ে যাওয়া উচিত নয়। কারণ নেক আমলের পথে কিছু কষ্ট থাকলেও তার পরিণতি সুন্দর। বিপরীতে আরাম-আয়েশের জন্য আল্লাহর আনুগত্য ও সৎকর্ম পরিত্যাগ করা মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

খুতবার শেষাংশে শায়খ আল-হুযাইফি বলেন, মুমিনের জীবনে যখন আরাম-আয়েশ ও পার্থিব সুবিধা তাকে আত্মতুষ্ট করে তোলে, তখন তার যথাযথ উচিত আল্লাহর কিতাবের শিক্ষা স্মরণ করা। আবার যখন দুঃখ-কষ্ট ও সংকট আসে, তখনো মনে রাখতে হবে—কোনো অবস্থাই চিরস্থায়ী নয়।

দিনের পর রাত আসে, শুষ্কতার পর বৃষ্টি আসে, কষ্টের পর স্বস্তি আসে—তেমনি দুনিয়ার প্রতিটি অবস্থারও পরিবর্তন রয়েছে। তাই মুমিনের কর্তব্য হলো সুখের সময় আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা, দুঃখের সময় ধৈর্য ধারণ করা এবং প্রতিটি অবস্থায় আল্লাহর আনুগত্যে অটল থাকা।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, দুনিয়ার সাময়িক স্বাচ্ছন্দ্যের পেছনে ছুটে আখিরাতের স্থায়ী কল্যাণকে বিসর্জন দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়। বরং মুমিনকে নিজের নফসকে নিয়ন্ত্রণ করে সৎকর্ম, ধৈর্য ও আল্লাহভীতির পথে অগ্রসর হতে হবে। তাই দুনিয়ার পরিবর্তনশীলতা মেনে নিয়ে মুমিনকে স্থায়ী আখিরাতের জন্য প্রস্তুত হতে হবে। কেননা তাকওয়া, ধৈর্য, সৎকর্ম ও আল্লাহর সন্তুষ্টিই মানুষের প্রকৃত সফলতার পাথেয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গোপালগঞ্জে দুই গাঁজা গাছসহ চাষি গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাদারীপুর প্রতিনিধি

শনিবার, ২২শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৫৬ এম


গোপালগঞ্জে দুই গাঁজা গাছসহ চাষি গ্রেপ্তার

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় বসতবাড়ির পাশের জঙ্গলে অবৈধভাবে গাঁজা চাষের অভিযোগে ইমামুল হক শিকদার (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় তাঁর চাষ করা দুটি গাঁজা গাছ উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহর নির্দেশনায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছিল জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি দল। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ জানতে পারে, সদর উপজেলার উলপুর ইউনিয়নের তেতুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা ইমামুল হক শিকদার তাঁর বসতবাড়ির পশ্চিম পাশের জঙ্গলে অবৈধভাবে গাঁজা চাষ করছেন।

সংবাদের ভিত্তিতে ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নেতৃত্বে একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। পরে ইমামুল হক শিকদারের দেখানো স্থান থেকে চাষ করা দুটি গাঁজা গাছ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ আগস্ট রাত সাড়ে ১১টার দিকে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে জব্দতালিকা তৈরি করে গাঁজা গাছ দুটি জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ জানিয়েছে, মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শক্তিশালী ইমেজ ছেড়ে ইন্সট্রা রিলসে মোদি, জেন জি ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২২শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৫৮ এম


শক্তিশালী ইমেজ ছেড়ে ইন্সট্রা রিলসে মোদি, জেন জি ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা

সম্প্রতি ভারতে তরুণদের আন্দোলন রাজনৈতিক দলগুলোর সব সমীকরণ পাল্টে দিয়েছে। বিশেষ করে এই আন্দোলনের পর প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদি ও তার দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নতুন কৌশল নিয়েছে তরুণদের মন পেতে।

নিজেদের ক্ষয়ে যাওয়া ইমেজ পুনরুদ্ধারে প্রধানমন্ত্রীর মোদি এখন ইনস্টাগ্রামের রিল ও স্বল্পদৈর্ঘ্যের ভিডিওতে বিশেষ নজর দিচ্ছেন। এক সময়ে নিখুঁত ও মাপা রাজনৈতিক বার্তার পাট চুকিয়ে, ইনস্টাগ্রামের রিল এবং শর্ট ভিডিও তাদের প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। মোদি বর্তমানে বাইক জ্যাকেট এবং সানগ্লাস পরে র‌্যাপ গানের তালে কিংবা জনপ্রিয় সিটকম ‘ফ্রেন্ডস’-এর থিম সংয়ের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বতঃস্ফূর্ত মেজাজে নিজেকে তুলে ধরছেন। এমনকি ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে সরাসরি ‘হাই, ফ্রেন্ডস’ বলে অনানুষ্ঠানিক বার্তা দেওয়ার প্রবণতা বদলের অংশ।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের জেন জি প্রজন্মের অনেকেই হয়তো নরেন্দ্র মোদীকে বন্ধু হিসেবে দেখেন না। তবে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী তাদের সঙ্গে বন্ধুর মত কথা বলার চেষ্টা করছেন। ৭৫ বছর বয়সী এই নেতা, যিনি দীর্ঘকাল ধরে পূর্বলিখিত বক্তৃতা এবং সতর্কভাবে সাজানো উপস্থিতির মাধ্যমে শক্তিশালী নেতার ভাবমূর্তি গড়ে তুলেছেন, সম্প্রতি আরও অনানুষ্ঠানিক একটি ভঙ্গি গ্রহণ করেছেন ইনস্টাগ্রামে।

মোদির টাইমলাইন, যেখানে এক মাস আগেও খুব যত্ন করে বাছাইকৃত পোস্ট দেখা যেত, সেখানে এখন খোলামেলা বিষয়বস্তুও দেখা যাচ্ছে। ‘আমার সঙ্গে প্রস্তুত হোন’ ধরনের একটি ভিডিও এবং তরুণদের উদ্দেশে সেলফি ধাঁচের বেশ কয়েকটি বার্তা, যাদের ‘বন্ধু’ বলে সম্বোধন করেছেন তিনি।

একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, দিল্লির বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনের অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি জেন জি প্রজন্মের মধ্যে জনপ্রিয় একটি উক্তি তুলে ধরেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘আমার বংশের মধ্যে আমিই প্রথম রকেট, চিপ এবং ড্রোন তৈরি করেছি।’

ইনস্টাগ্রামে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর ১০ কোটি ৬০ লাখেরও বেশি ফলোয়ার রয়েছে, যা তাকে এই প্ল্যাটফর্মের অন্যতম সর্বাধিক অনুসরণকৃত রাজনৈতিক নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। কিন্তু এই প্ল্যাটফর্মে তার যোগাযোগের ধরণটি ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সোশ্যাল মিডিয়া কৌশলের কেন্দ্রে কখনোই ছিল না।

ডিজিটাল কর্মকৌশলে পারদর্শিতার জন্য দলের খ্যাতি ২০১৪ সালের নির্বাচনে জিততে সাহায্য করেছিল। তবে, চলতি বছর ভারতে যুব বিক্ষোভের পর পরিস্থিতি বদলে গেছে। ব্যঙ্গাত্মক ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে আন্দোলনটি মিম, লাইভস্ট্রিম এবং ইনস্টাগ্রাম রিলের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, আস্তে আস্তে একজন কেন্দ্রিয় সরকারের মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করে।

লেখক ও ভাষ্যকার অনুরাগ মাইনাস ভার্মা বলেছেন, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে হিন্দু জাতীয়তাবাদী দলটি তাদের বার্তা প্রচারের জন্য হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ, ফেসবুক পেজ এবং এক্স অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে অনলাইনে ভারতের অন্যতম শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের জনসংখ্যার ৬০ শতাংশেরও বেশি ৩৫ বছরের কম বয়সী এবং ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনের মধ্যে জেন জি, যারা ১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণ করেছে, দেশের অন্যতম বৃহত্তম ভোটব্যাংক গঠন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তাদের মন জয় করার অর্থ হলো ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মে উপস্থিতি বাড়ানো। যেখানে প্রচলিত রাজনৈতিক বার্তার চেয়ে ব্যক্তিগত কন্টেন্ট বেশি সাড়া জাগাতে পারে। ইনস্টাগ্রামে মোদির পোস্টগুলো প্রথম প্রকাশিত হওয়ার পরই সেই পরিবর্তনটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিশেষ করে তরুণ ব্যবহারকারীরা দ্রুত অবজ্ঞার সঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানায়।

অনেকেই তার প্রথম রিলটি নিয়ে উপহাস করেছিল—যেটিতে তিনি যুব বিক্ষোভে প্রথম নীরবতা ভেঙেছিলেন। কিন্তু যা সত্যিই তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল, তা হলো মোদির ‘বন্ধুরা’ বলার পর দীর্ঘ নীরবতা। ভিডিওটির বিভিন্ন অংশ কাট করে নানাভাবে প্রকাশিত হয়, যা দ্রুতই অনলাইনে ট্রেন্ডিং হয়ে যায়। ভিডিওর আলো ও ক্যামেরার অ্যাঙ্গেল নিয়েও উপহাস করা হয়েছিল।

তবে কিছু তরুণ ব্যবহারকারী এই প্রচারণার প্রশংসাও করেছেন। বিজেপি কেন তার বয়সী মানুষদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে চায় জানিয়ে ২২ বছর বয়সী গিন্নি মালিয়া বলেছেন, ‘এই আকস্মিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির সময়টাই আমাদের বিশেষভাবে খতিয়ে দেখতে হবে।’ শুধুমাত্র মোদির অ্যাকাউন্টই নয়, বিজেপির সোশ্যাল মিডিয়া পেজগুলোও তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছানোর জন্য বিভিন্ন কন্টেন্ট ব্যবহার শুরু করেছে।

মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ে সামাজিক মাধ্যমের রাজনৈতিক ব্যবহার বিষয়ে অধ্যাপনা করেন জয়োজিত পাল। তিনি বলেন, বিজেপি দীর্ঘদিন ধরে তাদের বার্তা প্রচার করতে এবং নিজেদের বয়ান তৈরি করতে এক্স এবং হোয়াটসঅ্যাপের মতো প্ল্যাটফর্মে সমর্থকদের নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভর করে আসছে, কিন্তু ইনস্টাগ্রামে তা কাজ করে না।

প্ল্যাটফর্মটি এমন কন্টেন্টকে প্রাধান্য দেয়, যা বেশি এনগেজমেন্ট তৈরি করে, যেমন—বেশি সময় ধরে দেখা, রিপ্লে, শেয়ার এবং কমেন্ট। তবে বিশেষজ্ঞরা জেন জিকে নিজেদের পক্ষে আনতে বিজেপির প্রচেষ্টাকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। তাদের মতে, দলটির নির্বাচনী সাফল্য ইনস্টাগ্রামে তাদের কন্টেন্টের প্রতিক্রিয়ার চেয়ে অনেক বেশি নির্ভর করে এর সাংগঠনিক শক্তি এবং অনুগত সমর্থক গোষ্ঠীর ওপর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%