বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:৫৮ এম
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান মন্তব্য করেছেন যে, হাদির মৃত্যুর পর জামায়াত-শিবির ইনকিলাব মঞ্চ দখল করেছিল আম্মারদের মাধ্যমে। তিনি বলেন, ‘জামায়াত শিবির আম্মার-নাসিরদের মতো নরকের কীট পালে, আবার প্রয়োজন শেষে পিষেও মারে!’
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে তিনি নিজের ফেসবুকে একটি পোস্টে এই মন্তব্য করেন।
পোস্টে রাশেদ খান দাবি করেন, ইনকিলাব মঞ্চসহ যতগুলো অরাজনৈতিক নামধারী সংগঠন গঠন করা হয়েছে, তাদের অধিকাংশই গুপ্তদের দখলে রয়েছে। শহীদ ওসমান হাদি সম্ভবত মহৎ উদ্দেশ্যে ইনকিলাব মঞ্চ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, কিন্তু তার মৃত্যুর পর জামায়াত-শিবির আম্মারদের দিয়ে তা দখল হয়ে যায়।
তিনি আরো বলেন, ‘যেহেতু গুপ্তদের চরিত্র ও পরিচয় উন্মোচন হচ্ছে, শিবিরও আর এদের দায়দায়িত্ব নিয়ে নিচ্ছে না, সুতরাং এর পর থেকে সাধারণ চরিত্র ধারণ করে যারা অস্বাভাবিক আচরণ ও বাক্য বিনিময় করবে, তাদের জবাবটা রাজনৈতিকভাবেই দিতে হবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের বাজারে সোনার দাম সর্বশেষ সমন্বয়ের মাধ্যমে বৃদ্ধি করা হয়েছে। তিন দফা কমার পর, প্রতি ভরি সোনার দাম ২ হাজার ২১৬ টাকায় বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে, ভ্যাটসহ ভালো মানের এক ভরি সোনা বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকায়।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) গতকাল বুধবার সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর করেছে। বৃহস্পতিবারও একই দামে সোনা বিক্রি হচ্ছে।
নতুন দাম অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা হয়েছে। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ২০ হাজার ৩৯১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৮০৮ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৪৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ হাজার ১০৮ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৪ হাজার ২৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে ২৬ সেপ্টেম্বর ভালো মানের এক ভরি সোনার গহনার দাম ১ হাজার ৬৯১ টাকা কমানো হয়েছিল। এরপর ২৮ সেপ্টেম্বর কমানো হয় ২ হাজার ১৫৮ টাকা। ফলে, তিন দফায় ভালো মানের এক ভরি সোনার গহনার দাম কমেছে ৬ হাজার ৬৫ টাকা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরানের সামরিক বাহিনী ‘পুরোপুরি ধ্বংস’ হয়ে গেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্রায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে হরমুজ প্রণালিতে।
ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেছেন, গত তিন দিনে হরমুজ দিয়ে ইতিহাসের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি পরিমাণ তেল পরিবহন হয়েছে। তবে, আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হরমুজ দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ এখনও যুদ্ধপূর্ব স্বাভাবিক অবস্থায় পুরোপুরি ফিরে আসেনি।
হিস্পানিক হেরিটেজ মাস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ‘হরমুজ প্রণালির ওপর আমাদের প্রায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।’ তিনি দাবি করেন, গত তিন দিনে ওই জলপথ দিয়ে ইতিহাসের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি তেল সরবরাহ হয়েছে। একই অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র খুব শিগগিরই বিজয় অর্জন করবে।
ট্রাম্পের এই বক্তব্য এমন একটি সময় এসেছে যখন হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ও তেল পরিবহন নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে তীব্র বিরোধ চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসান ও হরমুজ পুনরায় স্বাভাবিকভাবে খুলে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। গত ২৬ সেপ্টেম্বর ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন ট্রাম্প। তবে ৩০ সেপ্টেম্বর ইরান জানিয়েছে, যুদ্ধ অবসানের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক জবাব তারা পেয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে তেহরানে আলোচনা চলছে।
এদিকে, হরমুজ প্রণালিকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা এবং অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। বিশ্ব নৌ দিবস উপলক্ষে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, পারস্য উপসাগর ও এর জলপথে টেকসই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা ও দায়িত্বশীলতা প্রয়োজন।
পেজেশকিয়ান বলেন, ইরানের জন্য সমুদ্র শুধু বিশাল জলরাশি নয়; এটি দেশটির ইতিহাস, পরিচয় ও জীবনের অংশ এবং বর্তমান ও ভবিষ্যতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। তার মতে, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। সমুদ্র নিরাপত্তা, বন্দর ও পরিবহনপথ বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিবেশ তৈরি করে, আর অর্থনৈতিক উন্নয়ন জাতীয় সক্ষমতা বাড়ায়।
ইরানের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, আঞ্চলিক জলপথে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সামুদ্রিক পরিবহন ও বাণিজ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব তেহরান গুরুত্বের সঙ্গে পালন করছে। এ ক্ষেত্রে ইরানের নৌবাহিনী এবং সামুদ্রিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত সংশ্লিষ্টদের সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতার ওপর দেশটি নির্ভর করছে। ইরানের সেনাবাহিনীর সমন্বয়বিষয়ক উপপ্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল হাবিবুল্লাহ সায়্যারিও সমুদ্রকে জাতীয় শক্তি, বাণিজ্য, অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
অন্যদিকে, ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জেনারেল তালাই-নিক বলেছেন, নিজেদের বৈধ অধিকার, নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি তেহরান শান্তি চায়। তার ভাষ্য, ইরানের বৈধ অধিকার স্বীকার করা হলে চলমান সংঘাত অবসানের পথ তৈরি হতে পারে।
হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে গত মঙ্গলবার একটি তেলবাহী জাহাজ অজ্ঞাত কোনো বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর দিয়েছে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও। সংস্থাটি জাহাজগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দিয়েছে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানি সেপ্টেম্বর মাসে যুদ্ধ শুরুর পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠলেও পরিবহনব্যবস্থা এখনো নানা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
রয়টার্সের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হরমুজ দিয়ে তেল সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও উপসাগরীয় অঞ্চলের রপ্তানি এখনো যুদ্ধের আগের স্বাভাবিক কাঠামোয় পুরোপুরি ফেরেনি। বিকল্প পরিবহনব্যবস্থা, জাহাজ সংকট ও বাড়তি পরিবহন ব্যয় তেল সরবরাহকে প্রভাবিত করছে। এ কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামও চাপের মধ্যে রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন মন্তব্য করেছেন যে, ভিন্নমত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি সম্মান প্রদর্শনই গণতন্ত্রের আসল শক্তি।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে আটক হওয়া এক স্কুলশিক্ষককে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সসম্মানে মুক্তি দেওয়ার প্রেক্ষাপটে তিনি এই মন্তব্য করেন।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে মাহদী আমিন জানান, ‘কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে শ্রেণিকক্ষে এক স্কুলশিক্ষকের কটূক্তি ও আপত্তিকর মন্তব্যের কারণে স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও অধিবাসীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তাদের বিক্ষোভের পর পুলিশ ওই শিক্ষককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।’
তিনি বলেন, বিষয়টি জানার পর প্রধানমন্ত্রী সংক্ষুব্ধ হন এবং তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট থানাকে নির্দেশ দেন, শিক্ষককে সসম্মানে মুক্তি দিয়ে নিরাপদে তার বাসায় পৌঁছে দিতে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পুলিশ পরে তাকে নিরাপদে বাসায় পৌঁছে দেয়।
প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে তার কার্যালয়ের মুখপাত্র আরও জানান, ‘প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, মতের ভিন্নতা থাকতেই পারে; প্রত্যেক মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ও মতামত তার নিজস্ব। কারও মতের সঙ্গে একমত না হলেও তার মতপ্রকাশের অধিকারকে সম্মান করা উচিত। ভিন্নমত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি এই সম্মানই গণতন্ত্রের শক্তি।’
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করেন যে, ইতিবাচক আচরণ, পারস্পরিক সম্মান ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি সমাজকে শক্তিশালী করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলের টাইগ্রে অঞ্চলের আলামাতা শহর ও এর আশপাশে তিন দিনের তীব্র সংঘর্ষে অন্তত ৫২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এই তথ্যটি হাসপাতাল সূত্রের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে। সংঘর্ষের পর সরকারি বাহিনী আলামাতা শহরের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শহরের রাস্তায় সরকারি বাহিনীর ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান চলাচলের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে।
আলামাতা দখলের পর সরকারি বাহিনী টাইগ্রের প্রধান শহর মেকেলের দিকে অগ্রসর হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। মেকেলে আলামাতা থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আলামাতা টাইগ্রে ও আমহারা অঞ্চলের সংযোগস্থলে অবস্থিত, যা সামরিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।
কয়েক মাস ধরে ইথিওপিয়ার কেন্দ্রীয় সরকার ও টাইগ্রে নিয়ন্ত্রণকারী টাইগ্রে পিপলস লিবারেশন ফ্রন্টের (টিপিএলএফ) মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। গত সপ্তাহে এই উত্তেজনা নতুন করে সশস্ত্র সংঘাতে রূপ নেয়। ২০২২ সালে দুই বছরের গৃহযুদ্ধ অবসানে হওয়া প্রিটোরিয়া শান্তিচুক্তি ভঙ্গের জন্য উভয় পক্ষই একে অপরকে দায়ী করছে। ২০২০-২২ সালের ওই যুদ্ধে প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক হিসাব রয়েছে।
সর্বশেষ সংঘাতটি শুধু টাইগ্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। পার্শ্ববর্তী আমহারা ও আফার অঞ্চলেও লড়াই ছড়িয়ে পড়েছে। টিপিএলএফসহ সাতটি সশস্ত্র গোষ্ঠী চলতি মাসে একটি জোট গঠন করেছে। তাদের ঘোষিত লক্ষ্য প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা। আফার অঞ্চলটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি স্থলবেষ্টিত ইথিওপিয়াকে জিবুতি ও লোহিত সাগরের বন্দরগুলোর সঙ্গে যুক্ত করেছে।
এদিকে সংঘাতের প্রভাব পড়েছে ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্য লালিবেলা শহরেও। সেখানে এক সপ্তাহ ধরে অন্তত ৩৩ জন বিদেশি পর্যটক আটকা পড়েছেন। ১৩ শতকে পাথর কেটে নির্মিত ১৩টি গির্জার জন্য বিখ্যাত লালিবেলা অর্থোডক্স খ্রিস্টানদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান। সংঘর্ষের কারণে বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় বেশিরভাগ পর্যটক শহর ছাড়তে পারেননি।
লালিবেলায় অবস্থানরত এক ব্রিটিশ পর্যটক বিবিসিকে জানান, "কয়েক দিন ধরে সেখানে গুলির শব্দ ও ভারী কামানের গোলাবর্ষণ শোনা গেছে।" শহরে সরকারি বাহিনীর বড় উপস্থিতিও রয়েছে। সোমবার সামরিক হেলিকপ্টারে ১৪ জন ইসরায়েলি পর্যটককে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর আগে একটি বেসরকারি সংস্থার গাড়িবহরে আরও পাঁচজন শহর ছাড়েন। এখনো যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইসরায়েল, দক্ষিণ কোরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ কয়েকটি দেশের নাগরিক সেখানে আটকা রয়েছেন।
আলামাতা জেনারেল হাসপাতালের এক চিকিৎসক বিবিসিকে জানান, শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত শহর ও আশপাশে ব্যাপক গোলাবর্ষণ হয়েছে। ভারী কামান ও বিস্ফোরক ব্যবহারে আবাসিক এলাকাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে তিন দিন বয়সী শিশুসহ নারী ও গবাদিপশু চরানো মানুষও রয়েছেন। একটি হামলায় শহরের বাজারে একসঙ্গে ১২ জন নিহত হয়েছেন বলে ওই চিকিৎসক জানান।
সংঘাতের মাত্রা বোঝা যায় চিকিৎসা সহায়তার পরিসর থেকেও। আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সংস্থা মেডসাঁ সঁ ফ্রঁতিয়ের (এমএসএফ) জানিয়েছে, গত কয়েক দিনে টাইগ্রের তাদের সহায়তাপ্রাপ্ত হাসপাতালগুলোতে ৭০০-এর বেশি আহত মানুষ ভর্তি হয়েছেন। যোগাযোগব্যবস্থা বন্ধ থাকায় হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
টাইগ্রেতে ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ সেবা বন্ধ রয়েছে। ব্যাংকিং কার্যক্রমও ব্যাহত হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি অঞ্চলটির বাইরে থাকা টাইগ্রিয়ানরাও সমস্যায় পড়েছেন। আলামাতায় পালিয়ে আসা মানুষের সংখ্যা বাড়ছে; কিন্তু সেখানে বিদ্যুৎ, ফোন, ইন্টারনেট ও অর্থ লেনদেনের সেবা না থাকায় মানবিক পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
নতুন সংঘাতের সূচনা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য পরস্পরবিরোধী। টিপিএলএফের দাবি, কেন্দ্রীয় বাহিনীর হামলা ও ড্রোন হামলার জবাবেই তারা পাল্টা অভিযান চালিয়েছে। অন্যদিকে ইথিওপিয়ার সরকার বলছে, টিপিএলএফ যোদ্ধারাই প্রথম হামলা চালায় এবং কয়েকটি বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর সংঘাত শুরু হয়। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় এসব দাবির স্বাধীন যাচাই কঠিন।
এদিকে সংঘাতে প্রতিবেশী ইরিত্রিয়া জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও বাড়ছে। ইথিওপিয়া অভিযোগ করেছে, ইরিত্রিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা করছে। তবে আসমারা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। আফ্রিকান ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক মহল নতুন করে সংঘাত বন্ধ ও সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে।
নতুন করে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ায় ২০২২ সালের শান্তিচুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ সংঘাতের পর দুর্বল হয়ে পড়া টাইগ্রেতে আবারও খাদ্য, চিকিৎসা, যোগাযোগ ও মানবিক সহায়তা সংকট তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ